সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

মিষ্টি আলু চাষ পদ্ধতি: বারির জাত, লতা রোপণ, সার, উইভিল দমন ও সংরক্ষণ

দেশে মিষ্টি আলুর গড় ফলন হেক্টরপ্রতি প্রায় ১০.৫০ টন, অথচ বারির উন্নত জাত পরীক্ষায় প্রায় ৪০ টন পর্যন্ত দিয়েছে। জেনে নিন জাত বাছাই, লতা রোপণ, ডিএইয়ের সার সুপারিশ, উইভিল দমন ও সংরক্ষণের নিয়ম।

মিষ্টি আলু চাষ পদ্ধতি: বারির জাত, লতা রোপণ, সার, উইভিল দমন ও সংরক্ষণ
শাকসবজি

জামালপুরের চরাঞ্চলে মিষ্টি আলু এখন কৃষকের ভরসার ফসল। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দ্য ডেইলি স্টার বাংলা জানিয়েছিল, সরিষাবাড়ী উপজেলার এক কৃষক ১৫ হাজার টাকা খরচ করে এক বিঘা জমি থেকে প্রায় ৯০ মণ মিষ্টি আলু পেয়েছেন। তখন বাজারে প্রতি মণ মিষ্টি আলু বিক্রি হচ্ছিল এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকায়। সেই মৌসুমে জেলায় ২৯ হাজার ৫১০ টন মিষ্টি আলু উৎপাদনের আশা করছিল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)।

তবু দেশজুড়ে মিষ্টি আলু এখনো অবহেলিত ফসল, আর বেশির ভাগ জমিতে ফলন উন্নত জাতের সম্ভাবনার চেয়ে অনেক কম। এই লেখায় জানা যাবে ফসলটি কী, বাংলাদেশে কতটা চাষ হয়, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) কোন কোন জাত দিয়েছে, আর কীভাবে লতা লাগাতে, সার ও সেচ দিতে, পোকা থেকে বাঁচাতে, ফসল তুলতে ও সংরক্ষণ করতে হয়। প্রতিটি মাত্রা ও সংখ্যা ডিএই, বারির বিজ্ঞানী বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেভাবে দিয়েছে, সেভাবেই দেওয়া হয়েছে।

মিষ্টি আলু: ফসলটি কী, কেন গুরুত্বপূর্ণ


মিষ্টি আলুর বৈজ্ঞানিক নাম Ipomoea batatas, এটি কলমিলতা গোত্রের (Convolvulaceae) উদ্ভিদ। এটি বহুবর্ষজীবী বীরুৎ লতা; কাণ্ড মাটির ওপর লতিয়ে চলে এবং গিঁট থেকে শিকড় বের হয়। এর বড়, শ্বেতসারে ভরা, মিষ্টি স্বাদের কন্দমূল সবজি হিসেবে খাওয়া হয়, আর কচি ডগা ও পাতা কখনো কখনো শাক হিসেবে খাওয়া হয়। নামে মিল থাকলেও সাধারণ গোল আলুর সঙ্গে এর আত্মীয়তা খুবই দূরের।

ফসলটির আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চল। সেখান থেকে এটি সারা পৃথিবীতে ছড়িয়েছে, সাধারণত বীজ নয়, লতার কাটিং হিসেবে। প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপগুলো, দক্ষিণ ভারত, উগান্ডা ও আফ্রিকার অন্য কয়েকটি দেশে এটি প্রচলিত খাদ্যফসল হয়ে উঠেছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) পরিসংখ্যান ভান্ডার ফাওস্ট্যাটের হিসাবে ২০২০ সালে বিশ্বে ৮ কোটি ৯৫ লাখ টন মিষ্টি আলু উৎপাদিত হয়েছিল, যার মধ্যে শুধু চীনেই ৪ কোটি ৮৯ লাখ টন। এরপর ছিল মালাউই, তানজানিয়া, অ্যাঙ্গোলা ও ইথিওপিয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের ২০১৬ সালে ফুডস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় মিষ্টি আলুকে বিশ্বের সপ্তম প্রধান খাদ্যফসল এবং বাংলাদেশে ধান, গম ও আলুর পর চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ ফসল বলা হয়েছে।

