সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

বেলি ফুল চাষ: চারা, রোপণ, সেচ, ছাঁটাই ও পরিচর্যার নিয়ম

সুগন্ধি বেলি (Jasminum sambac) মাঠে ও টবে দুভাবেই চাষ করা যায়। কলমের চারা, রোদেলা ও পানি না জমা জমি, নিয়মিত সেচ এবং বছরে একবার ছাঁটাই হলে ভালো ফুল মেলে।

বেলি ফুল চাষ: চারা, রোপণ, সেচ, ছাঁটাই ও পরিচর্যার নিয়ম
ফুল

সুগন্ধি সাদা ফুলের জন্য বেলি বাংলাদেশের বাগান, বাড়ির টব ও বাণিজ্যিক ফুলচাষ, সব জায়গাতেই পরিচিত। মালা, তোড়া ও খোঁপার সাজে এর চাহিদা থাকায় এটি একটি অর্থকরী ফুলও। দ্য এগ্রো নিউজে প্রকাশিত বেলি চাষের এই নির্দেশিকা নির্ভরযোগ্য উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে হালনাগাদ করা হলো।

বেলি ফুলের পরিচয়


বেলির বৈজ্ঞানিক নাম Jasminum sambac, পরিবার ওলিয়েসি; ইংরেজিতে একে আরবীয় জুঁই (Arabian jasmine) বলা হয়। বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশের বাগানে সচরাচর দেখা গুল্মজাতীয় ফুলগাছের তালিকায় বেলিকে রেখেছে। উইকিপিডিয়ার তথ্যে, এটি চিরসবুজ লতানো বা ঝোপালো গাছ, উচ্চতা ০.৫ থেকে ৩ মিটার; আদি নিবাস ভুটান ও ভারত। ফুলের সাদা পাপড়ির ব্যাস ২ থেকে ৩ সেন্টিমিটার। ফুল সাধারণত সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৮টার দিকে ফোটে এবং সকালে বুজে যায়।

ফুলের আকার ও গড়ন অনুযায়ী বেলির তিন ধরন পরিচিত: একক পাপড়ির বেশি গন্ধযুক্ত বেলি, মাঝারি আকারের ডবল পাপড়ির বেলি এবং বড় আকারের ডবল পাপড়ির বেলি। ফুল দিয়ে মালা ও তোড়া হয়, সুগন্ধি ও জুঁই চায়েও এর ব্যবহার আছে। বেলি ফিলিপাইনের জাতীয় ফুল এবং ইন্দোনেশিয়ার তিনটি জাতীয় ফুলের একটি।

ভারতের তামিলনাড়ুতে জুঁইজাতীয় ফুলের কুঁড়ি দিয়ে গাঁথা মালা। ছবি: தகவலுழவன் / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ভারতের তামিলনাড়ুতে জুঁইজাতীয় ফুলের কুঁড়ি দিয়ে গাঁথা মালা। ছবি: தகவலுழவன் / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

চারা তৈরি, জমি ও টবে রোপণ


চাষ করা বেলিগাছে বীজ কমই হয়, তাই এর বংশবিস্তার হয় অঙ্গজ উপায়ে: গুটি কলম, দাবা কলম ও ডাল কলম। ভারতের বিএসসি (কৃষি) ই-কোর্সের জুঁই উৎপাদন প্রযুক্তি পাঠ অনুযায়ী, বাণিজ্যিকভাবে বেলির চারা হয় ডগার কাটিং ও আধা-শক্ত ডালের কাটিং থেকে।

বেলে মাটি ও ভারী এঁটেল মাটি ছাড়া প্রায় সব মাটিতে বেলি জন্মে। জমি হতে হবে রোদেলা, সেখানে সেচ ও পানি নিকাশের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। ওই পাঠে বলা হয়েছে, রোপণের অন্তত এক মাস আগে প্রায় ৪৫ সেন্টিমিটার লম্বা, চওড়া ও গভীর গর্ত খুঁড়ে রোদে খোলা রাখতে হয়; রোপণের কয়েক দিন আগে দুই ভাগ গোবর সার এবং এক ভাগ করে তাজা মাটি ও মোটা বালু মিশিয়ে গর্ত ভরে পানি দিয়ে বসিয়ে নিতে হয়।

ভারতে বেলির জন্য গাছ থেকে গাছ ও সারি থেকে সারির দূরত্ব ১.২৫ মিটার রাখার সুপারিশ আছে, তাতে হেক্টরে ৬,৪০০টি গাছ ধরে। সেখানে রোপণের ভালো সময় বর্ষাকাল; জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চারা লাগানো হয়।

বাড়িতে টবে, বারান্দায় বা ছাদে বেলি চাষ করা যায়। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল হর্টিকালচারাল সোসাইটির (আরএইচএস) পরামর্শ, এমন দোআঁশ মাটি ব্যবহার করতে হবে যাতে পানি না জমে; গাছ রাখতে হবে উজ্জ্বল আলোয়, তবে কড়া রোদ থেকে কিছুটা আড়াল দিয়ে। বাড়ন্ত সময়ে মাসে একবার কম নাইট্রোজেনযুক্ত সার দেওয়া এবং শীতে পানি কম দেওয়ার কথাও তাদের নির্দেশনায় আছে।

ফুলসহ একটি বেলিগাছ (Jasminum sambac), যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ের মাউইতে তোলা। ছবি: Forest & Kim Starr / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
ফুলসহ একটি বেলিগাছ (Jasminum sambac), যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ের মাউইতে তোলা। ছবি: Forest & Kim Starr / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

