রংপুরের কাউনিয়ার চরাঞ্চলে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। উপজেলার ব-দ্বীপ নামে পরিচিত ঢুসমারা চরে মাঠের পর মাঠ পাকা ধান কাটছেন কৃষকেরা, আর জমিতে চলছে চারটি হারভেস্টার। শ্রমিকসংকট ও মজুরি বাড়ায় একসঙ্গে ধান কাটা, মাড়াই ও সংগ্রহের এই যন্ত্রের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকেরা, এতে সময় ও খরচ দুটোই বাঁচছে।
উপজেলার ছয় ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় চলতি আমন মৌসুমে ১১ হাজার ৪৭০ হেক্টরে চাষের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৪৬০ হেক্টরে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩৭ হাজার ৩৫৫ মেট্রিক টন।
ঢুসমারা চরের কৃষক কোব্বাত আলী জানান, অক্টোবরের শুরু থেকে আগাম আমন কাটা চলছে, চলবে মাসজুড়ে; মূল মৌসুমের আমন কাটা শুরু হবে নভেম্বরের মাঝামাঝি। তাঁর ভাষায়, এবার বড় দুই দফা বন্যায় ফসল রক্ষার আশা ছিল না, কিন্তু পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় আর বড় রোগবালাই না থাকায় এক দোন (২৫ শতক) জমিতে ১২ থেকে ১৪ মণ ধান পেয়েছেন।
জমির মালিক শহিদুল ইসলাম ভুট্টু ভালো ফলনে লাভের আশা করলেও ন্যায্য দাম নিয়ে কিছুটা হতাশ। কৃষক তাজুল ইসলাম বলেন, সার, ডিজেল, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় খরচ আগের চেয়ে বেশি; তবু ভালো ফলনে কৃষকেরা খুশি। অনেকে ধান কাটার পরই জমিতে মরিচ লাগাচ্ছেন, কেউ আগাম ভুট্টার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন জানান, মৌসুমের শুরুতে কিছুটা খরা আর চরে দুই দফা বন্যা হলেও এখন খেতের অবস্থা ভালো, আগাম আমনের ফলনও আশানুরূপ; কৃষক ও কৃষি বিভাগ বাম্পার ফলনের আশা করছে। আগাম আমনের পর ভুট্টা, আলু, মরিচ ও শীতের সবজি চাষ করে একই জমি থেকে একাধিক ফসল নেওয়ার সুযোগ পান কৃষকেরা।
প্রতিবেদন: কৃষি সময়ের রংপুর সংবাদদাতা।
ছবি: Sohelchy07 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: কৃষি সময়




মন্তব্য
(০)