কৃষিপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর পণ্য পরীক্ষা ও উন্নয়নে সহায়তা করা যুক্তরাজ্যের সরকারি অর্থায়িত প্রতিষ্ঠান ইউকে এগ্রি-টেক সেন্টার (UK Agri-Tech Centre, UKATC) তাদের কর্মী ৬০ শতাংশ কমাচ্ছে। কর্মীদের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া শেষে কর্মীসংখ্যা ১৩০ থেকে নামবে ৫০ জনে। খবরটি দিয়েছে এজিফান্ডনিউজ।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এটি খরচ কমানোর উদ্যোগ নয়, বরং কাজের নতুন ধরন। কেন্দ্রটির ৪৩টি স্থাপনা আছে, যেখানে ফসল, প্রাণিসম্পদ, জলজ চাষ, প্রকৌশল, রোবটিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ হয়। ২০২৭ সালে চালু হতে যাওয়া নতুন কাঠামোয় কেন্দ্রটি নিজে আর প্রযুক্তির পরীক্ষা, মাঠ যাচাই বা মূল্যায়ন করবে না; স্থাপনাগুলো অংশীদার প্রতিষ্ঠানের হাতে যাবে। এর কাজ হবে স্টার্টআপ, বড় কোম্পানি, গবেষক, বিনিয়োগকারী, সরকার ও কৃষককে প্রয়োজনীয় স্থাপনা ও বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যুক্ত করা।
প্রতিষ্ঠানের চিফ এনগেজমেন্ট অফিসার ড্যানিয়েল হিমসওয়ার্থ (Daniel Himsworth) বলেন, তাঁরা নিজেরা প্রযুক্তি পরীক্ষা ও যাচাইয়ের কাজ থেকে সরে আসার পরিকল্পনা করছেন। তাঁর ব্যাখ্যা, কেন্দ্রটি কখনো কখনো যেসব অংশীদারের সঙ্গে কাজ করে, তাদের সঙ্গেই গবেষণা চুক্তির জন্য প্রতিযোগিতা করত; নতুন কাঠামো সেই দ্বৈততা দূর করবে। স্থাপনাগুলো বিক্রি করা হচ্ছে না, যুক্তরাজ্যের গবেষণা সক্ষমতার মধ্যেই থাকবে এবং পরিচিত অংশীদারদের কাছে একটি একটি করে হস্তান্তর হবে বলে জানান হিমসওয়ার্থ। নতুন নকশা তৈরি হয়েছে ইনোভেট ইউকে (Innovate UK) এবং যুক্তরাজ্যের কৃষি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় ডেফরার (Defra) সহায়তায়।
ইউকেএটিসি গঠিত হয় ২০২৪ সালে, যথার্থ কৃষি, ফসল সুরক্ষা ও প্রাণিসম্পদ নিয়ে কাজ করা সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত তিনটি সংস্থা একীভূত হয়ে। এটি একটি বেসরকারি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যার মূল অর্থ আসে ইনোভেট ইউকের মাধ্যমে সরকারের কাছ থেকে; পাশাপাশি পরীক্ষাসেবা, গবেষণা অনুদান ও স্টার্টআপদের স্থাপনা ব্যবহারের ফি থেকেও আয় হতো। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যোগ দেওয়া প্রধান নির্বাহী স্টিভ ম্যাকলিন (Steve McLean) বলেন, যাঁদের চাকরি যাচ্ছে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই এখন প্রথম কাজ।
খাতের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। স্টার্টআপ ও বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করা প্রতিষ্ঠান টেকট্যুরের (TechTour) ডেভিড ফারকুহার (David Farquhar) বলেন, এ পরিবর্তনে কেন্দ্রটি প্রাথমিক গবেষণার বদলে বাণিজ্যিক খামারে নতুন প্রযুক্তি চালু করার দিকে মন দিতে পারবে। একটি স্টার্টআপের এক কর্মকর্তা বলেন, কেন্দ্রটি তাঁদের অনেক সহায়তা করেছে, তাই স্পষ্ট লক্ষ্য ভালোই হবে, যদি চাষিরা বাস্তব সহায়তা পেতে থাকেন। আরেক প্রতিষ্ঠাতার মতে, কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকে তেমন লাভ হয়নি; স্টার্টআপের দরকার এমন অভিজ্ঞ পরামর্শক, যাঁরা ব্যবসা বড় করা, নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সামলানো ও বিনিয়োগ পেতে সাহায্য করতে পারেন। প্রতিবেদনটি লিখেছেন এলেইন ওয়াটসন (Elaine Watson)।
ছবি: DLG e.V. / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ




মন্তব্য
(০)