সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

কলকাতার পার্ক সার্কাসে এবার বসেনি আল্লাহ ভরসা গরুর হাট

২০২৬ সালের ঈদুল আজহার আগে কলকাতার পার্ক সার্কাসের রাইফেল রেঞ্জ রোডের আল্লাহ ভরসা গরুর হাট বসেনি। জাগো নিউজ ২৪ জানায়, নতুন রাজ্য সরকারের কঠোর পশু জবাই নীতি ও লাইসেন্স-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে হাটটি বন্ধ ছিল।

কলকাতার পার্ক সার্কাসে এবার বসেনি আল্লাহ ভরসা গরুর হাট
লাইভস্টক

২০২৬ সালের ঈদুল আজহার কয়েক দিন আগে কলকাতার পার্ক সার্কাসের রাইফেল রেঞ্জ রোডে প্রতিবছর বসা 'আল্লাহ ভরসা' গরুর হাট এবার বসেনি। জাগো নিউজ ২৪-এর পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি ২০২৬ সালের ২৪ মে জানান, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন সরকারের কঠোর পশু জবাই নীতি এবং লাইসেন্স-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে হাটটি বন্ধ রয়েছে। যে জায়গায় প্রতিবছর গরু কেনাবেচা হতো, সেখানে এবার ঈদ উপলক্ষে জামা-কাপড়ের দোকান বসেছে।

ঈদুল আজহা মুসলিমদের দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসবের একটি। উৎসবকে সামনে রেখে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পশুর হাট বসেছিল। কিন্তু রাজ্যের অন্যতম বড় গরুর হাট হিসেবে পরিচিত পার্ক সার্কাসের হাটটি এবার বসেনি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। হাটের সম্পাদক শেখ সিকান্দারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। পশ্চিমবঙ্গে সেবার ২৭ ও ২৮ মে ঈদুল আজহা পালনের কথা ছিল বলে সে সময়ের সংবাদমাধ্যম ও আদালতের শুনানির বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।

পার্ক সার্কাসের হাট ও কলকাতার কোরবানির বাজার


পার্ক সার্কাস দক্ষিণ কলকাতার একটি এলাকা এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসংযোগস্থলগুলোর একটি। এর উত্তরে এন্টালি ও শিয়ালদহ, পশ্চিমে পার্ক স্ট্রিট ও চৌরঙ্গী, উত্তর-পূর্বে ট্যাংরা, পূর্বে তপসিয়া এবং দক্ষিণে বালিগঞ্জ। এলাকাটি পার্ক স্ট্রিট ও আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোডের সঙ্গে যুক্ত, আর এটি কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ-পূর্ব বিভাগের কড়েয়া থানার আওতায় পড়ে।

জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাইফেল রেঞ্জ রোডের আল্লাহ ভরসা হাটে মূলত দেশি গরুর দাপট দেখা যেত। প্রতিবছর এই হাটে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে গরু আসত, যার মধ্যে বিশাল আকারের গরুও থাকত। প্রতিবেদক লেখেন, ঈদুল আজহার আগে রাজ্যের পশু আইনের জটিলতায় কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী হাট বন্ধ হয়ে গেল।

একই সময়ে কলকাতার অন্য বাজারের চিত্রও বদলে যাচ্ছিল। ঢাকার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা ২০২৬ সালের ২১ মে জানায়, গরু কেনাবেচা কমে যাওয়ায় কলকাতার রাজাবাজারের মতো বড় হাটে ছাগল ও ভেড়া কেনার ভিড় বেড়েছে, কারণ মানুষ এগুলোকে 'নিরাপদ বিকল্প' হিসেবে দেখছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিয়ম অনুযায়ী সব পশুরই স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা থাকলেও ছাগল বা ভেড়ার ক্ষেত্রে তা সচরাচর কার্যকর হয় না।

একই প্রতিবেদনে ক্যালকাটা বিফ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের বরাত দিয়ে বলা হয়, ট্যাংরার সরকারি কসাইখানা তখন দুই দিন ধরে বন্ধ ছিল এবং কেবল কলকাতা চিড়িয়াখানার প্রাণীদের খাবারের জন্য প্রতিদিন দুটি মহিষ জবাই করা হচ্ছিল। অ্যাসোসিয়েশনের এক সদস্য জানান, কসাইখানা কেন বন্ধ, সে বিষয়ে তাঁদের আগাম কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক দিনের ব্যবধানে কলকাতায় গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ২৮০ রুপি থেকে বেড়ে ৬০০ রুপিতে দাঁড়ায়। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য মূকনায়ক ১৯ মে জানায়, মাংসের ঘাটতির কারণে কলকাতার নিজামস রেস্তোরাঁয় গরুর মাংসের পদ বন্ধ করা হয়েছে।

