২০২৬ সালের এপ্রিলে জাগো নিউজ ২৪ তাদের কৃষি ও প্রকৃতি বিভাগে একটি কলাম প্রকাশ করে, যার মূল যুক্তি ছিল: প্রযুক্তি মাঠে না পৌঁছালে বাংলাদেশ তার তরুণদের কৃষিতে ধরে রাখতে পারবে না। লেখক বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বিশ্বজুড়ে উৎপাদন, অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের কাঠামো দ্রুত বদলে দিচ্ছে, আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), সয়েল সেন্সর, ড্রোন প্রযুক্তি ও বিগডাটা বিশ্লেষণ কৃষিকে এই রূপান্তরের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। কলামের ভাষায়, উন্নত দেশগুলো এরই মধ্যে "স্মার্ট এগ্রিকালচার" বা "প্রিসিশন ফার্মিং"-এর মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে এসব প্রযুক্তির কার্যকর সমন্বয় ও প্রয়োগ এখনো সীমিত। ফলে কৃষিখাতে আগ্রহী যুবশক্তিকে এই খাতে ধরে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে বলে লেখক মনে করেন।
কলামের কেন্দ্রীয় দাবি ছিল, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির বিস্তার কেবল উৎপাদন বাড়ানোর জন্য নয়, বরং একটি টেকসই ও আকর্ষণীয় কৃষি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জন্যই অপরিহার্য। এই প্রতিবেদনে লেখকের যুক্তিগুলো তুলে ধরা হলো, এবং কলামটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত নথিভুক্ত সরকারি শ্রম পরিসংখ্যান, সরকারি কৃষিসেবা ও কৃষিপ্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণার তথ্য পাশাপাশি রাখা হলো।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও কৃষিখেত
"চতুর্থ শিল্প বিপ্লব" কথাটি দিয়ে একবিংশ শতাব্দীর দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, অর্থাৎ স্বয়ংক্রিয়করণ ও তথ্য বিনিময়ের দিকে ঝোঁককে বোঝানো হয়। জার্মান সরকারের জন্য তৈরি একটি উচ্চপ্রযুক্তি কৌশল থেকে ধারণাটির জন্ম; সেই "ইন্ডাস্ট্রি ৪.০" প্রকল্প শুরু হয় ২০১১ সালে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের তৎকালীন নির্বাহী চেয়ারম্যান ক্লাউস শোয়াব ২০১৫ সালে ফরেন অ্যাফেয়ার্স সাময়িকীতে একটি লেখার মাধ্যমে শব্দবন্ধটি বৃহত্তর পাঠকের কাছে পৌঁছে দেন। ২০১৬ সালে দাভোসে ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল "চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে দক্ষতা অর্জন" (Mastering the Fourth Industrial Revolution), তখন থেকেই এটি ব্যাপক পরিচিতি পায়। এর আওতায় সাধারণত যেসব প্রযুক্তিকে ধরা হয়, তার মধ্যে আছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, ইন্টারনেট অব থিংস, ক্লাউড কম্পিউটিং, জৈবপ্রযুক্তি, জিন সম্পাদনা এবং পঞ্চম প্রজন্মের (ফাইভজি) তারবিহীন নেটওয়ার্ক।
কৃষিতে এসব প্রযুক্তি একত্র হয় "প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার" বা নির্ভুল কৃষি নামে। এটি এমন এক ব্যবস্থাপনা কৌশল, যেখানে জমি, প্রতিটি গাছ ও প্রাণীর তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাত ও বিশ্লেষণ করে ঠিক করা হয় কোথায়, কখন ও কতটা বীজ, পানি, সার বা বালাইনাশক দিতে হবে। ধারণাটি দানা বাঁধে ১৯৮০-র দশকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯৮৫ সালে মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা একই জমির বিভিন্ন অংশে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় চুন প্রয়োগ করেন, আর ১৯৮০-র দশকের শেষ দিকে গ্রিড পদ্ধতিতে মাটির নমুনা সংগ্রহ থেকে প্রথম সার ও পিএইচ সুপারিশের মানচিত্র তৈরি হয়। পরে ফলন-সেন্সর ও স্যাটেলাইটভিত্তিক অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থা (জিপিএস) এই চর্চাকে আরও বিস্তৃত করে। নির্ভুল কৃষি উপকরণ ও জ্বালানির ব্যবহার কমাতে পারে এবং জলাশয়ে রাসায়নিক গড়িয়ে পড়া সীমিত রাখে; গবেষণায় বর্ণিত একটি পদ্ধতি, স্পেকট্রোস্কোপি ও ভূমি স্ক্যানিংয়ের সাহায্যে নির্দিষ্ট জায়গায় জৈবসার প্রয়োগ, সারের ব্যবহার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে।
