সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

নিষেধাজ্ঞার পর ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়ায় ইলিশের খরা, জলবায়ু পরিবর্তনকে দুষছেন গবেষকরা

২০২৬ সালের মে মাসে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে জেলেদের জালে প্রায় ইলিশ মেলেনি, বাজারে দাম বেড়েছিল কয়েক গুণ। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও বিএফআরআইয়ের একজন ইলিশ গবেষক এই সংকটের কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন।

নিষেধাজ্ঞার পর ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়ায় ইলিশের খরা, জলবায়ু পরিবর্তনকে দুষছেন গবেষকরা
মৎস্য

২০২৬ সালের মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বর্ষা শুরু হলেও ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী থেকে জেলেরা প্রায় খালি হাতে ফিরছিলেন। জাগো নিউজ ২৪ ২০২৬ সালের ১২ মে জানায়, এই খরায় জেলার জেলে জনগোষ্ঠী, যাদের সংখ্যা পত্রিকাটির হিসাবে প্রায় ৩ লাখ, বিপাকে পড়েছেন; ইলিশ না থাকায় ভোলার বাজারে ক্রেতারাও খালি হাতে ফিরছিলেন। ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) একজন ইলিশ গবেষক পত্রিকাটিকে বলেন, তাঁদের মতে নদীতে ইলিশের এই খরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোলার সাত উপজেলায় মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশসহ বিভিন্ন মাছ ধরে জীবিকা চালান ৩ লাখের বেশি জেলে, যাদের মধ্যে সরকারিভাবে নিবন্ধিত ১ লাখ ৬৭ হাজার ৯৭০ জন। জেলার ইলিশ অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরায় সরকারের দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে ১ মে থেকে তাঁরা আবার নদীতে নামেন, কিন্তু বেশির ভাগ জালেই ইলিশ ওঠেনি।

নদী থেকে খালি জাল নিয়ে ফেরা


জাগো নিউজ ভোলা সদর উপজেলার কয়েকটি এলাকার জেলেদের সঙ্গে কথা বলে: কাচিয়া ইউনিয়নের কাঠির মাথা, ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতলি, শিবপুর ইউনিয়নের ভোলার খাল এবং ভেদুরিয়া ইউনিয়নের হাজির হাট।

কাঠির মাথা গ্রামের জেলে মো. সৈয়দ মাঝি ও মো. মনির হোসেন মাঝি জানান, তাঁরা দুজন একটি নৌকা নিয়ে তুলাতলিতে মেঘনা নদীতে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দুই দফায় মোট পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা জাল ফেলেন। একটি ইলিশও ধরা পড়েনি। তবে বিভিন্ন আকারের কয়েকটি বাটা ও ছুরা বা তাপসী মাছ পেয়েছিলেন, যা ঘাটে বিক্রি করে পান মাত্র ৫০০ টাকা। প্রায় ২০ বছর ধরে মাছ ধরা এই দুই জেলে বলেন, নদীতে আগেও বহুবার ইলিশের আকাল গেছে, তখনও তাঁরা দুই থেকে চারটি ইলিশ পেতেন। কিন্তু এমন খরা তাঁরা কখনো দেখেননি, তাই দুশ্চিন্তায় আছেন।

তুলাতলি গ্রামের জেলে মো. শাজাহান মাঝি ও মজনু মাঝি জানান, প্রতিবছর বৃষ্টি শুরু হলেই জালে ইলিশ ধরা পড়ত। ২০২৬ সালের মে মাসে প্রচুর বৃষ্টি হলেও তখন পর্যন্ত তাঁদের জালে ইলিশ আসেনি। এমন খরা তাঁরা আগে কখনো দেখেননি বলে জানান।

ভোলার খাল এলাকার জেলে মো. রাসেল মাঝি ও নজরুল মাঝি তাঁদের কষ্টের কথা বলেন এভাবে: 'ক'দিন আগে নদীতে নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। ওই সময় অনেক ধার-দেনা করে সংসার চালিয়েছি। আজ বেশ কয়েক দিন ধরে ইলিশ পাচ্ছি না। এতে সংসার চালানো মুশকিল হয়ে পড়েছে। এনজিওর কিস্তি পরিশোধ করতেও পারছি না। প্রতিদিনই সংসার ও সমিতির কিস্তির চাপে বিপাকে পড়ছি।'

