মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জঙ্গিরাই গ্রামের আব্দুল মতিন ঝোপঝাড় আর আগাছায় ভরা ৮০ শতক পতিত জমিকে সবজির খেতে বদলে দিয়েছেন। ব্যবসার পাশাপাশি এই খেত এখন তাঁর বাড়তি আয়ের নির্ভরযোগ্য উৎস, জানিয়েছে কৃষি সময়।
২০২২ সালে বাড়ির পাশের ২০ শতক পতিত জমি আর পাশের আরও ৬০ শতক জমি লিজ নিয়ে মাত্র ৪০ হাজার টাকা বিনিয়োগে টমেটো, কাঁচা মরিচ, বেগুন ও ধনেপাতা দিয়ে শুরু করেন তিনি। প্রথম বছরেই খরচ বাদে প্রায় দেড় লাখ টাকা লাভ হয়। এখন তাঁর জমির ৩০ শতকে টমেটো, ২০ শতকে লাউ, ১৫ শতকে শসা এবং ১৫ শতকে হলুদ তরমুজ।
মতিন জানান, আধুনিক পদ্ধতিতে খরচ বেড়েছে, এখন মৌসুমে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়। মাটির পুষ্টি রক্ষায় তিনি মালচিং পেপার, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে পলিশেড এবং গ্রীষ্মে টমেটো ফলাতে গ্রাফটিং (কলম) পদ্ধতি ব্যবহার করেন। চাষে মূলত জৈব সার দেন। গ্রীষ্মে টমেটোর পাশাপাশি তরমুজ, শসা, লাউ ও করলা আর শীতে লাউ, টমেটো ও আলু চাষ করেন।
খেতের টমেটো এখন কেজিপ্রতি ১১০ টাকা, শসা ৩৫ টাকা আর প্রতিটি লাউ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ১ লাখ টাকার সবজি বিক্রি করেছেন, শীতের আগেই আরও আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার সবজি বিক্রির আশা করছেন। স্থানীয় পাইকারেরা খেত থেকেই সবজি কিনে নেন, দোকানের সামনে রাখা সবজিও এক-দুই কেজি করে বিক্রি হয়ে যায়।
সবজির পাশাপাশি নিজেদের দুই বিঘা জমিতে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ও পেয়ারার বাগানও করেছেন মতিন। জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল আলম খান বলেন, ইচ্ছা, সঠিক শ্রম ও আধুনিক পরিচর্যা থাকলে পতিত জমি থেকেও কীভাবে ভালো মুনাফা করা যায়, মতিন তার উদাহরণ; তিনি এখন পুরো এলাকার জন্য অনুপ্রেরণা।
প্রতিবেদন: মৌলভীবাজার সংবাদদাতা, কৃষি সময়
ছবি: NahidSultan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: কৃষি সময়



মন্তব্য
(০)