নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় কাঁচপুর সেতু এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের জাটকা ও অবৈধ চিংড়ি রেণু জব্দ করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিল শনিবার দিবাগত রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত চলা এ অভিযানে দুটি ট্রাক থেকে ২২০০ কেজি জাটকা ও ৩ কোটি ৭০ লাখ পিস চিংড়ি রেণু পোনা উদ্ধার হয়। খবরটি জাগো নিউজ প্রকাশ করে ২০ এপ্রিল।
কাঁচপুর সেতুর নিচে রাতভর তল্লাশি
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাত ২টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড কম্পোজিট স্টেশন পাগলা কাঁচপুর সেতুর নিচে একটি বিশেষ অভিযান চালায়।
অভিযানে নোয়াখালী থেকে খুলনাগামী সন্দেহজনক দুটি ট্রাক তল্লাশি করা হয়। ট্রাক দুটিতে পাওয়া যায় ২২০০ কেজি জাটকা ও ৩ কোটি ৭০ লাখ পিস অবৈধ চিংড়ি রেণু পোনা। কোস্ট গার্ডের দেওয়া হিসাবে জব্দ করা মাছ ও রেণুর দাম প্রায় ২ কোটি ৮৫ হাজার টাকা।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি বাহিনী। ১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বরে সংসদে কোস্ট গার্ড আইন পাস হওয়ার পর ১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাহিনীটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। মাছসম্পদ রক্ষা এবং চোরাচালান ও পাচার প্রতিরোধ বাহিনীর প্রধান দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

জাটকা ধরা ও পরিবহন কেন নিষিদ্ধ
জাটকা হলো ইলিশের বাচ্চা। ডিম ফোটার পর বড় হতে থাকা ছোট ইলিশকেই বাংলায় জাটকা বলা হয়। ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। ইউএনবি ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২০২৬ সালের ৬ এপ্রিল মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য তুলে ধরে জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ইলিশ উৎপাদন হয় ৫ লাখ মেট্রিক টন।
একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইলিশ রক্ষায় দেশে ছয়টি অভয়াশ্রম রয়েছে এবং প্রতিবছর ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা ধরা, পরিবহন ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অর্থাৎ সোনারগাঁয়ের এই অভিযান হয় সেই নিষেধাজ্ঞার সময়ের মধ্যেই, যখন ট্রাকে করে জাটকা পরিবহন নিষিদ্ধ।

চিংড়ি রেণু ছাড়া হয় বুড়িগঙ্গায়
সাব্বির আলম সুজন জানান, জব্দ করা চিংড়ি রেণু নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান আসাদ ও অফিস সহকারী কাউছার আহমেদের উপস্থিতিতে বুড়িগঙ্গা নদীতে অবমুক্ত করা হয়। ট্রাকের চালক ও সহকারীদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ট্রাকসহ তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
প্রকৃতি থেকে চিংড়ির পোনা ধরার বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান আগে থেকেই কড়া। পরিবেশবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মোঙ্গাবে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জানায়, উপকূলীয় এলাকায় বেহুন্দি জাল, চিংড়ি পোনা ধরার ঠেলা জাল এবং অন্যান্য ক্ষতিকর সরঞ্জাম দিয়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যাতে সামুদ্রিক মাছের ওপর চাপ কমে এবং সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হয়।

ছবি: Fahad Faisal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, ইউএনবি, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, মোঙ্গাবে, উইকিপিডিয়া (বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, ইলিশ)





মন্তব্য
(০)