তবে এই প্রযুক্তির গ্রহণ সব দেশে সমান হয়নি। এ বিষয়ের পর্যালোচনাগুলো বলছে, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা মূলত ধনী দেশগুলোতে কেন্দ্রীভূত; ফ্রান্সেও দশজনে একজনের কম কৃষক পরিবর্তনশীল মাত্রায় উপকরণ প্রয়োগের যন্ত্র ব্যবহার করতেন, আর চীনে ছোট পারিবারিক খামারের কারণে প্রযুক্তি গ্রহণের গতি ধীর। পর্যালোচনাগুলো ডিজিটাল বৈষম্য নিয়েও সতর্ক করে: কোনো প্রযুক্তি ব্যবহারে বিশেষ দক্ষতা লাগলে তার সুফল আগে পান সেই কৃষকেরা, যাঁরা ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ এবং যাঁদের সামর্থ্য আছে। জাগো নিউজের কলামে বাংলাদেশের জন্য ঠিক এই ফাঁকটির কথাই বলা হয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: ফসলের রোগ শনাক্ত ও ফলনের পূর্বাভাস
কলাম অনুযায়ী, কৃষিতে এআই প্রযুক্তির মূল ভূমিকা ফসলের রোগ ও পোকামাকড় শনাক্তকরণ, ফলনের পূর্বাভাস, আবহাওয়া বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তায়। লেখক উদাহরণ দেন, ছবি বিশ্লেষণ করে খুব দ্রুত কোনো ফসলের রোগ শনাক্ত করা যায়, যা কৃষককে তাৎক্ষণিক প্রতিকার নিতে সাহায্য করে। একইভাবে এআই ও আইওটি-ভিত্তিক মডেল মাটির গুণাগুণ, আবহাওয়া এবং আগের উৎপাদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ফলনের পূর্বাভাস দিতে পারে। লেখকের যুক্তি, এসব প্রযুক্তি কৃষিকে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও বেশি লাভজনক করে, ফলে তরুণদের কাছে কৃষিকে একটি আধুনিক ও সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তুলে ধরা যায়; কিন্তু প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে না পৌঁছালে কৃষি একটি অনিশ্চিত ও কম লাভজনক পেশা হিসেবেই থেকে যাবে।
এ ধরনের প্রযুক্তি অন্যত্র তখন ব্যবহৃতও হচ্ছিল। প্ল্যান্টিক্সের মতো কৃষি পরামর্শ অ্যাপ ছবি দেখে দ্রুত ও কম খরচে ফসলের রোগ শনাক্ত করে দেয়। মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে ড্রোন, রোবট ও মাঠের সেন্সরের তথ্য একসঙ্গে মিলিয়ে নির্ভুলভাবে সার বা পানি দেওয়া হয়, কিংবা মাটিতে গাছের জন্য কতটা নাইট্রোজেন সহজলভ্য আছে তার হিসাব করা হয়। ডিজিটাল প্রযুক্তি খামারের বাইরেও কাজ করে: মোবাইল ফোন, অনলাইন তথ্যসেবা, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল লেনদেন দামের তথ্যের ঘাটতি কমাতে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল জুড়ে বেচাকেনার খরচ কমাতে পারে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), টেকনিক্যাল সেন্টার ফর অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল কো-অপারেশন (সিটিএ) এবং আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) ২০১৪ সালের প্রতিবেদন "ইয়ুথ অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার: কি চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড কংক্রিট সলিউশনস" তরুণদের সঙ্গে এই সম্পর্কটি সরাসরি তুলে ধরে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বয়স্ক কৃষকদের নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের সম্ভাবনা কম, তাই উৎপাদনশীলতা টেকসইভাবে বাড়াতে হলে তরুণদের আবার কৃষিতে যুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
সয়েল সেন্সর, ইন্টারনেট অব থিংস ও স্মার্ট সেচ