মিষ্টি আলু শুধু মানুষের খাবার নয়। বারির কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্রের ২০২৩ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ফসলটি পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়, আর এ থেকে রুটি, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, সিরাপ, শ্বেতসার ও পানীয় তৈরি করা যায়।

ডিএইয়ের বাংলাদেশ কৃষি আবহাওয়া তথ্য সেবা (বামিস) পোর্টালে মিষ্টি আলুর তথ্যপত্রে এর পুষ্টিমান দেওয়া আছে। প্রতি ১০০ গ্রাম খাওয়ার উপযোগী মিষ্টি আলুতে রয়েছে:

  • জলীয় অংশ ৬৮.৫ গ্রাম ও খনিজ পদার্থ ১.০ গ্রাম
  • আঁশ ০.৮ গ্রাম ও খাদ্যশক্তি ১২০ কিলোক্যালরি
  • আমিষ ১.২ গ্রাম, চর্বি ০.৩ গ্রাম ও শর্করা ২৮.২ গ্রাম
  • ক্যালসিয়াম ২০ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন বি-১ ০.০৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি-২ ০.০২ মিলিগ্রাম ও ভিটামিন সি ২ মিলিগ্রাম

কমলা শাঁসের জাতের বাড়তি গুণ আছে। আন্তর্জাতিক আলু কেন্দ্র (সিআইপি) কমলা শাঁসের মিষ্টি আলুকে ভিটামিন এ-র চমৎকার উৎস বলেছে, যা গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য ও বিকাশের জন্য জরুরি। ফুডস সাময়িকীর ২০১৬ সালের গবেষণায় লেখা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রায় ১০ লাখ শিশুর মধ্যে ভিটামিন এ-র অভাবের লক্ষণ দেখা যায় এবং প্রতিবছর ৩০ হাজার শিশু অন্ধ হয়ে যায়। শিশুর খাদ্য বা চোখ নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মিষ্টি আলুর লতা ও পাতা। ছবি: Bubai Bera / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
মিষ্টি আলুর লতা ও পাতা। ছবি: Bubai Bera / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বাংলাদেশে মিষ্টি আলুর চাষ কতটা


২০২৩ সালের জুলাইয়ে হেলিয়ন সাময়িকীতে প্রকাশিত বারির গবেষক দলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮-১৯ থেকে ২০২০-২১ সালের মধ্যে দেশে মিষ্টি আলুর উৎপাদন ১৫.৭০ শতাংশ বেড়ে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৮০০ টনে পৌঁছায়। একই সময়ে চাষের জমি ১৩.২০ শতাংশ বেড়ে ২৩ হাজার ২৪ হেক্টর থেকে ২৬ হাজার ৫২৮ হেক্টর হয়।

একই গবেষণায় কৃষকের ফলন আর ফসলের সম্ভাবনার মধ্যে বড় ফারাকের কথা বলা হয়েছে। গড় ফলন ছিল হেক্টরপ্রতি প্রায় ১০.৫০ টন, অথচ অর্জনযোগ্য ফলন হেক্টরপ্রতি ৪০ টন পর্যন্ত বলে অনুমান করা হয়।

