সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

উপকূলে গলদা-রুই একসঙ্গে, হেক্টরে ফলন ৪ হাজার ১৯০ কেজি

২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত খুলনা ও কক্সবাজারে ১৩১ জন চাষির সঙ্গে সমন্বিত বহুস্তর মাছ চাষের সাতটি মডেল পরীক্ষা করেছে ওয়ার্ল্ডফিশ; সেরা পুকুর মডেলে বিনিয়োগের ওপর মুনাফা এসেছে ১৮১ শতাংশ।

মাছ, চিংড়ি, ঝিনুক-শামুক ও জলজ উদ্ভিদ একসঙ্গে চাষ করলে একই পানি থেকে বেশি খাবার মেলে। ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের উপকূলে খুলনা ও কক্সবাজারের ১৩১ জন চাষিকে নিয়ে এশিয়া-আফ্রিকা ব্লুটেক সুপারহাইওয়ে প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্ল্ডফিশ এই ধারণাটি পরীক্ষা করেছে, সমন্বিত বহুস্তর মাছ চাষের (আইএমটিএ) সাতটি মডেলে, যার চারটি পুকুরভিত্তিক আর তিনটি উপকূলের কাছাকাছি সামুদ্রিক।

নীতিটি সহজ: ভিন্ন ভিন্ন প্রাণী ব্যবস্থার ভিন্ন অংশ কাজে লাগায়। চিংড়ি ও মাছের সঙ্গে রাখা হয় পুষ্টি শোষণকারী প্রাণী ও উদ্ভিদ, ঝিনুক, শামুক, সামুদ্রিক শৈবাল, জলজ গাছ, যাতে এক প্রজাতির ছাড়া পুষ্টি অন্যটি নিতে পারে এবং চাষি একই পুকুর বা একই জলাশয় থেকে একাধিক পণ্য পান।

মডেলভেদে ফল হয়েছে আলাদা। পুকুরভিত্তিক মডেলগুলোর মধ্যে গলদা চিংড়ি (ম্যাক্রোব্র্যাকিয়াম রোজেনবার্জি) ও রুইয়ের (লাবিও রোহিতা) মডেলে প্রতি চক্রে হেক্টরপ্রতি সর্বোচ্চ ফলন মিলেছে, ৪ হাজার ১৯০ কেজি। সবচেয়ে ভালো আয় দিয়েছে বাগদা চিংড়ি (পেনিয়াস মনোডন), নোনা টেংরা (মিস্টাস গুলিও) ও পারশের (লিজা পারসিয়া) মডেল, সুবিধা-ব্যয় অনুপাত ২.৮১ এবং বিনিয়োগের ওপর মুনাফা ১৮১ শতাংশ। মূল্যায়ন করা পুকুর ব্যবস্থাগুলোতে চিংড়ি ও মাছের জৈববস্তু প্রচলিত ব্যবস্থার চেয়ে ২.৭ থেকে ৯.৫ গুণ বেশি হয়েছে, আর কিছু মডেলে বেঁচে থাকার হার দ্বিগুণেরও বেশি।

সামুদ্রিক মডেলগুলোর মধ্যে পারশে-শৈবাল-ঝিনুক-অয়েস্টার সমন্বয়ে সর্বোচ্চ নিট মুনাফা এসেছে, প্রতি ঘনমিটারে ১ হাজার ৯৪৫ টাকা।

পরীক্ষায় অসুবিধার জায়গাগুলোও স্পষ্ট হয়েছে, আর তা মূলত সমুদ্রে। সামুদ্রিক সমন্বিত চাষে বড় বিনিয়োগ লাগে, আর ভিন্ন প্রজাতির মৌসুম সব সময় মেলে না। কয়েকটি সামুদ্রিক প্রজাতির মানসম্মত পোনা দুষ্প্রাপ্য, ভেটকি, নোনা টেংরা, শৈবাল ও ঝিনুকের জন্য চাষিদের এখনও প্রাকৃতিক উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয়, আর সামুদ্রিক মাছের বিশেষায়িত খাবার দেশে ব্যাপকভাবে তৈরি হয় না।

উৎপাদনের বাইরে বাজারও সংকীর্ণ। শৈবাল ও ঝিনুক-জাতীয় পণ্যের চাহিদা সীমিত, আর ব্যাপক ব্যবহারের জন্য দরকার আরও শক্ত খাদ্য নিরাপত্তা ও সংরক্ষণব্যবস্থা, এর মধ্যে আছে জীবন্ত ঝিনুক পরিষ্কার পানিতে রেখে দূষণ কমানোর নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া, অর্থাৎ ডিপিউরেশনের প্রমিত পদ্ধতি।

প্রকল্পটি পুকুরভিত্তিক চর্চায় প্রশিক্ষণ দিয়েছে ১ হাজার ১২৭ জন চাষিকে, আর কক্সবাজারে ৪০০ জন উপকূলীয় নারী অংশ নিয়েছেন পুষ্টিবিষয়ক কার্যক্রমে, যার মধ্যে ছিল শৈবাল ও ঝিনুক দিয়ে রান্নার প্রদর্শনী। এ থেকে তৈরি হয়েছে পাঁচটি পিয়ার-রিভিউড গবেষণা নিবন্ধ, মৎস্য অধিদপ্তরের সংকলনে তিনটি প্রকাশনা এবং বাংলা ভাষায় আইএমটিএ ম্যানুয়াল ও শিক্ষামূলক ব্যানার।

গবেষকদের ভাষায় সবচেয়ে স্পষ্ট শিক্ষা হলো, "সব উপকূলীয় এলাকার জন্য একটিমাত্র আইএমটিএ মডেল নেই", কোন ব্যবস্থা কেমন চলবে তা নির্ভর করে স্থানীয় পরিস্থিতি, প্রজাতির সমন্বয়, উৎপাদন খরচ, পোনা ও খাবারের সহজলভ্যতা, চাষির সক্ষমতা ও বাজারের ওপর। ফলাফল উপস্থাপন করা হয়েছে গত ২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মৎস্য অধিদপ্তরে আয়োজিত সমাপনী কর্মশালায়।

সূত্র: সিজিআইএআর (CGIAR)

CGIARসূত্র

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)