ভারতের কেরালার ভিঝিঞ্জামে খোলা সাগরে লংলাইন বা দড়িতে ঝুলিয়ে সবুজ ঝিনুক (মাসেল) চাষের বৈজ্ঞানিক নকশার একটি ইউনিট চালু করেছে আইসিএআর-কেন্দ্রীয় সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (সিএমএফআরআই) ভিঝিঞ্জাম আঞ্চলিক কেন্দ্র, জানিয়েছে আইসিএআর। টেকসই খোলসি প্রাণী চাষ আর উপকূলের জীবিকা জোরদারে এটি বড় পদক্ষেপ।
ইউনিটটি প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনার (পিএমএমএসওয়াই) অর্থায়নে ভারতে খোলা সাগরে পরীক্ষামূলক পরিবেশবান্ধব ঝিনুক খামার গড়ার প্রকল্পের অংশ। এতে আছে ৩০০ লিটারের ২০টি উচ্চ ঘনত্বের পলিইথিলিন ভাসমান পাত্র, প্রায় তিন মিটার দূরে দূরে, যেগুলো দুটি সমান্তরাল মূল দড়ি ধরে রাখে; তাতে ঝোলে তিন মিটারের ১২০টি চাষের দড়ি, মোট প্রায় ৩৬০ মিটার। দড়ির প্রতি মিটারে ৮-১২ কেজি ধরে ইউনিটটিতে প্রায় ৩ থেকে ৪ টন ঝিনুক হতে পারে।
প্রদর্শনী খামারটি কেরালার উপকূলীয় পরিবেশে খোলা সাগরে ঝিনুক চাষ কারিগরি ও অর্থনৈতিকভাবে কতটা সম্ভব এবং সামুদ্রিক চাষের ব্যবসা হিসেবে কতটা বাড়ানো যায়, তা যাচাই করবে। প্রকল্পের আওতায় ভিঝিঞ্জামে একটি বহুপ্রজাতির খোলসি প্রাণীর হ্যাচারিও গড়া হয়েছে, যা লাখ লাখ ঝিনুক, অয়েস্টার ও ক্ল্যামের বীজ উৎপাদন করতে পারে; এতে মৌসুমি বুনো বীজের ওপর নির্ভরতার বড় সমস্যা দূর হবে।
ইউনিটটির উদ্বোধন করেন থিরুবনন্তপুরমের সংসদ সদস্য শশী থারুর, উপস্থিত ছিলেন সিএমএফআরআইয়ের বিজ্ঞানী, স্থানীয় ঝিনুক আহরণকারীদের সংগঠন ভিঝিঞ্জাম মুঙ্গল থোঝিলালি ক্ষেম সঙ্গম আর জেলেরা। স্থানীয় আহরণকারীদের প্রথাগত জ্ঞানের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক চাষপদ্ধতি মেলাতে সংগঠনটির সঙ্গে মিলে প্রকল্প চলছে।
সিএমএফআরআই বলছে, দেশে চাহিদা বাড়া, ঝিনুকের খাবারে ভোক্তার আগ্রহ আর রপ্তানির সুযোগের কারণে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনায় ঝিনুক চাষে কর্মসংস্থান ও উপকূলের আয় বাড়ানোর বড় সম্ভাবনা আছে।
ছবি: Etan J. Tal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: আইসিএআর





মন্তব্য
(০)