সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

সিরাজদিখানে বালুচর গরুর হাটের ইজারা নিয়ে সংঘর্ষ, টেঁটাবিদ্ধ তিনজনসহ আহত ১০

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৬ সালের ২২ মে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের বালুচর ইউনিয়নে বালুচর গরুর হাটের ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ তিনজনসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

সিরাজদিখানে বালুচর গরুর হাটের ইজারা নিয়ে সংঘর্ষ, টেঁটাবিদ্ধ তিনজনসহ আহত ১০
লাইভস্টক

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নে ২০২৬ সালের ২২ মে, শুক্রবার, বালুচর গরুর হাটের ইজারা ও বাজারের বণিক সমিতির নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সেদিন সন্ধ্যায় জাগো নিউজ ২৪ জানায়, এতে অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজন টেঁটাবিদ্ধ হন; আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কয়েক দফায় বালুচর ইউনিয়নের চর জসীমউদ্দিন ও বালুচর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষ চলে। ঘটনাটি ঘটে ঈদুল আজহার ছয় দিন আগে। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি ঈদের দিন ঠিক করেছিল ২৮ মে, বৃহস্পতিবার। বছরের এই সময়েই সারা দেশে কোরবানির পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয় এবং হাটগুলো পশুতে ভরে ওঠে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র যা জানিয়েছে


জাগো নিউজ ২৪-এর প্রতিবেদনে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে বলা হয়, বালুচর গরুর হাটের ইজারা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় শহীদ বাউল গ্রুপ এবং খোকন সরকার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শুক্রবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে এবং পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

টেঁটাবিদ্ধ তিনজনকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়। এ ছাড়া আরও সাত থেকে নয়জন আহত হয়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন।

বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন বলেন, মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, ‘গরুর হাটের ইজারা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

একই দিন বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ওসি ঢাকা পোস্টকে বলেন, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং তখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ দায়ের করেননি।

একই দিনের অন্য প্রতিবেদনে যা এসেছে


২২ মে সংঘর্ষের খবর আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়; সময় ও আহতের সংখ্যায় সেগুলোর মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের বাংলা সংস্করণ রাত সাড়ে ৮টায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, টেঁটাবিদ্ধ তিনজনসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন এবং সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা সংঘর্ষ চলে। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দিলে নতুন করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

ঢাকা পোস্ট বিকেল ৩টা ৪৬ মিনিটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, সকাল পৌনে ১১টা থেকে বেলা প্রায় ১২টা পর্যন্ত বালুচর ব্রিজসংলগ্ন চর জসিম উদ্দিন এলাকায় সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন টেঁটাবিদ্ধ হন এবং তাদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। স্থানীয়দের বরাতে পত্রিকাটি লেখে, সিরাজদিখানের বালুচর ও লতব্দী ইউনিয়নের চরাঞ্চলে জমিজমা দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষ হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে পক্ষ দুটির নাম জাগো নিউজের প্রতিবেদন থেকে কিছুটা ভিন্নভাবে এসেছে।

দৈনিক মানবকণ্ঠও বিকেলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৩ ও ২৬ মে বালুচর বাজারে পশুর হাট বসার কথা ছিল। হাটটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার জন্য শুক্রবার সকালে হাটের ইজারাদারের পক্ষ থেকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সমন্বয় সভা ডাকা হয়। পত্রিকাটির ভাষ্য অনুযায়ী, সভা চলাকালে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এবং উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। ইজারাদার পত্রিকাটির কাছে অভিযোগ করেন, হাটে আসা খামারি ও ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে বেচাকেনা ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। প্রতিবেদনে এই অভিযোগের বিষয়ে অন্য পক্ষের কোনো বক্তব্য ছিল না।

চারটি প্রতিবেদনেই পুলিশের বরাতে বলা হয়, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একই দিন সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস মুন্সিগঞ্জ থেকে জানায়, ঈদ মৌসুমে জেলার পশুর হাটগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম বাসসকে বলেন, বিভিন্ন স্থানে ১২টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং হাটে যাতে কোথাও চাঁদাবাজি ও প্রতারণার ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র জানায়, বড় হাটগুলোতে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে এবং পশুর চিকিৎসার জন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসক দল থাকবে।

