সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ও ভালুকায় কমলা চাষে সফল দুই তরুণ

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ও ভালুকায় দুই তরুণের বাগানে চায়না ও দার্জিলিং জাতের কমলার ভালো ফলন হয়; তাঁদের নিজেদের হিসাবে বিক্রি কয়েক লাখ টাকার। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যে সে বছর জেলায় ১৯ হেক্টরে কমলা চাষ হয়।

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ও ভালুকায় কমলা চাষে সফল দুই তরুণ
এগ্রোবিজ

২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি জাগো নিউজ ময়মনসিংহ থেকে জানায়, জেলার ঈশ্বরগঞ্জ ও ভালুকা উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষ করে সফল হয়েছেন দুই তরুণ। ঈশ্বরগঞ্জের সরিষা ইউনিয়নের লংগাই গ্রামে মো. মাহফুজ চাষ করেছেন ছোট আকারের চায়না জাতের কমলা। ভালুকার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের আখালিয়া গ্রামে বাগান গড়েছেন শহিদ আহাম্মেদ। সেই শীতে দুজনের গাছেই প্রচুর ফল ধরেছিল, পাকা কমলা বিক্রিও চলছিল। দুজনই বলেছেন, কমলা চাষের কথা তাঁরা প্রথম জেনেছেন ইউটিউবের ভিডিও দেখে, আর দুজনেই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, কয়েক লাখ টাকার কমলা বিক্রির আশা করছেন তাঁরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) ময়মনসিংহ কার্যালয় জানায়, সে বছর জেলায় ১৯ হেক্টর জমিতে কমলা চাষ হয়েছে।

দেশের এই অঞ্চলে কমলা প্রচলিত ফসল নয়। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া দুই উপজেলার প্রধান ফলের যে তালিকা দেয়, তাতে আছে আম, কাঁঠাল, কলা, লিচু, নারকেল, তাল ও পরিচিত আরও কিছু গাছ, কমলার নাম নেই। দুটি বাগান আসলে এক বড় পরিবর্তনের অংশ, যা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ও সংবাদমাধ্যম এক দশকের বেশি সময় ধরে লিখে আসছে: কমলা ও ম্যান্ডারিন সিলেটের পাহাড় আর পার্বত্য চট্টগ্রামের পুরোনো এলাকা ছেড়ে দেশের নানা প্রান্তের সমতলে ছড়িয়ে পড়ছে।

লংগাই ও আখালিয়ার ফলভরা বাগান


প্রতিবেদক দুটি বাগানে গিয়ে দেখেন, গাছে প্রচুর কমলা ধরেছে, কোনো কোনো ডাল ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে। দুই তরুণের নির্দেশনায় শ্রমিকেরা মনোযোগ দিয়ে গাছের পরিচর্যা করছেন। স্থানীয় লোকজন কমলা খেতে ও কিনতে আসছেন, আর পাইকারেরা টাটকা কমলা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন বাজারে বিক্রির জন্য।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগেও এলাকার অনেকে মাহফুজ বা শহিদকে চিনতেন না। কমলা বাগানের সুবাদে তাঁরা এখন সবার কাছে পরিচিত, সফল উদ্যোক্তা হিসেবেই সবাই তাঁদের চেনেন। তাঁদের দেখাদেখি অনেকে কমলা চাষে ঝুঁকছেন। দুই তরুণও নতুনদের উৎসাহ দিচ্ছেন, কীভাবে বাগান লাভজনক করা যায় সে বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন।

লংগাই গ্রামের হযরত আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘মাহফুজ নিজের মেধা ও শ্রম দিয়ে সফল হয়েছেন। সে দিনের বেশিরভাগ সময় বাগানে কাটায়। স্থানীয়রা বাগানে গেলে কমলা খেতে দেন। অনেকে বিনা মূল্যে কয়েকটি করে কমলা নিয়ে যান। তার সফলতায় আমরা খুশি।’

মাহফুজের বাগানের শ্রমিক জহিরুল ইসলাম আগে নানা এলাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তিনি বলেন, ‘৪ বছর আগে বাড়ির কাছে কমলা বাগান হওয়ায় মাহফুজের সঙ্গে যোগাযোগ করি। সে শ্রমিক হিসেবে কাজ দিয়েছে। বাড়ির কাছে কাজ করে যা পাই, তা দিয়েই সংসার চলে।’

