সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছঘাটে ইলিশ ও ক্রেতা সংকট

২০২৬ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছঘাটের ব্যবসায়ীরা জানান, আগের বছরগুলোতে এ সময় দিনে ১৫০ থেকে ২০০ মণ ইলিশ এলেও তখন সরবরাহ ২০ মণেও পৌঁছাচ্ছিল না; এক কেজির ইলিশ বিকোচ্ছিল ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায়, ক্রেতারা না কিনেই ফিরছিলেন।

চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছঘাটে ইলিশ ও ক্রেতা সংকট
মৎস্য

দেশের অন্যতম প্রধান ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছঘাট ২০২৬ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি সংকটের মুখে পড়েছিল বলে ১৪ জানুয়ারি জাগো নিউজ ২৪-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়। পত্রিকাটির জেলা প্রতিনিধিকে ব্যবসায়ী ও জেলেরা জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ঘাটে ইলিশের সরবরাহ ক্রমশ কমতে কমতে তখন প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছিল। আগের বছরগুলোতে বছরের ওই সময়ে প্রতিদিন আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ মণ ইলিশ আসত, কিন্তু তখন দৈনিক সরবরাহ ২০ মণেও পৌঁছাচ্ছিল না। দাম বেড়েছিল কয়েকগুণ, এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায়, আর আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা পড়েছিলেন ক্রেতা সংকটে।

মণ দেশের প্রচলিত ওজনের একক; পাইকারি মাছঘাটগুলোতে এখনো মণ ধরেই মাছ কেনাবেচা হয়। এখানে ব্যবসায়ীদের দেওয়া হিসাব তাঁদের বলা এককেই রাখা হয়েছে।

ঘাটে দিনে ২০ মণেরও কম ইলিশ


প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরবরাহ কমতে শুরু করে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে, এবং বছরজুড়েই সেই ধারা চলেছে। এমনকি ২০২৫ সালের ইলিশের ভরা মৌসুমেও চাঁদপুর অঞ্চলে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েনি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এসে সরবরাহ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।

জেলেরা পত্রিকাটিকে জানান, পদ্মা ও মেঘনায় আগের মতো ইলিশের ঝাঁক দেখা যাচ্ছিল না, আর এর সরাসরি প্রভাব পড়েছিল বড়স্টেশন মাছঘাটে। একদিকে সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছিল, অন্যদিকে দাম বেড়েছিল কয়েকগুণ; ফলে ঘাটের আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা ক্রেতা সংকটে পড়েছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারি ইলিশের মৌসুম নয়। তবু বিগত বছরগুলোতে এ সময় বড়স্টেশন মাছঘাটে প্রতিদিন আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ মণ ইলিশের সরবরাহ থাকত। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়: দৈনিক সরবরাহ ২০ মণেও পৌঁছাচ্ছিল না, যাকে প্রতিবেদনে এ মাছঘাটের ইতিহাসে বিরল বলা হয়েছে।

আগের বছরগুলোতেও মৌসুমের বাইরের সময়ে চাঁদপুরের বাজারে ইলিশ কম থাকত। ২০২৪ সালের নভেম্বরে, সে বছরের প্রজনন মৌসুমের নিষেধাজ্ঞা ৩ নভেম্বর শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পর, প্রথম আলো চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার বাজারগুলোতে সামান্য ইলিশ দেখতে পায়। স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তারা পত্রিকাটিকে বলেছিলেন, ডিম ছাড়ার পর ইলিশ আবার সাগরের দিকে ফিরে যায় এবং বছরের ওই সময়ে নদীতে পানির চাপ কম থাকে; ষাটনল এলাকার এক জেলে জানিয়েছিলেন, রাতে মাত্র পাঁচ থেকে সাতটি মাছ পাচ্ছেন, তাতে ট্রলারের ডিজেলের খরচও ওঠে না। ব্যবসায়ীদের বর্ণনায় ২০২৬ সালের জানুয়ারির পার্থক্যটা ছিল মাত্রায়: অনটনের মাসেও ঘাট সাধারণত যা পায়, তার সামান্য অংশই তখন আসছিল।

