সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

হরমুজ সংকটে ইউরিয়া টনপ্রতি ৬২৫ ডলার: বাংলাদেশের সার মজুত নিয়ে সরকার ও বিশেষজ্ঞ

২০২৬ সালের মার্চে গ্যাস সাশ্রয়ে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা ও কাফকো বন্ধ ছিল; কৃষিমন্ত্রী বলেন মজুতে এক বছর চলবে, আর কৃষি অর্থনীতিবিদরা বিকল্প উৎস থেকে দ্রুত আমদানির তাগিদ দেন।

হরমুজ সংকটে ইউরিয়া টনপ্রতি ৬২৫ ডলার: বাংলাদেশের সার মজুত নিয়ে সরকার ও বিশেষজ্ঞ
এগ্রোবিজ

২০২৬ সালের মার্চে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও সারের বৈশ্বিক সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। বিবিসি বাংলার ২৮ মার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোরো মৌসুমে চাহিদামতো জ্বালানি তেল না পেয়ে অনেক কৃষক সেচ নিয়ে সমস্যায় পড়েন, আর আসন্ন আমন মৌসুমের সার নিয়েও দুশ্চিন্তা বাড়ে। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ তখন বিবিসি বাংলাকে বলেন, দেশে যে সার মজুত আছে তা দিয়ে মোটামুটি এক বছর চালিয়ে নেওয়া যাবে।

গ্যাস সাশ্রয়ে বন্ধ সার কারখানা


বিবিসি বাংলা জানায়, ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর গ্যাস সাশ্রয়ে মার্চের শুরু থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচটি সার কারখানার চারটি বন্ধ রাখে সরকার; বেসরকারি কাফকো কারখানাতেও উৎপাদন বন্ধ ছিল। দেশের সার কারখানাগুলো আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক সংস্থা সিআরইউ গ্রুপ মার্চের এক বিশ্লেষণে লেখে, বাংলাদেশ তার এলএনজির প্রায় ৬৫ শতাংশ কাতার থেকে আনে এবং কাতারের রপ্তানি বিঘ্নিত হওয়া দেশের চারটি কারখানা বন্ধের অন্যতম কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিআরইউ আরও জানায়, ২০২৪-২৫ সালে বাংলাদেশের সার কারখানাগুলো গড়ে সক্ষমতার প্রায় ২৫ শতাংশে চলেছিল।

কৃষিমন্ত্রীর দাবি, মজুত পর্যাপ্ত থাকায় জ্বালানি রেশনিংয়ের অংশ হিসেবে কারখানাগুলো আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে এবং শিগগিরই সেগুলো উৎপাদনে ফিরবে। তিনি বলেন, "বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, উনি বলেছেন এরই মধ্যে চালু করে দেবেন। অন্তত ঘোড়াশালও যদি চালু করে দেয় তাহলেও আমরা প্রতিদিন ২৮শ টনের ওপর পেয়ে যাব।" নরসিংদীর ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীন দেশের সবচেয়ে বড় সার কারখানা; চট্টগ্রামের আনোয়ারার কাফকো ১৯৯৪ সাল থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে ইউরিয়া উৎপাদন করছে।

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) কারখানার একাংশ। ছবি: Sakib toni / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
চট্টগ্রামে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) কারখানার একাংশ। ছবি: Sakib toni / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

মজুত ও চাহিদার হিসাব


মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তখন দেশে মজুত ছিল ইউরিয়া চার লাখ ৯৩ হাজার টন, টিএসপি তিন লাখ ৮২ হাজার টন, ডিএপি পাঁচ লাখ নয় হাজার টন এবং এমওপি তিন লাখ ৪২ হাজার টন। বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন সারের চাহিদা রয়েছে; বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যে এর প্রায় সাড়ে ২৬ লাখ টনই ইউরিয়া, যার মাত্র ১০ লাখ টন দেশে উৎপাদিত হয়। ইউরিয়া ফসলের নাইট্রোজেনের প্রধান উৎস; প্রচলিত কঠিন নাইট্রোজেন সারের মধ্যে এতেই নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

মন্ত্রী বলেন, বোরো মৌসুম তখন শেষ পর্যায়ে, ফলে কয়েক মাস নতুন করে বিপুল সারের প্রয়োজন পড়বে না; বর্ষা শেষে আমন মৌসুমেও ইউরিয়ার চাহিদা তুলনামূলক কম থাকে। তাই আগামী বছরের বোরোকে লক্ষ্য করে আমদানির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল, এবং মধ্যপ্রাচ্য-নির্ভরতা কমাতে চীন ও মিশরের সঙ্গে যোগাযোগ চলছিল। তার ভাষায়, "কাতার, সৌদি আরব থেকে আমরা মূলত ইউরিয়া আমদানি করতাম। এই মুহূর্তে কোনো ক্রাইসিস নাই, তবে এটা যেহেতু চলমান প্রক্রিয়া তাই আমরা বিকল্প উৎস খুঁজছি।"

ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেডের (ইউএফএফএল) মিথেন থেকে অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া তৈরির প্রক্রিয়া কারখানা। ছবি: Mar11 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেডের (ইউএফএফএল) মিথেন থেকে অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া তৈরির প্রক্রিয়া কারখানা। ছবি: Mar11 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বিশেষজ্ঞের সতর্কতা ও মাঠের অভিযোগ


কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, "এই মৌসুমে ধান এখন শেষের দিকে আছে, সেখানে খুব একটা সারের প্রয়োজন নেই।" তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে কেবল মজুত দিয়ে সামাল দেওয়া কঠিন হবে বলে মনে করেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা; তারা চীন, মিশর বা রাশিয়ার মতো বিকল্প বাজার থেকে দ্রুত আমদানি এবং বন্ধ কারখানাগুলো আবার চালুর কথা বলেন। ড. ইসলাম সতর্ক করেন, বিকল্প উৎসে গেলে দামও কিছুটা বাড়তে পারে।

সরকারি আশ্বাসের মধ্যেও বিভিন্ন জেলায় মাঠপর্যায়ে ভিন্ন চিত্রের খবর পায় বিবিসি বাংলা; কোনো কোনো এলাকায় ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সারের বাড়তি দাম রাখছেন বলে অভিযোগ ওঠে। ড. ইসলামের ভাষায়, "বাংলাদেশে কোনো একটা সংকট তৈরি হওয়ার আগেই একটা কৃত্রিম সংকট আমরা তৈরি করে ফেলি, এটা মূল সমস্যা।"

হরমুজ প্রণালি ও বিশ্ববাজারের চাপ


হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) হিসাবে, ২০২৪ সালে এই পথে দৈনিক গড়ে ২ কোটি ব্যারেল তেল গেছে, যা বিশ্বের পেট্রোলিয়াম তরল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ; বিশ্বের এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশও এই প্রণালি দিয়ে যায়, মূলত কাতার থেকে। বিবিসি বাংলার তথ্যে, বিশ্বের সারের তিন ভাগের এক ভাগও এই পথে সরবরাহ হয়, এবং প্রতিবেদনের সময় প্রায় এক মাস ধরে ইরান পথটি অবরুদ্ধ রেখেছিল।

সিআরইউ গ্রুপের তথ্য উদ্ধৃত করে বিবিসি বাংলা জানায়, যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে ইউরিয়ার দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৪৯০ ডলার থেকে ৬২৫ ডলারে পৌঁছায়। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ফার্মার্স ইউনিয়নের সভাপতি টম ব্র্যাডশ বলেন, "জ্বালানি ও সারের বর্ধিত ব্যয়ভার বহন করতে এরই মধ্যে বাড়তি চাপে পড়েছেন শস্য, পশুপালন এবং দুগ্ধ খামারিরা।" জার্মানির কিয়েল ইনস্টিটিউটের গবেষকদের অনুমান, হরমুজ বন্ধ থাকলে বিশ্বে গমের দাম ৪.২ শতাংশ এবং ফল-সবজির দাম ৫.২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশ্বের মোট সার রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আসে রাশিয়া থেকে; বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের উৎস বন্ধ থাকায় দেশটি বড় যোগানদাতা হিসেবে অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করতে পারে।

হরমুজ প্রণালির মানচিত্র, ২০০৪ সালের ইরান কান্ট্রি প্রোফাইল মানচিত্রের অংশ। ছবি: CIA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
হরমুজ প্রণালির মানচিত্র, ২০০৪ সালের ইরান কান্ট্রি প্রোফাইল মানচিত্রের অংশ। ছবি: CIA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

ছবি: AbuSayeed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: বিবিসি বাংলা, সিআরইউ গ্রুপ, মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ), উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

এগ্রোবিজ

সম্পর্কিত খবর

ফসল

ইংল্যান্ডে যবের ফলন ১৪ বছরে সর্বনিম্ন, গম সামান্য বেশি

যুক্তরাজ্যের কৃষি মন্ত্রণালয় ডেফরার প্রাথমিক হিসাবে ইংল্যান্ডে যব উৎপাদন ১১ শতাংশ কমে ৩৭ লাখ টন হয়েছে, গম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৮ লাখ টন; গমের তুলনায় পশুখাদ্যের যব বিক্রি হচ্ছে অনেক কম দামে।

Farmers Weekly১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

নিজস্ব কারখানা ছেড়ে চুক্তিভিত্তিক ও যৌথ কারখানায় ঝুঁকছে উদ্ভিজ্জ মাংস

চাহিদা অনিশ্চিত থাকায় উদ্ভিজ্জ মাংসের ব্র্যান্ডগুলো নিজস্ব কারখানার বদলে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন, যৌথ অবকাঠামো ও মাংস প্রক্রিয়াকরণের পুরোনো যন্ত্রপাতির দিকে ঝুঁকছে বলে জানিয়েছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।

FoodNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোবিজ

সারের দাম দেখার প্ল্যাটফর্ম ক্লিয়ারকস্টে বিনিয়োগ, সালফার সংকটে কমছে ফসফরাস

কৃষকদের সারের দাম ও চালান দেখার এবং সরবরাহ চুক্তির সুযোগ দেওয়া কানাডার স্টার্টআপ ক্লিয়ারকস্ট সিরিজ এ তহবিল পেয়েছে; ২০২৭ সালের শুরুতে উত্তর আমেরিকাজুড়ে নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু করবে তারা।

AgNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)