আখালিয়া গ্রামের বাসিন্দা সারোয়ার হোসেন শহিদের বাগান গড়ার পথের কথা বলেন: ‘টাকা রোজগার করে জীবনের মোড় ঘোরাতে বিদেশ গিয়েছিল শহিদ। তাতে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হন এই তরুণ। পরে দেশে ফিরে কমলা চাষ করে লাভবান হন। এখন তিনি আয় করছেন লাখ লাখ টাকা।’

শহিদের বাগানে কাজ করেন ইদ্রিস। তিনি জানান, বাগান পরিচর্যাসহ নানা কাজ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্যে, বাগানে কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয় না, জৈব পদ্ধতিতে চাষ হওয়ায় কমলাগুলো রাসায়নিকমুক্ত এবং খেতে সুস্বাদু, তাই ভালো দামে সহজেই বিক্রি হচ্ছে। এটি বাগান পরিচালনা নিয়ে তাঁর নিজের বক্তব্য; প্রতিবেদনে ফলের কোনো পরীক্ষার কথা উল্লেখ নেই।

চাষিদের নিজেদের হিসাব


কীভাবে শুরু করলেন, জানিয়ে মাহফুজ বলেন, ‘ইউটিউবে দেখেছি অনেকেই কমলা চাষে লাভবান হচ্ছেন। তাই নিজেও সাহস করে ৪ বছর আগে ৪০ শতাংশ জমিতে ৯৭টি কমলার চারা রোপণ করেছি। গত বছর কিছু ফলন হয়। এবার প্রায় ৭০ মণ কমলা ধরেছে। অনেক কমলা পেকে গেছে। এগুলো ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবমিলিয়ে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকার কমলা বিক্রির আশা করছি।’

শহিদ আহাম্মেদ বলেন, ‘ইউটিউব দেখে দেড় একর জমিতে চায়না জাতের ২৩০টি ও দার্জিলিং জাতের ৭০টি চারা লাগিয়েছি। বাগানে প্রায় ২০০ মণ কমলা ধরেছে। কয়েক লাখ টাকার কমলা বিক্রি করেছি। সব মিলিয়ে ১২ লাখ টাকার কমলা বিক্রির আশা করছি। কলম পদ্ধতিতে চারাও বিক্রি করছি। এতেও ভালো লাভ হবে।’

দুই চাষি যে এককে ফলন মেপেছেন, সেই মণ উপমহাদেশের পুরোনো ওজনের একক, ৪০ সেরে এক মণ। স্বাধীনতার পর ভারত ও পাকিস্তান এক মণকে ঠিক ৩৭.৩২৪২ কেজি হিসেবে নির্ধারণ করে, আর বাংলাদেশের দৈনন্দিন কেনাবেচায় সাধারণত এক মণ ধরা হয় ৪০ কেজি। বিক্রির যে অঙ্ক দুজন বলেছেন, তা মৌসুম নিয়ে তাঁদের নিজেদের প্রত্যাশা, প্রতিবেদককে যেমন বলেছেন; এটি নিরীক্ষিত কোনো হিসাব নয়।

তাঁদের দামের পাশে সে সময়ের অন্য প্রতিবেদনও রাখা যায়। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দ্য ডেইলি স্টার বাংলা জানায়, রংপুরে দেশি কমলা ও মাল্টা খুচরায় বিক্রি হচ্ছিল কেজি ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায়, আর আমদানি করা ফল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। ময়মনসিংহের প্রতিবেদনের এক মাস আগে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে, একই পত্রিকা গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার সাতখামাইরে দার্জিলিং ও ম্যান্ডারিন কমলার একটি বাগানের কথা লেখে; শ্রীপুর ভালুকার ঠিক দক্ষিণে। সেখানে দার্জিলিং কমলা বিক্রি হচ্ছিল কেজি ৩০০ টাকায়, আর গাছ থেকে নিজ হাতে কমলা তুলতে দর্শনার্থীরা ৩০ টাকার টিকিট কাটছিলেন। ২০২২ সালের নভেম্বরে দৈনিক ইত্তেফাক জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে প্রবাসফেরত এক ব্যক্তি চায়না-থ্রি জাতের কমলা কেজি ১৭০ টাকা দরে এক হাজার থেকে বারোশো কেজি বিক্রি করেছেন।

