চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে রেলওয়ে ও সরকারি খাসজমির বনের গাছ প্রকাশ্যে কাটা হচ্ছে। আজকের পত্রিকার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রায় ২০ দিনে ছোট-বড় শতাধিক গাছ কাটা হয়েছে, যার কিছু ৪০ থেকে ৫০ বছরের পুরোনো; টুকরো করে সাতটি ট্রাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কনটেইনার ডিপো তৈরির জন্য একটি চক্র গাছ ও টিলা কেটে জায়গা সমতল করছে।
এলাকাটি সীতাকুণ্ড মহাসড়ক থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে, ফৌজদারহাট জলিল রেলস্টেশনের উত্তর-পূর্বে ও পোর্ট লিংক-২ কনটেইনার ডিপোর দক্ষিণে, 'জঙ্গল ভাটিয়ারি' নামে পরিচিত। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ এলাকার বনায়নের গাছ কাটা, সাত-আটজন শ্রমিক গুঁড়ি ও ডালপালা টুকরো করছেন, কিছু উঁচু টিলা কেটে সমতলের চিহ্ন।
অভিযোগ আছে, গাছ কাটার আগে চক্রটি রেলওয়ের নাম ভাঙিয়ে বনায়ন এলাকায় বসবাসকারী ভূমিহীনদের উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছিল। এর আগে রেলওয়ে এলাকাটি একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার চেষ্টা করে; গত সেপ্টেম্বরে ভূমিহীনদের উচ্ছেদের উদ্যোগ স্থানীয়দের বাধায় স্থগিত হয়। জোড়ামতল কেওয়াইসিআর-সংলগ্ন রেলওয়ের জমিতে তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিন শতাধিক পরিবার বাস করছে বলে জানান বাসিন্দারা। এরপরই বন উজাড় শুরু হয়।
গাছ কাটায় যুক্ত রহমান মনির নামের একজন বলেন, গাছগুলো রেলওয়ে ও সরকারি বনায়নের; এক ব্যক্তি রেলওয়ে থেকে টেন্ডারে গাছ কিনে তাঁদের কাটার দায়িত্ব দিয়েছেন। তবে কে দিয়েছেন, তা বলেননি।
বন বিভাগের ফৌজদারহাট চেকপোস্টের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাত হোসেন বলেন, এক সপ্তাহ আগে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাটা গাছের স্তূপ দেখেছেন; জায়গা ও গাছ রেলওয়ের, তবে যথাযথ টেন্ডারে কাউকে দেওয়া হয়েছে কি না, নিশ্চিত নন। পরিদর্শনের পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, গাছ কাটার কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই, কোনো টেন্ডারও দেওয়া হয়নি। তিনি ছবি ও ভিডিও চাইলে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়, এরপর তিনি আর কথা বলেননি বলে জানিয়েছে আজকের পত্রিকা।
ছবি: সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের বন, Sultan Sunnny / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: আজকের পত্রিকা





মন্তব্য
(০)