বালুচর ও সিরাজদিখান উপজেলা


সিরাজদিখান ঢাকার দক্ষিণের জেলা মুন্সিগঞ্জের ছয়টি উপজেলার একটি। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, উপজেলাটির আয়তন ১৮০.১৯ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে কেরানীগঞ্জ উপজেলা, দক্ষিণে লৌহজং ও শ্রীনগর, পূর্বে টংগিবাড়ী ও নারায়ণগঞ্জ সদর এবং পশ্চিমে শ্রীনগর ও নবাবগঞ্জ উপজেলা। প্রধান নদী ইছামতী ও ধলেশ্বরী। সিরাজদিখান থানা গঠিত হয় ১৯১৪ সালে, উপজেলা হয় ১৯৮৩ সালে।

উপজেলাটি ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদে বিভক্ত, বালুচর তার একটি; ইউনিয়নগুলোতে মোট ১২৪টি মৌজা ও ১৭৮টি গ্রাম রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী, সিরাজদিখানে খানা ৭৭ হাজার ৯৯৯টি এবং জনসংখ্যা ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪৭৩। সাত বছর ও তার বেশি বয়সীদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৭৭.৩৮ শতাংশ। জনসংখ্যার মাত্র ১১.৮৭ শতাংশ শহর এলাকায় বাস করেন।

এখানকার প্রধান জীবিকা কৃষি। জনশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাপিডিয়া জানায়, উপজেলার ৪০.৯১ শতাংশ খানার আয়ের প্রধান উৎস কৃষি এবং ১৮.০৮ শতাংশের ব্যবসা; ৫৫.৩৮ শতাংশ খানার নিজস্ব কৃষিজমি নেই। এই উপজেলা থেকে রাজধানী ঢাকায় বিপুল পরিমাণ সবজি সরবরাহ করা হয়, আর সিরাজদিখানের পাতক্ষীর সারা দেশে পরিচিত। বাংলাপিডিয়ার তালিকায় সিরাজদিখানে হাট-বাজার ২০টি ও মেলা ১১টি; উল্লেখযোগ্য হাটের মধ্যে আছে তালতলা হাট, সিরাজদিখান হাট, রাজানগর হাট ও ইছাপুর হাট। এলাকার পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি খাসমহল বালুচর উচ্চ বিদ্যালয়, প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৭ সালে।

পুরো মুন্সিগঞ্জ জেলার আয়তন ১,০০৪.২৯ বর্গকিলোমিটার; জেলার প্রধান নদী পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী ও ইছামতী। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জেলার জনসংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ৪৫ হাজার ৬৬০। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, জেলার ৩৮.৬৪ শতাংশ খানার আয়ের প্রধান উৎস কৃষি এবং ২৩.১৭ শতাংশের ব্যবসা।

সিরাজদিখান উপজেলার খোলা কৃষিজমিতে এক নারী গাছপালা তুলছেন, দূরে গরু; ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তোলা। ছবি: Akhil barai joy / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সিরাজদিখান উপজেলার খোলা কৃষিজমিতে এক নারী গাছপালা তুলছেন, দূরে গরু; ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তোলা। ছবি: Akhil barai joy / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

বালুচর ইউনিয়নে এর আগের সংঘর্ষ


টেঁটাবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা বালুচর ইউনিয়নে ২২ মের সংঘর্ষেই প্রথম নয়। আগের চার বছরের সংবাদ প্রতিবেদনে সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ ও গ্রামগুলোর মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের বিবরণ পাওয়া যায়, যার বেশির ভাগের পেছনে ছিল এলাকায় আধিপত্য বিস্তার।

২০২২ সালের জানুয়ারিতে সমকাল জানায়, বালুচর ইউনিয়নের আকবরনগর গ্রামের ট্রলারঘাটে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় দুই ব্যক্তির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন টেঁটাবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হন; টেঁটাবিদ্ধ তিনজনকে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখনকার ওসি পত্রিকাটিকে জানান, একই দুই পক্ষ আগের রাতেও সংঘর্ষে জড়িয়েছিল; তখন দুজন টেঁটাবিদ্ধসহ সাতজন আহত হন এবং গ্রামে বেশ কিছু বাড়িঘরে লুটপাট ও ভাঙচুর হয়।

