যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যান ফসলের খামারগুলো ২০২৪ সালে ফুল, নার্সারি ও বিশেষ ফসল বিক্রি করেছে মোট ১ হাজার ৮৩০ কোটি ডলারের (১৮.৩ বিলিয়ন ডলার)। দেশটির কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিস্টিকস সার্ভিস (এনএএসএস) ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন থেকে ২০২৪ সালের সেন্সাস অব হর্টিকালচারাল স্পেশালটিজ প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ তথ্য জানায়। শুমারি অনুযায়ী দেশটিতে এমন খামারের সংখ্যা ২৩ হাজার ৬০টি।
এনএএসএসের ভাষায়, গোটা যুক্তরাষ্ট্রে ফুল (ফ্লোরিকালচার), নার্সারি ও বিশেষ ফসলের উৎপাদন ও বিক্রির বিস্তারিত তথ্যের একমাত্র উৎস এই শুমারি। ২০১৯ সালের তুলনায় বিক্রি ও খামারের সংখ্যা, দুটিই বেড়েছে। সংস্থাটি জানায়, এর কারণ এবারের শুমারিতে ছাউনির নিচে উৎপাদিত মাশরুম ও শণ (হেম্প) যুক্ত হয়েছে।
এনএএসএস প্রশাসক জোসেফ এল পারসনস বলেন, “১৮৮৯ সালে প্রথম হওয়া এই উদ্যান শুমারি এমন সব খাতের তথ্য দেয়, যেগুলোর আর কোনো পূর্ণাঙ্গ উৎস নেই।” তাঁর ভাষায়, এটি “স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও জাতীয় অর্থনীতিতে উদ্যান চাষিদের অবদান এবং গত পাঁচ বছরে এই খাতে যে পরিবর্তন এসেছে, তা তুলে ধরার একটি মূল্যবান উপায়।”
কোন অঙ্গরাজ্য, কোন ফসল এগিয়ে
উৎপাদন কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেই কেন্দ্রীভূত। ২০২৪ সালে মোট বিক্রির ৬৭ শতাংশই হয়েছে ১০টি অঙ্গরাজ্যে। সবার আগে ক্যালিফোর্নিয়া (৩০৭ কোটি ডলার), এরপর ফ্লোরিডা (২১৫ কোটি ডলার) ও ওরেগন (১২৯ কোটি ডলার)।
পণ্যভিত্তিক হিসাবে শীর্ষ খাতগুলো ছিল এ রকম (বন্ধনীতে ২০১৯ সালের তুলনায় বৃদ্ধি):
- নার্সারি চারা: ৫৩৪ কোটি ডলার (১৭% বেশি)
- বার্ষিক বেডিং ও বাগানের চারা: ২৬৭ কোটি ডলার (১৯% বেশি)
- সড, স্প্রিগ ও প্লাগ (লাগানোর জন্য তোলা ঘাসের চাপড়া ও কাটিং): ১৭০ কোটি ডলার (৩৪% বেশি)
- টবে লাগানো বহুবর্ষজীবী বীরুৎ গাছ: ১৩৬ কোটি ডলার (৪৭% বেশি)
- টবে লাগানো ফুলগাছ: ১২৯ কোটি ডলার (৭% বেশি)
- ছাউনির নিচে উৎপাদিত খাদ্যফসল: ১০১ কোটি ডলার (৪৪% বেশি)
- বংশবিস্তারের উপকরণ, শিকড়যুক্ত ও অসম্পূর্ণ চারা: ৭৮ কোটি ডলার (৮% বেশি)
নার্সারি বলতে বোঝায় এমন জায়গা, যেখানে চারা জন্মিয়ে কাঙ্ক্ষিত আকার পর্যন্ত বড় করা হয়; এসব চারা মূলত বাগান, বনায়ন বা সংরক্ষণের কাজে যায়। আর সড হলো মাটিসহ তুলে আনা ঘাসের ওপরের স্তর, যা অন্য জায়গায় লাগানো হয়।

মালিকানা ও খরচ
সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি পারিবারিক বা ব্যক্তিমালিকানার খামার, মোট খামারের ৫৬ শতাংশ। কিন্তু বিক্রির ৬৩ শতাংশ, অর্থাৎ ১ হাজার ১৬০ কোটি ডলার, গেছে কর্পোরেট মালিকানার খামারে। ২০১৯ সালের তুলনায় খাতের মোট ব্যয় বেড়েছে ৩৩ শতাংশ; সবচেয়ে বড় খরচ শ্রম, ২০২৪ সালে যা মোট ব্যয়ের ৩৬ শতাংশ।

আগের শুমারির সঙ্গে তুলনা
এর আগের, ২০১৯ সালের শুমারির ফল প্রকাশিত হয় ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যান খামারগুলোর বিক্রি ছিল ১ হাজার ৩৮০ কোটি ডলার (১৩.৮ বিলিয়ন ডলার) এবং খামার ছিল ২০ হাজার ৬৫৫টি। সেবারও শীর্ষে ছিল ক্যালিফোর্নিয়া (২৬৩ কোটি ডলার), ফ্লোরিডা (১৯৩ কোটি ডলার) ও ওরেগন (১০২ কোটি ডলার); ১০টি অঙ্গরাজ্যে হয়েছিল মোট বিক্রির ৬৬ শতাংশ। ২০১৯ সালে কর্পোরেট মালিকানার খামারের ভাগ ছিল বিক্রির ৭৫ শতাংশ, আর শ্রম ছিল মোট ব্যয়ের ৪২ শতাংশ।
সেন্সাস অব হর্টিকালচারাল স্পেশালটিজ যুক্তরাষ্ট্রের বড় কৃষিশুমারি কর্মসূচিরই অংশ। এতে উদ্যান উৎপাদনে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ও ধরন, বিক্রির মূল্য, পণ্যের বৈচিত্র্য ও উৎপাদন ব্যয়ের তথ্য থাকে। ২০২২ সালের কৃষিশুমারিতে যেসব খামার ১০ হাজার ডলার বা তার বেশি মূল্যের উদ্যান ফসল উৎপাদন ও বিক্রির কথা জানিয়েছিল, তাদের সবাইকে এবারের বিশেষ জরিপে ধরা হয়।
ছবি: ইউএসডিএ / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ইউএসডিএ ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিস্টিকস সার্ভিস (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), টেক্সাস ফার্ম ব্যুরো (১৫ ডিসেম্বর ২০২০), উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)