নাগালের বাইরে দাম, না কিনেই ফিরছিলেন ক্রেতারা


প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছিল। বাজারে এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায়। মাঝারি ও ছোট আকারের ইলিশও উচ্চমূল্যে বিক্রি হওয়ায় সাধারণ ভোক্তারা ইলিশ কেনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলেন।

ইলিশ কিনতে আসা সুমন রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ইলিশ প্রিয় মাছ হলেও দামের কারণে এখন অপ্রিয় হয়ে উঠছে। বড়স্টেশন মাছঘাটে ইলিশের দাম এতটাই বেশি যে পছন্দমতো বা প্রয়োজন অনুযায়ী কেনা সম্ভব হচ্ছে না। আগে যে দামে মাঝারি আকারের ইলিশ কেনা যেত, এখন সেই টাকায় ছোট মাছও পাওয়া যাচ্ছে না; ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে, বলেন তিনি।

ইলিশ ব্যবসায়ী মনছুর আহমেন মাহিন বলেন, দাম বেশি হওয়ায় বিক্রি কমছে, ফলে আড়তে লোকসান গুনতে হচ্ছে। তা ছাড়া নদীতে মাছ না থাকায় জেলেরা জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাচ্ছেন না। ঘাটে ইলিশ কম আসায় মূলত দাম বেশি, জানিয়ে তিনি বাজারদর দেন এভাবে:

  • এক কেজি ওজনের ইলিশ: ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা;
  • এক কেজির নিচের ইলিশ: ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা;
  • ছোট আকারের ইলিশ: ২ হাজার টাকা।

আরেক ব্যবসায়ী বিজয় সরকার বলেন, অমৌসুমে ইলিশের বিক্রি নেই বললেই চলে। মাছঘাটে ইলিশও কম, দামও বেশি; তাই ক্রেতারা ঘাটে এলেও না কিনে চলে যান। "আমরা ব্যবসায়ীরা চাই ইলিশের সরবরাহ বাড়ুক, আর দামও যাতে নাগালের মধ্যে থাকে," বলেন তিনি।

এর নয় দিন আগে, ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি, ঢাকা টাইমসের চাঁদপুর প্রতিনিধি ঘাটের আরেক দিক থেকে একই সংকটের কথা লেখেন। চাঁদপুরে তখন ইলিশের ডিম বিক্রি হচ্ছিল কেজিপ্রতি ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকায়, কয়েক সপ্তাহ আগে যা ছিল ২ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৩০০ টাকা। ঘাটে লোনা ইলিশ ও ডিমের ১০ থেকে ১৫টি আড়ত থাকলেও আগের বছরের চেয়ে ইলিশ কম আসায় চালু ছিল মাত্র দুটি। এসব আড়তে শ্রমিকেরা নরম হয়ে যাওয়া ইলিশ কেটে লবণ দিয়ে লোনা ইলিশ তৈরি করেন; লোনা মাছ প্রায় এক বছর মজুত রেখে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়, আর ডিম আলাদা করে রাখা হয়। এক আড়তদার পত্রিকাটিকে জানান, আগের বছর ডিমের কেজি ছিল ৩ হাজার টাকা; আর চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, চাহিদা অনুযায়ী মাছ কম, যে কারণে ডিমের দাম চড়া।

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ। ছবি: Rezowan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ। ছবি: Rezowan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বড়স্টেশনে সরবরাহ সংকটের এক বছর