২০২৫ সালের আগের জেলাভিত্তিক খবরে দেখা যায় কোথায় চাষ বাড়ছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দ্য ডেইলি স্টার বাংলা জানায়, জামালপুরে কৃষকেরা ডিএইয়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪৩ হেক্টর বেশি জমিতে মিষ্টি আলু লাগিয়েছেন। সেখানে চাষ হওয়া জাতের মধ্যে ছিল বারি-২, বারি-৩, বারি-৪, বারি-৮, বারি-৯ ও বারি-১৪, সঙ্গে কমলা সুন্দরী, তৃপ্তি এবং ওকিনাওয়া ও মুরাসাকির মতো জাপানি জাত। জামালপুরে ডিএইয়ের উপপরিচালক জাকিয়া সুলতানা বলেছিলেন, এলাকার মাটি ও আবহাওয়া ফসলটির উপযোগী।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নিয়ে ২০২১ সালের এপ্রিলে দৈনিক ইত্তেফাক জানায়, সে বছর উপজেলায় ৮৫ হেক্টর জমিতে মিষ্টি আলুর চাষ হয়েছে, বাঙ্গালী নদীর তীরের বেলে মাটিতে। সরকারের কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৯ একর জমিতে একটি জাপানি জাত লাগানো হয়, আর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কৃষকেরা হেক্টরপ্রতি ২০ মেট্রিক টন ফলন পাচ্ছেন। জাপানে রপ্তানির জন্য একটি কোম্পানি কৃষকের জমি থেকেই আলু কিনে নিচ্ছিল।

উন্নয়ন সংস্থাগুলোও ফসলটি ছড়াতে কাজ করেছে। ২০২০ সালের নভেম্বরে দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানায়, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও রংপুরে ৬ হাজার কৃষক ৯০৯ বিঘা জমিতে বারি এসপি-৪, বারি এসপি-৮ ও বারি এসপি-১২ জাতের কমলা শাঁসের মিষ্টি আলু চাষ করছেন। সিআইপি তাদের ২০২১ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানায়, ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে প্রায় ৫০ হাজার ভূমিহীনপ্রায় পরিবার মিষ্টি আলু চাষ শুরু করে, আর প্রশিক্ষণ পাওয়া ২৮৩ জন লতা উৎপাদনকারী ২ কোটি ৯০ লাখ লতার কাটিং বিক্রি করেন, যা ৫০০ হেক্টর জমিতে লাগানোর জন্য যথেষ্ট।

বারির জাত: তৃপ্তি ও কমলাসুন্দরী থেকে বারি মিষ্টিআলু-১৭


স্থানীয় জাতের চেয়ে উন্নত জাতের ফলন অনেক বেশি, আর বারির প্রথম দুটি জাতেই তা দেখা গিয়েছিল। ১৯৮৬-৮৭ সালের রবি মৌসুমে বৃহত্তর নোয়াখালীর দুটি স্থানে কৃষকের মাঠে করা এক পরীক্ষায়, যার ফল ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ বিজ্ঞান সম্মেলনে উপস্থাপিত হয়, কমলাসুন্দরী দুই স্থানে হেক্টরপ্রতি ৩৪.২ ও ৩৪.৪৫ টন, তৃপ্তি ৩০.৩২ ও ৩০.৫৫ টন এবং স্থানীয় জাত ২৫.৮ ও ২৫.১ টন ফলন দেয়।

তৃপ্তি পরে বারি এসপি-১ এবং কমলাসুন্দরী বারি এসপি-২ নামে পরিচিত হয়। রং ও পুষ্টিমানে দুটির পার্থক্য আছে। গাজীপুরে কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্রে জন্মানো বারির নয়টি জাত বিশ্লেষণ করে ফুডস সাময়িকীর ২০১৬ সালের গবেষণায় তৃপ্তির শাঁস হালকা কমলা এবং কমলাসুন্দরীর শাঁস কমলা বলে লেখা হয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম তাজা ওজনে কমলাসুন্দরীতে মোট ক্যারোটিনয়েড ছিল ৬.৩৮ মিলিগ্রাম, তৃপ্তিতে ০.৫৫ মিলিগ্রাম। সবচেয়ে বেশি, ৭.২৪ মিলিগ্রাম, পাওয়া যায় বারি এসপি-৮ জাতে।

ওই গবেষণায় অন্য পুরোনো জাতগুলোর স্থানীয় নামও আছে: বারি এসপি-৩ দৌলতপুরী, বারি এসপি-৬ লালকুঠি এবং বারি এসপি-৭ কালমেঘ। বারি এসপি-৪ ও বারি এসপি-৮ জাতের শাঁস কমলা; এসপি-৩, এসপি-৫, এসপি-৬, এসপি-৭ ও এসপি-৯ জাতের শাঁস হালকা কমলা।