জেলা কৃষি বিভাগ যা বলেছে


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক ড. নাছরিন আক্তার বানু সরকারি হিসাব তুলে ধরে বলেন, ‘চলতি বছর জেলায় ১৯ হেক্টর জমিতে কমলা চাষ হয়েছে। এরমধ্যে ঈশ্বরগঞ্জে ১ হেক্টর জমিতে ও ভালুকায় ১০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। মাহফুজ ও শহিদ কমলা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। তাদের স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। অন্যদেরও কমলা চাষে আগ্রহী করা হচ্ছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারণ সংস্থা; এর জেলা ও উপজেলা কার্যালয় কৃষকদের পরামর্শ দেয়, প্রশিক্ষণ চালায় এবং চারা ও অন্যান্য রোপণসামগ্রী বিতরণ করে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অধিদপ্তরের ফল ও ফুল উদ্যানতত্ত্ব শাখার একজন উপপরিচালক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, অধিদপ্তর কমলা ও ট্যানজারিনের কলমের চারা উৎপাদন বাড়াচ্ছে এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে; তিনি আশা করেন, পরের বছরগুলোতে উৎপাদন বাড়বে।

বাংলাপিডিয়ার তথ্যে ময়মনসিংহ জেলার আয়তন ৪ হাজার ৮০.১৮ বর্গকিলোমিটার। জেলার উত্তরে গারো পাহাড় ও ভারতের মেঘালয় রাজ্য, দক্ষিণে গাজীপুর, পূর্বে নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ, পশ্চিমে শেরপুর, জামালপুর ও টাঙ্গাইল। প্রধান নদী পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ভোগাই, বাজুয়া ও কংস।

ঈশ্বরগঞ্জ জেলার পূর্ব দিকে, গৌরীপুর, নান্দাইল, কেন্দুয়া, ময়মনসিংহ সদর ও ত্রিশাল উপজেলার মাঝখানে। এর আয়তন ২৮০.৪৩ বর্গকিলোমিটার, ইউনিয়ন ১১টি, যার একটি সরিষা। উপজেলার ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, মগড়া, সোয়াই ও কাঁচামাটিয়া নদী। বাংলাপিডিয়ার তালিকায় এখানকার প্রধান ফসল ধান, পাট, গম, আলু, করলা, পটোল, সরিষা, মরিচ, পান ও আখ।

ভালুকা জেলার দক্ষিণের উপজেলা; এর উত্তরে ফুলবাড়িয়া ও ত্রিশাল, দক্ষিণে গাজীপুরের শ্রীপুর। আয়তন ৪৪৪.০৫ বর্গকিলোমিটার, ইউনিয়ন ১১টি, তার একটি ডাকাতিয়া। প্রধান ফসল ধান, পাট, গম, আখ, আলু, ডাল, সরিষা ও শাকসবজি। কৃষির পাশাপাশি এখানে আছে চালকল, বস্ত্র ও সুতাকল, সিরামিক কারখানা এবং মাছের খাদ্য তৈরির কারখানা।

ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ। ছবি: Ashis Saha / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ। ছবি: Ashis Saha / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

চায়না ও দার্জিলিং: বাগান দুটির কমলা


বাংলাপিডিয়া দেশে চাষ হওয়া তিন ধরনের কমলার কথা বলে: সাধারণ বা চায়না কমলা (Citrus sinensis), ম্যান্ডারিন কমলা (Citrus reticulata), যার কিছু জাত ট্যানজারিন নামে পরিচিত, আর টক বা সেভিল কমলা (Citrus aurantium)। গাছ বহুবর্ষজীবী ও মাঝারি আকারের; ফলের খোসা ঢিলা, পাকলে কমলা রং ধরে, ভেতরে সহজে আলাদা করা যায় এমন ৮ থেকে ১০টি রসালো কোয়া থাকে। কলম বা চোখকলমের মাধ্যমে চারা তৈরি হয়, রোপণের ৪ থেকে ৫ বছর পর ফল ধরে, আর একটি পূর্ণবয়স্ক গাছে গড়ে ১৯০ গ্রাম ওজনের ৩০০ থেকে ৪০০টি ফল হতে পারে।