জানুয়ারির প্রতিবেদনটি ছিল ২০২৫ সালজুড়ে এ ঘাটের কম সরবরাহ নিয়ে একের পর এক প্রতিবেদনের সর্বশেষটি। চাঁদপুরের নদী অভয়াশ্রমে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর ২০২৫ সালের ১৭ মে সংবাদ সংস্থা ইউএনবি জানায়, বড়স্টেশন অবতরণ কেন্দ্রে দিনে মাত্র ৫০ মণের মতো ইলিশ আসছিল। হাতিয়া, ভোলা, সন্দ্বীপ ও চরফ্যাশনের উপকূলীয় এলাকা থেকে পিকআপ ভ্যানে দিনে ৪০ থেকে ৫০ মণ ইলিশ আসছিল, অথচ যেসব ট্রলার এক যাত্রায় সাধারণত ১৫০ থেকে ২০০ মণ মাছ আনে, সেগুলো তখনো চলাচল শুরু করেনি। এক মৎস্য কর্মকর্তা সংস্থাটিকে বলেছিলেন, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে।

২০২৫ সালের ৩ জুন দ্য ডেইলি স্টার বাংলা জানায়, বড়স্টেশন বাজারে প্রকাশ্য নিলামে ২ কেজি ৪৮০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ ১৩ হাজার ৩৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা ওই বাজারে কোনো ইলিশের সর্বোচ্চ দাম; নিলামে অংশ নেন অন্তত ৩০ জন খুচরা ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী সমিতির হিসাবে ওই সময়ে দিনে ১০০ থেকে ১৫০ মণ ইলিশ আসার কথা, কিন্তু আসছিল মাত্র ৫ থেকে ১০ মণ; সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেছিলেন, ইলিশ এখন "সোনার হরিণে" পরিণত হয়েছে।

২০২৫ সালের ১৭ জুন প্রথম আলো জানায়, সাধারণ ক্রেতার নাগালে আনতে ইলিশের দাম নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়ে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, চাঁদপুর ও আশপাশের জেলার কিছু ব্যবসায়ী ও আড়তদার ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করেন; জেলা প্রশাসক পত্রিকাটির কাছে প্রস্তাব পাঠানোর কথা নিশ্চিত করেন। তখন ঘাটে এক কেজি আকারের ইলিশের মণ বিক্রি হচ্ছিল ৯০ হাজার থেকে ৯৫ হাজার টাকায়, আর এক ব্যবসায়ী জানিয়েছিলেন, কয়েক দিন ধরে বাজারে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ মণ ইলিশ কেনাবেচা হচ্ছিল। মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কি না, প্রতিবেদনে তা বলা হয়নি।

২০২৫ সালের ২১ জুন দৈনিক দেশ রূপান্তর ঘাটের ব্যবসাকে সংকটে বলে বর্ণনা করে। এক ইলিশ বিক্রেতা পত্রিকাটিকে বলেন, চার-পাঁচ বছর আগে দিনে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মণ মাছ ঘাটে আসত, আর তখন আসছিল ৪০ থেকে ৫০ মণ। চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরে ঘাটে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মণ মাছ বিক্রি হয়েছিল, ২০২২ সাল থেকে প্রতিবছর সরবরাহ কমেছে, এবং ২০২০-২১ সালে যে এক কেজির ইলিশ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হতো, তা তখন বিক্রি হচ্ছিল ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। তিনি আরও বলেন, অন্য জায়গায় নতুন আড়ত হওয়ায় বড়স্টেশনে মাছের চালান কমেছে। আড়তদারেরা জানান, তাঁরা জেলেদের মোটা অঙ্কের দাদন দিয়েছেন, মৌসুমি এই অগ্রিম ঋণ জেলে দলকে একটি আড়তের সঙ্গে বেঁধে রাখে, কিন্তু মাছ না আসায় লোকসান গুনছেন।