ডিএইয়ের বামিস তথ্যপত্রে বারি মিষ্টিআলু-১ থেকে বারি মিষ্টিআলু-১৩ পর্যন্ত জাতকে উল্লেখযোগ্য উন্নত জাত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৩ সালের হেলিয়ন গবেষণার সময় পর্যন্ত বারি মিষ্টি আলুর ১৭টি জাত উদ্ভাবন করেছিল। ২০২১-২২ মৌসুমে গাজীপুর, বগুড়া, জামালপুর, যশোর ও চট্টগ্রামে ওই গবেষণার পরীক্ষায় বাজারজাতযোগ্য ফলন ছিল:

  • বারি মিষ্টিআলু-১২: হেক্টরপ্রতি ৩৯.৮৮ টন, সর্বোচ্চ
  • বারি মিষ্টিআলু-১৫: হেক্টরপ্রতি ৩৬.৬০ টন
  • বারি মিষ্টিআলু-৯: হেক্টরপ্রতি ৩৩.৭৮ টন
  • বারি মিষ্টিআলু-১০: হেক্টরপ্রতি ২৮.৫৬ টন
  • বারি মিষ্টিআলু-১৭: হেক্টরপ্রতি ২৫.৯৮ টন

লতা বা কাটিং পেতে কৃষকেরা গাজীপুরে বারির কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্র ও এর আঞ্চলিক উপকেন্দ্র এবং ডিএইয়ের নার্সারি ও উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। কাছাকাছি কোথায় অনুমোদিত জাতের রোগমুক্ত লতা পাওয়া যাবে, সেখান থেকে তা জানা যায়।

২০১৬ সালের নভেম্বরে ঘানার গুশিয়েগুতে মিষ্টি আলু উৎসবে কমলা শাঁসের মিষ্টি আলু। ছবি: U.S. Embassy in Ghana, USAID / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
২০১৬ সালের নভেম্বরে ঘানার গুশিয়েগুতে মিষ্টি আলু উৎসবে কমলা শাঁসের মিষ্টি আলু। ছবি: U.S. Embassy in Ghana, USAID / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

মাটি, আবহাওয়া ও লাগানোর সময়


মিষ্টি আলু তুষারপাত সহ্য করতে পারে না। গড়ে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা, প্রচুর রোদ আর উষ্ণ রাতে এটি সবচেয়ে ভালো জন্মায়। বছরে ৭৫০ থেকে ১০০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত সবচেয়ে উপযোগী ধরা হয়। লাগানোর ৫০ থেকে ৬০ দিন পর যখন কন্দ গঠন শুরু হয়, তখন খরায় ফসলের ক্ষতি হয়; আবার জলাবদ্ধতাও এটি সইতে পারে না, তাতে কন্দ পচে যেতে পারে।

নানা ধরনের মাটিতে এটি হয়, তবে পানি সহজে নেমে যায় এমন হালকা ও মাঝারি বুনটের মাটি, যার পিএইচ ৪.৫ থেকে ৭.০, সবচেয়ে উপযোগী। ডিএইয়ের তথ্যপত্রে কয়েকটি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে জমি তৈরির কথা বলা হয়েছে, যাতে কন্দ সহজে বাড়তে পারে।

বাংলাদেশে মিষ্টি আলু রবি ফসল। ডিএই লাগানোর সময় দিয়েছে কার্তিক-অগ্রহায়ণ, অর্থাৎ মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য নভেম্বর। তথ্যপত্রে আরও বলা হয়েছে, সাধারণত কার্তিক থেকে মধ্য অগ্রহায়ণ, বা মধ্য অক্টোবর থেকে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত চারা রোপণ করা যায়।

