ঈদুল আজহার এক সপ্তাহ আগে রাজধানী ঢাকায় কোরবানির পশুর হাট ঘিরে চাঁদাবাজি এবং ঈদযাত্রায় বাড়তি বাসভাড়া আদায়ের অভিযোগে নয়জনকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ২০২৫ সালের ৩০ ও ৩১ মে উত্তরার কামারপাড়া এবং আবদুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। রোববার, ১ জুন সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয় বলে জাগো নিউজ ২৪ সেদিন প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
সেনাবাহিনী জানায়, দেশের তখনকার প্রেক্ষাপটে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে তারা পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
কামারপাড়ায় পশুর হাট ঘিরে পাঁচজন গ্রেফতার
সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ৩০ মে রাত সাড়ে ১০টায় উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টর সংলগ্ন কামারপাড়া এলাকায় সেনাসদস্যরা নিয়মিত টহল দিচ্ছিলেন। এ সময় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল অবৈধভাবে হাট বসানো, গরু ব্যবসায়ীদের জোর করে একটি নির্দিষ্ট হাটে পশু বিক্রিতে বাধ্য করা এবং চাঁদাবাজি।
উত্তরা ঢাকার একটি আবাসিক এলাকা; এটি গাজীপুরমুখী সড়কের পাশে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লাগোয়া।

আবদুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ডে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ
পরদিন, ৩১ মে বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর আবদুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। সেখানে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বাসভাড়া আদায়ের অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
সেনাবাহিনী জানায়, দুই অভিযানে গ্রেফতার নয়জনকে প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান সামনেও চলবে বলে জানানো হয়।

ঈদের হাট ও সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি ২০২৫ সালের ২৮ মে জানায়, দেশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে এবং ৭ জুন ঈদুল আজহা পালিত হবে। হিজরি বর্ষপঞ্জির জিলহজ মাসের ১০ তারিখে মুসলিমরা এই উৎসব পালন করেন।
দ্য ডেইলি স্টারের ১৭ মে ২০২৫ তারিখের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদ উপলক্ষে ঢাকায় ১৯টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর পরিকল্পনা ছিল: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে ১০টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীনে ৯টি। হাটগুলোর পাঁচ দিনের ইজারার জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং নির্ধারিত জায়গার বাইরে কোনো অননুমোদিত হাট বসতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সরকার সেনাবাহিনীর কমিশন্ড কর্মকর্তাদের ৬০ দিনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়। এর আওতায় তাঁরা ফৌজদারি কার্যবিধির নির্দিষ্ট ধারায় গ্রেফতারসহ ব্যবস্থা নিতে পারেন। ২০২৫ সালের ৮ মে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এই ক্ষমতা ১৪ মে থেকে আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হয়; ডেইলি স্টারের তথ্যে এটি ছিল টানা পঞ্চমবারের মতো মেয়াদ বৃদ্ধি।

ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য ডেইলি স্টার, উইকিপিডিয়া




মন্তব্য
(০)