সারের সংকট ও কৃষকের চাহিদাকে পুঁজি করে নীলফামারীর সৈয়দপুরে জৈব সারের নামে ভেজাল সার ও কীটনাশক তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। শহর ও উপজেলার বিভিন্ন কারখানা ও গুদামে নিম্নমানের উপকরণে তৈরি এসব পণ্য আকর্ষণীয় মোড়কে শতাধিক দোকানে বিক্রি হচ্ছে বলে বার্তা২৪.কমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অনেক প্যাকেটে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, ব্যাচ নম্বর ও নিবন্ধন নম্বর নেই; কোথাও নিবন্ধনের ঘর ফাঁকা, কোথাও প্রস্তুতকারকের পূর্ণ ঠিকানা নেই। দস্তা, ম্যাগনেসিয়াম, বোরাক্স, বোরন, জিপসাম, সালফারের মতো সার এবং কার্বোফুরান ও ডায়াজিননসহ দানাদার কীটনাশক নাম-বেনামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ। কৃষকেরা বলছেন, নামী কোম্পানির মোড়কের হুবহু নকল দেখে আসল-নকল চেনা কঠিন।
সৈয়দপুরের কৃষিবিদ আখতার হোসেন জানান, প্রকৃত জৈব সার তৈরি হয় গোবর, হাড়ের গুঁড়া, ছাই, ডিমের খোসা, চা-পাতা, কচুরিপানা ও মুরগির লিটারের মতো উপাদান দীর্ঘ সময় পচিয়ে। তাঁর অভিযোগ, কিছু উৎপাদক রং মেশানো বালু, লাল মাটি, সামান্য ছাই ও রাসায়নিক মিশিয়ে তা জৈব সার বলে বিক্রি করছেন, এতে কৃষক প্রতারিত হচ্ছেন এবং জমির উর্বরতা ও ফলন ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়ছে।
বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, মোড়ক দেখে কিনে ব্যবহারের পর অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফল মেলে না, কারও কারও জমিতে ফসলের ক্ষতিও হয়েছে। তিনি বাজারের পণ্যের নমুনা পরীক্ষা ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থার দাবি জানান।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখা নকল সার-কীটনাশকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সৈয়দপুরে নিয়মিত অভিযান ও তদারকি হচ্ছে না।
সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ রায় বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) সঙ্গে নিয়ে শিগগির অভিযান চালানো হবে, সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের দাবি, শুধু বাজারে জব্দ নয়, উৎপাদনস্থল, মজুতকেন্দ্র ও সরবরাহ চক্র ধরতে হবে এবং আসল সার চেনাতে সচেতনতা কার্যক্রম বাড়াতে হবে।
প্রতিবেদন: ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, নীলফামারী, বার্তা২৪.কম
ছবি: Ksd5 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: বার্তা২৪




মন্তব্য
(০)