সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

আশাশুনিতে স্লুইস গেট দিয়ে বিলে লোনা পানি তোলার অভিযোগ, বোরো ধান ঝুঁকিতে

সাতক্ষীরার আশাশুনির প্রতাপনগর ও তেঁতুলিয়ার কৃষকেরা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী চিংড়ি ঘের মালিকেরা নিষ্কাশনের স্লুইস গেট দিয়ে বিলে লোনা পানি তুলছেন; তাঁদের দাবি, এতে ৮০ থেকে ১০০ বিঘার বোরো ধান ঝুঁকিতে পড়ে। প্রশাসন ও পাউবো জানায়, অপব্যবহার প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আশাশুনিতে স্লুইস গেট দিয়ে বিলে লোনা পানি তোলার অভিযোগ, বোরো ধান ঝুঁকিতে
মৎস্য

সাতক্ষীরা জেলার উপকূলীয় উপজেলা আশাশুনির প্রতাপনগর ও তেঁতুলিয়া এলাকার কৃষকেরা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভিযোগ করেন, প্রভাবশালীরা স্লুইস গেট ব্যবহার করে নদী থেকে বিলে লোনা পানি তুলছেন। ওই নিচু বিলেই তাঁরা বোরো ধান লাগিয়েছিলেন। জাগো নিউজ ২৪ ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি জানায়, কয়েকশো বিঘা জমির বোরো ধান নিয়ে কৃষকেরা শঙ্কায় ছিলেন, আর উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলেছিল, গেটের অপব্যবহার প্রমাণিত হলে তারা ব্যবস্থা নেবে।

কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্ষার পানি নিষ্কাশনের জন্য গেটটি তৈরি হয়েছিল, আর প্রভাবশালী চিংড়ি ঘের মালিকেরা সেটি উল্টো পথে ব্যবহার করে বিলে লবণ পানি ঢোকাচ্ছিলেন। তাঁদের হিসাবে প্রায় ৮০০ বিঘা জমি সরাসরি ঝুঁকিতে ছিল, যার মধ্যে সেই মৌসুমে ৮০ থেকে ১০০ বিঘায় ধানের আবাদ হয়েছিল। পানি আরও ছড়িয়ে পড়লে আবাদি জমি, গাছপালা, পুকুরের মিঠা পানি ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্য বড় ক্ষতির মুখে পড়বে বলে তাঁদের আশঙ্কা ছিল।

কৃষকদের অভিযোগ


প্রতাপনগরের বাসিন্দা হুজাইফা আল-আমিন জাগো নিউজকে জানান, কয়েকদিন ধরে এলাকার প্রভাবশালী ঘের মালিকেরা বর্ষার পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত স্লুইস গেট দিয়ে নদী থেকে বিলে লবণ পানি তুলছিলেন। তাঁর কথায়, প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত সেই লোনা পানি সরাসরি ধানের জমিতে পৌঁছায়নি।

তিনি বলেন, "এখানে প্রায় ৮০০ বিঘা জমি রয়েছে। এর মধ্যে চলতি মৌসুমে ৮০ থেকে ১০০ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। পানি যদি এভাবে বাড়তে থাকে, অল্প সময়ের মধ্যেই ধানক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।"

হুজাইফা আল-আমিন জানান, পরিস্থিতি ঠেকাতে কৃষকেরা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। কৃষকদের অভিযোগ, এর পরপরই প্রতিবেদনের দিন তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, কৃষকেরা দল বেঁধে গিয়ে পানি আটকানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কিন্তু হুমকির কারণে কেউ আর বের হওয়ার সাহস পাননি। জাগো নিউজ জানায়, এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রতাপনগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খেয়াঘাট এলাকার স্লুইস গেট দিয়ে একটি চক্র দক্ষিণ বিলে লোনা পানি ঢোকাচ্ছিল। তাঁদের দাবি, এতে প্রায় ৮০ বিঘা জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার এবং স্থায়ী জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। স্থানীয়রা এলাকার এক ব্যক্তিকে চক্রটির নেতৃত্বদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করেন। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে তাঁর বা ঘের মালিকদের কোনো বক্তব্য ছিল না, আর প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো যাচাই করেনি।