সেচ, সার, আগাছা দমন ও ছাঁটাই


বেলির জমিতে সবসময় রস থাকা দরকার, তবে পানি জমে থাকা চলবে না। ভারতের ওই পাঠ অনুযায়ী, মাটি ও আবহাওয়া বুঝে সপ্তাহে একবার বা দশ দিনে একবার সেচ দিতে হয়; বর্ষায় সময়মতো বৃষ্টি না হলে জমির অবস্থা দেখে সেচ দিতে হবে।

জৈব সারে বেলি ভালো সাড়া দেয়, তবে অতিরিক্ত সার দিলে গাছ পাতায় বাড়ে আর ফুল কমে যায়। সার সাধারণত দুই কিস্তিতে দেওয়া হয়: একবার বর্ষার শুরুতে, আরেকবার ছাঁটাইয়ের পর। কোন রাসায়নিক সার কতটা দিতে হবে, তা মাটি পরীক্ষা করে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে ঠিক করা উচিত।

জমি বা টব থেকে নিয়মিত হাতে আগাছা তুলে ফেলতে হয়। খড় কুচি করে গাছের গোড়ায় বিছিয়ে দিলে (মালচিং) আগাছা কম জন্মায় এবং মাটির রস ধরে থাকে।

বেলির ফুল আসে ডালের আগায় ও পাতার কোলে, তাই নতুন ডাল যত বেশি, ফুলও তত বেশি। এজন্য প্রতিবছর ছাঁটাই জরুরি। ভারতের ওই পাঠে বলা হয়েছে, নভেম্বর বা ফেব্রুয়ারিতে মাটি থেকে ৩০ সেন্টিমিটার উচ্চতায় ছাঁটাই করলে সবচেয়ে বেশি ফুল পাওয়া যায়। ছাঁটাইয়ের কয়েক দিন পর জমিতে বা টবে সার দিতে হয়।

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের কাছে মাঠে জুঁইজাতীয় ফুলের চাষ। ছবি: IM3847 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের কাছে মাঠে জুঁইজাতীয় ফুলের চাষ। ছবি: IM3847 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

পোকামাকড়, রোগ ও ফুল তোলা


বেলিতে ক্ষতিকর পোকা কম, তবে কিছু বালাই আক্রমণ করে। গরম ও শুকনো আবহাওয়ায় লাল মাকড় বাড়ে; এরা পাতার নিচের দিকে রস খায়, ফলে পাতা হলুদ হয়ে ঝরে পড়ে। কুঁড়ি ছিদ্রকারী পোকার কীড়া কচি কুঁড়ির ভেতরে ঢুকে খেয়ে ফেলে। আরএইচএস জাবপোকা, স্কেল পোকা ও মিলিবাগের কথাও উল্লেখ করেছে। রোগের মধ্যে আছে পাতায় লালচে বাদামি দাগ ফেলা পাতাপোড়া এবং নিচের পাতা থেকে হলুদ হয়ে শেষে গাছ মেরে ফেলা ঢলে পড়া রোগ; দুটিই ছত্রাকজনিত।

কোনো বালাই দেখা দিলে কোন মাকড়নাশক, কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক কোন মাত্রায় দেওয়া যাবে, তা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে জেনে নিতে হবে।

বেলির ফুল মূলত গ্রীষ্ম ও বর্ষায় ফোটে। বিক্রির জন্য পুরো বড় হওয়া কিন্তু না-ফোটা কুঁড়ি সকালে তোলা হয়। ভারতের ওই পাঠ অনুযায়ী, জুঁইজাতীয় গাছ তৃতীয় বছর থেকে লাভজনক ফলন দেয় এবং ১২ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত তা চলে, এরপর ফলন কমতে থাকে।

ছবি: Bijay chaurasia / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: দ্য এগ্রো নিউজ (নিজস্ব প্রতিনিধি), বাংলাপিডিয়া (গার্ডেন ফ্লাওয়ার্স), ভারতের বিএসসি (কৃষি) ই-কোর্স: প্রোডাকশন টেকনোলজি অব জেসমিন (eagri.org), রয়্যাল হর্টিকালচারাল সোসাইটি (আরএইচএস), উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফুল

সম্পর্কিত খবর

জৈব

গরুর চারণের আচ্ছাদন ফসলে সূর্যমুখী, সেই মাঠেই ফুল তুলতে আসেন দর্শনার্থী

কানাডার ম্যানিটোবার আর্নেসের দুগিদ পরিবার পুনরুৎপাদনশীল চারণের আচ্ছাদন ফসলে কাটা ফুলের সূর্যমুখী জাত যোগ করেছে। এখন একই মাঠ তাদের গরুর খাবার জোগায়, আবার দর্শনার্থীদের নিজ হাতে ফুল তোলার দিনেও ভিড় টানে।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফুল

আগুনরঙা সুগন্ধি পানামা রোজ: গোলাপ নয়, রঙ্গনের আত্মীয়; কাটিংয়েই চারা

মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে ফোটা কমলা-লাল পানামা রোজ (Rondeletia odorata) পানামা ও কিউবার গুল্ম; অক্টোবর থেকে মে পর্যন্ত ফোটে, ১০-১৫ সেন্টিমিটার ডাল কেটে পুঁতলে তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহে শিকড় গজায়।

সমকাল১৪ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফুল

পাবনার বিল-ঝিলে লাল-সাদা শাপলার সমারোহ, তবু কমছে শাপলা জন্মানোর জায়গা

গাজনার বিল, ডিকশির বিল, চলনবিলসহ পাবনার জলাশয়ে এখন লাল ও সাদা শাপলা ফুটেছে; তবে জলাশয় ভরাট, অপরিকল্পিত মাছ চাষ আর কীটনাশকে শাপলার জায়গা সংকুচিত হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

দেশ রূপান্তর১২ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)