২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আমার বিক্রমপুর জানায়, আকবরনগরের ওই দুই পক্ষ আগের দিন সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত থেমে থেমে আবার সংঘর্ষে জড়ায়; এতে দুজন টেঁটাবিদ্ধসহ পাঁচজন আহত হন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক মাসে দুই পক্ষের মধ্যে এটি ছিল পঞ্চম সংঘর্ষ; সেই এক মাসে নয়জন টেঁটাবিদ্ধ হন এবং ২৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর হয়। সিরাজদিখান সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জানান, ঘটনাস্থলটি নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লার সীমানাঘেঁষা এলাকা।

২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর বাংলা ট্রিবিউন জানায়, আগের দিনের একটি ফুটবল খেলা নিয়ে বাগবিতণ্ডা থেকে শুরু হয়ে আধিপত্য বিস্তারের প্রশ্নে বালুচর ইউনিয়নের চরপানিয়া গ্রামে সংঘর্ষ হয়। এতে চারজন টেঁটাবিদ্ধসহ ১২ জন আহত হন এবং তিনটি বসতঘর ভাঙচুর করা হয়। ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন জানান, পরিস্থিতি শান্ত আছে; পুলিশ জানায়, গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

২০২৫ সালের ২২ জুন বালুচর ইউনিয়নের মোল্লাকান্দি ও খাসমহল গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয় বলে জানায় দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। বালুচর বাজারের একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা গ্যারেজের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি থেকে এর সূত্রপাত। এতে ছয়জন টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন এবং বালুচর বাজার চৌরাস্তায় অন্তত ১০টি দোকান ভাঙচুর করা হয়। সেনাবাহিনী ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনার কারণকে তুচ্ছ একটি বিষয় বলে বর্ণনা করেন।

২০২৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলো জানায়, একই ইউনিয়নের পূর্ব চান্দেরচর গ্রামের গাজী মার্কেট এলাকায় দুই গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংঘর্ষে চারজন টেঁটাবিদ্ধ হন। বসতঘর ভাঙচুর ও একটি দোকানে লুটপাট হয়। আহতদের মধ্যে দুজনকে প্রথমে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওসি আব্দুল হান্নান তখন বলেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে তুচ্ছ ঘটনায় এই মারামারি হয়েছে এবং কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ করেনি।

টেঁটা: মাছ ধরার বর্শা


এসব প্রতিবেদনে যে অস্ত্রের কথা এসেছে, সেই টেঁটা (কোথাও টেটা লেখা হয়) বাংলাদেশে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত একাধিক ফলাযুক্ত বর্শাজাতীয় সরঞ্জাম। বাংলাপিডিয়ার মাছ ধরার সরঞ্জামবিষয়ক ভুক্তিতে যে বর্শা খোঁচা দিয়ে, ছুড়ে বা নিক্ষেপ করে ব্যবহার করা হয়, সেগুলোকে আঘাতকারী সরঞ্জাম (উন্ডিং গিয়ার) হিসেবে দেখানো হয়েছে; ঐতিহ্যবাহী এমন সরঞ্জামের তালিকায় এককাটা, তেকাটা ও কোঁচসহ কয়েকটির নাম রয়েছে। সিরাজদিখানের সংঘর্ষের প্রতিবেদনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের হাতে অন্যান্য দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি এমন বর্শার কথা বারবার এসেছে।

ওপরের প্রতিটি প্রতিবেদনেই গুরুতর টেঁটাবিদ্ধ ব্যক্তিদের ঢাকার হাসপাতালে নেওয়া হয়: ২০২২ সালের জানুয়ারি ও ২০২৪ সালের অক্টোবরে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমে মিটফোর্ড হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, আর ২০২৬ সালের ২২ মে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

সুনামগঞ্জের একটি হাওরে বর্শা (জুতি) দিয়ে মাছ ধরা, ২০১১ সালের এপ্রিলে তোলা; মাছ ধরার বর্শার প্রতীকী ছবি। ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সুনামগঞ্জের একটি হাওরে বর্শা (জুতি) দিয়ে মাছ ধরা, ২০১১ সালের এপ্রিলে তোলা; মাছ ধরার বর্শার প্রতীকী ছবি। ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

