সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

টাঙ্গাইলের সখীপুরে কুতুবপুর হাটে সপ্তাহে প্রায় কোটি টাকার কলা বেচাকেনা

টাঙ্গাইলের সখীপুরের কুতুবপুর হাট থেকে ২০১৯ সালের নভেম্বরে সপ্তাহে প্রায় কোটি টাকার কলা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছিল; প্রতি হাটে যেত ২০ থেকে ২৫ ট্রাক কলা।

টাঙ্গাইলের সখীপুরে কুতুবপুর হাটে সপ্তাহে প্রায় কোটি টাকার কলা বেচাকেনা
এগ্রোবিজ

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের কুতুবপুর হাট কলার পাইকারি বাজার হিসেবে জেলায় পরিচিতি পেয়েছে। ঢাকা ট্রিবিউন ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর জানায়, প্রতি রবি ও বুধবার বসা এই হাট থেকে সপ্তাহে প্রায় কোটি টাকার কলা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছিল। বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান ফকির পত্রিকাটিকে বলেন, “এ বাজারে সপ্তাহে প্রায় কোটি টাকার কলার বেচা-কেনা করা হয়। তাছাড়া কুতুবপুর অন্যতম বিখ্যাত কলার বাজার বলে খ্যাতি রয়েছে।”

সপ্তাহে দুই দিনের হাট, কলা যায় সারা দেশে


কুতুবপুর বাজারের কলা ব্যবসায়ীদের দাবি, উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় কলার হাট তখন এই কুতুবপুর। সখীপুরের কুতুবপুর, বড়চওনা, দাড়িপাকা, শ্রীপুর, তৈলধারা, মুচারিয়া পাথার ও শালগ্রামপুর, ফুলবাড়িয়া উপজেলার গারোবাজার এবং ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী ও জোড়দিঘীসহ নানা এলাকা থেকে কলা আসে। শনিবার বিকেল থেকে রবিবার দুপুর ১২টা এবং মঙ্গলবার বিকেল থেকে বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত কলা আসতে থাকে।

কলাচাষি ও ছোট ব্যবসায়ীরা হাটে কলা নিয়ে আসেন। তাদের কাছ থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা কিনে ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় নিয়ে বিক্রি করেন। হাটের আড়তদার ফজল মিয়া জানান, প্রতি হাটে এখান থেকে ২০ থেকে ২৫ ট্রাক কলা দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়, আর কলা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এখানে সাতটি আড়ত গড়ে উঠেছে।

একই বছরের ৩১ জানুয়ারি দৈনিক মানবজমিনের এক প্রতিবেদনে হাটটির অবস্থান বলা হয় ঢাকা-সাগরদিঘী সড়কের কুতুবপুরে, রাস্তার দুই পাশে; জায়গাটি টাঙ্গাইলের সখীপুর ও ঘাটাইল এবং ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া ও ভালুকা উপজেলার সীমানায়। সেই প্রতিবেদনেও হাটের দিন ছিল রোববার ও বুধবার, আর কাঁদিপ্রতি এক টাকা হারে খাজনা আদায়ের কথা বলা হয়েছিল।

বাংলাদেশে রাজশাহী ও খুলনার মধ্যে একটি রেলস্টেশনের পেছনে কলার আড়ত। ছবি: David Stanley / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
বাংলাদেশে রাজশাহী ও খুলনার মধ্যে একটি রেলস্টেশনের পেছনে কলার আড়ত। ছবি: David Stanley / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)

কাঁদির দাম ১০০ থেকে ৫০০ টাকা


ব্যবসায়ী ও বিক্রেতারা ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, সে বছর কলার দাম অনেকটাই বেশি ছিল। কাঁদির আকার ও মান অনুযায়ী প্রতি কাঁদি কলা বিক্রি হচ্ছিল ১০০ থেকে ৫০০ টাকায়। কলা ব্যবসায়ী মিয়া হোসেন বলেন, এ বাজারের কলা উন্নত মানের এবং দেশের সব জায়গায় এর চাহিদা আছে, তাই দামও একটু বেশি। তার হিসাবে ১৫ থেকে ১৮ ছড়ির মধ্যম মানের একটি কাঁদি অন্তত ৩০০ টাকায় এবং এর চেয়ে ভালো মানের কাঁদি ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতো।

শ্রীপুর গ্রামের কলাচাষি মজিবুর রহমান বলেন, উপজেলার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় কলার হাট; অন্য বাজারের তুলনায় এখানে বেশি কলা বিক্রি হয় এবং দামও কিছুটা ভালো পাওয়া যায়, তাই কুতুবপুরে কলার আমদানিও বেশি।

