ছাদকৃষিপ্রবাস থেকে ফিরে মুন্সিগঞ্জে ছাদকৃষি গড়লেন এক উদ্যোক্তা
প্রবাসজীবন শেষ করে দেশে ফিরে মুন্সিগঞ্জের এক উদ্যোক্তা নিজের ভবনের ছাদে গড়ে তুলেছেন ফল-ফসলের বাগান; তাঁকে নিয়ে শাইখ সিরাজের ভিডিও প্রতিবেদন।
ছাদকৃষিপ্রবাসজীবন শেষ করে দেশে ফিরে মুন্সিগঞ্জের এক উদ্যোক্তা নিজের ভবনের ছাদে গড়ে তুলেছেন ফল-ফসলের বাগান; তাঁকে নিয়ে শাইখ সিরাজের ভিডিও প্রতিবেদন।
ছাদকৃষিশহুরে জীবনে সবুজের পরশ পেতে অনেকেই এখন বাড়ির ছাদকে বেছে নিচ্ছেন। সাভারের এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি গড়ে তুলেছেন তেমনই এক ছাদকৃষির উদ্যোগ।
এগ্রোটেকহ্যান্ড স্প্রেয়ার, ব্যাকপ্যাক না পাওয়ার স্প্রেয়ার, কোন নোজল, কখন ছিটাতে হবে, কতটা ওষুধ মেশাতে হবে আর কাজ শেষে যন্ত্রের যত্ন কীভাবে নিতে হবে। ফল বাগানে সঠিক স্প্রে যন্ত্র বেছে নেওয়া ও ঠিকভাবে ব্যবহার করার খুঁটিনাটি, যাতে গাছ সুস্থ থাকে আর ফলন বাড়ে।
ভবনের ছাদে পানি ব্যবস্থাপনা ছাদকৃষির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। উপকূলীয় বাগেরহাটের মোংলায় লবণাক্ততার কারণে এটি হয়ে গেছে আরও কঠিন। তবে প্রতিকূলতাকে জয় করে ছাদকৃষির নতুন দৃষ্টান্ত গড়েছেন এক উদ্যোক্তা। নিজের বাড়িকেই গড়ে তুলেছেন বিরল ও লবণসহিষ্ণু নানা প্রজাতির গাছের এক অনন্য সংগ্রহশালায়।
দেশে কৃষির বৈচিত্রে্যর পাশাপাশি বাড়ছে ছাদকৃষির পরিধিও। এতে বাড়ছে বীজ, চারা ও নানা কৃষি উপকরণের চাহিদা। সেই চাহিদা পূরণে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্র। তবে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ মানসম্মত উপকরণ নিশ্চিত করা।
ছাদকৃষির প্রসার ও ভিনদেশি নানা প্রজাতির ফলের চারায় জমে উঠেছে এবারের জাতীয় বৃক্ষমেলা| তবে চড়া দামে কেনা চারার মান নিয়ে রয়েছে ক্রেতাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া| তারা বলছেন, নার্সারিগুলো চারা উৎপাদনে মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন|
ছাদকৃষিক্যানসারে আক্রান্ত মাকে নিরাপদ ফল খাওয়াতে ২০২৩ সালে বাসার ছাদে ড্রামে আনার গাছ লাগিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের বাসাইলের আল আমিন; ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তাঁর কাছে ২৬ জাতের আনার ছিল, আর কলমের চারা বিক্রি করে মাসে ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা আয়ের কথা জানান তিনি।
ছাদকৃষিরাজশাহীর বিনোদপুরের শারমিন আক্তার 'বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫'-এর ছাদবাগান শ্রেণিতে প্রথম হয়েছেন। তিনি জানান, ২০২২ সালে শুরু করা বাগানের চারা ও টব বিক্রি করে বছরে প্রায় ১২ লাখ টাকা আয় হয়।
ভিডিওঢাকার ছাদে! ফলের রাজ্য
ব্যস্ত নগরজীবনে অবসরের মুহূর্ত আর একটু সবুজের খোঁজে অনেকেই ঝুঁকছেন ছাদকৃষির দিকে| পরিবারের জন্য নিরাপদ ফল ও সবজির পাশাপাশি এটি হয়ে উঠছে মানসিক প্রশান্তিরও একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম| তবে ছাদকৃষিকে আরও বিস্তৃত ও টেকসই করতে প্রয়োজন মানসম্মত উপকরণ এবং সরকারি নীতিগত সহায়তা, এমনটাই বলছেন উদ্যোক্তারা|
নগরায়নের বিস্তারে কমছে সবুজের পরিসর। তবে ছাদকৃষির মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণে কাজ করছেন অনেক উদ্যোগী মানুষ। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মিন্টু হাওলাদার তাদেরই একজন। প্রায় যুগ ধরে নিজের ছাদে গড়ে তুলেছেন ফল, সবজি ও লেবুর এক সমৃদ্ধ আয়োজন।
দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে ছাদকৃষিতে বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত গড়েছেন নরসিংদীর সাহেপ্রতাব এলাকার আলমগীর হোসেন। বাড়ির ছাদকে তিনি পরিণত করেছেন ফল ও বিভিন্ন ফসলের সবুজ উদ্যোনে।
নগরকে আরও বাসযোগ্য ও সবুজ করে তুলতে অনেকেই ছাদে গড়ে তুলছেন কৃষির আয়োজন। এসব ছাদকৃষি থেকে মিলছে ফুল, ফল ও ফসলের চাহিদা। তবে উদ্যোক্তাদের দাবি, টেকসই নগর গড়তে নগর পরিকল্পনায় ছাদকৃষিকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।