সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

পদ্মা-মেঘনার ইলিশ কেন এত সুস্বাদু: রহস্য মাছে নয়, তার খাবারে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বলছে, মোহনার প্ল্যাঙ্কটনে চর্বি জমেই স্বাদ তৈরি হয়; দেশের ইলিশের মাত্র ২ শতাংশ সরাসরি পদ্মার, বড় ও সুস্বাদু ইলিশের বেশির ভাগ আসে মেঘনার অববাহিকা থেকে।

একই প্রজাতির মাছ পদ্মা বা মেঘনায় ধরা পড়লে স্বাদে অন্য রকম, অথচ সমুদ্র বা অন্য নদীর ইলিশে সেই স্বাদ মেলে না, কেন? চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের একদল গবেষক কয়েক বছর আগে এ নিয়ে কাজ করেন, যার ফলাফল বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারের একটি লেখায় প্রকাশিত হয়। তাঁদের গবেষণা বলছে, রহস্যটা মাছের গায়ে নয়; সে কী খায় আর কোথায় খায়, তার মধ্যে।

ইলিশ মূলত সমুদ্রের মাছ। ডিম ছাড়ার সময় এলে সে স্রোতের বিপরীতে সাঁতরে মিঠাপানিতে, নদীর দিকে ফিরে আসে। এই দীর্ঘ যাত্রায় প্রচুর শক্তি লাগে, আর সেই শক্তির জোগান আসে খাবার থেকে। পদ্মা ও মেঘনার মোহনা অঞ্চলে হিমালয়ের বরফগলা পানি আর দুই অববাহিকার পলিমাটি মিশে পানিকে পুষ্টিতে ভরপুর করে তোলে; সেখানে জন্মায় অসংখ্য ক্ষুদ্র শৈবাল ও প্রাণিকণা, প্ল্যাঙ্কটন, যা ইলিশের প্রিয় খাবার। মোহনার দিকে উঠে আসার পথে ইলিশ পেট ভরে এসব খায়, শরীরে চর্বি জমে, মাংস নরম হয় আর তৈরি হয় সেই চেনা গন্ধ।

গবেষকদের হিসাবে, বাংলাদেশে যত ইলিশ ধরা পড়ে, তার মাত্র ২ শতাংশের মতো আসে সরাসরি পদ্মা থেকে, এবং সেগুলো আকারেও ছোট। দেশের বেশির ভাগ বড় ও সুস্বাদু ইলিশ ধরা পড়ে মেঘনার অববাহিকায়, বিশেষ করে চাঁদপুরের কাছাকাছি, যেখানে পদ্মা ও মেঘনা মিশেছে। বাজারে ‘পদ্মার ইলিশ’ নামে যা বিক্রি হয়, তার অনেকটাই আসলে মেঘনার মোহনার। মৎস্য গবেষকদের একাংশের মতে, দুই নদী একই বাস্তুতন্ত্রের অংশ বলে তাদের ইলিশে বৈজ্ঞানিকভাবে তেমন পার্থক্য নেই।

তবে সব নদীর ইলিশ সমান নয়। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা সম্প্রতি মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ইলিশ তুলনা করে দেখেছেন, তেঁতুলিয়ার ইলিশের স্বাদ কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেঘনার চেয়েও এগিয়ে। অর্থাৎ নদীর নাম নয়, পানির গুণ, খাদ্যের বৈচিত্র্য ও স্রোতের বেগ মিলিয়েই ঠিক হয় একটি এলাকার ইলিশ কতটা সুস্বাদু হবে।

সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ। আগস্ট থেকে নভেম্বরে ধরা ইলিশ পুষ্টি ও স্বাদে সবচেয়ে ভালো বলে ধরা হয়, কারণ তখন শরীরে ডিমের প্রস্তুতি চলে এবং চর্বি জমে সবচেয়ে বেশি। সাগরে থাকা অবস্থায় খাবারের জোগান তুলনামূলক কম বলে চর্বি কম জমে, স্বাদও সাদামাটা থাকে; লোনাপানি থেকে মিঠাপানিতে ঢোকার পরই শুরু হয় বদল।

জেলে ও ব্যবসায়ীর জন্য এর মানে স্পষ্ট: মোহনার প্ল্যাঙ্কটনসমৃদ্ধ পানি ও ডিমওয়ালা মৌসুমের ইলিশই বাজারে সবচেয়ে দামি, আর সেই পানির গুণ রক্ষা করাই ইলিশের স্বাদ ও দাম দুটোই ধরে রাখার শর্ত।

সূত্র: প্রথম আলো

প্রথম আলোসূত্র

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)