বারির বিজ্ঞানীরা চীন থেকে আসা কমলাকে ম্যান্ডারিন (Citrus reticulata) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ম্যান্ডারিন মাঝারি আকারের গাছ, কাণ্ড ও বড় ডালে কাঁটা থাকে। ফল ছোট, ৪০ থেকে ৮০ মিলিমিটার চওড়া, গোল নয় বরং কিছুটা চ্যাপ্টা; খোসা পাতলা ও ঢিলা, সহজে ছাড়ানো যায়। প্রজাতিটির উৎপত্তি দক্ষিণ চীন ও ভিয়েতনামের সীমিত এক অঞ্চলে; ঠান্ডায় সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, উপযোগী ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় জলবায়ু।

ময়মনসিংহের বাগান দুটি হওয়ার অনেক আগে থেকেই বারি চীন থেকে আসা একটি ম্যান্ডারিন নিয়ে কাজ করছিল। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে দ্য ডেইলি স্টার জানায়, খাগড়াছড়িতে বারির পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা ২০০৮ সালে জাতটি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন; ১০০ বর্গমিটার জমিতে ২২টি গাছে সে মৌসুমে গাছপ্রতি ২০ থেকে ২৫টি করে ফল ধরে। পুরো পাকলে ফল হলুদ হয়, ওজন ৩০ থেকে ৪০ গ্রাম, খোসা পাতলা, মোট দ্রবণীয় কঠিন পদার্থ ১৩.২ শতাংশ ও অম্লতা ১.১৬ শতাংশ। কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, মে থেকে জুলাই মাসে বীজ বা কলমের চারা লাগাতে হয়, হেক্টরে প্রায় ৬২৫টি চারা; ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে ফল ধরে, মার্চ-এপ্রিলে ফুল আসে, নভেম্বর-ডিসেম্বরে ফল তোলা হয়। তাঁদের মতে, পানি নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থাসহ বেলে মাটি এর উপযোগী, আর সেচ ও মালচিং দিলে ভালো ফলন হয়। জাতীয় বীজ বোর্ডে জাতটিকে ‘বারি কমলা-২’ নামে নিবন্ধনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল।

২০২০ সালের নভেম্বরে বারির একজন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, কমলা বাংলাদেশের দেশি ফল নয়, তবে এ দেশের জলবায়ুতে চাষ করা যায়; সবচেয়ে বেশি চাষ হওয়া দুটি জাত হলো বারি কমলা-২, যার ওজন ৭০ গ্রাম পর্যন্ত, এবং বারি কমলা-৩, যা ১৬০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। বাংলাপিডিয়ায় বারির উদ্ভাবিত বারি কমলালেবু-১ জাতেরও উল্লেখ আছে, যার ফল প্রায় গোল, রসালো ও মিষ্টি।

শহিদের বাগানের দ্বিতীয় জাতটির নাম ভারতের দার্জিলিংয়ের নামে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম আলো জানায়, ভারতের দার্জিলিং জাত ও চীনের ম্যান্ডারিন জাত দেশের উত্তরাঞ্চল ও উপকূলীয় জেলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বৃহত্তর রংপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সেখানকার বাগানে তিনটি জাতের কথা জানায়: চায়না, দার্জিলিং ম্যান্ডারিন ও দার্জিলিং নাগপুরি।

শীতে ভারতের দার্জিলিংয়ের দাবাপানির একটি কমলা বাগান। ছবি: Priyamkajal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
শীতে ভারতের দার্জিলিংয়ের দাবাপানির একটি কমলা বাগান। ছবি: Priyamkajal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