ইন্টারনেট অব থিংস মানে সাধারণ যন্ত্রগুলোকে একটি নেটওয়ার্কে যুক্ত করা, যাতে সেগুলো তথ্য সংগ্রহ ও আদান-প্রদান করতে পারে। খামারে আইওটি সেন্সর তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা, বাতাসের গতি, পোকার আক্রমণ ও মাটির উপাদানের তথ্য রেকর্ড করে। ফলে কৃষক দূর থেকেই মাটির তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা দেখতে পারেন এবং সেই তথ্য নির্ভুল সার প্রয়োগের কর্মসূচিতে কাজে লাগাতে পারেন। নতুন ধরনের মাটির ভেতরের সেন্সর কাউকে মাঠে না গিয়েই তারবিহীনভাবে তথ্য পাঠাতে পারে।
কলামে বলা হয়, আইওটি প্রযুক্তির মাধ্যমে মাটির আর্দ্রতা, পিএইচ, নাইট্রোজেন-ফসফরাস-পটাশিয়াম (এনপিকে), তাপমাত্রা ও লবণাক্ততা রিয়েল-টাইমে মাপা যায়, আর সয়েল সেন্সর থেকে সংগৃহীত তথ্য সরাসরি কোনো সফটওয়্যার বা মোবাইল অ্যাপে দেখা যায়, যা কৃষককে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। স্মার্ট সেচ ব্যবস্থা এই তথ্যের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেচ দিতে পারে, এতে পানির অপচয় কমে এবং উৎপাদন খরচও কমে। লেখকের মতে, বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে সেচের খরচ একটি বড় সমস্যা, এই প্রযুক্তি ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে। তরুণ প্রজন্ম প্রযুক্তির সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, তাই আইওটি-ভিত্তিক কৃষি তাদের কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে; কিন্তু যন্ত্রের সহজলভ্যতা ও প্রশিক্ষণ না থাকলে তারা কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে বলে কলামে সতর্ক করা হয়।
পানি সাশ্রয়ী ধান সেচে বাংলাদেশের নিজস্ব অভিজ্ঞতা দেখায়, ইলেকট্রনিক যন্ত্র যোগ হওয়ার আগেও মেপে পানি দেওয়ার সুফল কতটা। পর্যায়ক্রমে ভেজানো ও শুকানো (অল্টারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং বা এডব্লিউডি) হলো নিচু জমির ধানে নিয়ন্ত্রিত ও বিরতিসহ সেচের একটি পদ্ধতি: সারা মৌসুম জমিতে পানি দাঁড় করিয়ে না রেখে কৃষক কয়েক দিন জমি শুকাতে দেন, তারপর আবার সেচ দেন। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) বাংলাদেশ, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামে জাতীয় গবেষণা ও সম্প্রসারণ সংস্থার মাধ্যমে এই পদ্ধতি প্রচার করেছে। কৃষক প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার লম্বা ছিদ্রযুক্ত প্লাস্টিক বা বাঁশের নল মাটিতে বসিয়ে ভেতরের পানির স্তর লক্ষ করেন; পানি মাটির ১৫ সেন্টিমিটার নিচে নেমে গেলে আবার প্রায় ৫ সেন্টিমিটার গভীর করে সেচ দেওয়া হয়, আর ফুল আসার সময় জমিতে পানি রাখা হয়। গবেষণা অনুযায়ী, এডব্লিউডি ফলনের ক্ষতি না করে সেচের পানি প্রায় ৩৮ শতাংশ সাশ্রয় করতে পারে, পাম্প চালানো ও জ্বালানির খরচ কমায় এবং ধানখেত থেকে মিথেন নিঃসরণ কমায়। এর অসুবিধা হলো নাইট্রাস অক্সাইড নিঃসরণ বৃদ্ধি, আগাছা বেশি হওয়া এবং প্রশিক্ষণহীন কৃষকের ক্ষেত্রে ফলন কমে যাওয়া। একটি মাটির আর্দ্রতা সেন্সর এই নলের কাজটিই করে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ও অবিরাম।
মাটির জ্ঞানের জন্য বাংলাদেশে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানও আছে: কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই)। পাকিস্তানের মৃত্তিকা জরিপ প্রকল্প অধিদপ্তরের পূর্ব পাকিস্তান শাখা হিসেবে এর যাত্রা শুরু, আর ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমান রূপ পায়। দেশের কৃষির উন্নয়নে এটি মাটির গুণাগুণ নিয়ে গবেষণা ও জরিপ চালায়। কলামে বর্ণিত মাঠের সেন্সর এই জাতীয় মৃত্তিকা তথ্যভান্ডারে অবিরাম পাঠ যুক্ত করতে পারে।

ফসলের মাঠে ড্রোন
