সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় ক্ষুধা বাড়ছে, কৃষি সহায়তায় জরুরি অর্থ চাইল এফএও

গাজা, লেবানন, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনে সাড়ে চার কোটির বেশি মানুষ তীব্র ক্ষুধার মুখে; বীজ, পশুখাদ্য ও পশুচিকিৎসা সময়মতো না পৌঁছালে কৃষির ক্ষতি আর ফেরানো যাবে না বলে সতর্ক করেছে এফএও।

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি, অর্থনৈতিক ধাক্কা আর জলবায়ুর চাপে খাদ্য উৎপাদনের সক্ষমতা ভেঙে পড়ছে। এই অবস্থায় জরুরি কৃষি সহায়তার জন্য দ্রুত অর্থ চেয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। সংস্থাটির হিসাবে গাজা, লেবানন, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনে ৪ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষ সংকট পর্যায়ের বা তার চেয়েও খারাপ ক্ষুধায় আছে।

এফএওর উপমহাপরিচালক বেথ বেকডল (Beth Bechdol), নিকট প্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার আঞ্চলিক প্রতিনিধি আবদুলহাকিম এলওয়ের (AbdulHakim Elwaer) এবং জরুরি ও সহনশীলতা দপ্তরের পরিচালক রেইন পলসেন (Rein Paulsen) জর্ডান, লেবানন ও সৌদি আরবে সরকার, দাতা ও সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই আহ্বান আসে। এফএও বলছে, এসব ধাক্কায় কৃষি অবকাঠামো ধ্বংস হচ্ছে, বাজার ভেঙে পড়ছে, আর অর্থের ঘাটতিতে সহায়তাও সীমিত হয়ে পড়ছে।

দেশভিত্তিক চিত্র উদ্বেগজনক। গাজা ও পশ্চিম তীরে ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুনে ১২ লাখের বেশি মানুষ সংকট বা তার চেয়ে খারাপ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ছিল; ২০২৭ সালের জন্য এফএও চাইছে ১৪ কোটি ৯ লাখ ডলার। লেবাননে এপ্রিল থেকে আগস্টে ১২ লাখ ৪০ হাজার মানুষ এমন অবস্থায় পড়বে বলে ধারণা; সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫ হাজার কৃষক ও গ্রামীণ পরিবারের কাছে পৌঁছাতে লাগবে ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সুদানে ১ কোটি ৯৫ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়, অথচ ২০২৬-২০২৮ জরুরি পরিকল্পনার ১৯ কোটি ৩০ লাখ ডলারের মাত্র ২৩ শতাংশ মিলেছে। সিরিয়ায় ২০২৫ সালের শেষে প্রায় ৭২ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ছিল; ৫২ লাখ মানুষকে সহায়তা দিতে ২০২৭ সালে দরকার ১৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার। ইয়েমেনে ১ কোটি ৮৩ লাখ মানুষ সংকট বা তার চেয়ে খারাপ অবস্থায়, আর ২০২৭ সালের পরিকল্পনার ৮ কোটি ৭৯ লাখ ডলারের ১ শতাংশও এখনো জোগাড় হয়নি।

এফএও যে সহায়তার কথা বলছে, তা মাঠের কাজের: বীজ, পশুখাদ্য, পশুচিকিৎসা, নগদ অর্থ ও ভাউচার, সেচ সহায়তা ও অন্যান্য উপকরণ, যাতে সংকটের মধ্যেও পরিবারগুলো খাদ্য উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারে। সংস্থাটি জানায়, গাজায় তাদের সহায়তায় কৃষকেরা আবার চাষ শুরু করেছেন, পশুপালক পরিবারগুলো খাদ্য ও আয়ের উৎস ধরে রেখেছে। সুদানে ২০২৬ সালে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কাছে বীজ, পশুর টিকা, পশুখাদ্য ও উপকরণ ভাউচার পৌঁছেছে।

এলওয়ের বলেন, "বোনার মৌসুমের আগে কৃষক বীজ পেলে, কিংবা পশু মারা যাওয়ার আগে পশুপালক খাদ্য ও চিকিৎসা পেলে আমরা আজকের খাবার আর কালকের উৎপাদনের উপায়, দুটোই রক্ষা করি। কিন্তু সম্পদ সময়মতো না পৌঁছালে এটা কাজ করে না।"

লেবাননে প্রতিনিধিদল ক্ষতি নিজের চোখে দেখেছে। ২০২৬ সালের মার্চে সংঘাত বাড়ার পর ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যাদের বেশির ভাগ গ্রামের। দক্ষিণের বিন্ত জবাইল, মারজাইয়ুন, নাবাতিয়েহ ও সুর জেলার ৫৫ থেকে ৬৫ শতাংশ মানুষ সংকট বা তার চেয়ে খারাপ অবস্থায় পড়তে পারে। দেশটির ২২ শতাংশের বেশি কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে, আর দক্ষিণ ও নাবাতিয়েহর প্রায় অর্ধেক কৃষিজমিতে যাওয়াই যাচ্ছে না। নাবাতিয়েহতে এফএওর দল কৃষক, সমবায় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মীদের সঙ্গে জমি ও সেচব্যবস্থার ক্ষতি যাচাই করে।

বেকডল বলেন, কৃষি পুনরুদ্ধার জরুরি অবস্থা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে না। লেবাননের নতুন ১০ বছরের জাতীয় কৃষি কৌশল ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও সহায়তা করছে এফএও, যার লক্ষ্য উৎপাদন ফেরানো, পানির দক্ষ ব্যবহার এবং কৃষি খাতের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানো। কৃষক, পশুপালক ও জেলে সম্প্রদায় যেন ক্ষতি স্থায়ী হওয়ার আগেই সহায়তা পায়, সে জন্য দাতাদের সহায়তা বজায় রাখা ও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

সূত্র: এফএও নিউজরুম

এফএও নিউজরুমসূত্র

ফসল

সম্পর্কিত খবর

ফসল

ইংল্যান্ডে যবের ফলন ১৪ বছরে সর্বনিম্ন, গম সামান্য বেশি

যুক্তরাজ্যের কৃষি মন্ত্রণালয় ডেফরার প্রাথমিক হিসাবে ইংল্যান্ডে যব উৎপাদন ১১ শতাংশ কমে ৩৭ লাখ টন হয়েছে, গম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৮ লাখ টন; গমের তুলনায় পশুখাদ্যের যব বিক্রি হচ্ছে অনেক কম দামে।

Farmers Weekly১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
বিশ্ব

ভালো ফসলের বছরেও আফগানিস্তানে শীতে তীব্র খাদ্যসংকটে পড়বে ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ

অনুকূল বৃষ্টি ও ভালো ফসলের পরও নভেম্বর-এপ্রিলে আফগানিস্তানের ৩৮ শতাংশ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এফএও ও ডব্লিউএফপি; গত বছর একই সময়ের পূর্বাভাস ছিল ১ কোটি ৭৪ লাখ।

ডব্লিউএফপি১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফসল

জমির সিদ্ধান্তের ভার পেয়ে তুলার ফলন সাত গুণ করলেন মহারাষ্ট্রের সুনীতা

একসময় দিনমজুরি করা, পরিবারের ১২ একর জমি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের অধিকার না থাকা মহারাষ্ট্রের পাচোদ গ্রামের সুনীতা নেহারে এখন খামার চালান; মাটি ও পানি সংরক্ষণে একরপ্রতি তুলার ফলন প্রায় ১ থেকে বাড়িয়েছেন ৭ দশমিক ১৪ কুইন্টালে।

ডাউন টু আর্থ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)