ডায়াবেটিস রোগীদের ইনসুলিন ইনজেকশনের বিকল্প হিসেবে মুখে খাওয়ার ন্যানো ক্যাপসুল নিয়ে কাজ করছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ফার্মেসি বিভাগের একদল গবেষক। তাঁদের দাবি, প্রযুক্তিটি পরীক্ষাগারে সফল হয়েছে এবং ইঁদুরের ওপর প্রয়োগে ইতিবাচক ফল মিলেছে। পরের ধাপ মানুষের ওপর পরীক্ষা।
সমস্যাটা পরিচিত। টাইপ-১ ডায়াবেটিসে শরীর ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না, টাইপ-২-তে যথেষ্ট তৈরি হয় না বা কাজে লাগে না; ফলে অনেককে ইনজেকশন নিতে হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ, দীর্ঘদিন ইনজেকশন নেওয়া কষ্টকর বলে কারও কারও চিকিৎসায় অনীহা তৈরি হয়। আবার ইনসুলিন প্রোটিনজাতীয় হরমোন বলে পাকস্থলীর অম্ল ও এনজাইমে ভেঙে যায়, তাই সাধারণ বড়ি বা ক্যাপসুলে এটি দেওয়া কঠিন।
অধ্যাপক ড. কিশোর মজুমদার ও তাঁর শিক্ষার্থীরা তৈরি করেছেন ‘স্মার্ট ন্যানো-ক্যারিয়ারভিত্তিক ওরাল ইনসুলিন’ ক্যাপসুল। এতে আছে দুই স্তরের আবরণ, শর্করা-সংবেদনশীল উপাদান, জৈবসামঞ্জস্যপূর্ণ পলিমার ও পিএইচ-সংবেদনশীল কো-পলিমার, যা পাকস্থলীতে ইনসুলিনকে রক্ষা করে ক্ষুদ্রান্ত্রে পৌঁছে ছাড়ে।
গবেষকদের দাবি, ক্যাপসুলটি রক্তে শর্করা বাড়লে বেশি আর কমলে কম ইনসুলিন ছাড়বে, তাই তাঁরা একে ‘কৃত্রিম অগ্ন্যাশয়’ বলছেন। অধ্যাপক মজুমদার জানান, উপাদানগুলো বিষমুক্ত ও বায়োডিগ্রেডেবল, আর তিনি ১৪ বছর ধরে এ নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর ভাষায়, ‘শরীরে ব্যথা পাওয়ার কারণে অনেক রোগী ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে অনীহা প্রকাশ করেন; আমরা ব্যথামুক্ত সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেছি।’
মানুষের ওপর পরীক্ষার জন্য সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দরকার বলে জানান তিনি; তা পেলে এবং সব ঠিক থাকলে দুই বছরের মধ্যে বাজারে আনার আশা করছেন। মনে রাখা দরকার, এটি এখনো প্রাণীর ওপর পরীক্ষার পর্যায়ে; মানুষের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়নি, তাই রোগীদের চিকিৎসকের দেওয়া ইনসুলিন চালিয়ে যেতে হবে।
প্রতিবেদন: সজীবুর রহমান, যবিপ্রবি, দেশ রূপান্তর
ছবি: NASA/Marshall / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: দেশ রূপান্তর




মন্তব্য
(০)