২০১৫ সালের পর সবচেয়ে দুর্বল বর্ষার পর ২০২৬-২৭ রবি মৌসুমের জন্য বীজ, বপন, মাঠ পর্যবেক্ষণ ও উপকরণ সংগ্রহ নিয়ে চার দফা পরামর্শ দিয়েছে ভারতের গবেষণানির্ভর বালাইনাশক কোম্পানিগুলোর সংগঠন ক্রপলাইফ ইন্ডিয়া। খবরটি দিয়েছে কৃষি জাগরণ। ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বৃষ্টি দীর্ঘমেয়াদি গড়ের ৮৭ শতাংশে শেষ হয়েছে; দক্ষিণাঞ্চলে ৭৬ ও পূর্বাঞ্চলে ৭৪ শতাংশ।
বীজ নিয়ে পরামর্শে বলা হয়েছে, বপনের আগে বীজ শোধন বীজ ও মাটিবাহিত রোগের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সাশ্রয়ী সুরক্ষা। যেমন গমের ঝুলসা বা স্মাট রোগ, যা ঠান্ডা ও আর্দ্র আবহাওয়ায় বাড়ে, আর ছোলার ঢলে পড়া ও শুষ্ক শিকড় পচা রোগ, যা আর্দ্রতার অভাব ও গরমে বাড়ে। বপনের ক্ষেত্রে উইপোকার চিকিৎসা কেবল আগে আক্রান্ত হওয়া জমিতে এবং মাটিতে যথেষ্ট আর্দ্রতা থাকলেই করতে বলা হয়েছে। আর আর্দ্রতা থাকলে অক্টোবরের দ্বিতীয়ার্ধে বোনা সরিষায় ফুল আসার সময় জাব পোকার চাপ কম থাকে।
মাঠ পর্যবেক্ষণ নিয়ে পরামর্শ হলো, নির্দিষ্ট তারিখ ধরে নয়, নিয়মিত জমি দেখে তবেই স্প্রে করতে হবে; যেমন গমে জাব পোকা প্রতি কুশিতে ১০ থেকে ১৫টি ছাড়ালে তবেই দমন দরকার। উপকরণ সংগ্রহ নিয়ে সংগঠনটি সতর্ক করেছে, কঠিন মৌসুমে কৃষকের হাতে অবৈধ পণ্য পৌঁছানোর ঝুঁকি বাড়ে; তাই অনলাইন বিক্রিতে লাইসেন্স যাচাই ও পণ্যের উৎস শনাক্তসহ অননুমোদিত ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে। সহায়তার জন্য নিকটস্থ গবেষণাকেন্দ্র, কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র বা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
সংগঠনের মহাসচিব দুর্গেশ চন্দ্র (Durgesh Chandra) বলেন, এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল বর্ষা রবি মৌসুমের শুরুর অবস্থাই বদলে দিয়েছে; মাটির অসম আর্দ্রতা ফসল গজানো, পোকার আচরণ ও উপকরণের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলে। সরকারের নতুন রবি সহায়ক মূল্যে কুইন্টালপ্রতি কুসুমফুলে ৬৭৫ রুপি, সরিষায় ৪১৩, মসুরে ৩৯০, যবে ১৩৬, ছোলায় ৮৩ ও গমে ২৫ রুপি বেড়েছে। ভারতের বালাইনাশক বাজারের প্রায় ৭০ শতাংশ এই সংগঠনের সদস্যদের।
ছবি: D.aspis9394 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: কৃষি জাগরণ




মন্তব্য
(০)