২০২৫ সালের অক্টোবরের শুরুতে, সে বছরের প্রজনন মৌসুমের নিষেধাজ্ঞার আগে, প্রথম আলো এসব স্থানীয় চিত্রের পাশে বড় পরিসরের তথ্য তুলে ধরে। পত্রিকাটির বরিশাল প্রতিনিধি মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে জানান, ২০২৫ সালের জুলাই ও আগস্টে ইলিশ আহরণ হয়েছে ২৯ হাজার ৫১৯ টন, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪০ হাজার ২৯১ টন। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের হিসাব উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এক কেজি ইলিশের দাম ২০১০ সালে ছিল ৪১৭ টাকা, ২০১৯ সালে ৭৮৯ টাকা, আর ২০২৫ সালে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা; ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে ২০২৫ সালে ইলিশের দাম ২০২৩ সালের চেয়ে প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি ছিল।

চাঁদপুর, তার নদী ও বড়স্টেশন মাছঘাট


এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, চাঁদপুর চট্টগ্রাম বিভাগের একটি জেলা, আয়তন ১,৬৪৫.৩২ বর্গকিলোমিটার। এর প্রধান নদীগুলোর মধ্যে আছে মেঘনা, ডাকাতিয়া, গোমতী ও ধনাগোদা, আর জেলার পশ্চিম সীমানার অংশ জুড়ে মেঘনা। চাঁদপুর ১৮৭৮ সালে ত্রিপুরা জেলার একটি মহকুমা হয় এবং ১৯৮৪ সালে জেলায় উন্নীত হয়। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জেলার জনসংখ্যা ছিল ২৪ লাখ ১৬ হাজার ১৮, আর জ্ঞানকোষটি শহরের ইলিশ চত্বরকে জেলার দর্শনীয় স্থানের তালিকায় রেখেছে। ২০২৫ সালের জুনের চিঠিতে জেলা প্রশাসন উল্লেখ করে, সরকার ২০১৭ সালে চাঁদপুরকে "ইলিশের বাড়ি" ঘোষণা করেছিল।

এ বাণিজ্যের পেছনে আছে নদী। বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায়, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র-যমুনার মিলিত প্রবাহ পদ্মা ষাটনল থেকে ষোলো কিলোমিটার দূরে চাঁদপুরের কাছে মেঘনার সঙ্গে মিলেছে; বর্ষায় এই মোহনা প্রায় এগারো কিলোমিটার চওড়া হয়। এর ভাটিতে বয়ে গেছে নিম্ন মেঘনা, পদ্মা ও উচ্চ মেঘনার মিলিত স্রোত, যাকে প্রশস্ত মোহনার কারণে জ্ঞানকোষটি বিশ্বের বৃহত্তম নদীগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছে। বঙ্গোপসাগর ও উজানের প্রজননক্ষেত্রের মধ্যে ইলিশ এই পানিপথ ধরেই চলাচল করে।

বড়স্টেশন মাছঘাট ডাকাতিয়ার তীরে, যেখানে নদীটি মেঘনায় মিশেছে। দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইলিশের প্রাচুর্য ও ভালো যোগাযোগব্যবস্থার কারণে ব্রিটিশ আমলে ঘাটটি গড়ে ওঠে, আর এখান থেকে সড়ক ও রেলপথে মাছ যায় দেশের নানা প্রান্তে। আড়তগুলোকে ঘিরে কাজ করেন ট্রলার ও ট্রাক থেকে মাছ নামানো শ্রমিক; আছে বরফকল, প্যাকিং, হোটেল ও চায়ের দোকান, যাদের সবার আয় নির্ভর করে ঘাটে কত মাছ নামে তার ওপর। অন্তত ২০২৪ সাল থেকে ঘাটটি ক্রমবর্ধমান অনলাইন বাণিজ্যেরও জোগান দিচ্ছে: ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রথম আলো জানায়, ফোন ও ফেসবুকে অর্ডার নিয়ে চাঁদপুর থেকে দিনে প্রায় ৬০ মণ মাছ দেশের ৬৪ জেলায় পাঠানো হচ্ছিল, আর জেলা মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির হিসাবে এ বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে অন্তত ৫ কোটি টাকা।