কলমের চারা ও বাগানের পরিচর্যা


শহিদ যে কলমের চারা বিক্রির কথা বলেছেন, সেটিই কমলা বংশবিস্তারের প্রচলিত পদ্ধতি। বাংলাপিডিয়া জানায়, কমলার চারা অঙ্গজ উপায়ে, অর্থাৎ কলম বা চোখকলমে তৈরি হয়, ফলে প্রতিটি চারায় মাতৃগাছের ফলের গুণ থাকে। চারা বিক্রি নিজেই আলাদা ব্যবসা হয়ে উঠেছিল। ২০২০ সালের নভেম্বরে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জামতলার এক ফলচাষি সে বছর মাতৃগাছ থেকে ৩০ হাজার কমলার চারা তৈরি করেছেন এবং আকারভেদে প্রতিটি ৮০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করছেন।

কমলাগাছ থেকে লাভ আসতে সময় লাগে। মাহফুজের নিজের সময়রেখা, অর্থাৎ প্রতিবেদনের ৪ বছর আগে চারা রোপণ, আগের বছর অল্প ফলন আর ২০২৪ সালে ভরা ফলন, বারি ও বাংলাপিডিয়ার বর্ণনার ৩ থেকে ৫ বছরের সঙ্গে মিলে যায়। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে মৌলভীবাজারের কমলাচাষিদের নিয়ে প্রতিবেদনে দ্য ডেইলি স্টার জানায়, ফুল আসার পর ফল পাকতে প্রায় ৮ মাস লাগে।

বারির বিজ্ঞানীরা বারবার বলেছেন, এ ফসলে নিবিড় যত্ন দরকার। ২০২০ সালে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে কথা বলা ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সতর্ক করেন, কমলা চাষে যত্নশীল ব্যবস্থাপনা লাগে এবং বেশি তাপমাত্রায় গাছের ক্ষতি হতে পারে। সিলেটে, যেখানে অনেক পুরোনো বাগান ক্ষয়ে গেছে, বিয়ানীবাজারের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ২০২০ সালের ডিসেম্বরে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, বাগানের অযত্ন, মাটির উর্বরতা কমে যাওয়া আর ফুল আসার সময় অতিরিক্ত গরম, যাতে ফুল ও কচি ফল ঝরে পড়ে, ফলন কমার পেছনে কাজ করছে।

রোগও আরেক ঝুঁকি। ২০১৭ সালে জার্নাল অব প্ল্যান্ট প্যাথলজিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বাংলাদেশি গবেষকেরা জানান, দেশে প্রথমবার আণবিক পদ্ধতিতে ক্যানডিডেটাস লাইবেরিব্যাক্টার এশিয়াটিকাস শনাক্ত হয়েছে; এই ব্যাকটেরিয়াই হুয়াংলংবিং বা সাইট্রাস গ্রিনিং রোগের কারণ। নমুনাগুলো ২০১৬ সালের জুলাইয়ে সংগ্রহ করা হয় সিলেটের জৈন্তাপুর, মৌলভীবাজারের আকবরপুর, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মিষ্টি কমলাগাছ থেকে। এ রোগে পাতায় ছোপ ছোপ দাগ পড়ে, গাছের বৃদ্ধি থেমে যায়, শিকড় দুর্বল হয়, ফল বিকৃত হয় এবং গাছ ধীরে ধীরে মরে যায়। এই প্রতিবেদনের সূত্রগুলোতে সার বা বালাইনাশকের কোনো মাত্রা দেওয়া নেই; এসব বিষয়ে চাষিদের উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পনসিরাস আদিজোড়ের ওপর কলম করা সাতসুমা ম্যান্ডারিন, ফেব্রুয়ারি ২০২০; সাইট্রাসে কলম করার উদাহরণ, ছবিটি বাংলাদেশের নয়। ছবি: FarceRéjeane / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
পনসিরাস আদিজোড়ের ওপর কলম করা সাতসুমা ম্যান্ডারিন, ফেব্রুয়ারি ২০২০; সাইট্রাসে কলম করার উদাহরণ, ছবিটি বাংলাদেশের নয়। ছবি: FarceRéjeane / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সিলেটের পাহাড় থেকে সমতলে