হাট-বাজার ইজারা: আইনে যা আছে


বালুচরের মতো হাটের ইজারা চলে ‘হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী। পাকিস্তান আমলের ১৯৫৯ সালের হাটস অ্যান্ড বাজারস (এস্টাবলিশমেন্ট অ্যান্ড অ্যাকুইজিশন) অর্ডিন্যান্স রহিত করে ২০২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয় এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি গেজেট প্রকাশিত হয়। বিলটিতে ধারা ছিল ২৬টি। আইনে হাট ও বাজার বলতে এমন স্থানকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে প্রতিদিন বা সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে সাধারণ মানুষ কৃষিপণ্য, ফল, পশু, হাঁস-মুরগি, ডিম, মাছ, মাংস, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, খাদ্য ও পানীয়, শিল্পপণ্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনাবেচা করেন।

আইন অনুযায়ী হাট-বাজারের মালিকানা ভূমি মন্ত্রণালয়ের। সরকারের অনুমতি ছাড়া কেউ হাট বা বাজার বসাতে পারেন না; আইন ভঙ্গ করে বসানো হাটের জমি ও স্থাপনা সরকার বাজেয়াপ্ত করতে পারে। হাট-বাজারের কোনো জমি স্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ইজারা দেওয়া নিষিদ্ধ; কেবল বার্ষিক ইজারা দেওয়া যায়। প্রতিটি হাটে একটি সংরক্ষিত খালি জায়গা ‘তোহা বাজার’ হিসেবে রাখতে হয়, যেখানে কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সাময়িকভাবে বসতে পারেন; এই জায়গা নিয়মিত ইজারার বাইরে থাকে। হাট স্থাপনকারী কর্তৃপক্ষ জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করতে পারে; এসব কমিটি রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন, হাটের দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা এবং টোল, কর, রেট বা ফি আদায় দেখভাল করে।

হাট-বাজারের সরকারি খাস জমি কেউ অবৈধভাবে দখলে রাখলে, কিংবা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করলে বা নির্মাণের উদ্যোগ নিলে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। আইনে আরও বলা হয়েছে, কোনো ধর্মীয় বা অন্য বিশেষ উৎসব উপলক্ষে কোনো এলাকার প্রতিষ্ঠিত হাট-বাজারের বাইরে অন্য স্থানে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসকের পূর্বানুমোদন নিয়ে স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি না করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অস্থায়ী হাট-বাজার বসাতে পারবে। ঈদের মতো উৎসবের মৌসুমে বসা অস্থায়ী হাট এই বিধানের আওতায় পড়ে।

হাট-বাজারের ইজারা সরকারের রাজস্বের একটি বড় উৎস। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে হাট-বাজার ছিল ১০ হাজার ২৭৩টি; এর মধ্যে ইজারা দেওয়া ৭ হাজার ৯৭২টি থেকে সরকারের আয় হয় প্রায় ৭৪৪ কোটি টাকা। তখন মন্ত্রণালয় নতুন আইনের বিধিমালা তৈরির কাজ করছিল এবং হাট-বাজারের তথ্য ভূমি ডেটা ব্যাংকে তোলা হচ্ছিল।

২০২৬ সালে মুন্সিগঞ্জের কোরবানির হাট ও পশু


সংঘর্ষের আগের কয়েক সপ্তাহ ধরে মুন্সিগঞ্জ বছরের সবচেয়ে বড় বেচাকেনার মৌসুমের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে আমার বিক্রমপুর ২০২৬ সালের ৯ মে জানায়, জেলার ছয়টি উপজেলায় কোরবানির জন্য মোট ৬৭ হাজার ৭১১টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে, বিপরীতে চাহিদা ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৭৯৫টি; ফলে প্রায় ৬ হাজার ৯১৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। প্রস্তুত পশুর মধ্যে গরু ৪৪ হাজার ৩৯টি, মহিষ ২২৩টি, ছাগল ১৯ হাজার ৮৭৯টি এবং ভেড়া ৩ হাজার ৫৭০টি। ঈদ সামনে রেখে জেলায় ৪১টি কোরবানির পশুর হাট বসতে পারে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পশু টংগিবাড়ীতে, ২১ হাজার ৯৮২টি; সেখানে চাহিদা ২১ হাজার ৩৭২টি। মুন্সিগঞ্জ সদরে ৯ হাজার ৬৫৮টির বিপরীতে চাহিদা ৭ হাজার ৪৮৬টি, লৌহজংয়ে ৮ হাজার ২২০টির বিপরীতে ৬ হাজার ২৮৯টি, গজারিয়ায় ১২ হাজার ৭টির বিপরীতে ১০ হাজার ১৯৩টি এবং শ্রীনগরে ৯ হাজার ৭৬৮টির বিপরীতে ৯ হাজার ৬০০টি। সিরাজদিখানে ৬ হাজার ৭৬টি পশুর বিপরীতে চাহিদা ৫ হাজার ৮৫৫টি; উদ্বৃত্ত ২২১টি। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এম এ জলিল বলেন, গতবারের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি হতে পারে; তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, তেলের বাজারের অস্থিরতা ও সার্বিক ব্যয় বৃদ্ধির কারণে কোরবানির সংখ্যা কিছুটা কমতে পারে।