১৩ মে-র বিজ্ঞপ্তিতে যা বলা হয়েছিল


২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৬টিতে জয় পায় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এর মধ্য দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। প্রথম আলোর ২০ মে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার ৯ মে শপথ নেয় এবং এর চার দিন পর, ১৩ মে, পশু জবাই নিয়ে একটি জনবিজ্ঞপ্তি জারি করে।

ঢাকা ট্রিবিউন টাইমস অব ইন্ডিয়ার বরাতে ১৪ মে জানায়, বিজ্ঞপ্তিতে ১৯৫০ সালের পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন এবং কলকাতা হাইকোর্টের ২০১৮ সালের একটি আদেশের উল্লেখ করা হয়। সরকারের ভাষ্য ছিল, এটি নতুন কোনো আইন নয়, বিদ্যমান আইন ও আদালতের নির্দেশনার প্রয়োগ। বিজ্ঞপ্তির মূল শর্তগুলো ছিল এরকম:

  • ষাঁড়, বলদ, গাভি, বাছুর এবং পুরুষ ও স্ত্রী মহিষ জবাইয়ের আগে পশুটি 'জবাইয়ের উপযুক্ত' বলে সনদ নিতে হবে।
  • সনদ যৌথভাবে দেবেন সংশ্লিষ্ট পৌরসভার চেয়ারপারসন বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং একজন সরকারি পশু চিকিৎসক।
  • সনদ পাওয়া যাবে কেবল তখনই, যখন পশুটির বয়স ১৪ বছরের বেশি এবং সেটি কাজ বা প্রজননের অনুপযুক্ত, অথবা বয়স, আঘাত, বিকৃতি বা দুরারোগ্য রোগের কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম।
  • সনদ না দিলে আবেদনকারী ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আপিল করতে পারবেন।
  • জবাই করা যাবে কেবল পৌরসভার কসাইখানায় বা স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত স্থানে; প্রকাশ্য খোলা জায়গায় জবাই নিষিদ্ধ।
  • নিয়ম ভাঙলে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, এক হাজার রুপি পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম স্ক্রল ১৪ মে দ্য টেলিগ্রাফের বরাত দিয়ে জানায়, নতুন নির্দেশিকায় ধর্মীয়, ঔষধি ও গবেষণার কাজে আগে যে ছাড়ের সুযোগ ছিল, তা রাখা হয়নি। ২০ মে স্ক্রলের আরেক প্রতিবেদনেও বলা হয়, বিজ্ঞপ্তিতে এসব কাজে কোনো ছাড়ের কথা নেই। বিজ্ঞপ্তি জারির সময় ঈদের বাকি ছিল প্রায় দুই সপ্তাহ।

১৯৫০ সালের আইনে কী আছে


পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর হয় ১৯৫০ সালে। আইনের তফসিলে যেসব পশুর কথা আছে, আইনটি কেবল সেগুলোর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য: ষাঁড়, বলদ, গাভি, বাছুর, পুরুষ ও স্ত্রী মহিষ, মহিষের বাছুর এবং খাসি করা মহিষ। ছাগল, ভেড়া বা উট এই তফসিলে নেই।

আইন অনুযায়ী, জবাইয়ের সনদ যৌথভাবে দেন পৌরসভা বা পঞ্চায়েত সমিতির প্রধান এবং পশু চিকিৎসক। দুজনের মধ্যে মতভেদ হলে জেলা বা ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের ভেটেরিনারি অফিসার সিদ্ধান্ত দেন। সনদ দেওয়া হলেও পশু জবাই করা যায় কেবল নির্ধারিত স্থানে। আইনে কর্মকর্তাদের সন্দেহজনক স্থানে প্রবেশ ও পরিদর্শনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, অপরাধগুলোকে আমলযোগ্য করা হয়েছে এবং অপরাধে সহায়তা বা চেষ্টার জন্যও একই শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

