আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের (সিমিট) সঙ্গে মিলে ৮ ও ৯ অক্টোবর ভারতের বারাণসীতে তাদের দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক কেন্দ্রে শূন্য চাষে গম বপন ও ফসলের অবশিষ্টাংশ ব্যবস্থাপনার দুই দিনের প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ আয়োজন করে। অংশ নেন পূর্ব উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন জেলার ৬৩ জন কৃষক, কৃষিযন্ত্রসেবাদাতা ও সম্প্রসারণকর্মী।
এ অঞ্চলের ধান-গম চাষে উৎপাদনশীলতা কমছে, গম বপনে দেরি হচ্ছে, শ্রমিক ও উপকরণের খরচ বাড়ছে, আর ধানের খড় নিয়েও সমস্যা আছে। আয়োজকেরা জানান, জমি চাষ না করে ধানের নাড়ার মধ্যেই সরাসরি গম বোনা এবং সঙ্গে খড় ব্যবস্থাপনা চাষের খরচ কমায়, মাটির আর্দ্রতা ভালোভাবে কাজে লাগায় এবং খড় পোড়ানোর বিকল্প দেয়।
প্রথম দিনে কৃষিতত্ত্ব, খড় ব্যবস্থাপনা, যন্ত্রের অর্থনীতি ও নারী-পুরুষ উভয়ের অংশগ্রহণমূলক যান্ত্রিকীকরণ নিয়ে আলোচনা হয়, সঙ্গে শূন্য চাষের বীজ বপন যন্ত্রে হাতে-কলমে অনুশীলন। দ্বিতীয় দিনে হ্যাপি সিডার, স্মার্ট সিডার, বেলার, কম্পোস্ট টার্নারসহ বিভিন্ন যন্ত্রের প্রদর্শনী এবং যন্ত্র চালানো, রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রসেবাকে ব্যবসা হিসেবে চালানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
ইরির জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ড. আর কে মালিক (R. K. Malik) তাপজনিত ক্ষতি কমাতে ২০ নভেম্বরের আগে গম বোনার পরামর্শ দেন এবং শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় সরাসরি বপন করা ধানের পর শূন্য চাষে গম চাষের আহ্বান জানান। তিনি প্রত্যেক প্রশিক্ষিত কৃষককে অন্তত ১০ জনকে শেখাতে বলেন। প্রধান অতিথি আইসিএআর-আটারি কানপুরের ড. রাঘবেন্দ্র সিং (Raghavendra Singh) বলেন, সাম্প্রতিক শিলাবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরাসরি বপন করা ধানের জমি ভালোভাবে টিকে ছিল। সিমিটের ড. এস পি পুনিয়া (S. P. Poonia) কৃষকের প্রয়োজনমতো ছোট যন্ত্রের ওপর জোর দেন।
প্রশিক্ষণটি হয়েছে ইরির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. বিক্রম পাতিলের (Vikram Patil) নেতৃত্বে সিজিআইএআরের স্কেলিং ফর ইমপ্যাক্ট উদ্যোগের আওতায়, যা ইউপি-অ্যাগ্রিস প্রকল্পের পরিপূরক। একই ধান-গম ব্যবস্থা ও খড় পোড়ানোর একই সমস্যা আছে উত্তরাঞ্চলসহ বাংলাদেশের গঙ্গা অববাহিকার সমভূমিতেও।
সূত্র: ইরি



মন্তব্য
(০)