বাংলাদেশে মেঘনা নদীতে একটি মাছ ধরার নৌকা, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তোলা। ছবি: Nurunnaby Chowdhury (Hasive) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশে মেঘনা নদীতে একটি মাছ ধরার নৌকা, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তোলা। ছবি: Nurunnaby Chowdhury (Hasive) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ইলিশ: জাতীয় মাছ ও তার জীবনচক্র


ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ, হেরিং গোত্রের সদস্য। বাংলাপিডিয়া জানায়, ইলিশ প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে, বড় একটি ইলিশের ওজন প্রায় আড়াই কেজি, আর স্ত্রী মাছ পুরুষ মাছের চেয়ে দ্রুত বাড়ে ও বড় হয়। ইলিশ এক থেকে দুই বছরে প্রাপ্তবয়স্ক হয়, আর বড় একটি স্ত্রী ইলিশ ২০ লাখ পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে সে বছরের জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের শুরুতে মৎস্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য তুলে ধরে টিবিএস বাংলা জানায়, এক কেজির একটি ইলিশ সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ সেন্টিমিটার লম্বা হয়, আর দুই কেজির বেশি ওজনের ইলিশ হয় ৬০ থেকে ৬২ সেন্টিমিটার।

ইলিশ অভিপ্রয়াণী মাছ: প্রাপ্তবয়স্ক মাছ ডিম ছাড়তে সাগর থেকে নদীর উজানে মিঠাপানিতে আসে, ডিম পানিতে ভেসে থেকে ফোটে, আর বাচ্চা মাছ নদীতে বড় হয়ে খাবারের খোঁজে সাগরে নেমে যায়, পরে প্রজননক্ষম হয়ে আবার ফেরে। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, ইলিশ প্রায় সারা বছরই ডিম ছাড়ে; ফেব্রুয়ারি-মার্চে একটি ছোট মৌসুম আর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে প্রধান মৌসুম। এই বর্ষপঞ্জির কারণেই ব্যবসায়ীরা যখন কথা বলছিলেন, সেই জানুয়ারি চাঁদপুরে অনটনের মাস: প্রাপ্তবয়স্ক মাছের প্রধান ঝাঁক ডিম ছেড়ে চলে গেছে, আর নদী বেয়ে নামতে থাকা বাচ্চা মাছ আইনে সুরক্ষিত।

এই বাচ্চা ইলিশকেই বলা হয় জাটকা। বাংলাপিডিয়া জানায়, ডিম ফোটার পর এরা কয়েক সপ্তাহ নদীর নার্সারি এলাকায় থাকে, তারপর সাগরের দিকে যাত্রা শুরু করে, আর পথে প্রচুর জাটকা ধরা পড়ে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকার ১০ ইঞ্চি বা ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা ইলিশকে জাটকা ধরে। প্রাপ্তবয়স্ক ইলিশ ধরা হয় মূলত স্থির বা ভাসমান ফাঁস জাল (চান্দি জাল) দিয়ে; নদীতে ছোট অযান্ত্রিক নৌকায়, আর সাগরে যান্ত্রিক নৌকা ও ট্রলারে। সংগ্রহকারী নৌকা, বড়স্টেশনের মতো পাইকারি বাজার আর পরিবহনকারী ব্যবসায়ীদের এক শৃঙ্খল মাছ পৌঁছে দেয় দেশের ভেতরের বাজারে।

২০২৬ সালের জানুয়ারির আগের জাতীয় পরিসংখ্যান


জাতীয় পর্যায়ে সরকারি পরিসংখ্যানে দীর্ঘ বৃদ্ধির পর পতন দেখা যায়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে তৎকালীন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী জানান, ইলিশ উৎপাদন ২০০৮-০৯ অর্থবছরের ২ দশমিক ৯৮ লাখ টন থেকে বেড়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৭১ লাখ টন হয়েছে, ১৫ বছরে প্রায় ৯২ শতাংশ বৃদ্ধি, টিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়।