স্থানীয়রা জানান, যে স্লুইস গেট দিয়ে তখন লোনা পানি তোলা হচ্ছিল, সেটি মূলত বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য তৈরি। কৃষকদের যুক্তি ছিল, নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে উল্টো পথে চালিয়ে লবণ পানি ঢোকানো হলে তা শুধু সেই মৌসুমের ধান নয়, ভবিষ্যতের চাষাবাদ ও পুরো এলাকার পরিবেশের জন্যও দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

কৃষক পরিবারের দুশ্চিন্তা


প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতাপনগর ও তেঁতুলিয়ার কৃষকদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছিল। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, পানি ধানের জমিতে পৌঁছালে সেই মৌসুমের ফসল তো যাবেই, মাটির উর্বরতা কমে গিয়ে পরের কয়েক মৌসুমেও চাষাবাদ ব্যাহত হবে। তখন কৃষির ওপর নির্ভরশীল হাজারো মানুষকে পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হবে।

স্থানীয় কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, "আমরা ধারদেনা করে বীজ, সার, কীটনাশক কিনেছি। এখন যদি লোনা পানি ঢুকে ধান নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে ঋণ কীভাবে শোধ করবো? পরিবার চালানোই কষ্ট হয়ে যাবে।"

আরেক কৃষক অনাদি সরকার বলেন, "এই জমিতে আগে লবণ ছিল। অনেক কষ্টে মাটিতে লবণ কমিয়েছি। দুই-তিন বছর ধরে ভালো ফলনও পাচ্ছিলাম। আবার লোনা পানি ঢুকলে জমি আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। তখন ধান তো দূরের কথা, ঘাসও জন্মাবে না।"

কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, এই বিলে আগে যাঁরা মাছ চাষ করতেন, তাঁরা আর মাছ চাষ করবেন না বলে কথা দিয়েছিলেন, কিন্তু অনেকে সে কথা রাখেননি। অনেক কৃষকের পরিকল্পনা ছিল ধান কাটার পর মাছ চাষ করার। তিনি বলেন, "কিন্তু ধান পাকার আগেই যদি পানি ঢোকে, তাহলে দুই দিক থেকেই ক্ষতি হবে। ফসলও যাবে, জমিও নষ্ট হবে।"

স্থানীয়দের দাবি ছিল, বিলে লবণ পানি এলে এলাকার পুকুরের মিঠা পানি নষ্ট হয়ে গৃহস্থালির কাজে ব্যবহারের অনুপযোগী হবে, আর গবাদিপশুর জন্য নিরাপদ পানির সংকট দেখা দেবে। ফলজ ও বনজ গাছ শুকিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তাঁরা দেখছিলেন। এতে কৃষি উৎপাদনের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি ও জীবিকায় দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তাঁদের আশঙ্কা।

আম্পান ও ইয়াসের পর ঘুরে দাঁড়ানো


প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও ইয়াসের পর প্রতাপনগর ইউনিয়নের লবণাক্ততার ভয়াবহ প্রভাব কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল। স্থানীয় উদ্যোগে স্লুইস গেট নিয়ন্ত্রণ ও মিঠা পানি ধরে রাখার মাধ্যমে প্রতিবেদনের আগের দুই বছরে হাজার হাজার বিঘা জমিতে ধান ও সবজি চাষ ফিরে এসেছিল। এলাকাবাসী একে সবুজ বিপ্লব বলছিলেন। তাঁদের ভাষ্য, নতুন করে লোনা পানি ঢোকানোয় সেই অর্জন হুমকির মুখে পড়েছিল।

