বরিশালের হিজলা উপজেলায় মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয় উপজেলা মৎস্য বিভাগ ও কোস্টগার্ডের যৌথ দল। ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে মূল মেঘনা নদীর আলীগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে প্রথম আলো ও মানবকণ্ঠ জানায়। হিজলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম ঘটনাটি নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় সাত জেলেকে আটক করা হয়।
অভিযানে কী ঘটেছিল
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জেলেরা ছোট নৌকা নিয়ে মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে ইলিশ ধরছিলেন। খবর পেয়ে কোস্টগার্ড সদস্যদের নিয়ে উপজেলা মৎস্য বিভাগ আলীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন কোস্টগার্ডের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম।
মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম জাগো নিউজকে বলেন, অবৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় মৎস্য অফিস ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় জেলেরা দা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অভিযানিক দলের ওপর হামলা চালান এবং অভিযানে ব্যবহৃত স্পিডবোটটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, পরে কোস্টগার্ড সদস্যদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
আহতের সংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে ভিন্নতা ছিল। প্রথম আলো জানায়, মৎস্য কর্মকর্তাসহ অন্তত তিনজন আহত হন। মানবকণ্ঠের প্রতিবেদনে বলা হয়, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এবং কোস্টগার্ডের চার সদস্য আহত হন। আহতদের অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদনগুলোতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

আটক, জাল জব্দ ও মামলার প্রস্তুতি
প্রথম আলো জানায়, কোস্টগার্ড সদস্যরা ধাওয়া করে সাত জেলেকে আটক করেন এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মিটার ছোট ফাঁসের অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা হলেন জীবন সরদার, আব্দুর রহিম, মিরাজ হোসেন, সাদ্দাম, রায়হান পাটোয়ারী, বরকত উল্লাহ ও সুজন। তাঁরা সবাই পাশের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া এলাকার বাসিন্দা।
মানবকণ্ঠ জানায়, আটক ব্যক্তিদের থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মৎস্য কর্মকর্তা জানান, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল। কোস্টগার্ডের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মা ইলিশ রক্ষার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা
ঘটনাটি ঘটে ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার চতুর্থ দিনে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঘোষণা দেয় যে ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর দেশজুড়ে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, কেনাবেচা ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে। আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা ও অমাবস্যা, প্রজননের চূড়ান্ত এই দুই সময়ই যেন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে, সেভাবে সময়টি ঠিক করা হয়। প্রথম আলোর ভাষায়, এ সময়ে ইলিশ ধরা, বিপণন, পরিবহন ও মজুত দণ্ডনীয় অপরাধ।
মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী অভিযানে যুক্ত থাকার কথা ছিল। নিষেধাজ্ঞার সময় ৩৭ জেলার ১৬৫ উপজেলার ৬ লাখ ২০ হাজার ১৪০টি জেলে পরিবারকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ২৫ কেজি করে চাল দেওয়ার কথাও জানানো হয়। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ২০২৪ সালের নিষেধাজ্ঞার সময় ৫২.৫ শতাংশ মা ইলিশ ডিম ছাড়তে পেরেছিল।
হিজলা বরিশাল জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা, আয়তন ৫১৫.৩৬ বর্গকিলোমিটার। নদীবেষ্টিত এই উপজেলার দক্ষিণে মেহেন্দিগঞ্জ, উত্তরে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট ও চাঁদপুরের হাইমচর। মেঘনা ও এর শাখানদী এই এলাকার জেলেদের জীবিকার প্রধান উৎস।

ছবি: Alaminnayemhang / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, প্রথম আলো, দৈনিক মানবকণ্ঠ, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)