দেশের ইতিহাসের বেশির ভাগ সময় কমলা আসত কয়েকটি পাহাড়ি এলাকা থেকে। বাংলাপিডিয়া কমলা চাষের এলাকা হিসেবে সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রাম, রংপুর ও পঞ্চগড়ের কিছু অংশের কথা বলে এবং ২০০৫-০৬ সালে দেশে মোট উৎপাদন ১ হাজার টন উল্লেখ করে। গবেষণার কেন্দ্র ছিল সিলেটের জৈন্তাপুরের সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্র, যা ১৯৬০-৬১ সালে ২১.৪৬ হেক্টর জমিতে ফল, বিশেষ করে লেবুজাতীয় ফল নিয়ে গবেষণার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়; ১৯৭৬ সালে বারি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ার পর কেন্দ্রটি এর অধীনে আসে।

অন্য এলাকায় কমলা ছড়ালেও সিলেটের পুরোনো বাগান কমছিল। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেট কার্যালয়ের হিসাবে ২০০৮ সালে সেখানে প্রায় ৪৫০টি কমলা বাগান ছিল, তখন তা নেমে আসে প্রায় ৩০০টিতে, যার কয়েকটিতে আর ফলন হয় না। ২০০১ সালে শুরু হওয়া বৃহত্তর সিলেট সমন্বিত কমলা চাষ উন্নয়ন প্রকল্পে সিলেট বিভাগের চার জেলায় ২৫০টি বাগান করা হয়েছিল, কিন্তু ২০০৭ সালে প্রকল্প শেষ হওয়ার পর চাষ থমকে যায়।

সমতলে পরিবর্তন এসেছে দ্রুত। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে দ্য ডেইলি স্টার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে জানায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে কমলা চাষ হয়েছে, আর ট্যানজারিনসহ লেবুজাতীয় এসব ফলের আবাদ ছিল সাড়ে ৭ হাজার হেক্টরে, যেখানে প্রায় ছয় বছর আগে তা ছিল প্রায় ২ হাজার হেক্টর। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম আলো জানায়, দেশে কমলার উৎপাদন ২০১০ সালের প্রায় ৫ হাজার টন থেকে বেড়ে প্রায় ৫০ হাজার টনে পৌঁছেছে, অন্তত ৩৫টি জেলায় কমলা চাষ হচ্ছে, চাষ হচ্ছে ২০ থেকে ২৫টি জাত, আর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে আগের দুই বছর ধরে দেশি কমলার উৎপাদন বছরে প্রায় ৫ শতাংশ হারে বাড়ছে।

আঞ্চলিক প্রতিবেদনগুলোও একই ছবি দেয়। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বৃহত্তর রংপুরের পাঁচ জেলায় প্রায় ৪০০ একর জমিতে ১০৮টি কমলা ও মাল্টা বাগানের হিসাব দেয়; এসব বাগান থেকে বছরে প্রায় সাড়ে চার হাজার মেট্রিক টন কমলা ও মাল্টা আসছিল, বাণিজ্যিক চাষ চলছিল ৫ থেকে ৬ বছর ধরে। ভালুকার ঠিক দক্ষিণে শ্রীপুরের যে বাগানটি চার উদ্যোক্তা আট বিঘা লাল মাটিতে গড়েছেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরে সেখানে চলছিল তৃতীয় মৌসুমের ফল তোলা।

কমলার বিস্তারের পেছনে সরকারি প্রকল্প


এই বিস্তারের বড় অংশ এসেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে। ২০১৪-১৫ সাল থেকে চলা বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প ২০১৯ সালের মে পর্যন্ত এক লাখের বেশি কৃষককে প্রশিক্ষণ দেয় এবং ২১ থেকে ২২ লাখ ফলগাছ রোপণ করে; কৃষকেরা নিজ উদ্যোগে আরও প্রায় ২ কোটি গাছ লাগান, জানায় দ্য ডেইলি স্টার। প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল ফলের সরবরাহ বাড়ানো, কারণ কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশে মাথাপিছু দৈনিক ফল খাওয়া হয় প্রায় ৮০ গ্রাম, যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সুপারিশ ২৫০ গ্রাম।