ঘূর্ণিঝড় আম্পান আঘাত হানে ২০২০ সালের মে মাসে। সাতক্ষীরায় এর বাতাসের গতি উঠেছিল ঘণ্টায় ১৫১ কিলোমিটার পর্যন্ত। ঝড়টির বিশ্বকোষীয় বিবরণে সংকলিত জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর (ওচা) ও সরকারের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর ২.৭ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাসে ১৫০ কিলোমিটার বাঁধ ভেঙে প্রায় ১০০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে প্রায় ১ লাখ ৭৬ হাজার হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে কাঁকড়া, মাছ ও চিংড়িতে ২১৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়, যা বহন করেন ৪০ হাজার ৮০০ চাষি; ক্ষতির প্রধান কারণ ছিল খামার তলিয়ে যাওয়া।

এক বছর পর, ২০২১ সালের ২৬ মে, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারে খুলনা, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি ও নোয়াখালীর নিচু এলাকা প্লাবিত হয়। সুন্দরবনের ৫৪টি মিঠা পানির পুকুরের ৫৩টিতেই লোনা পানি ঢুকে পড়ে, আর বন বিভাগ সেখানকার প্লাবনকে ১৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করে।

এমন লবণ জমিতে কত দিন থেকে যায়, গবেষকেরা তা লিখেছেন। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), ব্র্যাক ও যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) একদল গবেষক ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সায়েন্টিফিক ডেটা সাময়িকীতে লেখেন, জলোচ্ছ্বাস কৃষিজমিতে উচ্চমাত্রার লবণ নিয়ে আসে, আর এভাবে হঠাৎ লবণাক্ত হওয়া মাটি এক দশক পর্যন্ত চাষের অনুপযোগী থাকতে পারে। উপকূলীয় বাঁধ প্রকল্প নিয়ে ২০২৩ সালের এক গবেষণায় সমাজবিজ্ঞানী শেখ মোহাম্মদ কায়েস ও মো. সাইদুল ইসলাম লেখেন, ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলার পর দক্ষিণ-পশ্চিমের বহু এলাকা পানি নামতে না পারায় দুই বছর পর্যন্ত লোনা পানিতে ডুবে ছিল, আর লবণাক্ততা স্থায়ীভাবে বেড়ে যাওয়ায় সেখানে সবজি ও বসতবাড়ির গাছ জন্মানো কঠিন হয়ে পড়ে।

কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা যা বলেছিলেন


প্রতিবেদনে উদ্ধৃত কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলেন, উপকূলে একবার লবণাক্ততা বাড়লে মাটির উর্বরতা কমে যায়, পরের কয়েক মৌসুম চাষাবাদ ব্যাহত হয় এবং ভূগর্ভস্থ পানিও লবণাক্ত হয়ে পড়ে। ফলে মাঠের ধানের সঙ্গে ভবিষ্যতের ফসলও ঝুঁকিতে পড়ে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) সাতক্ষীরার উপপরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় এলাকায় ফসল উৎপাদন কম হয়; বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর কিছু এলাকার চাষিরা লবণাক্ততা সহনশীল জাতের ধান চাষ শুরু করেছেন। তিনি বলেন, "তবে আবারও মাছ চাষের নামে কেউ কেউ ফসলি জমিতে লবণ পানি তোলার চেষ্টা করছে। ধান চাষ বন্ধ হলে স্থানীয় খাদ্য উৎপাদনে বড় ঘাটতি তৈরি হবে।"

প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী জাগো নিউজকে বলেন, "আমি এরইমধ্যে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। প্রয়োজনে লিখিতভাবে জেলা প্রশাসককেও অবহিত করবো। ইউনিয়ন পরিষদে জরুরি সভা ডেকে কৃষক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।"

পাউবো সাতক্ষীরা বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া জাগো নিউজকে বলেন, প্রতাপনগর ও তেঁতুলিয়া এলাকার যে স্লুইস গেট দিয়ে পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়, সেটি মূলত বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত। তিনি বলেন, "পানি ব্যবস্থাপনা একটি সমন্বিত বিষয়, এখানে কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় জনগণের স্বার্থ জড়িত। তাই উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এমন সমাধান খোঁজা হবে, যাতে ধান চাষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং অবকাঠামোর অপব্যবহার বন্ধ থাকে। কেউ যদি অবৈধভাবে গেট পরিচালনা করে থাকেন, সে ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনায় আনা হবে।"

