সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

মাগুরার সীমাখালি বাজার থেকে দেশের ৩০-৩৫টি জেলায় যায় কাঁঠাল

মাগুরার শালিখা উপজেলার সীমাখালি বাজার দেশের অন্যতম বড় কাঁঠালের পাইকারি বাজার, যেখান থেকে প্রতি মৌসুমে ৩০-৩৫টি জেলায় কাঁঠাল যায়। ২০২৬ সালে জেলায় ৭৫২ হেক্টরে কাঁঠাল চাষ হয় এবং ভালো ফলন ও দামে খুশি ছিলেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

মাগুরার সীমাখালি বাজার থেকে দেশের ৩০-৩৫টি জেলায় যায় কাঁঠাল
ফল

মাগুরার শালিখা উপজেলার সীমাখালি বাজারকে ঘিরে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বড় কাঁঠালের পাইকারি বাজার। জাগো নিউজ ২৪ ২০২৬ সালের ১৭ জুলাই জানায়, এখান থেকে প্রতি মৌসুমে দেশের ৩০ থেকে ৩৫টি জেলায় কাঁঠাল সরবরাহ করা হয়। সেবছর বাম্পার ফলন আর ভালো দাম পাওয়ায় খুশি ছিলেন জেলার কৃষক, বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল। গাছে ধরা ফলের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়; এর কাঁচা ফল তরকারিতে, পাকা কোয়া ফল হিসেবে, বীজ খাবারে এবং গাছের কাঠ আসবাব তৈরিতে কাজে লাগে।

সীমাখালি বাজারে গভীর রাত পর্যন্ত বেচাকেনা


মাগুরা জেলা খুলনা বিভাগের অন্তর্গত, আয়তন ১ হাজার ৩৯ দশমিক ১ বর্গকিলোমিটার; জেলার চারটি উপজেলার একটি শালিখা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী শালিখা উপজেলার জনসংখ্যা ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৬, আয়তন ২২৮ দশমিক ৬৫ বর্গকিলোমিটার, আর উপজেলাটি সাতটি ইউনিয়নে বিভক্ত।

এই উপজেলার সীমাখালি বাজার থেকে পাইকাররা কাঁঠাল কিনে দেশের নানা জেলায় পাঠান। কাঁঠাল ব্যবসায়ী আকরাম মোল্লা জাগো নিউজকে বলেন, ‘সীমাখালি বাজার থেকে কাঁঠাল কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাই। এখানে গভীর রাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলে। এই ব্যবসায় লাভও ভালো হয়।’

হাসেম নামের আরেক চাষি বলেন, ‘মাগুরার কাঁঠালের স্বাদ ও মান অনেক ভালো। এবার ফলনও খুব ভালো হয়েছে। কাঁঠাল চাষ করে ভালো লাভ করছি। এটি লাভজনক ফসল।’

মাগুরার শালিখা উপজেলার শাবলাট গ্রামের ফসলের মাঠ। ছবি: S.M.Anisur Rahman / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
মাগুরার শালিখা উপজেলার শাবলাট গ্রামের ফসলের মাঠ। ছবি: S.M.Anisur Rahman / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

জেলায় ৭৫২ হেক্টরে কাঁঠাল চাষ


মাগুরা জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মৌসুমে জেলায় ৭৫২ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল চাষ হয়। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩৩ হাজার ৭৯৪ মেট্রিক টন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬৭ কোটি টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) মাগুরার উপপরিচালক মো. তাইজুল ইসলাম জানান, সেবছর জেলায় কাঁঠালের ফলন ভালো হয়েছে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে রপ্তানির সুযোগ বাড়ানো গেলে কাঁঠাল দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।’

বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

রপ্তানির সম্ভাবনা, অপচয়ের চ্যালেঞ্জ


উপপরিচালকের রপ্তানির কথাটি এসেছিল এমন সময়ে, যখন কাঁঠাল রপ্তানি নিয়ে দেশে আলোচনা চলছিল। দৈনিক ইত্তেফাক ২০২৬ সালের ২৮ জুন জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া ১৭টি সমঝোতা স্মারকের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল রপ্তানির বিষয়টিও ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন কাঁঠালের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক, আর জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিবেদন অনুযায়ী বৈশ্বিক কাঁঠাল রপ্তানিতে বাংলাদেশের অংশ মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ।

একই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) ফল গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, দেশে প্রতি বছর আট থেকে ১০ লাখ টন কাঁঠাল উৎপাদন হয়, কিন্তু অভ্যন্তরীণ চাহিদা কম থাকা ও রপ্তানির সুযোগ না থাকায় এর ৪৫ শতাংশের বেশি নষ্ট হয়। ফল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে উৎপাদিত ফলের মধ্যে আম প্রথম, কলা দ্বিতীয় এবং কাঁঠাল তৃতীয়; বারি এ পর্যন্ত কাঁঠালের ছয়টি জাত উদ্ভাবন করেছে। বিশেষজ্ঞরা মান, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিংয়ে দেশের সক্ষমতার ঘাটতিকে রপ্তানির পথে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেছিলেন।

রাঙামাটির একটি নদীতীরে মৌসুমি ফলের ভাসমান বাজারে নৌকায় কাঁঠালসহ নানা ফল, ২০২৩ সালের জুন। ছবি: Azimronnie / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
রাঙামাটির একটি নদীতীরে মৌসুমি ফলের ভাসমান বাজারে নৌকায় কাঁঠালসহ নানা ফল, ২০২৩ সালের জুন। ছবি: Azimronnie / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দৈনিক ইত্তেফাক, দ্য ডেইলি স্টার, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (জনশুমারি ২০২২), উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)