সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

কোথায় পাবেন এলিয়েন দ্বীপ ও এলিয়েন মাছ

আরব সাগরের মাঝে এমন এক দ্বীপ রয়েছে। যার ভৌগোলিক পরিবেশ এবং গাছপালার আকৃতির কারণে এলিয়েন দ্বীপ বলা হয়। দ্বীপটি কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে পরিত্যক্ত ছিল। এখন মানব বসতি গড়ে উঠেছে। দ্বীপটির নাম সুকাত্রা। পৃথিবীর অন্য কোনো স্থানের সঙ্গে মিল নেই এ দ্বীপের। যেমন অদ্ভুত আকারের গাছপালা এখানে, তেমনি অদ্ভুত এখানকার প

আরব সাগরের মাঝে এমন এক দ্বীপ রয়েছে। যার ভৌগোলিক পরিবেশ এবং গাছপালার আকৃতির কারণে এলিয়েন দ্বীপ বলা হয়। দ্বীপটি কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে পরিত্যক্ত ছিল। এখন মানব বসতি গড়ে উঠেছে। দ্বীপটির নাম সুকাত্রা। পৃথিবীর অন্য কোনো স্থানের সঙ্গে মিল নেই এ দ্বীপের। যেমন অদ্ভুত আকারের গাছপালা এখানে, তেমনি অদ্ভুত এখানকার পশুপাখি। এই দ্বীপকে ভিনগ্রহের কোনো জায়গা বললেও ভুল হবে না! অপরদিকে, এলিয়েন মাছ কিন্তু এই এলিয়েন দ্বীপের নয়। গবেষকরা জানিয়েছেন, এটি গভীর সমুদ্রের মাছ। এর দেখা মিলেছে যুক্তরাষ্ট্রের মনটেরির ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরে।

আরব সাগরের মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সুকাত্রা দ্বীপ। দ্বীপ বললে ভুল হবে। কারণ সুকাত্রা দ্বীপপুঞ্জ আরব সাগরের চারটি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত। যেগুলোর বেশিরভাগ অংশই পড়েছে ইয়েমেনের ভেতরে। ২০১৩ সালে এটিকে একটি প্রদেশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ৩,৭৯৬ বর্গ কিলোমিটার ভূমিবিশিষ্ট এ দ্বীপপুঞ্জ। রাজনৈতিকভাবে দ্বীপটি ইয়েমেনের অংশ। কিন্তু সুকাত্রাসহ অন্য দ্বীপগুলো ভৌগোলিকভাবে আফ্রিকা মহাদেশের অংশ। যে কারণে ইয়েমেন দেশটি দুটি মহাদেশের মধ্যে অবস্থিত একটি দেশ হিসেবে গণ্য হয়।

২০০৮ সালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করে সুকাত্রা দ্বীপকে। এই দ্বীপ একসময় গন্ডোয়ানা নামের সুপার কন্টিনেন্টের অংশ ছিল। কয়েকটি প্রধান সামুদ্রিক বাণিজ্যিক রুটের পাশে অবস্থিত হওয়ায় এ দ্বীপের গুরুত্ব অনেক বেশি। সুকাত্রার রাজধানীর নাম হাদিবু। এটি এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর। ২০০১ সালে একটি প্রজেক্টে বেলজিয়ামের একদল স্পেলিওলজিস্ট সুকাত্রা দ্বীপে 'হালাহ' নামক একটি গুহা খুঁজে পান, যার গভীরতা অনেক। এ ছাড়া বেশ কিছু ফলক, পাথর এবং প্রত্নতাত্ত্বিক বস্তু খুঁজে পান তারা। এ দ্বীপে ১৭ লাখ বছর আগের মানুষের হাড়-অস্থিমজ্জা খুঁজে পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।

প্রাচীন যুগে দ্বীপটি ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। এ দ্বীপ থেকে প্রাপ্ত প্রস্তরখণ্ডের বেশিরভাগ লেখাই ভারতীয় ব্রাহ্মী লিপিতে রচিত। দ্বীপের গড় তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখানে বছরে খুব কম পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়। ১৯৯০ সালে জাতিসংঘের জীববিজ্ঞানীরা জরিপ করে প্রায় ৭০০ প্রজাতির স্থানীয় উদ্ভিদ পেয়েছেন সারা পৃথিবীতে। ২০০৪ সালে সুকাত্রার ৩টি অতিবিপন্ন এবং ২৭টি বিপন্ন উদ্ভিদের নাম পাওয়া যায়। সুকাত্রা দ্বীপে ৮২৫ প্রজাতির উদ্ভিদের মধ্যে ৩০৭টি প্রজাতিই স্থানীয় অর্থাৎ প্রায় ৩৭ শতাংশ উদ্ভিদ পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখতে পাওয়া যায় না।

দ্বীপের সবচেয়ে অদ্ভুত গাছ ড্রাগন-ব্ল্যাড ট্রি। হঠাৎ করে দেখলে ভয় লাগতে পারে। এটি দেখতে বৃহৎ আকৃতির ব্যাঙের ছাতার মতো। দ্বীপের শুকনো মাটিতে জন্মানো গাছটি বত্রিশ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। গাছের কাণ্ড ওপরের দিকে বৃদ্ধি পেতে পেতে অসংখ্য ডালপালায় ভাগ হয়ে যায়। অদ্ভুত গড়নের ছাতাকৃতির গাছটি থেকে লাল বর্ণের আঠালো পদার্থ বের হয়। এ গাছের আঠা রং তৈরিতে এবং বার্নিশের কাজে ব্যবহৃত হয়। খুব সম্ভবত ওষুধ হিসেবে এবং প্রসাধনী হিসেবেও এ উদ্ভিদের ব্যবহার ছিল।

