২০২৬ সালের জুলাইয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রসংলগ্ন মাঠে মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলা-২০২৬ জমে ওঠে। বন অধিদপ্তরের হিসাবে, ৯ জুলাই মেলা শুরুর দিন থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মোট ৮ লাখ ১২ হাজার ৮০২টি চারা বিক্রি হয়, যার বিক্রয়মূল্য ৬ কোটি ৭৩ লাখ ২৯ হাজার ২৩৬ টাকা। জাগো নিউজের ২৭ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেলায় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছিল ঘর সাজানোর ইনডোর প্ল্যান্ট ও ছাদবাগানের গাছ।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন, দেশজুড়ে মেলা
৯ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধন করেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল 'বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ'। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ ও বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫ তুলে দেন, সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মধ্যে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করেন এবং সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে জলপাই, জারুল ও নিমের চারা রোপণ করেন।
ঢাকার মাসব্যাপী মেলায় ছিল ১২০টি স্টল। এর পাশাপাশি সাতটি বিভাগীয় শহরে ১৫ দিনের, ৫৬টি জেলা সদরে সাত দিনের এবং ২৯টি উপজেলায় তিন দিনের বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়। সরকার পাঁচ বছরে ২৫ কোটি চারা রোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে বলে বাসস জানায়; এতে জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, ড্রোন প্রযুক্তি ও একটি জাতীয় বৃক্ষ ডেটাবেস ব্যবহারের কথা বলা হয়। ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্বোধনের দিন পর্যন্ত বন অধিদপ্তর চলতি বছরের লক্ষ্যের প্রায় ১৭ শতাংশ, অর্থাৎ ৮৩ লাখ ৩২ হাজার চারা রোপণ করেছিল। মেলায় প্রবেশ ছিল বিনামূল্যে, কোনো টিকিট লাগত না।

ইনডোর প্ল্যান্ট আর ছাদবাগানের গাছের চাহিদা
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্কিড ও ক্যাকটাসের চারার দাম তুলনামূলক বেশি ছিল, আর আমের চারা মিলছিল কম দামে। দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে বিদেশি জাতের রাম্বুটান, পারসিমন, আজওয়া খেজুর, পাকিস্তানি আনার এবং জনপ্রিয় নানা জাতের আমের চারা; এসব গাছের ছোট চারা বিক্রি হচ্ছিল ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়।
ঢাকা ট্রিবিউন ১৮ জুলাই জানায়, শহরের বাসিন্দারা সীমিত জায়গার উপযোগী কলমের ফলগাছ, ইনডোর প্ল্যান্ট, বনসাই, অর্কিড ও পাতাবাহার বেশি কিনছিলেন। মহানন্দা নার্সারির আবু তাহের পত্রিকাটিকে বলেন, কলমের ফলগাছই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে, আর তার মধ্যে এগিয়ে আমের চারা। মেলায় ছিল চিয়াংমাই, মিয়াজাকি, কিং অব চাকাপাত ও আমেরিকান রেড পালমার জাতের আম, ভিয়েতনামের বীজহীন কাঁঠাল, অ্যাভোকাডো ও ড্রাগন ফল। অ্যাপার্টমেন্টবাসীর কাছে অ্যাগলোনেমা, মনস্টেরা ও অ্যান্থুরিয়ামের মতো ইনডোর প্ল্যান্ট জনপ্রিয় ছিল। মেলা খোলা থাকত সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত, গাছের যত্নে বিনামূল্যে পরামর্শও দেওয়া হতো।
প্রতিবছর মেলায় আসেন জানিয়ে দর্শনার্থী মেহেদী হাসান জাগো নিউজকে বলেন, 'এখানে এক জায়গাতেই দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির গাছ পাওয়া যায়। নতুন নতুন ফলের গাছ দেখতে এবং নিজের জন্য কিছু চারা কিনতেই মূলত মেলায় এসেছি।' বৃষ্টির কারণে তিনি মেলার প্রথম দিকে আসতে পারেননি।

বিক্রির হিসাব দিল বন অধিদপ্তর
বন অধিদপ্তরের সোসিওলজিস্ট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, মেলায় বনজ, ফলদ, ভেষজ ও শোভাবর্ধনকারী সব ধরনের গাছের চারা পাওয়া যাচ্ছিল, আর ঢাকায় ইনডোর প্ল্যান্ট ও ছাদবাগানের ফলদ গাছের চাহিদা ছিল বেশি। তার দেওয়া হিসাবে, আগের বছরের জাতীয় বৃক্ষমেলায় ১৭ লাখ ৬৬ হাজার ৪৯১টি চারা বিক্রি হয়েছিল, যার দাম ছিল ১৫ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ২৭৪ টাকা; তার আগের বছর বিক্রি হয় প্রায় ১৬ কোটি ২৮ লাখ টাকার চারা।
আমিনুল ইসলাম বলেন, 'ঢাকা শহরে গাছ লাগানোর জায়গা কমে এলেও মানুষের আগ্রহ কমেনি। অনেকে ছাদবাগানের জন্য গাছ কিনছেন, আবার অনেকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রোপণ করছেন।' তিনি জানান, মেলায় পুলিশ ও নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করছিলেন; ছিল মা ও শিশু কর্নার, ব্রেস্টফিডিং কর্নার, চিকিৎসাসেবা, মিডিয়া কর্নার এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য আলাদা বিশ্রামকক্ষ। জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেলা চলার কথা ছিল ৭ আগস্ট পর্যন্ত।

ছবি: রণদীপম বসু / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৩.০)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাসস, ঢাকা ট্রিবিউন





মন্তব্য
(০)