রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীরা শয্যা না পেয়ে মেঝে, সিঁড়ির গোড়া আর লিফটের পাশে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ১২ তলার নারী ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন ৭৪ জন, ১১ তলার পুরুষ ওয়ার্ডে ৭৫ জন, মোট ১৪৯ জন। রোগী ও স্বজনেরা বলছেন, চিকিৎসক-নার্সের সেবায় তাঁরা সন্তুষ্ট; ভোগান্তি মূলত পরীক্ষা করাতে।
১৪ বছরের জামিলের তিন দিনের জ্বর, ১০২ ডিগ্রি পর্যন্ত ওঠে, সঙ্গে হাত-পায়ে ব্যথা, পাতলা পায়খানা ও বমি। শয্যা খালি না থাকায় ৯ তলায় লিফটের পাশে মেঝেতে বিছানা পেতে স্যালাইন চলছে। মা নাহিদা বলেন, আসার সঙ্গে সঙ্গে ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু হয়েছে; বেসরকারি হাসপাতালে অনেক খরচ, তাই মেঝে হলেও এখানেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্বজনদের অভিযোগ, সকাল ৮টায় লাইনে দাঁড়িয়েও সিরিয়াল পেতে সাড়ে ৯টা-১০টা বেজে যায়, রিপোর্ট আনতে আরেক দফা লাইনে প্রায় এক ঘণ্টা। মেরাদিয়ার রিটন ছয় দিন ধরে ভাইকে নিয়ে আছেন; তাঁর কথায়, চিকিৎসার মান ভালো, কিন্তু পরীক্ষার লাইনে দেড় ঘণ্টা আর রিপোর্টে আরও এক ঘণ্টা যায়। লিফটেও প্রতিবার ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা; চারটি লিফটের তিনটি রোগীদের জন্য, সন্ধ্যা ৭টার পর চাপ কমে।
খরচের হিসাব পরিবারভেদে আলাদা: কারও দিনে ৫০০-৭০০ টাকা, কারও ১,৫০০-২,০০০ টাকা। কিছু ওষুধ ও স্যালাইন হাসপাতাল দেয়, কিছু কিনতে হয়। খিলগাঁও গভর্নমেন্ট স্কুলের শিক্ষার্থী মাসনুরের প্লাটিলেট পাঁচ দিনে ২৯ হাজারে নামার পর বেসরকারি হাসপাতাল তাঁকে সরকারি হাসপাতালে যেতে বলে; মুগদায় আসার পর প্লাটিলেট ৪৩ হাজারে উঠেছে বলে জানান মা রোকেয়া।
১২ তলার নারী ওয়ার্ডের সেবিকা সুজাতা মল্লিক বলেন, ২০২৩ সালে এই ওয়ার্ডে রোগী থাকত ৩০০ থেকে ৩৫০ জন, এবার দিনে ৮০ জনের মতো। পুরুষ ওয়ার্ডের সেবিকা সুচি জানান, দুই দিন আগে রোগী ছিল ৮৬ জন, গত দুই দিন ৭৪-৭৫ জন।
দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতিও জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর: রোববার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ছয়জন, ভর্তি হয়েছেন ২,০৮৮ জন। চলতি অক্টোবরের ১৮ দিনে ভর্তি ৩২ হাজার ৭৮০ জন, মৃত্যু ১০২ জনের। এ বছর মোট ভর্তি ১ লাখ ১২ হাজার ৪০০ জন, মৃত্যু ৩৪৮ জন।
প্রতিবেদন: আরিফ সাওন, দেশ রূপান্তর
ছবি: US Department of Agriculture / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: দেশ রূপান্তর




মন্তব্য
(০)