পাহাড়ি অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীল রেইনবো ট্রাউট চাষ ছড়িয়ে দিতে ভারতের ভীমতালের আইসিএআর-কেন্দ্রীয় শীতল পানি মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (সিআইসিএফআর) উত্তরাখণ্ডের মাল্লা রামগড়ে কৃষক পৃথ্বী সিংয়ের খামারে সৌরশক্তিচালিত একটি হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম (হাইব্রিড-আরএএস) চালু করেছে। ১৪ অক্টোবরের অনুষ্ঠানে প্রদর্শনী ইউনিটটির উদ্বোধন হয় এবং প্রথম মাছ আহরণ দেখানো হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ (আইসিএআর)।
নাবার্ডের অর্থায়নে মাঠপর্যায়ের এ প্রদর্শনী শুরু হয় ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে। পাহাড়ের মাছচাষিদের প্রধান সমস্যা গ্রীষ্মে পানির অভাব, সরবরাহে বিঘ্ন এবং বর্ষায় প্রচুর পলি; এ প্রযুক্তি সেগুলো মোকাবিলার জন্য। প্রচলিত প্রবহমান পানির পুকুরের তুলনায় এখানে পানি শোধন করে বারবার ব্যবহার করা হয়, ফলে পানি লাগে প্রায় ৮০ শতাংশ কম; প্রতি কেজি মাছ উৎপাদনে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ লাগে।
মাছের বৃদ্ধি ও আহরণের তথ্য অনুযায়ী দুটি নার্সারি ও দুটি বড় করার ট্যাংকের একটি ইউনিটে বছরে প্রায় এক টন রেইনবো ট্রাউট উৎপাদন সম্ভব, প্রাথমিক বিনিয়োগ প্রায় ৫ লাখ রুপি। কেজিপ্রতি প্রায় ৭০০ রুপি দামে মোট আয় হবে ৭ লাখ রুপি; পরিচালন খরচ ২ থেকে আড়াই লাখ রুপি ধরলে বছরে উদ্বৃত্ত দাঁড়াতে পারে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি, আর বিনিয়োগ উঠে আসবে মোটামুটি এক বছরে, হিসাব প্রতিষ্ঠানটির।
রিফর্ম উৎসব ২০২৬-এর অংশ হিসেবে ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. অমিত পান্ডের (Amit Pande) নেতৃত্বে ইউনিটটির উদ্বোধন হয়। উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প পরিচালক শিল্পী পন্ত ও নৈনিতালের সহকারী মৎস্য পরিচালক রজনী দেবরারি। প্রায় ৬০ জন কৃষক ও অংশীজনকে ব্যবস্থাটির নকশা ও পানির মান ব্যবস্থাপনা হাতে-কলমে বুঝিয়ে দেন বিজ্ঞানীরা।
ছবি: Bill Kuykendall, US National Archives / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: আইসিএআর





মন্তব্য
(০)