আরেকটি বিশেষ উদ্ভিদ হলো ডেন্ড্রোসসিয়াস। এটি এক প্রকারের শসা গাছ। বিভিন্ন আকৃতির কাণ্ডটি লম্বা হয়ে চূড়া তৈরি করে। যেখানে হলুদ, গোলাপি ফুল ফোটে। উভলিঙ্গ এ গাছের জন্ম দ্বীপের বয়সের দ্বিগুণ আগে বলে গবেষকদের ধারণা। উদ্ভিদগুলোর অদ্ভুত গড়নই দ্বীপকে ভিনগ্রহীদের দ্বীপ হিসেবে আখ্যায়িত করার মূল কারণ। এ ছাড়া আছে পোমেগ্র্যানেট নামক ফুলেল উদ্ভিদ। এটি আড়াই থেকে চার ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে সাধারণত ফুল এবং ফল হয়। এ গাছের কাঠ খুব শক্ত হয় এবং ছোটখাটো আসবাবপত্র তৈরিতে ব্যবহৃতও হয়।

মোট ৩১ প্রজাতির প্রাণীর দেখা মিলবে এ দ্বীপে, যার ৯৪ শতাংশ অর্থাৎ ২৯টি প্রজাতিই স্থানীয়, যেগুলোর দেখা অন্য কোথাও মিলবে না। স্কিংস, পা-বিহীন টিকটিকি, নানা প্রকারের মাকড়সা এবং তিন প্রকারের বিশুদ্ধ পানির কাঁকড়ার দেখা মিলবে এ দ্বীপে। তা ছাড়া আছে বেশ কিছু প্রজাপতি। তবে স্তন্যপায়ী প্রাণী হিসেবে বাদুড় ছাড়া আর কোনো প্রাণের অস্তিত্ব মেলেনি। গত দুই হাজার বছরে মানুষের বসবাস সেভাবে না থাকলেও গড়ে উঠছে গত দুই শতাব্দীতে। বড় বড় কুমির ও টিকটিকির আবির্ভাব হয়েছে এবং স্থানীয় বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রাণীগুলো বিলুপ্তির পথে।

১৯৯৯ সালে দ্বীপে একটি বিমানবন্দর স্থাপন হয়। এর আগপর্যন্ত কার্গো জাহাজ ছাড়া দ্বীপে পৌঁছানোর আর কোনো মাধ্যম ছিল না। সুকাত্রা বিমানবন্দরটি এর প্রধান শহর থেকে ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। দ্বীপটিতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

এলিয়েন মাছ কিন্তু এলিয়েন দ্বীপের নয়। গবেষকরা জানিয়েছেন, এটি গভীর সমুদ্রের একটি মাছ। এর দেখা মিলেছে যুক্তরাষ্ট্রের মনটেরির ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরে। এমন স্বচ্ছ মাথার প্রাণীর বিচরণ আছে আটলান্টিক, প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরে। পানির দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৬০০ ফুট গভীরে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সমুদ্র গবেষণা সংস্থা মনেটারি বে অ্যাকুয়ারিয়াম রিসার্চ ইনস্টিটিউট পানির জগৎ নিয়ে কাজ করে। এ কাজে তারা ভেনটেনা নামের দূর থেকে পরিচালনা করা যায়, এমন একটি যন্ত্র ব্যবহার করেন। এতে বসানো আছে উচ্চ রেজুলেশনের ক্যামেরা, যার ফ্রেমে সম্প্রতি বন্দি হয়েছে অদ্ভুত এ প্রাণী।

রিমোট অপারেটিং যান ভেনটানা ও ডক রিকেটসের ধারণকৃত ২৭ হাজার ৬০০ ঘণ্টারও বেশি সময়ের ভিডিওতে মাত্র ৯ বার মাছটিকে ক্যামেরায় ধারণ করা সম্ভব হয়েছে। এ মাছ স্পুক ফিশ নামেও পরিচিত। বিজ্ঞানীরা এ ধরনের স্বচ্ছ মাথার প্রাণীকে ম্যাক্রোপিনা মাইক্রোস্টমাও বলে থাকেন। বিরল এ প্রাণী লম্বায় ছয় ইঞ্চি। এলিয়েনের মতো মাছটির শরীরের বেশিরভাগ অংশ কালো বা অস্পষ্ট হলেও মাথার ওপরের অংশটি স্বচ্ছ। অন্য যে কোনো সামুদ্রিক প্রাণী থেকে ভিন্ন মাছটির স্বচ্ছ মাথার ভেতরে রয়েছে উজ্জ্বল সবুজ রঙের একজোড়া চোখ।

স্বচ্ছ মাথার প্রাণী প্রথম দেখা যায় ১৯৩৯ সালে। ২০১৯ সাল পর্যন্ত ধারণা ছিল, মাছটির চোখজোড়া এক জায়গায় স্থির এবং মাথার ওপরে সরাসরি যা ছিল তা শুধুমাত্র একটি 'টানেল-ভিশন'। তবে একই বছর আরেকটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, মাছটির চোখ মাথার ওপরের স্বচ্ছ ঢালের মধ্যে ঘুরতে পারে, খাদ্য খুঁজতে পারে এবং সে কী খাচ্ছে তা দেখতেও পারে।

খাবারের সন্ধানে এ মাছ ৩৬০ ডিগ্রি চোখ ঘোরাতে পারে। এ চোখ ঘোরানো নিয়েই প্রথমে শুরু হয়েছিল গবেষণা। জীববিজ্ঞানীদের মতে, মাছটি এমন এক কঠিন পরিবেশে বাস করে, যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছাতে পারে না। তারই ফলস্বরূপ এক শক্তিশালী দৃষ্টিশক্তির অনুভূতি তৈরি হয় মাছটির মধ্যে।

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)