ইসলামে তওবা বা অনুশোচনার দরজা খুব প্রশস্ত। কোরআন ও হাদিসে বারবার বলা হয়েছে, বান্দা যত বড় পাপই করুক, আন্তরিকভাবে তওবা করলে আল্লাহ তা ক্ষমা করেন। তবে কিছু নির্দিষ্ট সময় ও অবস্থার কথাও এসেছে, যখন অনুশোচনা আর গ্রহণ করা হয় না। প্রথম আলোর ধর্ম ডেস্ক কোরআন ও হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে এমন চারটি অবস্থার কথা তুলে ধরেছে।
প্রথমটি মৃত্যুর একেবারে দ্বারপ্রান্তে। সুরা নিসার ১৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যারা আজীবন মন্দ কাজ করে এবং মৃত্যু উপস্থিত হলে বলে 'এখন তওবা করছি', তাদের তওবা নেই। সুনানে তিরমিজির হাদিসে (৩৫৩৭) মহানবী (সা.) বলেছেন, প্রাণবায়ু কণ্ঠনালিতে পৌঁছানো পর্যন্ত আল্লাহ বান্দার তওবা কবুল করেন। লোহিত সাগরে ডুবতে বসে ফেরাউনের ইমান আনার কথাও আল্লাহ গ্রহণ করেননি।
দ্বিতীয়টি কেয়ামতের বড় নিদর্শন, পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়। সুরা আনআমের ১৫৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, রবের নিদর্শন এসে পড়লে আগে ইমান না আনা কারও ইমান কাজে আসবে না। সহিহ মুসলিমের হাদিসে (২৭০৩) এসেছে, পশ্চিমে সূর্য ওঠার আগে যে তওবা করবে, আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন।
তৃতীয়টি বান্দার হক। নামাজ না পড়া বা রোজা না রাখার মতো আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কিত পাপ আল্লাহ চাইলে ক্ষমা করতে পারেন, কিন্তু কারও অধিকার নষ্ট করলে বা কাউকে কষ্ট দিলে, সেই মানুষটি ক্ষমা না করা পর্যন্ত তা মাফ হয় না। সহিহ বুখারির হাদিসে (২৪৪৯) মহানবী (সা.) কারও সম্মান নষ্ট করলে বা জুলুম করলে আজই তার কাছ থেকে মাফ করিয়ে নিতে বলেছেন। ইমাম নববি রিয়াদুস সালিহিনে লিখেছেন, পাওনাদারের অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া বা তার কাছে স্পষ্ট ক্ষমা চাওয়া এমন তওবা কবুলের প্রধান শর্ত।
চতুর্থটি শিরক বা কুফরের ওপর মৃত্যু। জীবিত অবস্থায় শিরক থেকে খাঁটি তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন, কিন্তু সুরা নিসার ৪৮ নম্বর আয়াতে ঘোষণা এসেছে, আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না; এ ছাড়া অন্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।
লেখাটির মূল কথা, তওবা শুধু মুখের কথা নয়, পাপ থেকে পুরোপুরি ফিরে আসার আন্তরিক সিদ্ধান্ত। মৃত্যু বা কেয়ামতের ভয়াবহতা সামনে আসার আগেই, সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় আল্লাহর কাছে ফিরে আসাকেই প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য বলা হয়েছে।
ছবি: রাতে দোয়ায় হাত তোলা এক মুসলিম, Muhammad Rehan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)