দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষি গবেষণা পরিষদ (এআরসি) জানিয়েছে, পুরো প্রকল্পের অর্থ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গবাদিপশুর ক্ষুরারোগ (এফএমডি) টিকার প্রস্তাবিত কারখানার নির্মাণ শুরু করা যাবে না। প্রকল্পের জন্য ৪৫ কোটি ৩৮ লাখ র্যান্ড আলাদা রাখা আছে, অথচ আনুমানিক ব্যয় বেড়ে প্রায় ১৬০ কোটি র্যান্ডে দাঁড়িয়েছে। ঘাটতি প্রায় ১১৫ কোটি র্যান্ড। খবরটি দিয়েছে ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা।
প্রশ্নটি ওঠে ৬ অক্টোবর সংসদের কৃষিবিষয়ক কমিটির বৈঠকে। সেখানে মহাহিসাব নিরীক্ষক জানান, কারখানার জন্য জাতীয় কোষাগার থেকে এআরসি প্রায় ৫৩ কোটি ৫৫ লাখ র্যান্ড পেলেও নির্মাণ শুরু হয়নি। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৮ কোটি ১৭ লাখ র্যান্ড।
এআরসি জানায়, এই অর্থ ১৫ বছরের বেশি সময়ে খরচ হয়েছে টিকা উদ্ভাবন, কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা পরীক্ষা, উৎপাদন প্রক্রিয়ার নতুন নকশা, প্রশিক্ষণ, প্রকৌশল ও স্থাপত্যসেবা, জরিপ এবং নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণে। তাদের টিকাটি ২০২২ সালে পশুর ওষুধ হিসেবে নিবন্ধিত হয়। দেরির প্রধান কারণ হিসেবে অপর্যাপ্ত ও অনিয়মিত অর্থায়নকে দায়ী করেছে পরিষদ: প্রথম বরাদ্দ আসে ২০১১/১২ অর্থবছরে, পরের বড় বরাদ্দ আসে কেবল ২০১৯-২০২২ মেয়াদে। নকশা বদল, নির্মাণ ও যন্ত্রপাতির দাম এবং মুদ্রার বিনিময় হারে খরচ বেড়েছে। কারখানাটি ধাপে ধাপে বানানো যাবে না এবং আরও দেরি হলে ব্যয় আবার বাড়বে বলে জানিয়েছে এআরসি। তবে খরচের খাতওয়ারি হিসাব বা নির্মাণ শুরু ও শেষের কোনো তারিখ দেয়নি তারা।
নিরীক্ষক রাষ্ট্রীয় টিকা প্রস্তুতকারক অন্ডারস্টেপুর্ট বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টসের (ওবিপি) কারখানা নিয়েও উদ্বেগ জানান। ২০১৩ সালে প্রায় ৪৯ কোটি ২০ লাখ র্যান্ড পাওয়া সেই প্রকল্পের নির্মাণ ২০২১ সালে থেমে যায়। কৃষিমন্ত্রী উইলি অকাম্প (Willie Aucamp) কমিটিকে বলেন, নির্মাণসামগ্রী রাখা একটি গুদাম ছাড়া সেখানে দেখানোর মতো কিছু নেই; বিশেষ তদন্ত ইউনিট বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। আমদানি করা ৩৪ লাখ ২০ হাজার ডোজ ক্ষুরারোগের টিকায় ৩১ কোটি ১০ লাখ র্যান্ড খরচ যথাযথ মূল্যে হয়েছে কি না, তা-ও নির্ধারণ করতে পারেননি নিরীক্ষকেরা; তবে এতে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়নি।
খামারিদের জন্য মূল কথা হলো, দেশে তৈরি ক্ষুরারোগের টিকা কবে মিলবে তার কোনো তারিখ নেই, আর ততদিন আমদানি করা টিকার ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন হ্যানলি দ্যু প্লেসি (Hanlie du Plessis)।
ছবি: Justinjerez / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা




মন্তব্য
(০)