কলামে বলা হয়, কৃষিতে ড্রোন প্রযুক্তি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ড্রোন দিয়ে ফসল পর্যবেক্ষণ, সার ও কীটনাশক স্প্রে, জমির ম্যাপিং এবং ফসলের স্বাস্থ্য বিশ্লেষণ করা যায়, এতে সময় ও শ্রম দুই-ই বাঁচে। বড় জমিতে ড্রোন বিশেষভাবে কার্যকর, কারণ কম সময়ে সমানভাবে স্প্রে করা যায়, যা হাতে করা কঠিন; পাশাপাশি ড্রোনে তোলা ছবি ও তথ্য বিশ্লেষণ করে ফসলের সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা যায়। লেখক এখানে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ দেখেন, যেমন ড্রোন দিয়ে স্প্রে সেবা দেওয়া বা তথ্য বিশ্লেষণ; তবে এই খাতের জন্য প্রশিক্ষণ, নীতিমালা ও সহজ অর্থায়ন দরকার বলে উল্লেখ করেন।
কৃষি ড্রোন হলো চালকবিহীন আকাশযান, যা মূলত ফলন বাড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হয়: এটি ফসলের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করে, আকাশ থেকে বীজ বোনে এবং ফসল সুরক্ষায় কাজে লাগে, প্রায়ই বালাইনাশক ছিটানোর যন্ত্র বহন করে। মাল্টিস্পেকট্রাল ক্যামেরা দৃশ্যমান আলোর বাইরের তরঙ্গও ধারণ করে, ফলে গাছের এমন চাপ ধরা পড়ে যা খালি চোখে দেখা যায় না; সেই ছবি জোড়া দিয়ে ফসলের স্বাস্থ্যের মানচিত্র তৈরি করা যায়। ড্রোন তুলনামূলক কম দামি এবং নতুন চালকও তা ওড়াতে পারেন; শুধু প্রয়োজনের জায়গায় উপকরণ দিলে বালাইনাশকের পরিবেশগত প্রভাব কমাতেও এটি সহায়ক।
একই সূত্রগুলো এমন কিছু বাধার কথাও বলে, যেগুলোর জন্যই কলামে নীতিমালার দাবি তোলা হয়েছে। কেনা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচের কারণে উন্নয়নশীল দেশের অনেক ছোট খামারের পক্ষে ড্রোন কেনা কঠিন। নিয়মকানুনও দেশভেদে আলাদা: যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ২০১৬ সালের বাণিজ্যিক ড্রোন পরিচালনার বিধি অনুযায়ী চালককে জ্ঞান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ও ড্রোন নিবন্ধন করতে হয়; ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশে ড্রোন আইন আছে; আর কিছু দেশ ড্রোন ওড়ানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে। গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগের কারণেও ড্রোনের বিরোধিতা হয়েছে। লেখক যে তিনটি প্রয়োজনের কথা বলেছেন, অর্থাৎ প্রশিক্ষণ, স্পষ্ট লাইসেন্স ব্যবস্থা ও সহজ অর্থায়ন, সেগুলোই একটি ড্রোনকে প্রদর্শনী থেকে কৃষকের ভাড়া নেওয়ার মতো সেবায় রূপ দেয়।

বিগডাটা ও কৃষকের হাতের কাছে থাকা ডিজিটাল সেবা
কলামে বলা হয়, বিগডাটা আধুনিক কৃষির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আবহাওয়া, মাটির গুণাগুণ, বাজারদর, উৎপাদনের ইতিহাসের মতো বিভিন্ন উৎসের তথ্য বিশ্লেষণ করে কৃষি ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করা যায়: কোন এলাকায় কোন ফসল বেশি লাভজনক হবে, কখন বপন করলে ভালো ফলন মিলবে, এসব সিদ্ধান্ত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে নেওয়া সম্ভব। এতে কৃষক ঝুঁকি কমাতে ও আয় বাড়াতে পারেন। লেখকের মতে, যুবসমাজ তথ্যনির্ভর কাজে বেশি আগ্রহী, তাই বিগডাটা-ভিত্তিক কৃষি তাদের আকৃষ্ট করতে পারে; কিন্তু বাস্তবে সুযোগ তৈরি না হলে তারা অন্য খাতে চলে যাবে।
টেলিফোনে কৃষি পরামর্শের একটি সরকারি ব্যবস্থা বাংলাদেশে আগেই ছিল। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি তথ্য সার্ভিসের (এআইএস) কৃষি কল সেন্টার ঢাকার ফার্মগেটে খামারবাড়িতে স্থাপিত হয় ২০১১ সালের জুনে এআইএস ও প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশের মধ্যে সই হওয়া একটি প্রাথমিক চুক্তির আওতায়। ২০১২ সালের জুনে এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২০১৪ সালের ৪ জুন এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। কৃষকেরা ১৬১২৩ নম্বরে বিনা খরচে ফোন করে ফসল, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, পুষ্টি ও আবহাওয়া বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদদের পরামর্শ নিতে পারেন। এআইএস উল্লেখ করেছে, দেশের প্রায় ২ কোটি কৃষক ও উদ্যোক্তার কাছে মোবাইল ফোন কম খরচে তথ্য পৌঁছে দিতে পারে, আর ২০১৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে মোবাইল ফোন গ্রাহকের সংখ্যা ১১ কোটি ছাড়িয়েছিল। এআইএসের ডিজিটাল মাধ্যমের তালিকায় আছে ওয়েবসাইট, ইমেইল, এসএমএস, আইভিআর, ফোন-ইন অনুষ্ঠান, কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র (এআইসিসি), কমিউনিটি রেডিও ও মোবাইল অ্যাপ, সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের কৃষি সাময়িকী "কৃষিকথা"।