বারির বিজ্ঞানীরা ২০২০-২১ সালের রবি মৌসুমে বগুড়ার কন্দাল ফসল গবেষণা উপকেন্দ্রে বারি মিষ্টিআলু-১২ জাত ৩০ অক্টোবর, ১০ নভেম্বর, ২০ নভেম্বর ও ৩০ নভেম্বর লাগিয়ে সময়ের প্রভাব পরীক্ষা করেন। বাংলাদেশ জার্নাল অব এগ্রিকালচারাল রিসার্চে প্রকাশিত ওই গবেষণায় দেখা যায়, ২০ নভেম্বর লাগিয়ে সবচেয়ে বেশি মাত্রার সার দিলে ফল সবচেয়ে ভালো: হেক্টরপ্রতি ৪৬.৯৯ টন ফলন, হেক্টরপ্রতি ৭ লাখ ৯৫ হাজার ১৩১ টাকা মোট মুনাফা এবং আয়-ব্যয়ের অনুপাত ৪.৬২।

লতা বাছাই ও রোপণ: ধাপে ধাপে


মিষ্টি আলু লাগানো হয় লতার কাটিং দিয়ে; আসল বীজ শুধু জাত উদ্ভাবনের কাজে লাগে। এগ্রো নিউজের মূল নির্দেশিকা ও ডিএইয়ের তথ্যপত্রে প্রধান ধাপগুলো একই রকম:

  • ২৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার লম্বা করে লতা কাটুন; ডিএই প্রতিটি খণ্ডের দৈর্ঘ্য দিয়েছে ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি।
  • আগার খণ্ড, অর্থাৎ ডগার কুঁড়িসহ অংশ, সবচেয়ে বেশি ফলন দেয়। আগার খণ্ড পাওয়া গেলে মাঝের খণ্ড না লাগানোই ভালো, আর বেশি বয়সের শক্ত লতা কখনো ব্যবহার করবেন না।
  • মাঝের খণ্ড লাগাতেই হলে খেয়াল রাখুন, এর গোড়ার দিক, অর্থাৎ শিকড়ের দিকের প্রান্ত, যেন মাটিতে যায়।
  • সমতল জমিতে সারি করে লাগান; সারি থেকে সারি ২৪ ইঞ্চি (৬০ সেন্টিমিটার) এবং লতা থেকে লতা ১২ ইঞ্চি (৩০ সেন্টিমিটার) দূরত্ব রাখুন।
  • প্রতিটি কাটিং এমনভাবে শোয়ান যাতে দুই-তিনটি গিঁট মাটির নিচে থাকে, আর ওপরের অংশ বাঁকিয়ে খাড়া করে দিন।
  • ডিএইয়ের হিসাবে জাতভেদে হেক্টরপ্রতি প্রায় ৫৬ হাজার লতা লাগে।
  • লাগানোর সময় আবহাওয়া শুকনো থাকলে কয়েকটি পাতা ছেঁটে দিন; মাটিতে রস না থাকলে কাটিংয়ের গোড়ায় পানি দিন।

সার ব্যবস্থাপনা: ডিএইয়ের সুপারিশ


এগ্রো নিউজের মূল নির্দেশিকায় সতর্ক করা হয়েছিল, দেশের বেশির ভাগ কৃষক মিষ্টি আলুতে কম সার দেন, অথচ ভালো ফলনের জন্য সুষম সার দরকার। ডিএইয়ের বামিস তথ্যপত্রে হেক্টরপ্রতি সারের মাত্রা দেওয়া হয়েছে এভাবে:

  • গোবর বা জৈব সার: ৮ থেকে ১০ টন
  • ইউরিয়া: ১৬০ থেকে ১৮০ কেজি
  • টিএসপি: ১৫০ থেকে ১৭০ কেজি
  • এমওপি (পটাশ): ১৮০ থেকে ২০০ কেজি

ছোট জমির জন্য একই তথ্যপত্রে শতকপ্রতি মাত্রাও আছে: গোবর ১ থেকে ১.৫ কেজি, ইউরিয়া ৬৫০ থেকে ৭০০ গ্রাম, টিএসপি ৬০০ থেকে ৬৫০ গ্রাম এবং এমওপি ৭০০ থেকে ৭৫০ গ্রাম।

