সুন্দরবনের নদীর পানি ও পলিতে মাত্রাতিরিক্ত প্লাস্টিক কণা মিলেছে, এর প্রভাব পড়েছে জলজ প্রাণীর ওপর। শিলা কাঁকড়ার ফুলকায় গড়ে ১৮টি ও অন্ত্রে ৩০টি প্লাস্টিক কণা এবং পশুর নদের পারশে, দাঁতিনা ও বাটা মাছে ক্ষতিকর মাত্রায় ভারী ধাতু পেয়েছেন গবেষকেরা। দুটি গবেষণার ফল তুলে ধরেছে সমকাল।
প্লাস্টিক দূষণের গবেষণাটি করেছে সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) ও অরণ্যক ফাউন্ডেশন; খসড়া প্রতিবেদন প্রকাশ হয় ১৩ আগস্ট খুলনায়। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত কয়রার শাকবাড়িয়া, শ্যামনগরের খোলপেটুয়া ও শরণখোলা রেঞ্জের ভোলা নদীর পানি ও মাটি পরীক্ষা করা হয়। প্রতি ঘনমিটার পানিতে খোলপেটুয়ায় ৫৭০টি, ভোলায় ৫৩০টি ও শাকবাড়িয়ায় ৩৬০টি প্লাস্টিক কণা এবং প্রতি কেজি পলিতে যথাক্রমে ৫৭, ৪৪ ও ৪৫টি কণা মিলেছে। কাঁকড়ার শরীরে পলিইথিলিন, পলিপ্রোপিলিন ও পিভিসির উপাদান পাওয়া গেছে।
গবেষণা দলের প্রধান, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. এম এনামুল হক বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রথমে জুপ্লাংকটন ও ছোট জলজ জীব খায়, পরে তা খাদ্যশৃঙ্খলের ওপরের প্রাণীতে যায়; পলিতে আটকে থাকা প্লাস্টিক তলদেশের প্রাণীর বিচরণক্ষেত্রও নষ্ট করছে। নিয়মিত দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ ও প্লাস্টিক কমানোর বড় পরিকল্পনা দরকার বলে মনে করেন তিনি।
অন্য গবেষণাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বায়োমেডিকেল অ্যান্ড টক্সিকোলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের, যা গত বছর ১১ এপ্রিল "ডিসকভার এনভায়রনমেন্ট" সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, মোংলা শিল্পাঞ্চল ও বন্দর, বানিশান্তা, করমজল ও হারবাড়িয়া, পশুর নদের এই ছয় স্থান থেকে নমুনা নিয়ে প্রতিটি মাছে গড়ে ৪ দশমিক ৩৫ মিলিগ্রাম সিসা, ৩ দশমিক ০৬ মিলিগ্রাম নিকেল, ১ দশমিক ৪২ মিলিগ্রাম তামা ও ১ দশমিক ৪৬ মিলিগ্রাম ক্যাডমিয়াম পাওয়া গেছে। এফএও ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহনীয় মাত্রা সিসার ক্ষেত্রে দশমিক ২ থেকে দশমিক ৪ এবং ক্যাডমিয়ামের ক্ষেত্রে দশমিক ০৫ থেকে দশমিক ১ মিলিগ্রাম।
গবেষণা দলের প্রধান, প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইভানা পাভীন লিপি বলেন, উজানের শিল্পবর্জ্য এবং রামপাল, মোংলা বন্দর ও শিল্পাঞ্চলের অপরিশোধিত বর্জ্য নদীর পানি ও পলি দূষিত করে মাছের শরীরে যাচ্ছে; নদীপারের কারখানার বর্জ্য শোধন ছাড়া ফেলা বন্ধ করতে হবে। খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. আসাদুর রহমান বলেন, এসব ভারী ধাতু খাদ্যের মাধ্যমে মানুষের শরীরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার ও লিভার সিরোসিসের মতো রোগের কারণ হতে পারে।
সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির উজান থেকে প্লাস্টিক আসা ঠেকাতে যৌথ নদী কমিশনসহ আন্তর্জাতিক উদ্যোগ এবং সুন্দরবন ও এর ১০ কিলোমিটারের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করার কথা বলেন। বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানান, শিগগিরই সুন্দরবনে প্লাস্টিক নিয়ে প্রবেশ বন্ধ করা হবে।
ছবি: OpenCage / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)