তাপপ্রবাহ আর খরা একসঙ্গে এলে গমের ফলন কতটা কমে, বহুল ব্যবহৃত জলবায়ু-প্রভাব মডেলগুলো তা উল্লেখযোগ্যভাবে কম করে দেখায়। চীনের সাউথওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও বেইজিং নরমাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে চীনা বিজ্ঞান একাডেমি এবং নাসার গডার্ড ইনস্টিটিউটের সঙ্গে করা এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে গ্লোবাল এগ্রিকালচার। ৮ অক্টোবর নেচার ফুড সাময়িকীতে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়।
দলটি একটি উন্নত ফসল মডেল তৈরি করে ১৯৮১-২০১৫ সালের বিশ্বের গমের আবহাওয়া ও ফলনের তথ্যে যাচাই করেছে এবং প্রচলিত জিজিসিএমআই মডেল-সমষ্টির সঙ্গে তুলনা করেছে। খরাজনিত ক্ষতির পূর্বাভাসে নতুন মডেল প্রায় ৩০ শতাংশ, তাপপ্রবাহে ২০ শতাংশ এবং একই মৌসুমে দুটি একসঙ্গে এলে ৭ শতাংশ বেশি নির্ভুল। ১০ কিলোমিটার রেজোলিউশনে জলবায়ুর তথ্য, জাতীয় ও আঞ্চলিক ফলনের পরিসংখ্যান, আবহাওয়া কেন্দ্রের রেকর্ড, স্যাটেলাইটে মাপা পাতার আয়তন আর সেচ ও বৃষ্টিনির্ভর জমির মানচিত্র ব্যবহার করায় যৌথ আঘাতের প্রভাব আলাদা করে ধরা গেছে।
নতুন মডেলের হিসাবে খরা বিশ্বে গমের গড় ফলন কমিয়েছে ৯.৭ শতাংশ, তাপপ্রবাহ ৫.৮ শতাংশ, আর তাপপ্রবাহ ও খরা একসঙ্গে ১৩.৩ শতাংশ, যা প্রচলিত মডেলের হিসাবের চেয়ে বেশি।
সেচ এখনও ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দেয়, তবে চরম আবহাওয়া বাড়ায় গবেষণার সময়কালে এর সুরক্ষা "উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল" হয়েছে। ফলে সেচের গম ও বৃষ্টিনির্ভর গমের ব্যবধান কমে আসছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঞ্জাব থেকে আর্জেন্টিনার পাম্পাস, উত্তর চীনের সমভূমি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেট প্লেইনস পর্যন্ত গম চাষ হয়, আর বিমা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও খাদ্যনিরাপত্তার পরিকল্পনাকারীরা এ ধরনের মডেলের ওপরই ভরসা করেন।
ছবি: Jesse Allen / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার




মন্তব্য
(০)