সমুদয় গোবর ও টিএসপি এবং অর্ধেক ইউরিয়া ও অর্ধেক পটাশ লাগানোর আগে শেষ চাষের সময় মাটিতে মিশিয়ে দিতে হয়। বাকি ইউরিয়া ও পটাশ চারা রোপণের ৬০ দিন পর সারির পাশে দিতে হয়। মূল নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, কোনো জমিতে সালফার বা দস্তার অভাব থাকলে তা-ও দিতে হবে; কোন জমিতে লাগবে, উপজেলা কৃষি অফিস তা জানাতে পারে।

গবেষণাতেও সারের প্রভাব দেখা গেছে। বগুড়ার পরীক্ষায় সারের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে বাজারজাতযোগ্য ফলন বেড়েছে, আর সারসংক্ষেপে সবচেয়ে ভালো মাত্রা লেখা হয়েছে হেক্টরপ্রতি ১০০-৯৫-১২০ কেজি এনপিকে। হেলিয়ন গবেষণার পরীক্ষায় হেক্টরপ্রতি ১০ টন গোবরের সঙ্গে ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি, জিপসাম, জিংক সালফেট, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ও বরিক অ্যাসিড দেওয়া হয়েছিল। জমি ও মাটিভেদে চাহিদা আলাদা, তাই মাটি পরীক্ষা বা স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।

সেচ, আগাছা দমন ও মাটি তুলে দেওয়া


অনেক ফসলের চেয়ে মিষ্টি আলু খরা বেশি সইতে পারে, তবু ঠিক সময়ে পানি লাগে। ডিএই জমির আর্দ্রতা বুঝে দুই-তিনটি সেচ দিতে বলেছে: লতা মাটিতে লেগে যাওয়ার ৩০, ৬০ ও ৯০ দিন পর। বৃষ্টি বা সেচের পানি জমিতে জমতে দেওয়া যাবে না; তাতে পাতা ও লতা বেশি বাড়ে, কিন্তু ফলন কমে যায়। ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা থাকলে বাড়তি পানি দ্রুত বের করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

সেচের পর জো এলে কোদাল বা নিড়ানি দিয়ে মাটির ওপরের চটা ভেঙে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ডিএই। লাগানোর ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে এবং প্রতিবার সেচের আগে আগাছা তুলতে হবে, আর লতা পুরো জমি ঢেকে না ফেলা পর্যন্ত ক্ষেত আগাছামুক্ত রাখতে হবে।

হেলিয়ন গবেষণার পরীক্ষায় বারির বিজ্ঞানীরা লাগানোর দ্বিতীয় মাস থেকে শুরু করে মাসে একবার করে মোট তিনবার গাছের গোড়ায় মাটি তুলে দিয়েছিলেন।

উইভিল পোকা ও অন্যান্য রোগবালাই


মিষ্টি আলুর সবচেয়ে মারাত্মক শত্রু উইভিল পোকা, বৈজ্ঞানিক নাম Cylas formicarius। ১৯৯৮ সালে প্রথম প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারণ প্রকাশনায় একে সারা বিশ্বে মিষ্টি আলুর সবচেয়ে গুরুতর পোকা বলা হয়েছে, যা মাঠে ও গুদামে দুই জায়গাতেই ক্ষতি করে। বিভিন্ন জায়গায় এর কারণে ৫ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।

এর কীড়া কন্দের ভেতরে সুড়ঙ্গ কাটে, ফলে কন্দ ফাঁপা, স্পঞ্জের মতো ও কালচে হয়ে যায়। সামান্য খেলেও কন্দ তেতো হয় এবং টারপিনের গন্ধ ছড়ায়। লতা হলুদ হয়ে যাওয়া একটি লক্ষণ, তবে তা সাধারণত বেশি আক্রমণের পরেই দেখা যায়, তাই অনেক সময় ক্ষতি ধরা পড়ে ফসল তোলার সময়। পূর্ণবয়স্ক পোকা কন্দ বা কাণ্ডে ডিম পাড়ে, কখনো শুকনো মাটির ফাটল দিয়ে নেমে কন্দে পৌঁছায়।

ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনায় উইভিল কমানোর কয়েকটি চাষাবাদ পদ্ধতির কথা আছে:

  • আগের ফসলের জমি ও মিষ্টি আলুর গুদাম থেকে দূরে নতুন জমিতে চাষ করুন এবং জমি বদলে বদলে চাষ করুন।
  • ফেলে দেওয়া ও মাটিতে থেকে যাওয়া কন্দ সরিয়ে ফেলুন, কারণ এগুলোতে বিপুল পোকা টিকে থাকে।
  • বুনো কলমি গোত্রের (Ipomoea) আগাছা দমন করুন, যেগুলো পোকার বিকল্প আশ্রয়।
  • মাটি ভেজা রাখুন, কারণ শুকনো ফাটা মাটি উইভিলের জন্য সুবিধাজনক।
  • পূর্ণবয়স্ক পোকার সংখ্যা বুঝতে ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করুন।

ডিএইও উইভিল দমনে ফেরোমন ফাঁদ পাতার পরামর্শ দিয়েছে এবং অনুমোদিত বালাইনাশক দিয়ে মাটি শোধন করে হালকা সেচ দেওয়ার কথা বলেছে। তথ্যপত্রে পাতা সুড়ঙ্গকারী পোকা, টরটয়েজ বিটল, ফ্লি বিটল এবং কাণ্ড পচা, পাতায় দাগ ও পাউডারি মিলডিউ রোগের কথাও আছে। এসব বালাইনাশক ও তার মাত্রা জমির অবস্থা বুঝে নিরাপদে ব্যবহার করতে হয়, তাই স্প্রে করার আগে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিন, বোতল বা প্যাকেটের লেবেল পড়ুন, সুরক্ষা পোশাক পরুন, স্প্রে করা জমির পানি যেন খোলা জলাশয়ে না মেশে তা দেখুন, এবং বিক্রির আগে নির্ধারিত অপেক্ষার সময় মেনে চলুন।

মিষ্টি আলুর কন্দের ভেতরে উইভিল পোকার কীড়ার কাটা সুড়ঙ্গ। ছবি: Scot Nelson / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
মিষ্টি আলুর কন্দের ভেতরে উইভিল পোকার কীড়ার কাটা সুড়ঙ্গ। ছবি: Scot Nelson / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)

ফসল তোলা, সংরক্ষণ ও কোথায় পরামর্শ মিলবে


ডিএইয়ের হিসাবে ৯০ থেকে ১২০ দিনে মিষ্টি আলু পরিপক্ব হয়। তখন খোসায় আঁচড় দিলে ঘন দুধের মতো রস বের হয়। এ অবস্থায় বর্ষা আসার আগে লতা কেটে লাঙল বা কোদাল দিয়ে আলু তুলতে হয়; মূল নির্দেশিকায় মার্চের মধ্যে ফসল তোলা শেষ করার পরামর্শ ছিল। ২০২৩ সালে প্রকাশিত বারির পরীক্ষায় লাগানোর ১৩০ দিন পর ফসল তোলা হয়েছিল, আর ২০১৬ সালের ফুডস গবেষণার জাতগুলো প্রায় চার থেকে পাঁচ মাসে পরিপক্ব অবস্থায় তোলা হয়।

ডিএইয়ের হিসাবে জাতভেদে শতকপ্রতি ফলন ১৬০ থেকে ১৭০ কেজি। মূল নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, হেঁচকা টানে কন্দ ছিঁড়ে না নিয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে লতা থেকে আলাদা করলে সংরক্ষণের সময় রোগ কম হয়।

সংরক্ষণের জন্য ডিএই গোলা বা মাচায় বালির স্তর ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে: প্রথমে ৩.৯ ইঞ্চি বালি, তার ওপর ২৯.৫ ইঞ্চি উঁচু মিষ্টি আলুর স্তর, তারপর আবার ৩.৯ ইঞ্চি বালি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এভাবে কয়েক স্তরে রাখলে মিষ্টি আলু উইভিল পোকা থেকে রক্ষা পায়।

