সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

ভোলার বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দাম নিয়ে ক্ষোভ ক্রেতাদের

২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট ভোলা শহরের কিচেন মার্কেটে ইলিশের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছিল, তবু এক কেজির ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকায়; দাম নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন ক্রেতারা।

ভোলার বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দাম নিয়ে ক্ষোভ ক্রেতাদের
মৎস্য

ভোলার বাজারে ইলিশের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছিল ২০২৫ সালের আগস্টের শেষ সপ্তাহে, কিন্তু দাম কমেনি। জাগো নিউজ ২৪-এর ভোলা প্রতিনিধি ২৬ আগস্ট, মঙ্গলবার দুপুরে ভোলা শহরের কিচেন মার্কেটে গিয়ে দেখেন, খুচরা বিক্রেতারা তুলাতুলি, ইলিশার জংশন, ভোলার খাল ও নাছির মাঝি মৎস্য ঘাটসহ বিভিন্ন ঘাট থেকে ইলিশ এনেছেন। এক কেজি, ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম এবং ২০০ থেকে ৬০০ গ্রাম, সব আকারের মাছই ছিল। বাজারে ক্রেতাদের ভিড়ও ছিল, তবে দাম নিয়ে তাঁরা সন্তুষ্ট ছিলেন না। অনেকে সামর্থ্যের মধ্যে পছন্দের আকারের ইলিশ কিনতে পারছিলেন না।

কোন আকারের ইলিশ কত দামে


বিক্রেতা মো. জয়নাল ও মো. জুয়েল ব্যাপারী জানান, সেদিন জাটকা, অর্থাৎ ছোট আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল কেজি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়। ৬০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশের দাম ছিল কেজি ১ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা, আর এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকায়।

ক্রেতা মো. ইকবাল হোসেন, খাইরুল আলম ও খুশি আক্তার জানান, তাঁরা ৯০০ গ্রাম থেকে এক কেজির ইলিশ কিনতে চেয়েছিলেন, কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় পারেননি। শেষে ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ কিনেছেন ১ হাজার ৭০০ টাকা কেজি দরে। ক্রেতা আকলিমা বেগম, হারুন অর রশিদ ও শান্তা রহমান জানান, সাগরের ইলিশ কেজিতে প্রায় ৫০০ টাকা কম দামে পাওয়া গেলেও স্বাদ কম বলে তাঁরা তা কেনেননি।

ক্রেতা ফারজানা বেগম, তৈয়বুর রহমান ও মো. হেলালের অভিযোগ ছিল, দেশের ইলিশের বড় একটি অংশ ধরা পড়ে ভোলায়, তাঁদের ভাষায় ৩৩ শতাংশের বেশি, অথচ ভোলার বাজারে দাম ঢাকা, চাঁদপুর ও বরিশালের চেয়েও বেশি। তাঁদের মতে, আগের বছরগুলোর তুলনায় সেবার ভরা মৌসুমেও দাম বেশি ছিল।

ভোলায় মেঘনা নদীর কাছে জেলেদের মাছ ধরার নৌকা। ছবি: Toushik.hamid / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ভোলায় মেঘনা নদীর কাছে জেলেদের মাছ ধরার নৌকা। ছবি: Toushik.hamid / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ঘাটে দাম চড়া, দাদনের চাপ


বিক্রেতা মো. মহিউদ্দিন জানান, সরবরাহ আগের চেয়ে কিছুটা বাড়লেও চাহিদা বেশি থাকায় ঘাটে দাম কমেনি। খুচরা বিক্রেতারা ঘাট থেকে চড়া দামে কিনে বাজারে কেজিতে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশিতে বিক্রি করছিলেন।

ভোলা সদরের তুলাতুলি মৎস্য ঘাটের আড়তদার মো. কামাল ব্যাপারী ও মঞ্জু ইসলাম জানান, তাঁরা ঢাকা, বরিশাল ও চাঁদপুরের পাইকারি আড়ত থেকে দাদন, অর্থাৎ অগ্রিম টাকা এনে জেলেদের দিয়েছেন। পাইকারদের দিক থেকে মাছের চাপ থাকলেও সরবরাহ তেমন বাড়েনি, তাই দাম তখনও বেশি। তাঁদের আশা ছিল, পরের সপ্তাহে সরবরাহ বাড়লে কেজিতে দাম ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা কমবে।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব তখন জানান, ইলিশের ভরা মৌসুম শুরু হয়েছে এবং জেলেদের জালে ইলিশ ভালোই ধরা পড়ছে। তাঁর আশা ছিল, কয়েক দিনের মধ্যে আরও বেশি মাছ ধরা পড়বে, জেলেরা কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ পাবেন এবং দামও কমবে।

মেঘনা নদীতে জেলেদের ইলিশ ধরা (২০১৬ সালের ছবি)। ছবি: AsikBinRahim / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
মেঘনা নদীতে জেলেদের ইলিশ ধরা (২০১৬ সালের ছবি)। ছবি: AsikBinRahim / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

কেন কম ধরা পড়ছিল ইলিশ


ভোলা দেশের সবচেয়ে বড় দ্বীপ, এর পূর্বে মেঘনা ও পশ্চিমে তেঁতুলিয়া নদী। ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ এবং দেশের মোট মাছ উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ইলিশ আহরণ ছিল ৫ লাখ ৭১ হাজার টন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা নেমে আসে ৫ লাখ ২৯ হাজার টনে। দেশের ইলিশ অভয়াশ্রমের মধ্যে ভোলার মদনপুর থেকে চর পিয়াল (৯০ কিলোমিটার) এবং ভোলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালীর চর রুস্তম (১০০ কিলোমিটার) পর্যন্ত নদী অংশও রয়েছে।

প্রথম আলো ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট জানায়, মেঘনা ও তেঁতুলিয়ার মোহনায় একের পর এক ডুবোচর ইলিশের চলাচলের পথ আটকে দিচ্ছে; মৎস্য অধিদপ্তর মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও পদ্মায় এমন ১৭টি স্থান চিহ্নিত করেছে, যার বিস্তার ভোলাসহ সাত জেলায়। দ্য ডেইলি স্টার একই দিনে জানায়, বরিশাল বিভাগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ইলিশ আহরণ হয় ১০ হাজার ৮৭৬ টন, আগের বছরের জুলাইয়ে যা ছিল ১৫ হাজার ৪৭০ টন। ভোলার নাছির মাঝি গ্রামের জেলেরা পত্রিকাটিকে জানান, মেঘনায় এক দফা মাছ ধরতে গিয়ে অনেকে মাত্র কয়েক কেজি ইলিশ পেয়েছেন। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২৫ আগস্ট জানায়, ঢাকার বাজারে এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ তখন কেজি ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।

ইলিশ, বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। ছবি: Prabirghose / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ইলিশ, বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। ছবি: Prabirghose / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)