হাটের ইজারা নিয়ে প্রতিযোগিতাও ছিল। ২০২৬ সালের ৮ মে আমার বিক্রমপুর জানায়, টাকার অঙ্ক ও ব্যাপ্তিতে জেলার সবচেয়ে বড় অস্থায়ী কোরবানির হাট, মুক্তারপুরের পঞ্চসার ব্রিজসংলগ্ন খালি জায়গার হাট, ৩৭ লাখ টাকায় ইজারা হয়েছে; সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইজারার তথ্য নিশ্চিত করেন। ধলেশ্বরী নদীর তীরে হওয়ায় এই হাটে পশু আনা-নেওয়ায় বাড়তি সুবিধা আছে। সদর উপজেলার অন্য অস্থায়ী হাটগুলো ৩৭ হাজার, ৩৫ হাজার ও ৩ লাখ ৬১ হাজার টাকায় ইজারা হয়; আরও দুটি হাটের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলেও তখনো কেউ আবেদন করেননি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মুন্সিগঞ্জ জেলায় প্রতিবছর ৪০ থেকে ৪১টি কোরবানির পশুর হাট বসে।

২২ মে বাসস জেলা প্রশাসনের বরাতে জানায়, ঈদুল আজহায় কোরবানির পশু বেচাকেনার জন্য সেবার জেলায় ৬৯টি হাট বসছে; এর মধ্যে ২৮টি অস্থায়ী ও ৪১টি স্থায়ী। ইজারাদাররা হাটের অবকাঠামোগত প্রস্তুতি শেষ করেছিলেন এবং হাটে পশু আসতে শুরু করেছিল; পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও ফরিদপুরের কৃষক ও পাইকাররা গরু নিয়ে হাটে অবস্থান করছিলেন, তবে বেচাকেনা তখনো জমে ওঠেনি।

মুন্সিগঞ্জের নিজস্ব গবাদিপশুর ঐতিহ্যও আছে। বাসস ২০২৬ সালের ১৬ মে জানায়, সদর উপজেলার মিরকাদিমের ধবল (সাদা) গরুর কদর এখনো পুরান ঢাকার ক্রেতাদের কাছে বেশি; ঢাকার রহমতগঞ্জের গণি মিয়ার হাট কর্তৃপক্ষ ১৯৩৩ সাল থেকে হাটের সামনে মুন্সিগঞ্জের খামারিদের জন্য বিশেষ জায়গা রেখে আসছে। খামারিরা সংস্থাটিকে জানান, গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও শ্রমিক সংকটে মিরকাদিম ও আশপাশে এমন গরু পালনকারী খামারির সংখ্যা দুই শতাধিক থেকে কমে ১০ থেকে ১৫ জনে নেমেছে, আর কাঁচা ঘাস ছাড়া শুধু দানাদার খাবার খাওয়ালে একেকটি গরুর পেছনে দিনে প্রায় ৫০০ টাকা খরচ হয়। জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় জানায়, তারা এসব খামারিকে নিয়মিত পরামর্শ দেয় এবং কৃমিনাশক ওষুধ ও টিকা দেয়।

ধলেশ্বরী নদী, সিরাজদিখানের দুই প্রধান নদীর একটি; ২০১৮ সালের অক্টোবরে তোলা, স্থান উল্লেখ নেই। ছবি: Asivechowdhury / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ধলেশ্বরী নদী, সিরাজদিখানের দুই প্রধান নদীর একটি; ২০১৮ সালের অক্টোবরে তোলা, স্থান উল্লেখ নেই। ছবি: Asivechowdhury / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