আইনের ১২ নম্বর ধারায় রাজ্য সরকারকে সাধারণ বা বিশেষ আদেশে, প্রয়োজনীয় শর্ত সাপেক্ষে, ধর্মীয়, ঔষধি বা গবেষণার উদ্দেশ্যে কোনো পশুর জবাইকে আইনের আওতার বাইরে রাখার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসের বিতর্কের বড় অংশই ছিল এই ধারা ঘিরে।

আইনটির উদ্দেশ্য কী, তা ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ১৯৯৪ সালের এক রায়ে ব্যাখ্যা করেছে। আদালতের ভাষায়, আইনের উদ্দেশ্য দুধের সরবরাহ বাড়ানো এবং কৃষির উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় পশুশক্তির অপচয় রোধ করা। এ কারণে জবাইয়ের অনুপযুক্ত সুস্থ গাভি ও তফসিলভুক্ত অন্য পশু জবাইয়ের ওপর আইনে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে আদালত মত দেয়।

পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুরের কদমতি গ্রামে বলদ দিয়ে জমি চাষ করছেন এক কৃষক (২০১০)। ছবি: ILRI / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুরের কদমতি গ্রামে বলদ দিয়ে জমি চাষ করছেন এক কৃষক (২০১০)। ছবি: ILRI / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)

সুপ্রিম কোর্টের পুরোনো দুই রায়


পশ্চিমবঙ্গে ঈদের সময় গরু জবাই নিয়ে আইনি প্রশ্ন নতুন নয়। ১৯৯৪ সালের ১৬ নভেম্বর বিচারপতি কুলদীপ সিং, বিচারপতি বি এল হনসারিয়া ও বিচারপতি এস বি মজুমদারের বেঞ্চ 'স্টেট অব ওয়েস্ট বেঙ্গল বনাম আশুতোষ লাহিড়ী' মামলায় রায় দেন। রায়ের বিবরণ অনুযায়ী, রাজ্য সরকার ১২ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে ঈদুল আজহার দিনে সুস্থ গরু জবাইয়ের ছাড় দিয়েছিল। এর বিরুদ্ধে ২৭ জন কলকাতা হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ১৯৮২ সালের ২০ আগস্ট রায় দেয়, ঈদের দিনে গরু জবাই ইসলামের অপরিহার্য বিধান নয়, তাই এমন ছাড় ১২ নম্বর ধারার আওতার বাইরে, এবং রাজ্যকে ভবিষ্যতে এমন ছাড় না দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

রাজ্য সরকার ও মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষের আপিলকারীরা সুপ্রিম কোর্টে যুক্তি দেন, ১২ নম্বর ধারায় 'যেকোনো ধর্মীয় উদ্দেশ্যের' কথা বলা হয়েছে, যা ঐচ্ছিক উদ্দেশ্যও হতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট আপিল খারিজ করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। রায়ে বলা হয়, ছাড় দিতে হলে দেখাতে হবে যে ধর্মীয় কারণে সুস্থ গরু কোরবানি অপরিহার্য; আর ঈদুল আজহায় সুস্থ গরু কোরবানি মুসলিমদের জন্য অপরিহার্য ধর্মীয় বিধান নয়, তাই এ উদ্দেশ্যে ১২ নম্বর ধারা প্রয়োগ করা যায় না।

এই রায় অনুসরণ করেছিল ১৯৫৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চের দেওয়া 'মোহাম্মদ হানিফ কুরেশি বনাম বিহার রাজ্য' মামলার রায়। ১৯৯৪ সালের রায়ে উদ্ধৃত অংশ অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি এস আর দাশ ফিকহের গ্রন্থ হেদায়ার অনুবাদ উল্লেখ করে বলেছিলেন, একজনের পক্ষে একটি ছাগল এবং সাতজনের পক্ষে একটি গরু বা উট কোরবানি দেওয়া যায়; তাই গরু কোরবানি ঐচ্ছিক, বাধ্যতামূলক নয়। সেই রায়ে এ যুক্তিও নথিভুক্ত হয়েছিল যে ছয়জন সদস্যের পরিবারসহ একজন মানুষ একটি গরু কোরবানির খরচ বহন করতে পারলেও সাতটি ছাগলের খরচ বহন করতে না-ও পারেন; আদালত একে অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা হিসেবে উল্লেখ করেছিল।