ভেদুরিয়ার হাজির হাটের জেলে মো. নূরন্নবী মাঝি ও ইমন মাঝি জানান, নিষেধাজ্ঞার পর নদীতে ইলিশের সংকট থাকায় অনেক জেলে আর নদীতে যাচ্ছিলেন না, অনেকে জেলে পেশা ছেড়ে দিনমজুরের কাজ নিয়েছিলেন।

ভোলার বাজারে চড়া দাম


জাগো নিউজ ভোলাকে দেশের ৩৩ শতাংশ ইলিশ আহরণের জেলা হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, নদীতে ইলিশ না মেলার প্রভাব পড়েছিল জেলার বাজারেও। শহরের কিচেন মার্কেটের ক্রেতা মো. আরিফুর রহমান ও মো. হোসেন জানান, বাজারে তখন হাতেগোনা দুই-তিনজন বিক্রেতা ইলিশ নিয়ে আসছিলেন, তা-ও অল্প কয়েকটি করে, এবং সেগুলো বিক্রি হচ্ছিল চড়া দামে। তাঁদের ভাষায়, বাজারে ইলিশ তখন 'সোনার হরিণ', দামের কারণে উচ্চবিত্তের খাবারে পরিণত হয়েছিল।

মাছ বিক্রেতা মো. রুহুল আমিন ও মো. নাগর জানান, আগে তাঁরা প্রতিদিন বাজারে ইলিশ বিক্রি করতেন, কিন্তু ঘাটে সংকটের কারণে বেশ কয়েক দিন ধরে পারছিলেন না। জেলে মাছ নিয়ে এলে নিলামে দাম অনেক উঠে যেত, আর ঢাকা, বরিশাল ও চাঁদপুরের আড়তে যাঁরা পাইকারি সরবরাহ করেন, তাঁরাই বেশি দামে কিনে নিতেন। স্থানীয় বাজারের বিক্রেতারা অত দামে কিনে আবার বিক্রি করতে পারেন না বলে কিনতে পারছিলেন না, তাই বাজারে তখন ছোট মাছ বিক্রি হচ্ছিল। ইলিশ বিক্রি করতে পারলে অল্প সময়ে মাছ বিক্রি হয়ে যেত, লাভও বেশি হতো বলে জানান তাঁরা।

মাছ বিক্রেতা মো. ইব্রাহীম জানান, ঘাটে আগের মতো ইলিশ কেনা যাচ্ছিল না; অল্প কয়েকটি কিনতেন, তা-ও বেশি দামে, আর খুচরা দাম বেশি হওয়ায় বিক্রি করতে অনেক সময় লাগত। তিনি আগের ও ২০২৬ সালের মে মাসের খুচরা দাম এভাবে জানান:

  • ৫০০ গ্রামের ইলিশ: আগে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা; মে মাসে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা।
  • ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রামের ইলিশ: আগে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা; মে মাসে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা।
  • জাটকা: আগে কেজি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা; মে মাসে কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা।
  • ১ কেজি ওজনের ইলিশ: আগে ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার টাকা; মে মাসে কেজি ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা।

নিষেধাজ্ঞা শেষের প্রথম দিন, ২০২৬ সালের ১ মে ভোলার ইলিশা মাছঘাট থেকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানিয়েছিল, এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায়, আর আকারভেদে অন্য ইলিশের কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা।

ঢাকার কারওয়ান বাজারে বিক্রির জন্য সাজানো ইলিশ, ২০২৪; ভোলার ইলিশও ঢাকা, বরিশাল ও চাঁদপুরের আড়তে যায়। ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
ঢাকার কারওয়ান বাজারে বিক্রির জন্য সাজানো ইলিশ, ২০২৪; ভোলার ইলিশও ঢাকা, বরিশাল ও চাঁদপুরের আড়তে যায়। ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কর্মকর্তা ও গবেষকের বক্তব্য


ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তখন নদীতে খুব কম ইলিশ পাওয়া যাচ্ছিল। বৃষ্টিপাত আরও বাড়লে নদীতে ইলিশ কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা আছে বলে তিনি জানান। এর তিন দিন আগে, ২০২৬ সালের ৯ মে তিনি দৈনিক ইত্তেফাককে বলেছিলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ সময়ে ইলিশ কিছুটা কম, তবে জুন-জুলাইয়ে প্রচুর ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; ভোলায় নিবন্ধিত জেলে ১ লাখ ৬৮ হাজার এবং অনিবন্ধিত জেলে ১ লাখের বেশি।

