ভোর ৪টায় ঘরের কাজ শুরু, সকাল ৬টা থেকে দুই ঘণ্টা অন্যের জমিতে মজুরি করে ২০০ রুপি, তারপর দুপুর ১টা পর্যন্ত নিজেদের জমিতে কাজ; প্রতিদিন ১০০ রুপি জমাতেন ডাকঘরের সঞ্চয় হিসাবে। মহারাষ্ট্রের ওয়ার্ধা জেলার পাচোদ গ্রামে পরিবারের ১২ একর জমি থাকলেও সেখানে কী চাষ হবে, সে সিদ্ধান্তে সুনীতা নেহারের (Sunita Nehare) কোনো ভূমিকা ছিল না। আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবসে তাঁর গল্প তুলে ধরেছে ডাউন টু আর্থ।
বিয়ের পর তিনি দেখেন, ১২ একরের মাত্র সাড়ে ৩ একরে চাষ হয়। ঢালু, বৃষ্টিনির্ভর জমিতে পানি দাঁড়াত না; বুনো শূকর, নীলগাই ও খরগোশ ফসল নষ্ট করত, আর বারবার খারাপ ফলনে হতাশ স্বামী মদে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। পারিবারিক এক সংকটের পর শ্বশুর তাঁকে জমির দায়িত্ব দেন। ২০১৮ সালে নয় সারি তুলা দিয়ে শুরু, ফলন পাঁচ কুইন্টাল। বপনের ধরন, জৈব সার ও সেচ নিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে ওই সাড়ে ৩ একরে উৎপাদন তুলেছেন ২৫ কুইন্টালে। ২০২৪ সালে রাজ্য সরকারের এক প্রকল্পের সহায়তায় কুয়া খুঁড়েছেন; সেচের ডিজেলে মৌসুমে খরচ হয় প্রায় ১২ হাজার রুপি।
নাবার্ডের সহায়তায় বেসরকারি সংস্থা ধর্মমিত্রের জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি আল বাঁধা, পুকুরের পলি দেওয়া, উঁচু বেড, মাটি পরীক্ষা, কেঁচো সার ও সবুজ সার শুরু করেন, তুলার সঙ্গে অড়হরের আন্তঃফসল করেন। জীবামৃতের মতো জৈব উপকরণ নিজেই বানান, বছরে ছয় ট্রলি গোবর সার দেন, আর ইউরিয়া এখন আর ব্যবহার করেন না বলে জানান। পতিত জমিতে জোয়ার, বাজরা, মুগ ও তিল চাষ শুরু করেছেন, ফসলচক্র মানেন, বন্য প্রাণী ঠেকাতে সৌরচালিত বেড়া দিয়েছেন, আর আলে লাগিয়েছেন আম, পেয়ারা, কাজু, কাঁঠাল ও লেবুগাছ।
তাঁর তুলার ফলন একরপ্রতি ১ থেকে দেড় কুইন্টাল থেকে বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ১৪ কুইন্টাল, সঙ্গে বাড়তি ২ দশমিক ৭৫ কুইন্টাল অড়হর। গত দু-তিন বছরে খামারের আয় ২ লাখ রুপি ছাড়িয়েছে; ঘরের খাবারের সাশ্রয় ও মুরগি বিক্রি মিলিয়ে মোট প্রায় আড়াই লাখ রুপি। গ্রামের প্রাণিসম্পদকর্মী ‘পশু সখী’ হিসেবেও মাসে প্রায় ৩ হাজার রুপি আয় করেন। তবু তিনি সতর্ক: বৃষ্টি অনিশ্চিত হয়ে উঠছে, দামের ওপর কৃষকের নিয়ন্ত্রণ নেই, তাই ছেলেকে শুধু কৃষির ওপর নির্ভর করাতে চান না।
ধর্মমিত্রের তারক কাটে (Tarak Kate) বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার, সম্পদের প্রাপ্যতা ও সঠিক পরামর্শ পেলে নারীরা নিজের ও পরিবারের জীবন বদলে দিতে পারেন। প্রতিবেদনটি লিখেছেন অনিকেত লিখার (Aniket Likhar)।
ছবি: ABHIJEET / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ




মন্তব্য
(০)