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু জাগো নিউজকে বলেন, "বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হবে। কৃষি বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা হবে। যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে স্লুইস গেট অপব্যবহার করে অবৈধভাবে লোনা পানি তোলা হচ্ছে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

আশাশুনি, প্রতাপনগর ও আশপাশের নদী


আশাশুনি সাতক্ষীরা জেলার দক্ষিণাংশের উপজেলা। এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ প্রকাশিত জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, এর আয়তন ৩৭৪.৮১ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে সাতক্ষীরা সদর ও তালা, দক্ষিণে শ্যামনগর, পূর্বে পাইকগাছা ও কয়রা এবং পশ্চিমে কালীগঞ্জ ও দেবহাটা উপজেলা। প্রধান নদী কপোতাক্ষ, বেতনা ও খোলপেটুয়া; পুইনজালা ও চিউতিয়া খালও এই উপজেলা দিয়ে বয়ে গেছে।

উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন: আনুলিয়া, আশাশুনি, কাদাকাটি, কুল্লা, খাজরা, দুর্গাপুর, প্রতাপনগর, বড়দল, বুধহাটা, শ্রীউলা ও শোভনালী। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, এখানে ৭১ হাজার ৮৫৭টি খানা ও ২ লাখ ৮১ হাজার ৭৫৮ জন মানুষ ছিলেন। বাংলাপিডিয়া এখানকার প্রধান ফসল হিসেবে ধান, পাট, আলু, গম, ডাল, আখ ও সবজির কথা বলেছে; ৬৩.১১ শতাংশ পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। চিংড়ি এ উপজেলার প্রধান রপ্তানি পণ্য, আর এখানে মৎস্য খামার, পোলট্রি খামার ও চিংড়ি হ্যাচারি রয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলার পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জেলার জনসংখ্যা ছিল ২১ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮২। জাপানের হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে একদল গবেষক জেলা মৎস্য অফিসের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের তথ্য নিয়ে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে প্লস ওয়ান সাময়িকীতে সাতক্ষীরার জলজ চাষ নিয়ে একটি গবেষণা প্রকাশ করেন। তাতে বলা হয়, জেলার ২ লাখ ২৯ হাজার ৬০৭ হেক্টর আবাদযোগ্য জমির অর্ধেকের বেশি, ১ লাখ ৫৩ হাজার ১১০ হেক্টর, লবণাক্ত। জেলায় সরাসরি জলজ চাষে যুক্ত মৎস্যচাষির সংখ্যা ৭৬ হাজার ৩৯৪ জন, আর বছরে গড়ে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩২৫ টন চিংড়ি ও মাছ উৎপাদিত হয়, যার ৮৭ হাজার ৭৭৭ টন দেশে ও বিদেশে বিক্রি হয়।

একই গবেষণা অনুযায়ী, কালীগঞ্জ, আশাশুনি ও দেবহাটায় জলজ চাষের জন্য লোনা পানি পাওয়া যায়, আর সাতক্ষীরা সদর ও তালায় পাওয়া যায় মিঠা পানি। কালীগঞ্জ, আশাশুনি ও দেবহাটার মাটি ও ভূগর্ভস্থ পানি লবণাক্ত, যা গবেষকদের ভাষায় বাগদা চিংড়ি (পেনিয়াস মনোডন, যা ব্ল্যাক টাইগার নামে পরিচিত) চাষের জন্য খুবই উপযোগী। অন্যদিকে গলদা চিংড়ি (ম্যাক্রোব্রাকিয়াম রোজেনবার্গি) মিঠা পানিতে চাষ হয় এবং সাতক্ষীরা সদর ও তালায় ধানের সঙ্গে একই জমিতে চাষ করা যায়।

