সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

মাটি ছাড়াই ফিল্মের ওপর সবজি চাষ: জাপানের কৃষিতে প্রযুক্তির বিপ্লব

জাপানি বিজ্ঞানী ইয়ুইচি মোরি কিডনি ডায়ালাইসিসের ঝিল্লির প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে মাটি ছাড়াই পলিমার ফিল্মের ওপর সবজি ফলান; বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী এই পদ্ধতিতে প্রচলিত চাষের চেয়ে ৯০ শতাংশ কম পানি লাগে, কীটনাশক লাগে না।

মাটি ছাড়াই ফিল্মের ওপর সবজি চাষ: জাপানের কৃষিতে প্রযুক্তির বিপ্লব
এগ্রোটেক

জাপানি বিজ্ঞানী ইয়ুইচি মোরি ফলমূল আর সবজি মাঠে ফলান না; তার চাষে মাটিই নেই। বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, তিনি গাছ বড় করেন স্বচ্ছ ও সহজভেদ্য এক পলিমারের ঝিল্লি বা ফিল্মের ওপর, যে প্রযুক্তি এসেছে মানুষের কিডনি চিকিৎসার ডায়ালাইসিস থেকে। এই ঝিল্লি পানি ও পুষ্টি ধরে রাখে, আর গাছের শিকড় সেখান থেকেই খাবার টেনে নেয়। জমি আর কৃষিশ্রমিকের ঘাটতিতে থাকা জাপান কীভাবে প্রযুক্তি দিয়ে কৃষি বদলে দিচ্ছে, মোরির উদ্ভাবন তার একটি উদাহরণ।

ডায়ালাইসিসের ঝিল্লি থেকে চাষের ফিল্ম


"কিডনি ডায়ালাইসিসে রক্ত ছাঁকার কাজে যে উপকরণ ব্যবহার করা হতো, আমি সেগুলোই এখানে ব্যবহার করছি," বিবিসিকে বলেছিলেন মোরি। বিবিসির হিসাবে এই পদ্ধতিতে প্রচলিত চাষের তুলনায় ৯০ শতাংশ কম পানি লাগে। কীটনাশকও লাগে না, কারণ পলিমারের ছিদ্র ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াকে ঢুকতে দেয় না। তার প্রতিষ্ঠান মেবাইওল প্রায় ১২০টি দেশে এই উদ্ভাবনের পেটেন্ট নিশ্চিত করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

জাপান সরকারের প্রকাশনা "হাইলাইটিং জাপান"-এর ২০১৫ সালের শরৎ সংখ্যায় প্রযুক্তিটির বিস্তারিত বর্ণনা আছে। সেখানে বলা হয়, "আইমেক" নামের এই "ফিল্ম ফার্মিং" ব্যবস্থার ফিল্মটি হাইড্রোজেলে তৈরি, যা ডিসপোজেবল ডায়াপারে ব্যবহৃত এক ধরনের পানিগ্রাহী পলিমার জেল। এর ন্যানো আকারের ছিদ্র (এক মিলিমিটারের দশ লাখ ভাগের এক ভাগ) পানি ও পুষ্টি শুষে নেয়, কিন্তু জীবাণু ও ভাইরাস আটকে দেয়। ফিল্ম পানি আঁকড়ে ধরে রাখে বলে গাছকে পানি টানতে বেশি পরিশ্রম করতে হয়; তাতে গাছে অ্যামিনো অ্যাসিড ও চিনি বেশি তৈরি হয়, ফলের স্বাদ ও পুষ্টিমান বাড়ে।

মেবাইওলের প্রধান নির্বাহী মোরি পলিমার পদার্থবিজ্ঞানের গবেষক। জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের বড় রাসায়নিক ও চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০ বছর ক্যাথেটার, কৃত্রিম রক্তনালি ও ডায়ালাইসিসের ঝিল্লি নিয়ে কাজ করার পর তিনি ১৯৯৫ সালে কানাগাওয়া জেলার হিরাৎসুকায় মেবাইওল প্রতিষ্ঠা করেন। একই প্রকাশনা অনুযায়ী ২০১৫ সাল নাগাদ জাপানের ১৫০টি খামার এই পদ্ধতি নিয়েছিল; প্রতিষ্ঠানটি ১৩৪টি দেশে পেটেন্টের আবেদন করে ১১৬টিতে তা পেয়েছিল।

মাটি ছাড়া পানিতে পুষ্টি মিশিয়ে পাতাজাতীয় সবজির চাষ। ছবি: রায়ান সোমা / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ২.০)
মাটি ছাড়া পানিতে পুষ্টি মিশিয়ে পাতাজাতীয় সবজির চাষ। ছবি: রায়ান সোমা / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ২.০)

মরুভূমি থেকে সুনামি-বিধ্বস্ত উপকূল


ফিল্মটি নিচের মাটি থেকে ফসলকে আলাদা রাখে বলে মরুভূমি, কংক্রিট বা দূষিত জমিতেও চাষ সম্ভব। "হাইলাইটিং জাপান" জানায়, জাপানের নানা জায়গার পাশাপাশি সাংহাই, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে এই পদ্ধতিতে টমেটো চাষ হচ্ছিল। ২০১১ সালের পূর্ব জাপান ভূমিকম্পের পর সুনামিতে তেল, কাদা ও লবণে দূষিত তোহোকু উপকূলের খামার ফেরাতেও এটি কাজে লাগে; ক্ষতিগ্রস্ত রিকুজেনতাকাতা শহরে ১.৬ হেক্টরের একটি টমেটো খামার ফিল্ম ফার্মিং নিয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার ফার্মার'স উইকলির প্রতিবেদনেও দুবাই ও চীনের খামারে এর ব্যবহারের কথা আছে।