বিএফআরআইয়ের ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিসুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, জুলাই থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ইলিশের ভরা মৌসুম। মে ও জুন মাসে বৃষ্টিপাতের কারণে নদীতে ইলিশের বেশ বিচরণ থাকে, তবে তা ভরা মৌসুমের চেয়ে কম। তাঁর মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তখন খুব কম ইলিশ পাওয়া যাচ্ছিল, আর এ নিয়ে গবেষণা করে সঠিক ব্যবস্থা না নিলে ইলিশ সম্পদ হুমকির মুখে পড়বে। তিনি আরও বলেন, জাটকা ও মা ইলিশ ধরা পড়ার ফলে ধীরে ধীরে ইলিশ উৎপাদনের ওপর প্রভাব পড়ে।

মৎস্য অধিদপ্তর নিজেও যে কারণগুলোর কথা বলে, জলবায়ু তার একটি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত অধিদপ্তরের 'ইয়ারবুক অব ফিশারিজ স্ট্যাটিসটিকস অব বাংলাদেশ ২০২৩-২৪' অনুযায়ী, ১৯৭০-এর দশকে প্রচুর পাওয়া ইলিশ ১৯৯০-এর দশকে বহু নদীতে ধীরে ধীরে কমে যায়। নদীতে আহরণ কমার পেছনে বইটি কয়েকটি কারণের সমন্বয়ের কথা বলে: অভিপ্রয়াণের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া, নদীতে পলি জমা, অতিরিক্ত আহরণ, নির্বিচারে মা মাছ ও জাটকা ধরা, মনোফিলামেন্টের ছোট ফাঁসের জাল (কারেন্ট জাল) ব্যবহার, মাছ ধরায় যান্ত্রিকীকরণ, জেলের সংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পদূষণ এবং জলবায়ুর পরিবর্তনশীলতা।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রথম আলো জানায়, আগের তিন বছর ইলিশের আকার ছোট হয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে মৎস্য অধিদপ্তর বৃষ্টি কমে যাওয়াকে দায়ী করছে। অধিদপ্তরের উপপ্রধান ও ইলিশ শাখার প্রধান মাসুদ আরা পত্রিকাটিকে বলেন, সরকারের নানা উদ্যোগে এক যুগে ইলিশের উৎপাদন ও ওজন বেড়েছে, তবে দুই-তিন বছর ধরে বৃষ্টি কম হওয়াসহ নানা প্রাকৃতিক ও আবহাওয়াগত কারণে ইলিশ কম পাওয়া গেছে এবং গড় ওজন ৭২০ গ্রামে নেমে আসে। অধিদপ্তরের বিজ্ঞানীরা আরও বলেন, বঙ্গোপসাগর থেকে মেঘনার মোহনা দিয়ে ইলিশ ঢোকার মুখগুলোতে ডুবোচর বেড়ে যাওয়ায় মাছের আসার পথ আটকে যাচ্ছে, ফলে বিশেষ করে বড় ইলিশ উপকূল ও নদীতে কম আসছে। একই প্রতিবেদনে মৎস্যবিশেষজ্ঞরা বলেন, বৃষ্টিপাত কমলে ইলিশ গভীর সাগরে চলে যায় এবং নদী ও উপকূলের কাছে কম আসে; সাধারণত জুন-জুলাইয়ে বর্ষা এলে ইলিশ বাড়তে থাকে, কিন্তু কয়েক বছর ধরে জুলাই-আগস্টে বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে, এমনকি সেপ্টেম্বরেও বড় ইলিশ ধরা পড়ছে।

