যুক্তরাষ্ট্রের দুগ্ধখামারে রোবটিক দোহন বাড়ছে, আর এই প্রযুক্তি সবচেয়ে বেশি নিয়েছে সবচেয়ে ছোট বা সবচেয়ে বড় নয়, মাঝারি আকারের খামারগুলো। ২০২৬ সালের ২ জুন মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (ইআরএস) প্রকাশিত একটি চার্ট অব নোটে এ তথ্য জানানো হয়। ইআরএসের হিসাবে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৬ শতাংশ দুধ রোবটিক দোহন ব্যবস্থায় উৎপাদিত হয়েছে, ২০১৬ সালে যা ছিল ৪ শতাংশ। চার্টটি তৈরি করেন ইআরএসের অর্থনীতিবিদ জোনাথন ম্যাকফ্যাডেন।
রোবটিক দোহন কীভাবে কাজ করে
ইআরএস যে প্রযুক্তির কথা বলছে, তা বাক্সের মতো দেখতে বলে একে "বক্স" রোবট বলা হয়। এ ব্যবস্থায় প্রতিটি গাভি নিজে থেকেই একটি স্টলে ঢোকে, মানুষের হাত ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দোহন হয় এবং গাভিটি আবার পালে ফিরে যায়। উইকিপিডিয়ার বিবরণ অনুযায়ী, স্বয়ংক্রিয় দোহন ব্যবস্থা প্রথমে গাভির পরিচয় ট্যাগ পড়ে নেয়; গাভিটি খুব সম্প্রতি দোহন না হয়ে থাকলে রোবটের বাহু বাঁট পরিষ্কার করে, লেজারের সাহায্যে বাঁটের অবস্থান খুঁজে দোহনের কাপ লাগায়, দোহন শেষে বাঁটে জীবাণুনাশক স্প্রে করে। সুস্বাদু খাবারের টানে গাভি নিজেই আসে, তাই কখন দোহন হবে তা অনেকটা গাভিই ঠিক করে। এ ধরনের যন্ত্র বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে, আর এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি নেদারল্যান্ডস ও ডেনমার্কে।

খামারের আকারভেদে বদলে গেছে চিত্র
খামারের আকারভেদে রোবটিক দোহন গ্রহণের হারে বড় পার্থক্য আছে, আর সেই ধরনও বদলেছে। ইআরএস জানায়, ২০১৬ সালে অন্য অনেক কৃষিপ্রযুক্তির মতোই ছোট খামারের চেয়ে বড় খামারে রোবটিক দোহনের হার ধারাবাহিকভাবে বেশি ছিল। কিন্তু ২০২১ সালে সবচেয়ে বেশি গ্রহণ দেখা যায় মাঝারি খামারে: ১৫০ থেকে ৪৯৯ গাভির দুগ্ধখামারের ১৩ শতাংশ রোবটিক দোহন ব্যবহার করছিল।
সবচেয়ে ছোট খামারগুলো কেন পিছিয়ে, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছে ইআরএস। ৫০টির কম গাভির খামার বেতনভুক্ত শ্রমিকের চেয়ে পরিবারের অবৈতনিক শ্রমের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করে। ফলে রোবট বসালেও নগদ শ্রমব্যয় এতটা কমে না যে যন্ত্র কেনার মূলধনী খরচ পুষিয়ে যায়।

বড় ও অতি বড় খামারের বাধা ভিন্ন। রোবট যুক্ত করতে তাদের উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে হয়, যেমন এক বা একাধিক দোহন পার্লার রূপান্তর করা। তা ছাড়া প্রতি হান্ড্রেডওয়েট দুধে তাদের শ্রমব্যয় সাধারণত এমনিতেই কম, তাই রোবট থেকে শ্রম সাশ্রয়ের সুযোগ সামান্য। ইআরএসের এই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রোবট বসানোর হিসাব সবচেয়ে ভালো মেলে সেই খামারে, যেখানে দোহনের জন্য বেতন দিয়ে শ্রমিক রাখতে হয়, অথচ পার্লার ব্যবস্থায় শ্রমব্যয় এখনো খুব কমে আসেনি।

যে গবেষণা থেকে এই তথ্য
চার্টটি নেওয়া হয়েছে ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত ইআরএসের প্রতিবেদন "প্রিসিশন ডেইরি ফার্মিং, রোবটিক মিল্কিং, অ্যান্ড প্রফিটেবিলিটি ইন দ্য ইউনাইটেড স্টেটস" (ইকোনমিক রিসার্চ রিপোর্ট ৩৫৬) থেকে, যার লেখক জোনাথন ম্যাকফ্যাডেন ও জ্যাক র্যাফ। গবেষকেরা ইআরএস ও ইউএসডিএর জাতীয় কৃষি পরিসংখ্যান সেবার (এনএএসএস) কৃষি সম্পদ ব্যবস্থাপনা জরিপের (এআরএমএস) ২০০০, ২০০৫, ২০১০, ২০১৬ ও ২০২১ সালের দুগ্ধখামারের তথ্য বিশ্লেষণ করেন।
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, বক্স রোবটে দোহন করা খামারের দুগ্ধ খাতের নিট আয় রোবট না নেওয়া খামারের চেয়ে গড়ে ১৩ শতাংশ বেশি; রোবটিক দোহনের মুনাফা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এটিই প্রথম এমন হিসাব। রোবট ব্যবহারকারীরা তুলনামূলক তরুণ ও বেশি শিক্ষিত, তাদের খামার বড়, উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ ও নতুন গোয়ালঘর আছে। তাদের বেতনভুক্ত ও অবৈতনিক শ্রম এবং পশুচিকিৎসার খরচ কম, গাভিপ্রতি দুধ বেশি, আর তারা দিনে তিন বা তার বেশিবার দোহন করার সম্ভাবনা বেশি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে দুগ্ধখামারের সংখ্যা কমছে কিন্তু খামারের আকার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
ছবি: Ieneach fan 'e Esk / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ইউএসডিএ ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (চার্ট অব নোট, ২ জুন ২০২৬), ইউএসডিএ ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (ইকোনমিক রিসার্চ রিপোর্ট ৩৫৬ ও এর সারসংক্ষেপ, জানুয়ারি ২০২৬), উইকিপিডিয়া




মন্তব্য
(০)