হাইকোর্টে মামলা ও ২১ মে-র আদেশ


১৩ মে-র বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক আবেদন হয়। আবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক আখরুজ্জামান, তৃণমূলের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র, কয়েকটি মুসলিম সংগঠন ও পশু ব্যবসায়ী। স্ক্রল ২০ মে জানায়, সিপিআই (এমএল) লিবারেশনও আগের দিন একটি আবেদন করে বিজ্ঞপ্তিকে মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পশু ব্যবসায়ীদের জীবিকার ওপর 'আঘাত' বলে বর্ণনা করে।

ভারতের আইনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম লাইভ ল-র ২১ মে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুনানিতে মহুয়া মৈত্রের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাদান ফরাসাত যুক্তি দেন, আইনের ৪ নম্বর ধারা কেবল ১৪ বছরের বেশি বয়সী পশু জবাইয়ের অনুমতি দেয়, অথচ কোরবানির জন্য সুস্থ পশু প্রয়োজন। তিনি বলেন, সাতজনের অংশে একটি বড় পশুর বদলে সাতটি ছোট পশু কেনার সামর্থ্য অনেক পরিবারের নেই, এবং ঈদের জন্য ১২ নম্বর ধারায় ছাড় চান।

আরেক আবেদনকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য যুক্তি দেন, কৃষি যখন গৃহপালিত পশুর ওপর নির্ভরশীল ছিল তখন আইনটি করা হয়েছিল, প্রযুক্তির কারণে সেই উদ্দেশ্য এখন অচল। তিনি আরও বলেন, পশুর বয়স নির্ধারণের ব্যবহারিক ব্যবস্থা নেই, পশুপ্রতি এক রুপি ফির বিধান সেকেলে, আর ২৮ মে-র ঈদের জন্য ১৩ মে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ায় ১৫ দিনের আপিলের সময়ও থাকে না।

রাজ্যের পক্ষে বলা হয়, বিজ্ঞপ্তি হাইকোর্টের নির্দেশনারই বাস্তবায়ন, এটি সারা রাজ্যে সমানভাবে প্রযোজ্য এবং ব্যাপক প্রচার করা হয়েছে। লাইভ ল-র বিবরণ অনুযায়ী, রাজ্য আদালতকে জানায়, তখন পর্যন্ত সনদের জন্য কোনো আবেদন জমা পড়েনি; নির্ধারিত কর্মকর্তা থাকলেও নির্ধারিত কসাইখানা তখনো প্রস্তুত ছিল না। কেন্দ্রের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী বলেন, বিজ্ঞপ্তি ২০১৮ সালের একটি অপ্রতিদ্বন্দ্বিত আদেশ অনুসরণ করেছে এবং ঈদে পশু কোরবানি ঐচ্ছিক ধর্মীয় আচার। তিনি দাবি করেন, ২০১৯ সালের পর থেকে বাংলাদেশে গবাদিপশু পাচারের কারণে রাজ্যে পশুর সংখ্যা কমেছে।

২১ মে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ বিজ্ঞপ্তি স্থগিত করতে অস্বীকৃতি জানায়। লাইভ ল জানায়, আদালতের মতে বিজ্ঞপ্তিটি ২০১৮ সালের রাজ্যশ্রী চৌধুরী বনাম পশ্চিমবঙ্গ মামলার (ডব্লিউপি ৩২৮/২০১৮) আদেশ বাস্তবায়ন করেছে, যা কেউ চ্যালেঞ্জ করেনি এবং চূড়ান্ত হয়ে গেছে। আদালত রাজ্যকে নির্দেশ দেয়:

  • বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে যুক্ত করতে হবে যে গরু ও মহিষসহ যেকোনো পশু প্রকাশ্য খোলা জায়গায় জবাই কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
  • হানিফ কুরেশি মামলার রায় অনুসারে বিজ্ঞপ্তিতে যুক্ত করতে হবে যে গরু কোরবানি ঈদুল আজহার অংশ নয় এবং ইসলামে এটি ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নয়।
  • আসন্ন ঈদের জন্য ১২ নম্বর ধারায় ছাড়ের আবেদনগুলোর বিষয়ে রাজ্যকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আইনের ৪, ৬, ৭, ৮ ও ১১ নম্বর ধারার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, সে বিষয়ে আদালত অন্তর্বর্তী কোনো আদেশ দেয়নি; ৭৬ বছরের বেশি পুরোনো আইনের ক্ষেত্রে সাংবিধানিকতার অনুমান প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করে। স্ক্রল ২২ মে জানায়, সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা ও জবাইয়ের উপযুক্ত অবকাঠামো আছে কি না, তা নিশ্চিত করতেও আদালত রাজ্যকে বলেছিল।