দেশে কোরবানির পশু ও প্রাণিসম্পদ খাত


২০২৬ সালের ৩ মে এক ব্রিফিংয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, এ বছর কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি, বিপরীতে প্রাপ্যতা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি; ফলে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোরবানিযোগ্য পশুর মধ্যে ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি গরু-মহিষ, ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি ছাগল-ভেড়া এবং ৫ হাজার ৬৫৫টি অন্যান্য প্রজাতির প্রাণী।

মন্ত্রী জানান, সারা দেশে ৩ হাজার ৬০০টির বেশি পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৬টি ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১টিসহ মোট ২৭টি হাট, যেখানে ২০টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। কোরবানির পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং হাট ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবে, প্রয়োজনে সাদা পোশাকেও, বলে জানান তিনি। দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্তবর্তী এলাকায় পশুর হাট না বসানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; অনলাইনেও পশু বিক্রি হবে এবং অনলাইনে কেনায় কোনো খাজনা বা হাসিল নেওয়া হবে না।

কোরবানির হাট একটি বড় খাতের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ‘লাইভস্টক ইকোনমি অ্যাট আ গ্লান্স ২০২৪-২৫’ অনুযায়ী, দেশে গরু ২৫১.৭১ লাখ, ছাগল ২৭২.৯১ লাখ, ভেড়া ৩৯.৮১ লাখ এবং মহিষ ১৫.৩২ লাখ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাময়িক হিসাবের বরাতে অধিদপ্তর জানায়, স্থিরমূল্যে মোট দেশজ উৎপাদনে প্রাণিসম্পদের অবদান ১.৮১ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপিতে ১৬.৫৪ শতাংশ। অধিদপ্তরের হিসাবে প্রাণিসম্পদ খাতে প্রত্যক্ষভাবে ২০ শতাংশ এবং আংশিকভাবে ৫০ শতাংশ মানুষের কর্মসংস্থান হয়। মাংস উৎপাদন ছিল ৮৯.৫৪ লাখ টন, চাহিদা ৭৭.৯২ লাখ টন; অন্যদিকে দুধ উৎপাদন ১৫৫.৩৮ লাখ টন, যা ১৬২.৩৩ লাখ টনের চাহিদার চেয়ে কম।

ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা পোস্ট, দৈনিক মানবকণ্ঠ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বাংলা ট্রিবিউন, প্রথম আলো, সমকাল, আমার বিক্রমপুর, ঢাকা ট্রিবিউন, বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২, উইকিপিডিয়ার মাধ্যমে), প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

সৌরপ্যানেলের নিচে ভেড়া চরালে বাড়ে মৌমাছি, তবে সংখ্যা রাখতে হবে কম

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, সৌরখামারে হেক্টরপ্রতি দুটি ভেড়া চরালে ঘাস কাটার তুলনায় উপকারী পোকা ৩৮ শতাংশ বাড়ে। খামারিদের জন্য ভেড়ার পাল পরিকল্পনার একটি সহায়ক টুলও তৈরি করেছেন গবেষকেরা।

Farms.com১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

প্রোটিনের চাহিদায় বদলে গেল কানাডার দুধের বাজার, মাখনের উদ্বৃত্ত শেষ

দুগ্ধজাত প্রোটিনের চাহিদা বাড়ায় পাঁচ বছরের মধ্যে কানাডার দুধের বাজারে মাখনচর্বির কাঠামোগত উদ্বৃত্ত মিটে গেছে, দুধের দাম নির্ধারণেও এসেছে পরিবর্তন।

Manitoba Co-operator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

সিকি হেক্টরে ওটের বীজ চাষ, ইথিওপিয়ার এক কৃষকের পারিবারিক ব্যবসা

ইথিওপিয়ার এক ক্ষুদ্র কৃষক মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ হেক্টর জমিতে বীজের জন্য ওট চাষ করে প্রথম ফসল ৪৫ হাজার বির্রে বিক্রি করেন এবং পরের বছর চাষ বাড়ান। আইএলআরআইয়ের পশুখাদ্যের বীজকে ব্যবসায় রূপ দেওয়ার উদ্যোগের অংশ এটি।

ILRI১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)