নিষেধাজ্ঞা এবং তার পরের প্রথম দিনগুলো


জেলেরা ১ মার্চ থেকেই নদীতে নামতে পারেননি। বাসস জানায়, জাটকা সংরক্ষণ ও মাছের উৎপাদন বাড়াতে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দিনগত মধ্যরাত থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মেঘনা, তেঁতুলিয়া, কালাবাদর, বেতুয়া, বুড়া গৌরঙ্গা ও ইলিশা নদীসহ ভোলার নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল; একই সময়ে দেশের ছয়টি ইলিশ অভয়াশ্রমেই এই নিষেধাজ্ঞা চলে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বাসসকে জানান, মেঘনা ও তেঁতুলিয়ার ১৯০ কিলোমিটার এলাকার দুটি অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব মাছ ধরা বন্ধ থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স নদীতে টহল দেবে। ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ইলিশা ইউনিয়নের মাছঘাট দিয়ে শুরু করে মৎস্য বিভাগ জেলেদের নিয়ে সচেতনতা সভা করে, যাতে কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ, মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেরা অংশ নেন; ব্যানার, পোস্টার, লিফলেট ও মাইকিংয়ে নিষেধাজ্ঞার কথা প্রচার করা হয়।

বাসসের তথ্য অনুযায়ী, দুই মাসে ৯০ হাজার ২১৩ জন জেলেকে মাসে ৪০ কেজি করে সরকারি চাল দেওয়ার কথা ছিল, আর ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে আরও ১৩ হাজার ৬০০ জেলেকে খাদ্য সহায়তার আওতায় আনা হয়। মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা বাসসকে জানান, জেলার প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার নিবন্ধিত জেলের মধ্যে প্রায় ১ লাখ সহায়তা পেলেও ৬৮ হাজার পাননি; অনিবন্ধিত জেলেদের জন্যও সহায়তার দাবি জানান তাঁরা। নিষেধাজ্ঞার সময় এনজিওর ঋণের কিস্তি স্থগিত রাখার দাবি তুলেছিলেন জেলেরা; ১ মে মৎস্য কর্মকর্তা বাসসকে জানান, এ সময়ে কিস্তি স্থগিত ছিল। বাসস ১ মে আরও জানায়, এবারই প্রথম চালের পাশাপাশি ছয় ধরনের নিত্যপণ্যও পেয়েছিলেন জেলেরা।

নিষেধাজ্ঞা শেষের প্রথম দিনটি আশা জাগিয়েছিল। বাসস ২০২৬ সালের ১ মে জানায়, মধ্যরাতের পর নদীতে নামা জেলেরা ইলিশা ঘাটে প্রচুর ইলিশ নিয়ে আসছিলেন, দুই মাস বন্ধ থাকা আড়তগুলো আবার সচল হয়েছিল, আর ভোলার আড়তমালিক সমিতির সভাপতি আবুল বাশার বাদশা মিয়া মৌসুমে প্রচুর মাছ পাওয়ার আশা করছিলেন।

এক সপ্তাহের মধ্যে চিত্র বদলে যায়। দৈনিক ইত্তেফাক ২০২৬ সালের ৯ মে জানায়, মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও ইলিশা নদীতে জেলেদের জালে ইলিশ মিলছিল না, জেলেরা হতাশ। ইলিশা ঘাটের জেলে আব্বাস মাঝি বলেন, ৩ হাজার টাকার ডিজেল আর চারজন মাঝিমাল্লা নিয়ে নদীতে গিয়ে এক দিন পর ফিরেছেন মাত্র ২ হাজার টাকার মাছ নিয়ে, তাই নদীতে যাওয়া বাদ দিয়েছেন। রাজাপুরের আজগর মাঝি জানান, ভরা মৌসুমে এক দিন নদীতে নামলে পাঁচ থেকে সাত মণ ইলিশ পাওয়া যেত, কিন্তু তখন দিনের পর দিন নদীতে থেকেও মাছ মিলছিল না। মৎস্য ব্যবসায়ী সাহাবউদ্দিন জমাদার পত্রিকাটির কাছে অভিযোগ করেন, খুঁটা ও বেহুন্দি জাল দিয়ে নদীর সব মাছ ধ্বংস করা হচ্ছে। জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী ও জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মামুন বলেন, প্রকৃত জেলেদের সঠিক তালিকা করে সরকারি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।

ভোলা সদর উপজেলায় মেঘনা নদীর ইলিশা ফেরিঘাট, ভোলা জেলা। ছবি: Md Abdul Ahad 149 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ভোলা সদর উপজেলায় মেঘনা নদীর ইলিশা ফেরিঘাট, ভোলা জেলা। ছবি: Md Abdul Ahad 149 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ভোলা: মেঘনা আর তেঁতুলিয়ার মাঝের দ্বীপজেলা


বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের জেলা ভোলার আয়তন ৩ হাজার ৪০৩.৪৮ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে লক্ষ্মীপুর ও বরিশাল জেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলা, মেঘনা নদী ও শাহবাজপুর চ্যানেল এবং পশ্চিমে পটুয়াখালী ও বরিশাল জেলা এবং তেঁতুলিয়া নদী। ১৮৪৫ সালে নোয়াখালী জেলার অধীনে ভোলা মহকুমা গঠিত হয়, ১৮৬৯ সালে তা বরিশাল জেলায় যুক্ত হয় এবং ১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ভোলা জেলা হয়। সাত উপজেলার মধ্যে চরফ্যাশন সবচেয়ে বড়, বোরহানউদ্দিন সবচেয়ে ছোট। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জেলার জনসংখ্যা ছিল ১৯ লাখ ৩২ হাজার ৫১৮।

নিম্ন মেঘনা চারটি প্রধান মোহনা, তেঁতুলিয়া (ইলশা), শাহবাজপুর, হাতিয়া ও বামনি দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়ে, আর ভোলা দ্বীপ এর মাঝেই অবস্থিত। জাগো নিউজের প্রতিবেদক যে ভোলা সদর উপজেলায় জেলেদের সঙ্গে কথা বলেন, সেখানে ইউনিয়ন ১৩টি; এর মধ্যে আছে ধনিয়া, ইলিশা, কাচিয়া, শিবপুর ও ভেদুরিয়া।

জেলা মৎস্য অফিসের 'এক নজরে' পাতায়, যা সর্বশেষ হালনাগাদ হয় ২০২৩ সালের আগস্টে, ভোলায় নিবন্ধিত মৎস্যজীবী ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৮৬ জন এবং মৎস্যচাষি ৫৩ হাজার ২৩০ জন দেখানো হয়েছে। সেখানে জেলায় মেঘনা নদীর মাছের উৎপাদন ৯১ হাজার ৬৬৪ মেট্রিক টন এবং তেঁতুলিয়ার ৪ হাজার ৫৬৪ মেট্রিক টন বলা হয়েছে; পাতাটির তথ্যমতে সাতটি উপজেলাই মেঘনা নদী-সংলগ্ন, আর তেঁতুলিয়া বয়ে গেছে ভোলা সদর, বোরহানউদ্দিন, লালমোহন ও চরফ্যাশনের পাশ দিয়ে। একই পাতায় ভোলার ইলিশ উৎপাদন সামুদ্রিক ৯৮ হাজার ১৯৫ মেট্রিক টন ও নদীর ৯৩ হাজার ৪৮৮ মেট্রিক টন, মোট ১ লাখ ৯১ হাজার ৬৮৩ মেট্রিক টন উল্লেখ আছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের ২০২৩-২৪ সালের ইয়ারবুকে ওই বছর ভোলা থেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৭৪ মেট্রিক টন ইলিশ আহরণের হিসাব আছে: নিম্ন মেঘনা থেকে ৮৯ হাজার ১৩ টন, অন্যান্য নদী থেকে ৪ হাজার ৯৩ টন এবং সাগর থেকে ৭৫ হাজার ৫৬৮ টন। সারণিতে এটিই ছিল জেলাভিত্তিক সর্বোচ্চ; পুরো বরিশাল বিভাগে আহরণ ছিল ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮৩৪ টন।

দেশের ইলিশ উৎপাদন: সরকারি পরিসংখ্যান


ইলিশ (Tenualosa ilisha) বাংলাদেশের জাতীয় মাছ, আর মৎস্য অধিদপ্তর একে দেশের একক প্রজাতির সবচেয়ে বড় মৎস্যক্ষেত্র বলে। ২০২৩-২৪ সালের ইয়ারবুক অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে ইলিশ উৎপাদন হয় ৫ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৭ মেট্রিক টন, অর্থাৎ প্রায় ৫.২৯ লাখ টন; ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা ছিল ৫ লাখ ৭১ হাজার ৩৪২ টন, অর্থাৎ উৎপাদন কমেছে ৭.৩৩ শতাংশ। নদী থেকে আহরণ ৮.৪১ শতাংশ কমে ২ লাখ ৭০ হাজার ৮৮৫ টন থেকে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১১৪ টনে নামে; সাগর থেকে আসে ২ লাখ ৮০ হাজার ৯১৮ টন এবং সুন্দরবন থেকে ৪৫৫ টন। ওই বছর দেশের মোট ৫০ লাখ ১৮ হাজার ৪৮৩ টন মাছের ১০.৫৫ শতাংশ ছিল ইলিশ।

