২০২৬ সালের ঈদুল আজহার এক সপ্তাহ আগে ১০টি গরু নিয়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার শনিরআখড়া পশুর হাটে আসেন নাটোরের ব্যাপারি মোহাম্মদ সেলিম। জাগো নিউজ ২৪-এর ২৮ মে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক দিনে তিনি চারটি গরু বিক্রি করতে পেরেছিলেন। তার ভাষ্য, ২৬ মে মঙ্গলবার গভীর রাতে হাট থেকে তার একটি গরু চুরি হয়ে যায়। ঈদের দিন, ২৮ মে বৃহস্পতিবার দুপুরে হাট যখন খালি হয়ে আসছিল, তখন রাস্তার পাশে কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত জায়গায় রাখা ট্রাকে তিনি অবিক্রিত পাঁচটি গরু তুলছিলেন।
দেশ রূপান্তরের ২৩ মে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাত্রাবাড়ীর কাজলা সেতু থেকে শনিরআখড়া আন্ডারপাস পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে এই অস্থায়ী পশুর হাট বসে, যেখানে দেশের নানা জেলা থেকে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া আসছিল। বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে হাটে বড় ত্রিপল টানানো এবং নিচু জায়গায় বালু ফেলা হয়েছিল।

রাতে গরু চুরির বর্ণনা
সেলিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঘটনার রাতে ঝিমুনি আসায় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। সঙ্গের দুজন কী কারণে জানি বমি করেছিল। তারাও অসুস্থ হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল। ওই সুযোগে কখন যে গরুটি নিয়ে গেলো টেরই পাইনি। অনেক চেষ্টা করেও কোনো হদিস মিললো না।’ তার ধারণা, রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে গরুটি চুরি হয়ে থাকতে পারে।
হাট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ জানান সেলিম। তার অভিযোগ, গরুটির সন্ধান করতে বলার পর কর্তৃপক্ষ শুধু মাইকে ঘোষণা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘তারা (হাট কর্তৃপক্ষ) বারবার মাইকে বলছে, হাসিল ছাড়া কোনো গরু বিক্রি যেন না হয়। আমরা তো গরুটি বিক্রি করিনি। তাহলে হাসিল ছাড়া গরুটি বাইরে কীভাবে নিয়ে গেলো?’ সেলিম জানান, কর্তৃপক্ষ তাকে পুলিশকে জানাতে বলেছিল, তবে তিনি পুলিশের কাছে যাননি। প্রতিবেদনে হাট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য ছিল না।
কম দাম আর বাড়তি খরচ
সেলিম জানান, এটাই ছিল তার জীবনে প্রথমবার ঢাকায় গরু বিক্রি করতে আসা, এবং তিনি আর কোনো দিন গরু নিয়ে ঢাকায় আসবেন না। একটি সাদা-কালো ষাঁড় ট্রাকে তোলার সময় তিনি বলেন, ‘চার লাখ টাকা দিয়ে কিনা, দাম বলছে দুই লাখ ৮০-৯০ হাজার টাকা।’ তিনি জানান, আসার সময় গাড়িভাড়া দিয়েছিলেন গরুপ্রতি ১৬০০ টাকা, ফেরার পথে আবার ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
একই হাটে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থেকে ১৪টি গরু নিয়ে আসা মো. জাকির হোসেন বিক্রি করতে পেরেছিলেন পাঁচটি। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, গ্রামের তুলনায় ঢাকায় দাম কম, বিক্রি করা গরুগুলোর দাম উঠেছে এক লাখ ১৪ থেকে ৪০ হাজার টাকা। তার ভাষ্য, হাট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও অনুমতি না পাওয়ায় তিনি আগে বাড়ি ফিরতে পারেননি, ফলে থাকা-খাওয়ার খরচ আরও বেড়েছে। জাগো নিউজের পর্যবেক্ষণ, রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে শেষ মুহূর্তের চিত্র বিক্রেতাদের জন্য ছিল হতাশার: অনেকে লোকসানে পশু বিক্রি করেছেন, কেউ কেউ অবিক্রিত পশু নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন।

ঈদের আগে পশুর জোগান ও ঢাকার হাট
ঈদের আগে ৩ মে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবার দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদা ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি, আর প্রাপ্যতা ১ কোটি ২৩ লাখের বেশি। এর মধ্যে গরু-মহিষ ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি এবং ছাগল-ভেড়া ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি। চাহিদার চেয়ে জোগান বেশি থাকায় পশু আমদানির প্রয়োজন নেই বলে তখন জানানো হয়।
সেলিমের জেলা নাটোরেও কোরবানির পশু ছিল চাহিদার চেয়ে বেশি। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য উদ্ধৃত করে এনটিভি অনলাইন ১৮ মে জানায়, জেলায় ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৪৩৭টি পশু প্রস্তুত ছিল, চাহিদা ২ লাখ ৭৪ হাজার ৬১১টি, উদ্বৃত্ত ২ লাখ ৮২৬টি; এসব পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছিল।
আইটিভির ২৩ মে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার ঢাকা উত্তর সিটিতে ১২টি এবং দক্ষিণে ১১টি পশুর হাট বসার কথা ছিল, আনুষ্ঠানিক বেচাকেনা শুরু হয় ২৪ মে রোববার, চলার কথা পাঁচ দিন। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় হাটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের কথাও জানানো হয়েছিল।

ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দেশ রূপান্তর, এনটিভি অনলাইন, আইটিভি




মন্তব্য
(০)