কলকাতা হাইকোর্ট ভবন, ২০১১ সালে তোলা। ছবি: Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
কলকাতা হাইকোর্ট ভবন, ২০১১ সালে তোলা। ছবি: Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

ফাঁকা হাট, বিপাকে খামারি ও ব্যবসায়ী


পার্ক সার্কাসের হাট বন্ধ হওয়ার খবরের আগের দিনগুলোতে রাজ্যের গ্রামাঞ্চলের হাটগুলোর অবস্থাও সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলার ২১ মে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের পোলেরহাট গরুর হাটে সাধারণ সময়ে দিনে প্রায় ২ হাজার গরু কেনাবেচা হতো, কিন্তু ঈদের আগের সেই সময়ে বিশাল হাটে মাত্র ২০ থেকে ২৫টি গরু দেখা যাচ্ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, গরুর সঠিক বয়স নির্ধারণ ও সনদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকা এবং আইন ভাঙার পরিণতির আশঙ্কায় হাটগুলো প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছিল।

একই প্রতিবেদনে ভাঙড়ের ঘোষপাড়ার এক খামারি জানান, স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে ৪ শতাংশ সুদে ৫ লাখ রুপি ঋণ নিয়ে তিনি ১০টি গরুর মধ্যে ৯টি বিক্রি করে ঋণ শোধের আশা করছিলেন; প্রতিটি গরুর খাবারে তখন দিনে ৫০০ রুপি খরচ হচ্ছিল। একই এলাকার আরেক খামারির ২২টি গরু ছিল, যার ১৫টি তিনি বিক্রি করতে চেয়েছিলেন; তিনি ৫ শতাংশ সুদে ৭ লাখ রুপি ঋণ নিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য, দুধ কমে যাওয়া বা বাচ্চা দিতে না পারা গরু এই সময়ে বিক্রি করা তাঁদের পারিবারিক রীতি, আর ঈদের মৌসুমে ৭০ থেকে ৮০ হাজার রুপিতে কেনা গরু অন্তত ১ লাখ রুপিতে বিক্রি হতো। বসিরহাট থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পাঁচটি গরু নিয়ে আসা এক বিক্রেতা জানান, গরুপ্রতি ৪০ হাজার রুপি আশা করলেও তিনি মাত্র ১৫ হাজার রুপির প্রস্তাব পেয়েছেন।

দ্য মূকনায়ক ১৯ মে জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ও ব্যবসায়ীদের অনেকে ঘোষ ও গোয়ালা সম্প্রদায়ের, যাঁরা প্রথাগতভাবে গবাদিপশু পালন ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত; অনেকে ঈদের মৌসুমের চাহিদার আশায় লাখ লাখ রুপি ঋণ করে পশু লালন-পালন করেছিলেন। প্রথম আলো ২০ মে উত্তর ২৪ পরগনার বিজেপি নেতা ইউনুস আলীর বক্তব্য তুলে ধরে। তাঁর ব্যাখ্যায়, পশ্চিমবঙ্গে গরু পালন করেন মূলত হিন্দু গোপালক ঘোষেরা, দুধ বিক্রি করে তাঁরা আয় করেন এবং একসময় গরু বিক্রি করে দেন, আর সেই গরু কেনেন মুসলিমরা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, 'বিষয়টা কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি করেছে। তবে আশা করছি, ঈদুল আজহার আগেই দল এটা সামলে নেবে।' প্রথম আলোর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গোপালক পরিবারের নারীরা জানান, বছরের এই সময়ে গরু বিক্রির আয় দিয়ে তাঁরা সাধারণত কৃষিঋণ ও ক্ষুদ্রঋণ সংস্থার ধার শোধ করেন।

সুন্দরবন অঞ্চলের গাঙ্গেয় বদ্বীপের একটি দ্বীপে গোয়ালঘর, ভারত (২০১০)। ছবি: Arne Hückelheim / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সুন্দরবন অঞ্চলের গাঙ্গেয় বদ্বীপের একটি দ্বীপে গোয়ালঘর, ভারত (২০১০)। ছবি: Arne Hückelheim / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের বক্তব্য


দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা জানায়, ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) নেতা ও ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী ১৮ মে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে পঞ্চায়েত পর্যায়ে পশু চিকিৎসক নিয়োগের দাবি জানান, যাতে দ্রুত সনদ পাওয়া যায়। চিঠিতে তিনি ১২ নম্বর ধারায় ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ছাড় দেওয়ার রাজ্য সরকারের ক্ষমতার কথাও উল্লেখ করেন। এর আগে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে মুর্শিদাবাদের মতো মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকায় জেলা প্রশাসনকে নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করার পরামর্শ দেন, যাতে মানুষ সেখানে ধর্মীয় রীতি পালন করতে পারে।

অন্যদিকে বিজেপির রাজ্যসভা সদস্য রাহুল সিনহা একই প্রতিবেদনে বলেন, 'একটি বৃহত্তর মহৎ কাজের জন্য কিছু মানুষকে কিছুটা অস্বস্তি সহ্য করতে হয়।' তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘ ভাবনাচিন্তার পর বিদ্যমান একটি আইন যথাযথভাবে কার্যকর করা হয়েছে। তৃণমূলের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, বিধিনিষেধে গ্রামীণ অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ঘোষ ও দাস পরিবারের পাশাপাশি মুসলিমরাও এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, প্রথম আলো এ কথা জানায়।

কলকাতার নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ শফিক কাসমি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলাকে বলেন, আইন হঠাৎ চাপিয়ে দেওয়ার আগে সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে পরিকাঠামো গড়ে তোলা উচিত ছিল। তিনি বলেন, 'আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, সবাই আইন মেনে চলবে; কিন্তু সরকারকে জনগণের জীবন সহজ করার পথ খুঁজতে হবে।' একই প্রতিবেদনে তিনি বলেন, 'আমরা আইন মেনে চলা নাগরিক। আমরা গরু কোরবানি দেব না।' প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণ ১৯ মে জানায়, এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আইনটি ১৯৫০ সালে প্রণীত, বিজেপি এটি তৈরি করেনি; তিনি মুসলিমদের গবাদিপশু কোরবানি বন্ধের পাশাপাশি গরুর মাংস খাওয়াও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার আহ্বান জানান।

পশ্চিমবঙ্গের গবাদিপশু: শুমারির হিসাব


পশ্চিমবঙ্গ ভারতের সবচেয়ে বেশি গরুর রাজ্যগুলোর একটি। ভারতের প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ বিভাগের ২০তম প্রাণিসম্পদ শুমারির (২০১৮ সালের অক্টোবরে শুরু, ২০১৯ সালে প্রকাশিত) মূল ফলাফল অনুযায়ী, রাজ্যে গরুর সংখ্যা ২০১২ সালের ১ কোটি ৬৫ লাখ থেকে বেড়ে ২০১৯ সালে ১ কোটি ৯০ লাখে দাঁড়ায়, যা ১৫.১৮ শতাংশ বৃদ্ধি। গরুর সংখ্যায় পশ্চিমবঙ্গ তখন রাজ্যগুলোর তালিকায় প্রথম, উত্তর প্রদেশ (১ কোটি ৮৮ লাখ) ও মধ্যপ্রদেশের (১ কোটি ৮৭ লাখ) আগে।

একই শুমারিতে পশ্চিমবঙ্গে মোট প্রাণিসম্পদের সংখ্যা ৩ কোটি ৩০ লাখ থেকে বেড়ে ৩ কোটি ৭৪ লাখ হয় (২৩.৩২ শতাংশ বৃদ্ধি), যা রাজ্যগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ হারের বৃদ্ধি। ছাগলের সংখ্যা ১ কোটি ১৫ লাখ থেকে বেড়ে ১ কোটি ৬৩ লাখ হয়; ছাগলের সংখ্যায় রাজস্থানের পরেই ছিল পশ্চিমবঙ্গ। মহিষের সংখ্যায় শীর্ষ দশ রাজ্যের তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ ছিল না।

সারা ভারতে ২০১৯ সালে গরু ছিল ১৯ কোটি ২৪ লাখ ৯০ হাজার, মহিষ ১০ কোটি ৯৮ লাখ ৫০ হাজার এবং ছাগল ১৪ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার। শুমারি অনুযায়ী দেশে সংকর ও বিদেশি জাতের গরু ২৬.৯ শতাংশ বাড়লেও দেশি জাতের গরু ৬ শতাংশ কমেছিল। পার্ক সার্কাসের হাটে যে দেশি গরুর প্রাধান্যের কথা জাগো নিউজ লিখেছে, সেই দেশি জাতের গরুই জাতীয় পর্যায়ে কমছিল।