একই ইয়ারবুকের প্রজাতিভিত্তিক সারণিতে দেখা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরের ৩ লাখ ১৩ হাজার ৭৫৩ টন থেকে ইলিশ উৎপাদন বেড়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে সর্বোচ্চে পৌঁছায়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে তখনকার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন ছিল ২.৯৮ লাখ টন। ইয়ারবুক অনুযায়ী ইলিশ উৎপাদনকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম, আর 'বাংলাদেশ ইলিশ' নামে ইলিশ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) নিবন্ধন পেয়েছে।

ইয়ারবুকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে জেলের সংখ্যা ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৯৩২ জন দেখানো হয়েছে, যাদের মধ্যে পুরুষ ১৭ লাখ ৮৫ হাজার ২৫৩ জন এবং নারী ৪৪ হাজার ৬৭৯ জন। ২০১৫ সালে ঢাকা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ সরাসরি ইলিশ ধরে জীবিকা চালান, আর পরোক্ষভাবে এই ব্যবসায় যুক্ত আরও ৪০ থেকে ৫০ লাখ মানুষ।

ইলিশ মাছ ও তার জীবনচক্র


ইলিশ হেরিং মাছের আত্মীয়। ফিশবেস অনুযায়ী এটি সাগর, মিঠাপানি ও লোনাপানির মাছ এবং অভিপ্রয়াণী (অ্যানাড্রোমাস), অর্থাৎ সাগরে থাকে আর ডিম ছাড়তে নদীতে ঢোকে। এর সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার, সাধারণ দৈর্ঘ্য ৩৬ সেন্টিমিটার, আর প্রায় ৩১ সেন্টিমিটারে এটি প্রজননক্ষম হয়।

বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশে ইলিশের জীবনচক্রের বর্ণনা দিয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক ইলিশ উজানে মিঠাপানিতে ডিম ছাড়ে; ভাসমান ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়, নদীর খাতে বড় হয়, তারপর খাবার খেয়ে বেড়ে উঠতে সাগরে নেমে যায় এবং প্রজননক্ষম হয়ে আবার নদীতে ফেরে। একটি বড় স্ত্রী ইলিশ ২০ লাখ পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। ইলিশ কমবেশি সারা বছরই ডিম ছাড়ে, তবে ফেব্রুয়ারি-মার্চে একটি ছোট এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে প্রধান প্রজনন মৌসুম। সাগরে নামার পথে ধরা পড়া ছোট ইলিশকে বলা হয় জাটকা। ইলিশ প্রধানত প্লাংকটনভোজী; নীলাভ-সবুজ শৈবাল, ডায়াটম, কোপেপোড, রটিফারসহ নানা প্লাংকটন খায়।

বাংলাপিডিয়া জালের কথাও বলেছে: প্রাপ্তবয়স্ক ইলিশ ধরা হয় প্রধানত স্থির বা ভাসমান ফাঁসজাল (চান্দি জাল) দিয়ে, কিছু ধরা পড়ে বেড়জাল ও সাংলা জালে, আর জাটকা ধরা হয় কারেন্ট জাল ও বেহুন্দি জালের মতো সরঞ্জামে। ১৯৯২-৯৪ সালে বিএফআরআইয়ের এক জরিপে হিসাব করা হয়েছিল, প্রতিবছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিলে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টন জাটকা ধরা পড়ে, যার অর্ধেকের বেশি মেঘনায়। ইলিশ কমে যাওয়ার আগের কারণ হিসেবে বাংলাপিডিয়া ফারাক্কা বাঁধের পর গঙ্গায় পানিপ্রবাহ কমা, ব্যাপক পলি জমা, জাটকা নিধন, অভিপ্রয়াণের পথ ব্যাহত হওয়া, ডিম ছাড়া, খাবার ও বেড়ে ওঠার জায়গা নষ্ট হওয়া এবং নদীদূষণের কথা উল্লেখ করেছে।

