সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

জাকাতের অব্যবহৃত দুই খাতেই বাস্তুচ্যুত মানুষের সমাধান: ড. এম কবির হাসানের মত

দেশে জাকাতের সম্ভাব্য পরিমাণ বছরে ২০-২৫ হাজার কোটি টাকা হলেও সরকারি ফান্ডে জমা ১০ কোটির ঘরে; ইবনিস-সাবিল ও ফি-সাবিলিল্লাহ খাত কাজে লাগিয়ে বাস্তুচ্যুত ও শরণার্থীদের সহায়তায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পক্ষে লিখেছেন অধ্যাপক এম কবির হাসান।

জাকাতের আটটি খাতের মধ্যে দুটি, ফি-সাবিলিল্লাহ ও ইবনিস-সাবিল, বাংলাদেশে কার্যত অব্যবহৃত, অথচ আজকের বাস্তুচ্যুত, শরণার্থী ও ছিন্নমূল মানুষের সংকটের সঙ্গে এই দুই খাতেরই সবচেয়ে সরাসরি সম্পর্ক। আমার দেশে প্রকাশিত উপসম্পাদকীয়তে এ যুক্তি দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব নিউ অরলিন্সের অর্থায়নের অধ্যাপক ও মফেট চেয়ার ড. এম কবির হাসান। লেখার মতামত লেখকের নিজস্ব।

লেখক শুরু করেছেন দুটি সংখ্যা দিয়ে। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের গত বছরের আগস্টের জরিপে দারিদ্র্যের হার ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ ও অতিদারিদ্র্য ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ, যা ২০২২ সালের বিবিএস খানা জরিপে ছিল যথাক্রমে ১৮ দশমিক ৭ ও ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। অথচ বিভিন্ন গবেষণায় দেশে জাকাতের বার্ষিক সম্ভাব্য পরিমাণ ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা, আর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সরকারি জাকাত ফান্ডে ২০২২-২৩ অর্থবছরে জমা পড়েছিল ১০ কোটি ২১ লাখ টাকা।

সুরা তওবার ৬০ নম্বর আয়াতে নির্ধারিত অষ্টম খাত ইবনিস-সাবিল বলতে বোঝায় নিজ সম্পদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পথে অসহায় মুসাফিরকে। লেখকের মতে, কক্সবাজারের ১২ লাখ রোহিঙ্গা এবং আইওএমের জরিপে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত ৪৯ লাখ ৫৫ হাজার মানুষ এই সংজ্ঞায় পড়েন। খলিফা উমর (রা.) নিঃস্ব পথিকের জন্য আটা, খেজুর ও পানি মজুত রাখার ঘর করেছিলেন, আর উমর ইবনে আবদুল আজিজের সময়ে পথে চলাচলকারীর অনুপাতে এই খাতের বরাদ্দের নির্দেশনা ছিল, যাকে লেখক চাহিদানির্ভর বাজেটিংয়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

ফি-সাবিলিল্লাহ খাতকে চার মাজহাবের অধিকাংশ ফকিহ জিহাদ-সংশ্লিষ্ট কাজে সীমিত রাখলেও রশিদ রিজা, মাহমুদ শালতুত ও ইউসুফ আল-কারজাভিসহ অনেকে একে সব কল্যাণমূলক কাজে প্রসারিত করেছেন, মক্কার ইসলামি ফিকহ একাডেমিও শিক্ষা ও গবেষণাকে এর আওতায় এনেছে। লেখক স্বীকার করেছেন, তামলিক (প্রাপককে মালিক বানানো) ও খাতের সীমা নিয়ে আপত্তি গুরুতর; তাই প্রসারিত পাঠ নিলে কঠোর হিসাবরক্ষণ ও বরাদ্দসীমা জরুরি, তালিকাও ছোট রাখতে হবে, যেমন দরিদ্র শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ।

সংস্কারের প্রস্তাবে তিনি মধ্য মেয়াদে আলাদা আইন ও রাজস্ব বিভাগের বাইরে একটি স্বায়ত্তশাসিত জাকাত কর্তৃপক্ষ চেয়েছেন, যার পর্ষদে আলিম, হিসাববিদ ও নাগরিক প্রতিনিধি থাকবেন। বেসরকারি জাকাত সংস্থাগুলোকে বন্ধ না করে অভিন্ন নিবন্ধন ও প্রতিবেদন মানে আনার এবং দীর্ঘ মেয়াদে জাতীয় শরিয়াহ পর্ষদের মাধ্যমে দুই খাতে গ্রহণযোগ্য ব্যয়ের সীমিত, যাচাইযোগ্য তালিকা করার কথাও বলেছেন।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে লেখক উল্লেখ করেছেন, ইউএনডিপির উদ্ধৃত গবেষণায় বিশ্বে বছরে জাকাতের সম্ভাব্য পরিমাণ ২০ হাজার কোটি থেকে ১ লাখ কোটি মার্কিন ডলার, অথচ রোহিঙ্গা সহায়তায় জাতিসংঘের ২০২৬ সালের আবেদন গত বছরের চেয়ে ২৬ শতাংশ কম। তাঁর উপসংহার, জাকাতের বিধানে ঘাটতি নেই, ঘাটতি ব্যবস্থাপনায়।

সূত্র: আমার দেশ

আমার দেশসূত্র

মতামত

সম্পর্কিত খবর

মতামত

মতামত: চীনা বালাইনাশক কোম্পানি মার্কিন কৃষকের দোরগোড়ায়, বিক্রেতারা কী করবেন

ক্রপলাইফে লেখা এক কলামে হুয়া চেং ও ডেভিড লি বলছেন, চীনা ফসল সুরক্ষা কোম্পানিগুলো মার্কিন কৃষকের কাছে পৌঁছানোর নতুন পথ পাচ্ছে, তবে স্থানীয় বিক্রেতাদের এমন কিছু শক্তি আছে যা কনটেইনারে করে পাঠানো যায় না।

ক্রপলাইফ১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মতামত

শীতে শিশুর রোটাভাইরাস ঝুঁকি, টিকা আছে, তবু সরকারি কর্মসূচিতে নেই: ফারিয়া এজাজের কলাম

আজকের পত্রিকায় ফারিয়া এজাজ লিখেছেন, আইসিডিডিআরবির হিসাবে দেশে বছরে আড়াই থেকে ৩ হাজার শিশু রোটাভাইরাসে মারা যায়; ১৩২টি দেশ টিকাটি জাতীয় কর্মসূচিতে নিলেও বাংলাদেশে এক ডোজের দাম ২,৯৯৩ টাকা, সরকারিভাবে দেওয়া হয় না।

আজকের পত্রিকা১৪ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মতামত

নিঃসরণ ০.০৫ শতাংশ, ক্ষতি পাহাড়সম: নেপালের শিক্ষায় অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন চান রাকিব হোসেন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির পিএইচডি গবেষক রাকিব হোসেন লিখেছেন, বিশ্বের কার্বন নিঃসরণে মাত্র ০.০৫ শতাংশ অবদানের নেপাল যেমন বারবার দুর্যোগের দাম দিচ্ছে, বাংলাদেশও তেমনি; তাই ঋণ নয়, অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন দরকার।

ঢাকা পোস্ট১৪ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)