ভারী বৃষ্টির পর ভোরে আশাশুনি বাজার, উপজেলার প্রধান বাজার এলাকা। ছবি: Hossain.mahmud.khan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
ভারী বৃষ্টির পর ভোরে আশাশুনি বাজার, উপজেলার প্রধান বাজার এলাকা। ছবি: Hossain.mahmud.khan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

পোল্ডার, স্লুইস গেট এবং চিংড়ি ও ধানের দ্বন্দ্ব


দক্ষিণ-পশ্চিমের স্লুইস গেটগুলো অর্ধশতাব্দীরও বেশি পুরোনো এক বাঁধ ব্যবস্থার অংশ। ১৯৬১ থেকে ১৯৭৮ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত উপকূলীয় বাঁধ প্রকল্পে (কোস্টাল এমব্যাংকমেন্ট প্রজেক্ট) দেশের উপকূলে ১৩৯টি পোল্ডার বা বাঁধঘেরা এলাকা তৈরি হয়, যেখানে ছিল ৫ হাজার ১৭ কিলোমিটার বাঁধ ও ১ হাজার ৩৯টি নিষ্কাশন স্লুইস; সুরক্ষিত হয় প্রায় ১৫ লাখ হেক্টর জমি। কায়েস ও ইসলাম ২০২৩ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিক হেলথে লেখেন, জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসের প্লাবন এবং লোনা পানি ঠেকিয়ে ধানের ফলন বাড়ানোই ছিল এই প্রকল্পের লক্ষ্য। এসব বাঁধ ও স্লুইস দেখভাল করে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।

একই গবেষণায় পোল্ডারে ধানচাষি ও চিংড়িচাষিদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কথাও এসেছে। গবেষকেরা লেখেন, চিংড়িচাষিরা নানা উপায়ে পোল্ডারে লোনা পানি আনেন, যা আশপাশের জমির দাঁড়ানো ফসলের ক্ষতি করতে পারে, এবং এলাকায় অতীতে সংঘাতের নজিরও আছে। তাঁদের মতে, পোল্ডার নির্মাণের সময় জমির বহুমুখী ব্যবহারের কথা ভাবা হয়নি, আর এসব বিরোধ মেটাতে পাউবোর কার্যকর কোনো কৌশল নেই। আশির দশকের শেষ নাগাদ পোল্ডারের ভেতরে বড় পরিসরে চিংড়ি চাষ শুরু হয়, আর নব্বইয়ের দশকে তা সীমিত করার উদ্যোগ ফল দেয়নি।

গবেষকেরা পাশের খুলনা জেলার কয়রার একটি ঘটনাও লিপিবদ্ধ করেছেন। ১৯৯৯ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্যের অনুরোধে সেখানকার কৃষকেরা টানা দুই বছর চিংড়ি চাষ বন্ধ রাখেন, কিন্তু ধান চাষ করে তাঁদের বেশির ভাগই লোকসানে পড়েন; পরে এক সভায় জমির মালিক ও চিংড়িচাষিরা আবার পোল্ডারে লোনা পানি তুলে চিংড়ি চাষ শুরু করতে একমত হন।

এই দ্বন্দ্বে সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। সাতক্ষীরা নিয়ে প্লস ওয়ানের গবেষণায় দেখা যায়, ডিসেম্বরে চিংড়ির পোনা ছাড়া হয়, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত চিংড়ি বড় হয় এবং এপ্রিল বা মে মাসে আহরণ হয়; জায়গা এবং লোনা বা মিঠা পানির প্রাপ্যতাভেদে এ সময় বদলায়। এটিই সেই শুকনো মৌসুম, যখন মাঠে বোরো ধান থাকে। শাহবাজ ও সহকর্মীদের আগের এক গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রবন্ধটিতে বলা হয়, সাতক্ষীরার একটি উপজেলায় চিংড়ি খামারের কারণে লবণাক্ততা ১০ শতাংশ বাড়লে ধানখামারের মুনাফা ১ থেকে ৩ শতাংশ কমে।