পরামর্শ পাওয়া কঠিন নয়। উপজেলা কৃষি অফিস এবং প্রতিটি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাত, সার, পোকা দমন এবং রোগমুক্ত লতা কোথায় মিলবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন। গাজীপুরে বারির কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্র এবং বগুড়ার মতো এর উপকেন্দ্রগুলো মিষ্টি আলুর জাত ও চাষ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করে।

২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার মেকানিক্সভিলের একটি খামারে লাঙল দিয়ে মিষ্টি আলু তোলা হচ্ছে। ছবি: USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার মেকানিক্সভিলের একটি খামারে লাঙল দিয়ে মিষ্টি আলু তোলা হচ্ছে। ছবি: USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

ছবি: Vmenkov / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: দ্য এগ্রো নিউজ (নিজস্ব প্রতিবেদক), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (বামিস, এক নজরে মিষ্টি আলু চাষ), আলম ও অন্যান্য, বারি কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্র (হেলিয়ন, জুলাই ২০২৩), মন্ডল ও অন্যান্য, বারি (বাংলাদেশ জার্নাল অব এগ্রিকালচারাল রিসার্চ, খণ্ড ৪৭ সংখ্যা ৩, প্রকাশ নভেম্বর ২০২৩), আলম, রানা ও ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ফুডস, সেপ্টেম্বর ২০১৬), এ এফ এম ফজলুর রহমান (১৩তম বাংলাদেশ বিজ্ঞান সম্মেলনের কার্যবিবরণী, ১৯৮৮), ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় আইএফএএস (Sweetpotato Weevil, Featured Creatures), আন্তর্জাতিক আলু কেন্দ্র (বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২১), দ্য ডেইলি স্টার বাংলা (২৭ জানুয়ারি ২০২৪), দৈনিক ইত্তেফাক (২৬ এপ্রিল ২০২১), দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস (৯ নভেম্বর ২০২০), উইকিপিডিয়া (Sweet potato, মার্চ ২০২৫)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

শাকসবজি

সম্পর্কিত খবর

শাকসবজি

কুয়াশায় শিকড় খাওয়ানোর প্রযুক্তিতে রোগমুক্ত আলুবীজ উৎপাদনের পরীক্ষা ইংল্যান্ডে

স্টার্টআপ এয়ারপনিক্স ও ডাইসন ফার্মিং ডেফরার অর্থায়নে দুই বছরের এক পরীক্ষা শুরু করেছে: কুয়াশাভিত্তিক পদ্ধতিতে বর্তমান খরচের অর্ধেকেরও কমে ইংল্যান্ডে রোগমুক্ত প্রথম প্রজন্মের আলুবীজ উৎপাদন সম্ভব কি না।

AgNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

মাশরুমের গাঁজন প্রযুক্তিতে টফুর বর্জ্য হলো প্রোটিনসমৃদ্ধ সুস্বাদু উপাদান

সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা সয়া দুধ ও টফুর অবশিষ্ট ওকারা ঝিনুক মাশরুমের মাইসেলিয়াম দিয়ে গাঁজন করে এর প্রোটিন প্রায় ২৮ থেকে ৩০ শতাংশে তুলেছেন, বাড়িয়েছেন উমামি স্বাদ।

Green Queen১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
শাকসবজি

মাদারগঞ্জে ৬০ হেক্টরে আগাম শসা, দুই হাজার টন উৎপাদনের আশা

জামালপুরের মাদারগঞ্জে এবার প্রায় ৬০ হেক্টরে আগাম শসার আবাদ হয়েছে, উৎপাদন হতে পারে প্রায় দুই হাজার টন; পাইকারি বাজারে কেজি ৩০-৪০ টাকা, বিঘায় খরচ ১৫-২০ হাজার আর বিক্রি ৩০-৪০ হাজার টাকা।

ডেইলি বাংলাদেশ১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)