মাঠে কৃষকের সঙ্গে কাজের দায়িত্ব কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই)। ১৯৮২ সালে কৃষি পরিদপ্তর (সম্প্রসারণ ও ব্যবস্থাপনা), পাট পরিদপ্তর, উদ্ভিদ সংরক্ষণ পরিদপ্তর, হর্টিকালচার বোর্ড, তামাক উন্নয়ন বোর্ড এবং কেন্দ্রীয় সম্প্রসারণ সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট একীভূত করে অধিদপ্তরটি গঠিত হয়। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এটি কৃষকদের জন্য "প্রশিক্ষণ ও পরিদর্শন" কর্মসূচি চালায়, পরে দলভিত্তিক প্রশিক্ষণে যায়, আর ১৯৯৬ সাল থেকে নতুন কৃষি সম্প্রসারণ নীতির আওতায় এর কাজের পরিকল্পনা হয়। আগের ব্লক সুপারভাইজাররা এখন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা; এআইএস উল্লেখ করেছে, তাঁদের অনেকের হাতে মোবাইল ফোন থাকে এবং কেউ কেউ ইন্টারনেটের মাধ্যমে হালনাগাদ থাকেন। মাটির তথ্য, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, রোগ শনাক্তকরণ ও বাজারদর এক জায়গায় আনার যে সমন্বিত অ্যাপের প্রস্তাব কলামে এসেছে, তা এই বিদ্যমান মাধ্যমগুলোর ওপরই গড়ে উঠতে পারে।
শ্রম পরিসংখ্যানে তরুণ ও কৃষিকাজ
সে সময়ের সরকারি পরিসংখ্যান দেখায়, দেশ তখনো কৃষিকাজের ওপর কতটা নির্ভরশীল। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ ২০২২, যা ২০২৩ সালের মার্চে প্রকাশিত হয়, অনুযায়ী শ্রমশক্তি ছিল ৭ কোটি ৩৪ লাখ ১০ হাজার এবং কর্মে নিয়োজিত ছিলেন ৭ কোটি ৭ লাখ ৮০ হাজার মানুষ। মোট কর্মসংস্থানে কৃষির অংশ ২০১৬-১৭ সালের জরিপের ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ হয়, আর শিল্পের অংশ ২০ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ১৭ দশমিক ০২ শতাংশে নামে। বেকারত্বের হার ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০১৬-১৭ সালে ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ; নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ জাতীয়ভাবে বেড়ে ৪২ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং গ্রামে ৫০ দশমিক ৮৮ শতাংশ হয়। ২০২৩ সালের জুনে জরিপটি বিশ্লেষণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ সায়েমা হক বিদিশা উল্লেখ করেন, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণেরা মোট শ্রমশক্তির ৩৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ, আর ২০১৬-১৭ সালের জরিপে তরুণদের বেকারত্ব ছিল ১০ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে জাতীয় গড় ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কর্মসংস্থানে কৃষির অংশ ছিল ৪৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ, সেবা খাতের ৩৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং শিল্পের ১৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ। শ্রমশক্তি ছিল ৭ কোটি ১৭ লাখ ১০ হাজার, কর্মে নিয়োজিত ৬ কোটি ৯০ লাখ ৯০ হাজার, আর বেকারত্বের হার ২০২৩ সালের ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ হয়। ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষ ছিলেন ২ কোটি ৪৮ লাখ ৩০ হাজার। কর্মে নিয়োজিতদের প্রায় ৮৪ শতাংশ ছিলেন অনানুষ্ঠানিক খাতে, আর ১৫-২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৯২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। জরিপে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী এমন ৮৫ লাখ ৬০ হাজার তরুণ পাওয়া যায়, যাঁরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণ কোনোটিতেই নেই (নিট)। কর্মসংস্থানে কৃষির অংশের তুলনায় অর্থনীতিতে এর অংশ অনেক কম: ২০১৭ সালে মোট দেশজ উৎপাদনে কৃষির অবদান ছিল ১৪ দশমিক ২ শতাংশ, আর ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১২ শতাংশের কিছু বেশি।