২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টন, টিবিএস বাংলা জানায়। দেশের মোট মাছ উৎপাদনের প্রায় ১১ শতাংশ ইলিশ, মোট দেশজ উৎপাদনে এর অবদান ১ শতাংশের বেশি, আর বিশ্বের মোট ইলিশের ৮০ শতাংশের বেশি ধরা পড়ে বাংলাদেশের নদী, মোহনা ও সাগরে, যা ইলিশ উৎপাদনকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্থানে রেখেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রথম আলো জানায়, প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন আরও কমার আভাস ছিল, যদিও পত্রিকাটি কোনো সংখ্যা দেয়নি।

এসব জাতীয় হিসাবে উপকূলীয় বন্দরে নামা সাগরের ইলিশও ধরা আছে। বড়স্টেশনের ব্যবসায়ীরা বলছিলেন এর চেয়ে সীমিত একটি বিষয়ের কথা: পদ্মা ও মেঘনার নদীর ইলিশ আর দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা চালান, যা দেশের ভেতরের একটি ঐতিহ্যবাহী বাজারে পৌঁছায়। এই পার্থক্যের দীর্ঘ পটভূমি দেয় বাংলাপিডিয়া: ১৯৭২ সালের দিক পর্যন্ত ইলিশ আহরণ কেন্দ্রীভূত ছিল উজানের নদীগুলোতে; তারপর থেকে সেখানে আহরণ তীব্রভাবে কমে গিয়ে তা সরে গেছে ভাটির নদী, মোহনা, উপকূল ও সাগরে।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কার্যকর মাছ ধরার বিধিনিষেধ


জাগো নিউজের প্রতিবেদক যখন ঘাটে যান, তখন দেশে জাটকা ধরার বার্ষিক নিষেধাজ্ঞা চলছিল। ইউএনবি জানায়, আট মাসের এই দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা শুরু হয় ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর, চলার কথা ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। এ সময়ে ২৫ সেন্টিমিটারের ছোট ইলিশ ধরা, পরিবহন, বাজারজাত, কেনাবেচা ও মজুত নিষিদ্ধ, আর মৎস্য অধিদপ্তর জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ, র‍্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থাকে নিয়ে তা কার্যকর করে। নিষেধাজ্ঞা ভাঙলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। কর্মকর্তারা জানান, ২০২৫ সালের অক্টোবরের প্রজনন মৌসুমের অভিযানে মা ইলিশের ছাড়া ডিম থেকে জন্মানো যে জাটকা তখন উপকূলীয় নদী ও মোহনায় ছিল, তাদের রক্ষাই এর উদ্দেশ্য।

সেই অভিযান, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫, ছিল ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের দেশব্যাপী ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা, যা প্রধান প্রজনন মৌসুমের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়। প্রথম আলো জানায়, আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমাকে ঘিরে মা ইলিশ ধরায় ১১ দিনের নিষেধাজ্ঞা প্রথম দেওয়া হয় ২০০৮ সাল থেকে, আর দেশে জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয় ২০০৩-০৪ সালে। আগের বছর নিষেধাজ্ঞা ছিল ২০২৪ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর; দ্য ডেইলি স্টার বাংলা জানায়, সে সময় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক পদ্মা ও মেঘনায় দিনরাত নজরদারি এবং নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলায় কোনো বরফকল খুলতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

চাঁদপুরের নিজস্ব একটি বন্ধ মৌসুমও আছে। জেলার পদ্মা-মেঘনার অংশটি ইলিশের অভয়াশ্রম; দ্য ডেইলি ইত্তেফাক জানায়, ২০২৫ সালে মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার এলাকায় ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল দুই মাস সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। জেলার প্রায় ৪৪ হাজার নিবন্ধিত জেলে এর আওতায় পড়েন; ভিজিএফ সহায়তা হিসেবে চার মাস তাঁদের প্রত্যেকের ৪০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা ছিল। উদ্দেশ্য ছিল সাগরমুখী জাটকা রক্ষা।

