সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

চাকরি না পেয়ে উদ্যোক্তা হলেন নাঈম, ড্রাগনেই বাজিমাত

পড়াশোনা শেষ করে হন্যে হয়ে চাকরি খোঁজেন মাজহারুল ইসলাম নাঈম। চারপাশে দৌড়াতে গিয়ে একসময় বেশ ক্লান্ত হন। এরমধ্যে দেশে এলো করোনা ভাইরাস। এতে মনে হতাশা আরও চেপে বসে। কিন্তু বসে থাকতে নারাজ নাঈম। কিছু একটা করতে হবে। ফল বাগান করার ইচ্ছে জাগে। নিজেদের জমি নেই!

পড়াশোনা শেষ করে হন্যে হয়ে চাকরি খোঁজেন মাজহারুল ইসলাম নাঈম। চারপাশে দৌড়াতে গিয়ে একসময় বেশ ক্লান্ত হন। এরমধ্যে দেশে এলো করোনা ভাইরাস। এতে মনে হতাশা আরও চেপে বসে। কিন্তু বসে থাকতে নারাজ নাঈম। কিছু একটা করতে হবে। ফল বাগান করার ইচ্ছে জাগে। নিজেদের জমি নেই!

করোনার মধ্যে একটি অনাবাদি জমির ইজারা নিয়ে গড়ে তোলেন ফল বাগান। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে তার বাগানে ৬ হাজার ড্রাগন গাছ। গাছের সারিতে বিপুল কাঁচা-পাকা ড্রাগন। এ ছাড়া পেঁপে ও পেয়ারাসহ অন্য ফলও হচ্ছে। সঙ্গে ছাগলও আছে অর্ধশতাধিক।

বর্তমানে মাজহারুল ইসলাম নাঈম আইসিটি প্রভাষক হিসেবে একটি মাদরাসায় কর্মরত। চাকরির ফাঁকে তিনি বাগানে সময় দেন। এ ছাড়া ফল সংগ্রহ, বাছাই, প্যাকেজিং ও বাজারজাতকরণে নিয়মিত কাজ করছেন স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক। সদর উপজেলার মধ্য চররমনী মোহন গ্রামে নাঈমের বাগান। ২০২১ সালে ৩২০ শতাংশ জমি ইজারা নিয়ে তিনি বাণিজ্যিক বাগানটি গড়ে তোলেন।

প্রথমে বাবা নজরুল ইসলাম খানের সহযোগিতায় ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। কৃষিতে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও প্রযুক্তি ও অনলাইনভিত্তিক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলেন খান এগ্রো পার্ক। একের পর এক পরিকল্পিতভাবে সেখানে পেয়ারা, ড্রাগন, পেঁপের বাগান গড়ে তোলেন। দিনদিন বাগানের পরিধি বাড়তে থাকে।

বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি খুঁটিতে জড়ানো গাছে ফুল, কাঁচা, আধাপাকা, পাকা ড্রাগন ফলে ভরপুর। সবুজে যেন চোখ আটকে যায়। শ্রমিকরা পাকা ফল কেটে বালতিতে তুলছেন। অন্যরা টুকরি ভরে চালান ঘরে নিয়ে স্তূপ করছেন। সেখান থেকে পাইকাররা ওজন করে পাইকারি ফল সংগ্রহ করেন। বর্তমানে বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে অর্ধকোটি টাকা। চলতি মৌসুমে ১৫-২০ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রির সম্ভাবনা আছে।

স্থানীয় কৃষক আবুল হোসেন বলেন, 'ড্রাগনে কম রোগবালাই ও ভালো বাজারমূল্যের কারণে সহজে লাভবান হওয়া যায়। কৃষকদের সঠিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিলে দিনদিন ড্রাগন চাষে অনেকে আগ্রহী হবেন। একসময় আমরা মনে করতাম, এটি বিদেশি ফল, এ দেশে হবে না। এখন দেখি আমাদের গ্রামের নাঈম চমকে দিয়েছেন।'

উদ্যোক্তা মাজহারুল ইসলাম নাঈম বলেন, 'করোনার সময় ইউটিউব ও অনলাইনে ড্রাগন চাষ সম্পর্কে ধারণা নিয়েছি। প্রথমে প্রায় ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগে শুরু করেছিলাম। এখন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন দেখতে আসছেন।'

নাঈমের বাবা নজরুল ইসলাম খান বলেন, 'আমি বাগানের দেখভাল, তদারকি ও বাজারজাতকরণ দেখি। শুরুতে বিষয়টি নতুন ছিল। এখন অভিজ্ঞতা বেড়েছে। ফলন ভালো হচ্ছে। বাজারে ড্রাগনের চাহিদাও বেশ। প্রথমে পাইকারি প্রতি কেজি ৩০০-৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১৫০-৩০০ টাকা কেজি।'

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন বলেন, 'তরুণ উদ্যোক্তা নাঈমের স্বপ্ন আর প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনা বদলে দিয়েছে অনাবাদি জমির চিত্র। সেই সঙ্গে সৃষ্টি করেছে কর্মসংস্থান ও কৃষিভিত্তিক নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। ড্রাগন চাষ শুধু লাভজনক নয়, কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে বিপ্লব ঘটাতে পারে।'

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)