মাঠের অভিজ্ঞতা থেকে একই চিত্র আগেও উঠে এসেছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক কলামে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির লেখেন, দেশে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণ জনগোষ্ঠীর হার ২৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ, সংখ্যায় প্রায় পৌনে ৫ কোটি, এবং তরুণদের প্রায় ১৭ থেকে ২০ শতাংশ কৃষি বা খামারে কাজ করেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে তিনি লেখেন, কৃষিকাজে জড়িতদের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন পিরোজপুরের সমতল জমিতে তরুণদের মাল্টা চাষ, ঢাকার কাছে সাভার ও কালিয়াকৈরে সবজি চাষ এবং রাজশাহীতে আম ও ধান চাষের কথা। তাঁর লেখায়, তরুণেরা গোলমরিচ, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ, টমেটো, ড্রাগন, স্ট্রবেরি, মাল্টা ও কমলার মতো নিশ্চিত মুনাফার খাতে বিনিয়োগ করছেন এবং কৃষিপণ্য বিপণন, কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবসা, মৎস্য চাষ, গাভী পালন ও হাঁস-মুরগি পালনেও এগিয়ে আসছেন।

তরুণেরা কেন কৃষি ছেড়ে যান
জাগো নিউজের কলামে বলা হয়, বাংলাদেশের অনেক তরুণ কৃষিতে আগ্রহ দেখালেও দীর্ঘমেয়াদে এই খাতে থাকতে চান না। লেখক এর প্রধান কারণগুলো চিহ্নিত করেন: কৃষিতে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি বেশি, প্রযুক্তির অভাব, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সহায়তার ঘাটতি, বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং কৃষিকাজ নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি। তাঁর মতে, কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা না গেলে এই আগ্রহী যুবশক্তিকে ধরে রাখা সম্ভব হবে না, আর তার ফল হবে কৃষিখাতে দক্ষ জনশক্তির সংকট।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরের প্রথম আলোর কলামে একই ধরনের বাধা আরও বিস্তারিতভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল: অনেক তরুণের কাছে কৃষি এখনো আকর্ষণীয় পেশা নয়; কৃষিতে আর্থিক ঝুঁকি বেশি ও আয় কম; আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণের অভাব; ঋণপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ; তরুণ কৃষকদের সংগঠনের অভাব; ভূমি ও কৃষিব্যবস্থার সংস্কারের অভাব, জমির মালিকানার নিরাপত্তাহীনতা ও জমির ক্রমবর্ধমান দাম; দুর্বল গ্রামীণ অবকাঠামো; কৃষি পরিবারের জন্য সহায়ক সরকারি পরিকল্পনার অভাব; এবং সমাজে কৃষি নিয়ে নেতিবাচক ধারণা ও শহরমুখী মনোভাব থেকে কৃষকের আত্মপরিচয়ের সংকট। সেই কলামের প্রস্তাব ছিল কৃষিপ্রযুক্তি ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে প্রশিক্ষণ কর্মশালা, তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ ও আর্থিক সহায়তা, কৃষিতথ্য, বাজারদর ও বিপণন কৌশল জানার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমিয়ে সরাসরি বাজারে বিক্রির সুযোগ, এবং সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন।