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার কান্দাল গ্রামে নাগর নদীর পাশে একটি স্লুইস গেট; নদী ও কৃষিজমির মধ্যে পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণকারী গেটের উদাহরণ হিসেবে ছবিটি দেওয়া হলো। ছবি: Anup Sadi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার কান্দাল গ্রামে নাগর নদীর পাশে একটি স্লুইস গেট; নদী ও কৃষিজমির মধ্যে পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণকারী গেটের উদাহরণ হিসেবে ছবিটি দেওয়া হলো। ছবি: Anup Sadi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

উপকূলের কতটা জমি লবণাক্ত


মাটির লবণাক্ততা উপকূলের কৃষির পুরোনো সমস্যা। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) তথ্য উদ্ধৃত করে কুয়েট, ব্র্যাক ও এমআইটির গবেষকেরা ২০২৫ সালে লেখেন, ১৯৭৩ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে উপকূলীয় বাংলাদেশে লবণাক্ততায় আক্রান্ত জমি ২৬.৭ শতাংশ বেড়ে ৮ লাখ ৩৩ হাজার ৪৫০ হেক্টর থেকে ১০ লাখ ৫৬ হাজার ১৯০ হেক্টরে দাঁড়ায়, যা দেশের উপকূলীয় এলাকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। এর কারণ হিসেবে তাঁরা উজান থেকে মিঠা পানির প্রবাহ কমে যাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, জোয়ারের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলোচ্ছ্বাস এবং উপকূলীয় পোল্ডারের দুর্বল ব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করেন। তাঁরা আরও জানান, উপকূল নিয়ে এসআরডিআইয়ের সর্বশেষ আলাদা উপাত্তভান্ডারটি ১৪ বছরেরও বেশি পুরোনো।

সেই ঘাটতি আংশিক পূরণে গবেষক দলটি ২০২৪ সালের ১ থেকে ৯ মার্চ সাতক্ষীরা, খুলনা ও যশোর থেকে মাটির উপরিস্তরের ১৬২টি নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলোর বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা মাপে। মাটিতে লবণের পরিমাণ মাপার প্রচলিত পদ্ধতি এটিই। এলাকাজুড়ে লবণাক্ততা পাওয়া যায় প্রতি সেন্টিমিটারে ০.০৫ থেকে ৯.০৯ মিলিসিমেন্স। আগের গবেষণা পর্যালোচনায় তাঁরা সাতক্ষীরার এক গবেষণার কথা উল্লেখ করেন, যাতে দেবহাটা, আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলায় উচ্চ থেকে অতি উচ্চ মাত্রার লবণাক্ততা পাওয়া গিয়েছিল।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) লবণাক্ত মাটিকে এমন মাটি হিসেবে বর্ণনা করে, যেখানে লবণ গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। সংস্থাটির মতে, লবণাক্ততায় ফলন কমে, কৃষকের উপকরণ খরচ বাড়ে, ফসলের পানি ব্যবহারের দক্ষতা কমে এবং কৃষকেরা লবণসহিষ্ণু ফসলের দিকে যেতে বাধ্য হন; তীব্র ক্ষেত্রে জমি আর চাষের উপযোগী থাকে না। মাটি থেকে লবণ সরাতে লিচিং দরকার, অর্থাৎ ফসলের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সেচের পানি বা বৃষ্টির পানি শিকড়ের স্তর ভেদ করে নিচে নামতে হয়; সঙ্গে দরকার নিষ্কাশন ব্যবস্থা, কারণ লবণাক্ত মাটির এলাকায় প্রাকৃতিক নিষ্কাশন কমই থাকে। এ কারণেই প্রতাপনগরের মতো এলাকার কৃষকেরা শুকনো মৌসুমে মিঠা পানি আগলে রাখেন।