সুনামির পর রিকুজেনতাকাতা সিটি হল। ছবি: দাইসুকে সুদা / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ২.০)
সুনামির পর রিকুজেনতাকাতা সিটি হল। ছবি: দাইসুকে সুদা / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ২.০)

জমি ও কৃষকের ঘাটতিতে জাপান


বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী জাপানের প্রায় ৮৫ শতাংশ ভূখণ্ড পাহাড়ি, আর প্রায় এক দশকে দেশটির কৃষি উৎপাদকের সংখ্যা ২২ লাখ থেকে কমে ১৭ লাখে নেমেছিল; কৃষকের গড় বয়স ছিল ৬৭ বছর। জাপানের কৃষি মন্ত্রণালয়ের ২০১৫ সালের শুমারির তথ্য তুলে নিপ্পন ডটকম জানায়, মূলত কৃষিকাজে যুক্ত মানুষ তখন ছিলেন ১৭ লাখ ৫০ হাজার, যাদের ৬৩.৫ শতাংশের বয়স ৬৫ বা তার বেশি। দেশটির মাত্র ১২ শতাংশ জমি চাষের উপযোগী। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ২০২৩ অর্থবছরে ক্যালরির ভিত্তিতে জাপানের খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা ছিল ৩৮ শতাংশ, যেখানে ২০৩০ সালের লক্ষ্য ৪৫ শতাংশ।

এই ঘাটতির মধ্যে জাপানের মাঠ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট ও আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে প্রযুক্তিকেন্দ্রে পরিণত হচ্ছিল বলে বিবিসি জানায়। ফিল্ম ফার্মিংয়ে মাটি তৈরির কৌশল শিখতে হয় না বলে অভিজ্ঞতা ছাড়াই তরুণেরা চাষে নামতে পারেন, যা বয়স্ক কৃষক ও উত্তরসূরির অভাবের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে বলে "হাইলাইটিং জাপান" উল্লেখ করে।

জাপানের সাগা জেলার কারাৎসু শহরের ওয়ারাবিনো এলাকার পাহাড়ি ধাপে ধানক্ষেত। ছবি: gtknj / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই ২.০)
জাপানের সাগা জেলার কারাৎসু শহরের ওয়ারাবিনো এলাকার পাহাড়ি ধাপে ধানক্ষেত। ছবি: gtknj / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই ২.০)

পানির সংকট কেন জরুরি


জাতিসংঘের বিশ্ব পানি উন্নয়ন প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বিবিসি জানায়, পরিবেশের ক্ষতি আর পানির ওপর অস্থিতিশীল চাপ বর্তমান হারে চলতে থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ শস্য উৎপাদন এবং ৪৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন ঝুঁকিতে পড়বে। ইউনেসকোর ২০১৮ সালের প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে বলা হয়, বিশ্বে পানির চাহিদা বছরে প্রায় ১ শতাংশ হারে বাড়ছে এবং কৃষি সবচেয়ে বড় ব্যবহারকারী থাকবে। প্রায় ৩৬০ কোটি মানুষ এমন এলাকায় থাকেন, যেখানে বছরে অন্তত এক মাস পানির অভাব হতে পারে; ২০৫০ সালে এই সংখ্যা ৪৮০ থেকে ৫৭০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে।

ছবি: এরিয়াফটো / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

সূত্র: বিবিসি বাংলা, বিবিসি মুন্দো (লা ওপিনিয়ন), জাপান সরকারের "হাইলাইটিং জাপান", ফার্মার'স উইকলি (দক্ষিণ আফ্রিকা), নিপ্পন ডটকম, ফুডনেভিগেটর, ইউনেসকোর বিশ্ব পানি উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০১৮, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

এগ্রোটেক

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

শিকড়ের কাছে তরল সার পৌঁছাবে হালকা যন্ত্র, পরের লক্ষ্য সার দেওয়ার রোবট

নেদারল্যান্ডসের এক প্রদর্শনীতে দেখানো হালকা ডিস্ক যন্ত্রটি তরল সার সরাসরি মাটির ভেতরে দেয়। এর উদ্ভাবকেরা একে বিদ্যুৎচালিত এমন রোবটে রূপ দিতে চান, যা নিজেই ডকিং স্টেশনে গিয়ে ট্যাংক ভরে নেবে।

Future Farming১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফসল

২০ নভেম্বরের আগে গম বুনুন: উত্তর প্রদেশে শূন্য চাষ পদ্ধতির প্রশিক্ষণ দিল ইরি ও সিমিট

খড় পোড়ানোর বিকল্প হিসেবে শূন্য চাষে গম বপন ও ফসলের অবশিষ্টাংশ ব্যবস্থাপনায় পূর্ব উত্তর প্রদেশের ৬৩ জন কৃষক, যন্ত্রসেবাদাতা ও সম্প্রসারণকর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে ইরি ও সিমিট।

IRRI১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)