আন্তর্জাতিক চিত্রও ছিল একই রকম। এফএও, সিটিএ ও ইফাদের ২০১৪ সালের প্রতিবেদনে দেখানো হয়, প্রয়োজন অনুযায়ী সাজানো শিক্ষা কর্মসূচি কীভাবে গ্রামীণ তরুণদের কৃষিকাজে যুক্ত হওয়ার এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণের দক্ষতা দিতে পারে; তরুণদের কৃষিতে ধরে রাখার অন্য শর্ত হিসেবে প্রতিবেদনটি জমি ও অর্থায়নে প্রবেশাধিকার, বাজারের সঙ্গে সংযোগ এবং "সবুজ" কর্মসংস্থানের কথা বলে।
লেখকের প্রস্তাব
কলামে কৃষির আধুনিকায়ন ও টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর একটি সুসংহত নীতিমালাকে সময়ের দাবি বলা হয়। লেখকের ভাষায়, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে কৃষিকে প্রতিযোগিতামূলক ও লাভজনক খাতে রূপান্তর করতে হলে এআই, আইওটি, সয়েল সেন্সর, ড্রোন ও বিগডাটা প্রযুক্তিকে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। এজন্য প্রযুক্তির খরচ কমানো, ব্যবহার সহজ করা এবং স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সমাধান তৈরি করা জরুরি।
লেখকের যুক্তি, তরুণ প্রজন্মকে কৃষিতে যুক্ত রাখতে আধুনিক ও প্রাসঙ্গিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা অপরিহার্য: কারিগরি শিক্ষা, হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ ও বাস্তবভিত্তিক শেখার প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে হবে, যাতে তারা শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
একই সঙ্গে কলামে কৃষিভিত্তিক প্রযুক্তি স্টার্টআপকে উৎসাহিত করার কথা বলা হয়। বিনিয়োগ সুবিধা, ইনকিউবেশন সহায়তা, সহজ ঋণ ও বাজার সংযোগের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, আর উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
লেখক বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কৃষকের কাছে তথ্য ও সেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া যায়। একটি সমন্বিত অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে মাটির তথ্য, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, রোগবালাই শনাক্তকরণ ও বাজারদর সহজে জানা গেলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও কার্যকর হবে। সবশেষে কলামে ড্রোন ব্যবহার, তথ্য বিনিময় ও আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তারে সহায়ক নীতিমালা ও প্রণোদনার দাবি জানানো হয়: লেখকের মতে, সুস্পষ্ট নীতি, নিরাপদ তথ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রণোদনামূলক উদ্যোগ কৃষিতে প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে এবং খাতটিকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে সাহায্য করবে।
লেখকের দৃষ্টিতে, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই সময়ে কৃষি প্রযুক্তিনির্ভর না হলে তা টেকসই থাকবে না, আর বিশেষ করে যুবশক্তিকে কৃষিতে ধরে রাখতে এসব প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ অপরিহার্য। অন্যথায় কৃষিখাত ধীরে ধীরে প্রাণশক্তি হারাবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে বলে কলামে সতর্ক করা হয়। লেখা শেষ হয় প্রযুক্তি ও নীতিমালার সমন্বয়ে এমন একটি স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বানে, যেখানে যুবসমাজ শুধু অংশ নেবে না, নেতৃত্বও দেবে।
ছবি: Vis M / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (শ্রমশক্তি জরিপ ২০২২ ও ২০২৪, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী), দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস), জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), সিটিএ ও ইফাদ, উইকিপিডিয়া (চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার, ডিজিটাল কৃষি, ইন্টারনেট অব থিংস, কৃষি ড্রোন, পর্যায়ক্রমে ভেজানো ও শুকানো, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশের কৃষি)




মন্তব্য
(০)