দ্বিতীয় প্রকল্প, লেবুজাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ, ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প, শুরু হয় ২০১৯ সালে। ২০২২ সালের অক্টোবরে বারি মাল্টা-১ নিয়ে এক প্রতিবেদনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর জানায়, বারির ২০০৩ সালে উদ্ভাবিত এই সবুজ খোসার মাল্টা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে দেশের ৩০ জেলার ১২৩টি উপজেলায় চাষ হচ্ছে, আর প্রকল্পের আওতায় সে বছরের আগস্ট পর্যন্ত ২ হাজার ১৩৪ হেক্টর জমিতে এর চাষ ও প্রদর্শনী হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক এর লক্ষ্য হিসেবে বলেন পতিত জমি আবাদের আওতায় আনা, লেবুজাতীয় ফল থেকে ভিটামিন সি-এর ঘাটতি পূরণ এবং মাল্টা ও কমলা আমদানিতে প্রতিবছর বিদেশে যাওয়া ডলার সাশ্রয়। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে অধিদপ্তরের বছরব্যাপী ফল উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক প্রথম আলোকে বলেন, একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কমলা ও ম্যান্ডারিনের উৎপাদন আরও ৪০ হাজার টন বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে; তাঁর আশা, এতে আমদানি কমবে এবং ভোক্তারা কম দামে কমলা পাবেন।

শুধু প্রকল্পই একমাত্র পথ ছিল না। ময়মনসিংহের দুই চাষি ভিডিও দেখে নিজেরাই শুরু করেছেন, আর জেলা কার্যালয় জানিয়েছে, পরে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা তাঁদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন এবং অন্য কৃষকদেরও কমলা চাষে আগ্রহী করার চেষ্টা করছেন।

আমদানি, শুল্ক ও দাম


দেশি কমলাকে প্রতিযোগিতা করতে হয় বিশাল আমদানি বাণিজ্যের সঙ্গে। ২০১৯ সালের মে মাসে দ্য ডেইলি স্টার জানায়, আপেল, ম্যান্ডারিন, কমলা, নাশপাতি ও আঙুরের আমদানি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ছিল ২ লাখ ৮২ হাজার টন, আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ে ২ লাখ ৫২ হাজার টন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ শাখার হিসাবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে লেবুজাতীয় ফল আমদানি হয় ২ লাখ ৫০ হাজার ৭০০ টন। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম আলো সে বছরের আগস্টে প্রকাশিত মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) একটি প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে জানায়, আগের অর্থবছরে কমলা আমদানি প্রায় আড়াই লাখ টনে পৌঁছেছে এবং বাংলাদেশ বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম কমলা আমদানিকারক দেশ হয়েছে, দুই বছর আগে যা ছিল ১৪তম।

এরপর শুল্ক বৃদ্ধি ও ডলার সংকট সেই বাণিজ্যে টান ফেলে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ফ্রেশপ্লাজা জানায়, বাংলাদেশ কমলার আমদানি শুল্ক কেজিপ্রতি ৮৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০১ টাকা করেছে, আর ভারতের বিদর্ভ অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে কমলা রপ্তানি, যা ২০২০-২১ সালে ছিল ১ লাখ ৪১ হাজার টনের বেশি, ২০২৩-২৪ সালে ২৫ হাজার টনে নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরের এক আমদানিকারক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আমদানিকারকেরা ডলার না পাওয়ায় তিনি আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ কম ফল আমদানি করেছেন; একই সময়ে লালমনিরহাট শহরের এক ফল ব্যবসায়ী বলেন, দেশি ফলের চাহিদা সরবরাহের চেয়ে বেশি।

ইউটিউব দেখে চাষ: সাফল্য ও সতর্কতা


অনলাইন ভিডিও দেখে কমলা চাষ শেখার ঘটনা শুধু মাহফুজ ও শহিদের নয়। ২০২২ সালের নভেম্বরে দৈনিক ইত্তেফাক জানায়, প্রায় দুই দশক প্রবাসে থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ফেরা এক ব্যক্তি চুয়াডাঙ্গার এক কমলাচাষির ভিডিও দেখে তাঁর বাগানে যান এবং ইজারা নেওয়া জমিতে চায়না-থ্রি জাতের চারা লাগান; ওই এলাকায় এ জাতের এটিই প্রথম বাণিজ্যিক আবাদ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এলাকাটিকে কমলা চাষের উপযোগী মনে করা হতো না, এখন বাণিজ্যিক চাষে সহায়তা দেওয়া হবে।

