থাইল্যান্ডের কৃষি ও সমবায় মন্ত্রণালয় জুন থেকে মাসে এক লাখ গরু জাহাজে চীনে পাঠানোর পরিকল্পনায় কাজ করছে, আর ১৩ আগস্টের সরকারি হালনাগাদে বলা হয়েছে এর পেছনে চীনা পুঁজির সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব, পথ প্রাচুয়াপ খিরি খানের বেসরকারি গভীর সমুদ্রবন্দর Bang Saphan (বাং সাফান)। বছরে ১২ লাখ গরুর এই লক্ষ্য ২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার পুরো গরু রপ্তানি ৭,৯২,০৭৭-এর প্রায় দেড় গুণ।
Beef Central (বিফ সেন্ট্রাল)-এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া প্রতিবেদক সন্দিহান। চীনা অর্থায়নের এমন প্রস্তাব আগেও ছিল, উত্তর লাওসে কোয়ারেন্টিন এলাকা, মিয়ানমারের গরুর জন্য শিশুয়াংবান্নায় কসাইখানা, কোনোটিই বাণিজ্যিক মাত্রায় চলেনি; চীনের সঙ্গে প্রটোকল অসমাপ্ত (আগস্টের হালনাগাদ অনুযায়ী চীনের শুল্ক প্রশাসন অমীমাংসিত পশুচিকিৎসা-প্রশ্ন নামিয়ে এনেছে চারটিতে), কিছুই জাহাজে ওঠেনি, তাই এটি পরিকল্পনা, বাণিজ্য নয়।
কঠিন অংশ গরু জড়ো করা। থাইল্যান্ডে প্রায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার পরিবার গরু পালে, বেশির ভাগের ২০টির কম, ৯০ শতাংশের বেশি দেশি বা ব্রাহ্মণ-সংকর; এক ফরমাশে জাহাজ ভরার মতো ফিডলট খাত নেই। মাসে এক লাখ টিকিয়ে রাখতে ফ্রান্সের সমান দেশজুড়ে ছোট ছোট পাল থেকে প্রতিদিন ৩,৩০০-র বেশি রপ্তানিযোগ্য গরু খুঁজে, পরীক্ষা করে, কোয়ারেন্টিনে নিতে হবে। ডিসেম্বর থেকে মাসে প্রায় ১,৩০০ থাই ব্রাহ্মণ গরু নিতে আগস্টে চুক্তি করা ভিয়েতনামের Hoa Phat (হোয়া ফাত)-এর কর্মীরা নাকি থাইল্যান্ডে বসে অল্প অল্প করে কিনছেন।
দাম এরই মধ্যে নড়ছে: থাই জবাইয়ের ষাঁড় আগস্টের ৩.৫৫ থেকে বেড়ে জীবন্ত ওজনে কেজিতে ৩.৭২ ডলার, মে-র পর সর্বোচ্চ; মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামের ক্রেতারা বলছেন থাই গরু পাওয়া কঠিন হচ্ছে। চীন সত্যিই থাইল্যান্ড থেকে বছরে ১২ লাখ গরু টানলে প্রথমে যাবে এখন ট্রাকে ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও লাওসে যাওয়া গরু, যাতে ওই ক্রেতারা ফিরতে পারেন অস্ট্রেলিয়ায়, নাগালের মধ্যে একমাত্র বড় মাপের সমুদ্রপথের সরবরাহকারী।
ঝুঁকি উল্টো দিকেও। থাইল্যান্ডের হাতে প্রটোকল, কোয়ারেন্টিন সক্ষমতা ও বড় মাপে গরু জাহাজে তোলার বন্দর এলে ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়ার জীবন্ত গরু বাণিজ্যের তিন-চতুর্থাংশ, নাগালে চলে আসে; ইন্দোনেশিয়া ২০২২ সাল থেকে খুরারোগের সঙ্গে বাস করছে আর রোগপ্রবণ উৎস ভারত থেকে মহিষের মাংস কেনে। থাই লক্ষ্যের দশ ভাগের এক ভাগ, বছরে ১ লাখ ২০ হাজার গরুও, ইন্দোনেশিয়া ছাড়া অস্ট্রেলিয়া যেখানে যা পাঠায় তার চেয়ে বেশি সমুদ্রপথের গরু, আর তাতে লাগবে বছরে প্রায় ৪০টি যাত্রা, একই ছোট পশুবাহী জাহাজবহর থেকে।
প্রতিবেদনের অন্যত্র: জুলাইয়ের ২,৬৩৫-এর পর আগস্টে ভিয়েতনাম নিয়েছে ২,৮৫৯ অস্ট্রেলীয় গরু, বাণিজ্য থমকে যাওয়ার পর প্রথম টানা দুই মাস, আর আগস্টের চালান ফিডার, স্পট কেনা নয়, প্রতিশ্রুতি, যদিও বছরের হিসাবে ৭,৫০৮, এক বছর আগের ৭১,৯৭৯-এর বিপরীতে; আর ইন্দোনেশিয়ার খাদ্য সমন্বয়মন্ত্রী ১৪ আগস্ট জানান, ইউরোপ, ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রজনন-পশু আমদানিতে সরকার রাষ্ট্রপতির বিধি চাইবে, যদিও জানুয়ারি-জুলাইয়ে ইন্দোনেশিয়ায় নামা জীবন্ত গরুর প্রতিটি টন এসেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে।
সূত্র: Beef Central



মন্তব্য
(০)