টানা বৃষ্টির কারণে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে রাজধানী ঢাকার বাজারে কাঁচামরিচের দাম বারবার ওঠানামা করেছে। জাগো নিউজ ২৪-এর ২১ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে মাসে যখনই আবহাওয়া খারাপ হয়েছে, তখনই কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে; কয়েকদিন টানা বৃষ্টি হলে প্রতি কেজির দাম ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে, আর বৃষ্টি কমলে দামও কমেছে। একই সময়ে বেড়েছিল প্রায় সব ধরনের সবজি এবং ফার্মের মুরগির ডিমের দামও।
এক সপ্তাহে দুই দফা দাম বৃদ্ধি
জাগো নিউজের তথ্যে, টানা বৃষ্টির পর শুক্রবার, ১৭ জুলাই প্রতি কেজি কাঁচামরিচের দাম ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। পরে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে এলে দাম কমে ১২০ টাকায় নামে। কিন্তু নতুন করে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় দাম আবার বাড়ে, এবং রাজধানীর কোনো কোনো ছোট বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ২৮০ টাকাতেও বিক্রি হয়।
প্রথম আলোর ১৬ জুলাইয়ের প্রতিবেদনেও একই চিত্র দেখা যায়: কয়েক দিন আগে যে কাঁচামরিচ কেজিপ্রতি ১২০ টাকায় পাওয়া যেত, সেদিন সাধারণ মানের মরিচ ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় এবং ভালো মানের মরিচ ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। ২১ জুলাই পত্রিকাটি জানায়, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ২০০ থেকে ২২০ টাকায় এবং টাউন হল বাজারে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
কারওয়ান বাজারের পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা যা বলেছেন
কারওয়ান বাজার ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় অবস্থিত রাজধানীর অন্যতম বড় পণ্যের বাজার। সেখানকার আড়তে দীর্ঘদিন ধরে কাঁচামরিচের পাইকারি ব্যবসা করা বাছেদ মোল্লা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই বিকেলে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করেন। একই দিনে প্রথম আলো জানায়, কারওয়ান বাজারে ভালো মানের কাঁচামরিচ ২০০ টাকায় এবং সাধারণ মানের মরিচ ১৬০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছিল।
বাছেদ মোল্লা জাগো নিউজকে বলেন, 'দুদিন ধরে গ্রামগঞ্জে বৃষ্টি হচ্ছে, তাই বাজারও খারাপ। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার এক দফা দাম বেড়েছিল। এরপর কিছুটা কমে এখন আবারও বাড়ছে।' তাঁর ব্যাখ্যা, 'কাঁচামরিচ দ্রুত পচনশীল পণ্য। ক্ষেতে কয়েকদিন বৃষ্টির পানি জমে থাকলেই মরিচ নষ্ট হয়ে যায়। এতে বাজারে সরবরাহ কমে যায়, ফলে দাম বেড়ে যায়।'

জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার খুচরা বাজারে তখন প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ২০০ টাকার নিচে মিলছিল না। সেগুনবাগিচা বাজারে ২৫০ গ্রাম কাঁচামরিচ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। সেখানকার বিক্রেতা মুয়াজ্জিম বলেন, দুদিন আগেও তিনি এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) কাঁচামরিচ ৪০ টাকায় বিক্রি করেছেন। তাঁর ভাষায়, সপ্তাহখানেক আগে টানা বৃষ্টি ও বন্যায় সবজির সরবরাহ কমে গেলে অন্য সবজির সঙ্গে মরিচের দামও এক দফা বেড়েছিল; পরে কিছুটা কমলেও বৃষ্টি বাড়ায় আবার বেড়েছে।
মরিচের ঝাল আসে ক্যাপসাইসিন নামের যৌগ থেকে; বৃষ্টিতে 'মরিচের ঝাঁজ বেড়েছে' কথাটি বাজারে আসলে দাম বাড়া বোঝাতেই বলা হয়। বিক্রেতাদের ব্যাখ্যা ছিল সরবরাহ নিয়ে: ক্ষেত ডুবে মরিচ নষ্ট হওয়া এবং বাজারে কম মাল আসা।
সবজি ও ডিমের দামও বাড়তি
বৃষ্টি ও বন্যায় দেশের বিভিন্ন এলাকার সবজিক্ষেতে পানি জমে অনেক সবজি নষ্ট হয়েছিল, ফলে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। হজক্যাম্প বাজারের এক সবজি বিক্রেতা প্রথম আলোকে জানান, ওই বাজারে বেশি সবজি আসে নরসিংদী থেকে, কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সেখানকার সবজিখেতে পানি উঠেছে। এর মধ্যে দেশের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশজুড়ে আবারও টানা পাঁচ দিনের বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল।
জাগো নিউজের বাজার পর্যবেক্ষণে, কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি সবজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছিল। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বেগুন আগের ৭০ থেকে ৮০ টাকা থেকে বেড়ে মান ও প্রকারভেদে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৫০ থেকে ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকায় পৌঁছায়। তুলনামূলক কম দামের মধ্যে পেঁপে, ঢ্যাঁড়স ও পটোল বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে।

কিছুদিন স্থিতিশীল থাকার পর ফার্মের মুরগির ডিমের দামও বেড়েছিল: ডজনপ্রতি ১২৫ থেকে ১৩০ টাকার ডিম তখন বিক্রি হচ্ছিল ১৪০ টাকায়। ক্রেতা-বিক্রেতারা জাগো নিউজকে জানান, সবজির দাম চড়া থাকলে ভোক্তারা ডিমের ওপর বেশি নির্ভর করেন; এতে চাহিদা ও দাম দুটোই বাড়ে।

ছবি: Mamun Srizon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, প্রথম আলো, উইকিপিডিয়া (কারওয়ান বাজার, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, মরিচ)





মন্তব্য
(০)