সবার অভিজ্ঞতা অবশ্য ভালো হয়নি। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বাংলা ট্রিবিউন জানায়, ইউটিউবের ভিডিও দেখে চায়না কমলা লাগানো ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গার কৃষকেরা ফল বিক্রি করতে পারছেন না, অনেকে গাছ কেটে ফেলছেন। তাঁদের অভিযোগ, ফলে বীজ থাকে, গাছেই রস শুকিয়ে যায় এবং খেলে গলায় তিতা স্বাদ লাগে; যশোরের চৌগাছা উপজেলার একটি গ্রামে ৪৫ থেকে ৫০ বিঘার মধ্যে প্রায় ৪০ বিঘার গাছ ইতিমধ্যে কেটে ফেলা হয়েছিল। চায়না কমলার একটি বাগান নিয়ে ভিডিও বানানো চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, তিনি কাউকে বাণিজ্যিকভাবে এটি চাষের পরামর্শ দেননি। কালীগঞ্জের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, জাতটি হর্টিকালচার সেন্টারে পরীক্ষিত নয় এবং কর্মকর্তারা বাণিজ্যিকভাবে এটি লাগানোর পরামর্শ দেন না, তবে কেউ চাইলে কয়েকটি গাছ লাগিয়ে দেখতে পারেন।

স্থানীয় মাটি ও পরিচর্যাও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে লালমনিরহাটের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দ্য ডেইলি স্টার বাংলাকে বলেন, সেখানকার বেলে-দোআঁশ মাটি কমলা ও মাল্টা চাষের উপযোগী, আর গাছ লাগিয়ে ঠিকমতো পরিচর্যা করলে কৃষকেরা আশানুরূপ ফল পাবেন। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালে ময়মনসিংহ জেলায় ১৯ হেক্টর, যার ১০ হেক্টর ভালুকায়, কৃষি বিভাগের এই হিসাব দেখায় যে জেলায় কমলা চাষ তখনো প্রাথমিক পর্যায়ে, আর লংগাই ও আখালিয়ার দুটি বাগান তার সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণগুলোর মধ্যে।

ছবি: Salim Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাপিডিয়া, দ্য ডেইলি স্টার, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, প্রথম আলো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর, দৈনিক ইত্তেফাক, বাংলা ট্রিবিউন, ফ্রেশপ্লাজা, জার্নাল অব প্ল্যান্ট প্যাথলজি, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

এগ্রোবিজ

সম্পর্কিত খবর

ফসল

ইংল্যান্ডে যবের ফলন ১৪ বছরে সর্বনিম্ন, গম সামান্য বেশি

যুক্তরাজ্যের কৃষি মন্ত্রণালয় ডেফরার প্রাথমিক হিসাবে ইংল্যান্ডে যব উৎপাদন ১১ শতাংশ কমে ৩৭ লাখ টন হয়েছে, গম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৮ লাখ টন; গমের তুলনায় পশুখাদ্যের যব বিক্রি হচ্ছে অনেক কম দামে।

Farmers Weekly১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

নিজস্ব কারখানা ছেড়ে চুক্তিভিত্তিক ও যৌথ কারখানায় ঝুঁকছে উদ্ভিজ্জ মাংস

চাহিদা অনিশ্চিত থাকায় উদ্ভিজ্জ মাংসের ব্র্যান্ডগুলো নিজস্ব কারখানার বদলে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন, যৌথ অবকাঠামো ও মাংস প্রক্রিয়াকরণের পুরোনো যন্ত্রপাতির দিকে ঝুঁকছে বলে জানিয়েছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।

FoodNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোবিজ

সারের দাম দেখার প্ল্যাটফর্ম ক্লিয়ারকস্টে বিনিয়োগ, সালফার সংকটে কমছে ফসফরাস

কৃষকদের সারের দাম ও চালান দেখার এবং সরবরাহ চুক্তির সুযোগ দেওয়া কানাডার স্টার্টআপ ক্লিয়ারকস্ট সিরিজ এ তহবিল পেয়েছে; ২০২৭ সালের শুরুতে উত্তর আমেরিকাজুড়ে নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু করবে তারা।

AgNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)