ঈদুল আজহা ও কোরবানির বিধান


বাংলাপিডিয়ার বিবরণ অনুযায়ী, ঈদুল আজহা মুসলিমদের দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসবের একটি; বাংলাদেশে এটি কোরবানির ঈদ বা বকরা ঈদ নামেও পরিচিত। আরবি 'ঈদ' অর্থ উৎসব এবং 'আজহা' অর্থ কোরবানি। উৎসবটি হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগের স্মরণে পালিত হয়, যিনি আল্লাহর নির্দেশে প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি দিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন।

ঈদুল আজহা পালিত হয় জিলহজ মাসের ১০ তারিখে। ঈদের নামাজের পর থেকে কোরবানি শুরু হয় এবং পরের দুই বা তিন দিন পর্যন্ত তা দেওয়া যায়। কোরবানির পশুর নির্দিষ্ট বয়স থাকতে হয় এবং পশুটি অন্ধ, ভাঙা পা বা শিংযুক্ত কিংবা কান কাটা হতে পারবে না। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, একটি উট, গরু বা মহিষ সাতজনের নামে কোরবানি দেওয়া যায়, আর একটি ভেড়া বা ছাগল একজনের নামে। কোরবানির মাংসের এক-তৃতীয়াংশ নিজের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ আত্মীয়দের জন্য এবং বাকি অংশ গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

এই বিধানের কারণেই উপমহাদেশে বড় পশু, বিশেষ করে গরু, কোরবানির হাটের প্রধান আকর্ষণ। কলকাতা হাইকোর্টের শুনানিতেও এই সাতজনের অংশের প্রসঙ্গ উঠেছিল, যখন আবেদনকারীদের আইনজীবী বলেছিলেন, একটি বড় পশুর বদলে সাতটি ছোট পশু কেনার সামর্থ্য অনেক পরিবারের নেই।

বাংলাদেশে ঈদুল আজহার আগে বসা একটি কোরবানির পশুর হাট (২০২৫)। ছবি: Md Sallim Mondal Rajon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশে ঈদুল আজহার আগে বসা একটি কোরবানির পশুর হাট (২০২৫)। ছবি: Md Sallim Mondal Rajon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ছবি: Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা, প্রথম আলো, ঢাকা ট্রিবিউন, লাইভ ল, স্ক্রল, দ্য মূকনায়ক, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট (স্টেট অব ওয়েস্ট বেঙ্গল বনাম আশুতোষ লাহিড়ী, ১৯৯৪), পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৫০, ভারতের প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ বিভাগ (২০তম প্রাণিসম্পদ শুমারি), বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

সৌরপ্যানেলের নিচে ভেড়া চরালে বাড়ে মৌমাছি, তবে সংখ্যা রাখতে হবে কম

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, সৌরখামারে হেক্টরপ্রতি দুটি ভেড়া চরালে ঘাস কাটার তুলনায় উপকারী পোকা ৩৮ শতাংশ বাড়ে। খামারিদের জন্য ভেড়ার পাল পরিকল্পনার একটি সহায়ক টুলও তৈরি করেছেন গবেষকেরা।

Farms.com১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

প্রোটিনের চাহিদায় বদলে গেল কানাডার দুধের বাজার, মাখনের উদ্বৃত্ত শেষ

দুগ্ধজাত প্রোটিনের চাহিদা বাড়ায় পাঁচ বছরের মধ্যে কানাডার দুধের বাজারে মাখনচর্বির কাঠামোগত উদ্বৃত্ত মিটে গেছে, দুধের দাম নির্ধারণেও এসেছে পরিবর্তন।

Manitoba Co-operator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

সিকি হেক্টরে ওটের বীজ চাষ, ইথিওপিয়ার এক কৃষকের পারিবারিক ব্যবসা

ইথিওপিয়ার এক ক্ষুদ্র কৃষক মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ হেক্টর জমিতে বীজের জন্য ওট চাষ করে প্রথম ফসল ৪৫ হাজার বির্রে বিক্রি করেন এবং পরের বছর চাষ বাড়ান। আইএলআরআইয়ের পশুখাদ্যের বীজকে ব্যবসায় রূপ দেওয়ার উদ্যোগের অংশ এটি।

ILRI১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)