বাংলাদেশে রাজশাহী-খুলনা পথের একটি রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে কলা বিক্রি। ছবি: David Stanley / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
বাংলাদেশে রাজশাহী-খুলনা পথের একটি রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে কলা বিক্রি। ছবি: David Stanley / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)

চাষির হিসাবে খরচ ও আয়


গারোবাজারের কলাচাষি হযরত আলী জানান, সে বছর তিনি বিঘাপ্রতি ৩০০টি করে কলাগাছ লাগিয়েছিলেন। প্রতি বিঘায় তার খরচ হয়েছিল ৩০ হাজার টাকা, আর প্রতি বিঘা থেকে অন্তত ৮০ হাজার টাকার কলা বিক্রির আশা করছিলেন তিনি।

বাংলাদেশের একটি কলাবাগানের ড্রোন থেকে তোলা দৃশ্য। ছবি: The Roving Rokibul / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশের একটি কলাবাগানের ড্রোন থেকে তোলা দৃশ্য। ছবি: The Roving Rokibul / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

কলা চাষে টাঙ্গাইলের অবস্থান


বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এম এফ হোসেন ২০১৪ সালে এআরপিএন জার্নাল অব অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল সায়েন্সে প্রকাশিত গবেষণায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখান, ২০০৬-০৭ থেকে ২০১০-১১ সাল পর্যন্ত দেশের ২৩টি অঞ্চলের মধ্যে কলার আবাদ সবচেয়ে বেশি ছিল টাঙ্গাইল অঞ্চলে। ২০১০-১১ সালে এই অঞ্চলে কলার আবাদ ছিল ১৬ হাজার ৮৬৩ একর, গড় ফলন একরে ৮ দশমিক ০৫ টন। একই বছর সারা দেশে কলার আবাদ ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ৫৮৯ একর, উৎপাদন ৮ লাখ ৮৪০ টন।

গবেষণাটি নরসিংদী, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, রংপুর, বগুড়া, নাটোর, পাবনা, নোয়াখালী, ফরিদপুর ও খুলনাকে কলা চাষের প্রধান জেলা হিসেবে উল্লেখ করে। সারা বছর পাওয়া, পুষ্টিগুণ, দাম ও জনপ্রিয়তার কারণে কলাকে দেশের এক নম্বর ফল বলা হয়, আর দেশের মোট ফলের চাহিদার ৪২ শতাংশ কলা মেটায় বলে গবেষণায় উল্লেখ আছে।

সখীপুর ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল জেলার একটি উপজেলা। এর আয়তন ৪৩৫ দশমিক ১৯ বর্গকিলোমিটার, ইউনিয়ন ১০টি, কালিয়া তার একটি। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে উপজেলার জনসংখ্যা ছিল ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৮৫।

সখীপুর উপজেলার কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন। ছবি: Abdullah AL habib / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সখীপুর উপজেলার কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন। ছবি: Abdullah AL habib / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ছবি: David Stanley / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)

সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন, দৈনিক মানবজমিন, এআরপিএন জার্নাল অব অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল সায়েন্স (এম এফ হোসেন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

এগ্রোবিজ

সম্পর্কিত খবর

ফসল

ইংল্যান্ডে যবের ফলন ১৪ বছরে সর্বনিম্ন, গম সামান্য বেশি

যুক্তরাজ্যের কৃষি মন্ত্রণালয় ডেফরার প্রাথমিক হিসাবে ইংল্যান্ডে যব উৎপাদন ১১ শতাংশ কমে ৩৭ লাখ টন হয়েছে, গম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৮ লাখ টন; গমের তুলনায় পশুখাদ্যের যব বিক্রি হচ্ছে অনেক কম দামে।

Farmers Weekly১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

নিজস্ব কারখানা ছেড়ে চুক্তিভিত্তিক ও যৌথ কারখানায় ঝুঁকছে উদ্ভিজ্জ মাংস

চাহিদা অনিশ্চিত থাকায় উদ্ভিজ্জ মাংসের ব্র্যান্ডগুলো নিজস্ব কারখানার বদলে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন, যৌথ অবকাঠামো ও মাংস প্রক্রিয়াকরণের পুরোনো যন্ত্রপাতির দিকে ঝুঁকছে বলে জানিয়েছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।

FoodNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোবিজ

সারের দাম দেখার প্ল্যাটফর্ম ক্লিয়ারকস্টে বিনিয়োগ, সালফার সংকটে কমছে ফসফরাস

কৃষকদের সারের দাম ও চালান দেখার এবং সরবরাহ চুক্তির সুযোগ দেওয়া কানাডার স্টার্টআপ ক্লিয়ারকস্ট সিরিজ এ তহবিল পেয়েছে; ২০২৭ সালের শুরুতে উত্তর আমেরিকাজুড়ে নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু করবে তারা।

AgNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)