পদ্মা নদীর ইলিশ (Tenualosa ilisha)। ছবি: Fahad Faisal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
পদ্মা নদীর ইলিশ (Tenualosa ilisha)। ছবি: Fahad Faisal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

অভয়াশ্রম ও মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা


৩০ এপ্রিল শেষ হওয়া মার্চ-এপ্রিলের নিষেধাজ্ঞা ইলিশ রক্ষার কয়েকটি নিয়মের একটি। ঢাকা ট্রিবিউন ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে জানায়, ২০০৩-০৪ সালে ঘোষিত ইলিশ অভয়াশ্রমগুলোর মধ্যে ছিল মেঘনার শাহবাজপুর চ্যানেল এবং ভোলা-সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদী, সঙ্গে মেঘনার ষাটনল থেকে চর আলেকজান্ডার অংশ এবং আন্ধারমানিক নদী; পঞ্চমটি শরীয়তপুরে পদ্মা-মেঘনার মোহনায় ঘোষিত হয় ২০১০-১১ সালে। তখন পাঁচটি অভয়াশ্রমের মোট আয়তন ছিল ৩৫০ বর্গকিলোমিটার, আর এর চারটিতে মার্চ-এপ্রিলে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। ওই প্রতিবেদনে তখনকার বিএফআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আনিসুর রহমান বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জের মধ্যে মেঘনার শাখানদীতে প্রস্তাবিত ষষ্ঠ অভয়াশ্রমের কথা জানিয়েছিলেন। মৎস্য অধিদপ্তরের ২০২৩-২৪ সালের ইয়ারবুকে প্রায় ৫০৮টি মৎস্য অভয়াশ্রমের পাশাপাশি ছয়টি ইলিশ অভয়াশ্রমের কথা আছে।

মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, ইলিশ ব্যবস্থাপনা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয় গণসচেতনতা, র‍্যালি ও সভা, মাছ সংরক্ষণ আইনের প্রয়োগ, ইলিশ অভয়াশ্রম, মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা, নিষেধাজ্ঞার সময় দরিদ্র জেলেদের চাল এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের মাধ্যমে। প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় আলাদা নিষেধাজ্ঞাও থাকে; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায়, যেমন ২০২৩ সালে তা চলে ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন, যখন সারা দেশে ইলিশ ধরা, পরিবহন, বাজারজাত, কেনাবেচা ও মজুত নিষিদ্ধ ছিল।

জেলেরা যখন নদীতে ফিরলেন, সাগরে তখন আরেকটি নিষেধাজ্ঞা চলছিল। ভোলা জেলা মৎস্য অফিসের ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিলের এক নোটিশ ছিল ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন সমুদ্রে সব ধরনের মৎস্য নৌযানের যেকোনো মাছ ধরা নিষিদ্ধকালীন কার্যক্রম বাস্তবায়নে নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন নিয়ে।

পরিসংখ্যান ও গবেষণার পেছনের প্রতিষ্ঠান


মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন মৎস্য অধিদপ্তর দেশের মৎস্য খাত তদারক করে, জেলা ও উপজেলা মৎস্য অফিস পরিচালনা করে এবং ফিশারিজ রিসোর্সেস সার্ভে সিস্টেমের মাধ্যমে বার্ষিক ইয়ারবুক প্রকাশ করে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৪ সালে, কাজ শুরু করে ১৯৮৬ সালে। এর সদর দপ্তর ময়মনসিংহে, আর চাঁদপুরের নদী কেন্দ্র ইলিশ গবেষণার কাজ করে; প্রথম আলো জানায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এই কেন্দ্র দেশের ১৫টি স্থানে ধরা পড়া ইলিশের ওপর সমীক্ষা চালিয়েছিল।

ছবি: Toushik.hamid / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দৈনিক ইত্তেফাক, প্রথম আলো, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা ট্রিবিউন, মৎস্য অধিদপ্তর (ইয়ারবুক অব ফিশারিজ স্ট্যাটিসটিকস অব বাংলাদেশ ২০২৩-২৪), জেলা মৎস্য অফিস ভোলা, বাংলাপিডিয়া, ফিশবেস, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)