Skip to content
দা এগ্রো নিউজদা এগ্রো নিউজকৃষি ও কৃষকের সংবাদ
সাবস্ক্রাইব

ক্ষেতের শাক-সবজি খেয়ে ফেলছে শামুক

রাতের অন্ধকারে ক্ষেতের শাক-সবজির গাছ খেয়ে ফেলছে এক প্রজাতির শামুক। এনিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানান কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলা নিউজ ২৪২১ অক্টোবর ২০২১ · ২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

রাতের অন্ধকারে ক্ষেতের শাক-সবজির গাছ খেয়ে ফেলছে এক প্রজাতির শামুক। এনিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানান কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।

এরা বিভিন্ন পাতা, গাছের নরম বাকল, ফল, শাক-সবজি গাছ ইত্যাদি খেয়ে ব্যাপক ক্ষতি করছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বরাব এলাকায় এমন ঘটনা ঘটছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বরাব এলাকায় আখতার হোসেনের বাড়ির আশপাশে দেখা যাচ্ছে এক প্রজাতির শামুক। শামুকগুলোর খোলসের ওপর একপ্রকার সাদা দাগ কাটা রয়েছে। দিনের বেলায় এরা বাড়ির দেয়ালে ও বিভিন্ন গাছে এবং বড় বড় ঘাসের নিচে লুকিয়ে থাকে। রাত হলেই ঝাঁক বেঁধে শামুকগুলো ক্ষেতে শাক পাতা ও সবজির গাছ খেয়ে ফেলে।

শামুকগুলো লম্বা প্রকৃতির। গত দুই তিন মাস ধরে ব্যাপক হারে ওই এলাকায় এসব শামুক দেখা যাচ্ছে। এর আগেও দুই-একটি করে এদের দেখা যেত। শাক-সবজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন গাছেরও ক্ষতি করছে এরা। দিনের বেলায় এসব শামুক খুব কমই নড়াচড়া করে। তবে সন্ধ্যার পর বাড়ির আশেপাশে এবং রাস্তাঘাটে বেশি পরিমাণ দেখা যায়। কোনো কোনো শামুকের খোলস ২ থেকে ৩ ইঞ্চি লম্বা। আর শামুক যখন চলাফেরা করে তখন ৩-৪ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে।

ছোট-বড় বিভিন্ন সাইজের এ প্রজাতির শামুক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এনিয়ে পুরো এলাকায় হৈচৈ শুরু হয়েছে। এছাড়া খবর পেয়ে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসব শামুক দেখতে আসছেন।

বরাব এলাকার বাসিন্দা আখতার হোসেন জানান, গত কয়েক মাস ধরে এ প্রজাতির শামুকের বিচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দিনে শামুকের সংখ্যা কম থাকলেও রাত হলে বেড়ে যায়। দিনের বেলায় এরা আম, কাঁঠাল, কলা গাছসহ বিভিন্ন গাছে ও ঘাসের নিচে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন দেয়ালেও থাকে। বাড়ির আশপাশে শাক-সবজি চাষ করলে শামুকগুলো তা খেয়ে ফেলে। এ কারণে এখন আর শাকসবজি চাষাবাদ করি না। কোথা থেকে এতো শামুক এসেছে তা কেউই বলতে পারছেনা। দিন দিন এসব শামুক ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দেওয়ান রনি নামের এক যুবক জানায়, এলাকার লোকজন অনেক সময় এ শামুক দেখামাত্র মেরে ফেলে। এ ধরনের শামুক আগে এই এলাকায় কোথাও দেখা যায়নি। এছাড়া শুকনো জমিতে এভাবে শামুক চলাফেরা করতে আগে কখনো দেখিনি। তবে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন দোকানে এ ধরনের শামুকের খোলসে বিভিন্ন কিছু লিখে বিক্রি করতে দেখেছি।

এ ব্যাপারে কালিয়াকৈর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, শামুক এভাবে শাক-সবজি খাচ্ছে এবং ক্ষতি করছে এমন বিষয় নিয়ে কেউ আগে জানায়নি। বিষয়টি আমার কাছে একেবারেই নতুন। তবে শামুক মাটি দিয়ে চলাচল করলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায় এবং মাটির ভেতর বাতাস ঢুকতে পারে। এটা কৃষির জন্য ভালো। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি জানান।

গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মর্ত্তুজ আলী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। যেহেতু শামুক মৎস্য অধিদপ্তরের বিষয় তারা এ ব্যাপারে বলতে পারবে।

কালিয়াকৈর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সলিমুল্লাহ বলেন, এমন ঘটনা আগে শুনিনি। তবে শামুক মানুষের জন্য ক্ষতিকর না। কিন্তু শাক-সবজি খেয়ে ফেলছে এবং বিনষ্ট করছে এটা তো অবশ্যই কৃষকের জন্য ক্ষতি। যেহেতু কৃষির বিষয়টি সঙ্গে জড়িত এটা কৃষি কর্মকর্তারা ভালো বলতে পারবে।

ট্যাগ#শাকসবজি#শামুক#ক্ষেত
বাংলা নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

সম্পর্কিত খবর

মন্তব্য

()