লবণসহিষ্ণু ধান ও তার সীমা


এই উপকূলের জন্য দেশের ধানবিজ্ঞানীরা লবণসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন করেছেন, যেমন জাতের কথা ডিএইর উপপরিচালক বলেছিলেন। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বিজ্ঞানীদের ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্লস ওয়ানে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, শুকনো বা বোরো মৌসুমে লবণাক্ত এলাকায় ধানের ফলন ওঠানামার প্রধান কারণ লবণাক্ততার তারতম্য। গবেষণাটিতে ১৯৯৪ সালে অবমুক্ত ব্রি ধান২৮-কে বোরোর জনপ্রিয় জাত হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বলা হয়েছে, এটি লবণাক্ততায় সংবেদনশীল। আর ব্রি ধান৬৭ চমৎকার লবণসহিষ্ণু জাত হলেও পুরো জীবনকালে এর সহনসীমা ৮ ডেসিসিমেন্স প্রতি মিটার।

নতুন দুটি জাত আরও বেশি লবণ সইতে পারে। জাতীয় বীজ বোর্ডের ১০৩তম সভায় ২০২০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ব্রি ধান৯৭ ও ব্রি ধান৯৯ অবমুক্ত হয়, আর সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ২৫ আগস্ট। গবেষণা অনুযায়ী, চারা অবস্থায় জাত দুটি প্রতি মিটারে ১৪ ডেসিসিমেন্স লবণাক্ততা সইতে পারে, আর বৃদ্ধির লবণ-সংবেদনশীল ধাপগুলোতে প্রতি মিটারে ৮ থেকে ১০ ডেসিসিমেন্স লবণাক্ততাতেও ধান দেয়। পরীক্ষায় এদের গড় ফলন ছিল হেক্টরপ্রতি ৪.৯০ ও ৫.৪৫ টন।

এই জাতগুলোর আঞ্চলিক ফলন পরীক্ষা হয়েছিল ২০১৬-১৭ সালের বোরো মৌসুমে সাতক্ষীরার আশাশুনি, কালীগঞ্জ ও দেবহাটা এবং খুলনার কয়রায়, ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার লবণাক্ততার প্রতিনিধি হিসেবে। ২০১৮-১৯ সালের বোরো মৌসুমে কালীগঞ্জের যে মাঠে লবণাক্ততা প্রতি মিটারে ৮ থেকে ১৬ ডেসিসিমেন্সে পৌঁছেছিল, সেখানে নতুন দুটি জাত টিকে যায়, কিন্তু ব্রি ধান২৮ ও লবণসহিষ্ণু ব্রি ধান৬৭ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়; গবেষকেরা লিখেছেন, সেখানে রোপণের সাত দিনের মধ্যেই ব্রি ধান৬৭ মরে যায়। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, উপকূলের লবণাক্ত এলাকায় বোরো মৌসুমে ৪০ থেকে ৪৫ দিন বয়সী চারা মূল জমিতে রোপণ করা হয়।

সিলেটের বোরো ধানের খেত; আশাশুনিতে ঝুঁকিতে পড়া শুকনো মৌসুমের ফসলের উদাহরণ হিসেবে ছবিটি দেওয়া হলো। ছবি: AbuSayeed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সিলেটের বোরো ধানের খেত; আশাশুনিতে ঝুঁকিতে পড়া শুকনো মৌসুমের ফসলের উদাহরণ হিসেবে ছবিটি দেওয়া হলো। ছবি: AbuSayeed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ছবি: Cayambe / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪ (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), বাংলাপিডিয়া (এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ), বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২, উইকিপিডিয়ায় সংকলিত), প্লস ওয়ান (নুজাইরা ও সহকর্মী, ডিসেম্বর ২০২২; দেবশর্মা ও সহকর্মী, জানুয়ারি ২০২৪), ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিক হেলথ (কায়েস ও ইসলাম, জুন ২০২৩), সায়েন্টিফিক ডেটা (সরকার ও সহকর্মী, জুলাই ২০২৫), জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (সয়েলস পোর্টাল), উইকিপিডিয়া (ঘূর্ণিঝড় আম্পান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)