২০২৫ সালের এপ্রিলে মন্ত্রণালয় ৮ থেকে ১৪ এপ্রিল দেশব্যাপী জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহও পালন করে, যার প্রতিপাদ্য ছিল "জাটকা ধরা বন্ধ হলে, ইলিশ উঠবে জাল ভরে", টিবিএস বাংলা জানায়।

মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে চাঁদপুরের নদীতে একটি স্পিডবোট, ২০১৯ সালের অক্টোবরে তোলা। ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে চাঁদপুরের নদীতে একটি স্পিডবোট, ২০১৯ সালের অক্টোবরে তোলা। ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

নদীতে ইলিশ কম কেন: ব্যবসায়ী ও গবেষকদের কথা


২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ঘাটের মানুষেরা সংকটের সহজ একটি কারণ বলেছিলেন: নদীতে মাছ নেই, জাল ফেলেও জেলেরা প্রায় খালি হাতে ফিরছেন। ২০২৫ সালের জুনে ব্যবসায়ীরা অন্য জায়গায় খোলা নতুন আড়তের কথাও বলেছিলেন, যেগুলো আগে বড়স্টেশনে আসা চালানের একটি অংশ টেনে নিচ্ছিল।

২০২৬ সালের জানুয়ারির আগে উদ্ধৃত গবেষক ও কর্মকর্তারা দীর্ঘমেয়াদি চাপের কথা বলেছিলেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরিচালক প্রথম আলোকে বলেন, অবৈধ ছোট ফাঁসের জাল, স্থানীয় ট্রলার আর বড় মাছের অতিরিক্ত আহরণের মধ্য দিয়ে অতি আহরণ মজুত কমিয়ে দিয়েছে; মোট মজুতের ৩০ শতাংশ আহরণ করে ৭০ শতাংশ রেখে দেওয়া উচিত। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের এক সহকারী অধ্যাপক পত্রিকাটিকে বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে প্রজননক্ষেত্রের কাছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানা নদী দূষিত করেছে এবং মাছের চলাচলের পথ বদলে দিয়েছে; ইলিশ খুব সংবেদনশীল মাছ। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, মৎস্য অধিদপ্তরের এক জরিপে মেঘনা-তেঁতুলিয়া মোহনা ও সংলগ্ন নদীতে ১৭টি স্থানে ইলিশের চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত পাওয়া গেছে, যার ১৪টি মেঘনায়, আর পলি জমা ও ডুবোচরে দক্ষিণাঞ্চলের নদীর গভীরতা কমেছে।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চাঁদপুরের মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের এক সাবেক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, দ্য ডেইলি ইত্তেফাক যাঁকে একজন শীর্ষ ইলিশ গবেষক হিসেবে বর্ণনা করে, বলেছিলেন, দূষণ ও অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের কারণে মেঘনা ও পদ্মায় ইলিশ কমেছে, আর সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় জাটকা সংরক্ষণ করলে উৎপাদন বাড়বে।

বাংলাপিডিয়া মৎস্যবিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিন ধরে চিহ্নিত দেশের ভেতরের ইলিশ আহরণ কমার কারণগুলোর তালিকা দিয়েছে:

  • ভারতে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের পর থেকে গঙ্গায় পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া ও ব্যাপক পলি জমা;
  • নির্বিচারে জাটকা ধরা;
  • চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং প্রজনন ও নার্সারি এলাকা নষ্ট হওয়া;
  • নদীদূষণ বেড়ে যাওয়া;
  • উপকূলীয় এলাকায় যান্ত্রিক নৌকায় উজানে যাওয়ার আগেই মাছ ধরে ফেলা;
  • বন্যানিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্প, যা ইলিশের চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছে।

ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, ঢাকা টাইমস, ইউএনবি, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, প্রথম আলো, দেশ রূপান্তর, দ্য ডেইলি ইত্তেফাক, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস), বাংলাপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)