ভারত থেকে সরকারিভাবে আমদানি করা চালের প্রথম পরীক্ষায় খাবার উপযোগী বলা হলেও পরের পরীক্ষায় ক্ষতিকর আফলাটক্সিন ধরা পড়েছে। চট্টগ্রামের হালিশহর কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামের (সিএসডি) ১৩৫ টন চালে এই বিষাক্ত উপাদান পাওয়া গেছে বলে শুক্রবার নিশ্চিত করেছেন সিএসডির ব্যবস্থাপক ইকবাল মাহমুদ, জানিয়েছে বাংলাভিশন। অধিকতর পরীক্ষার জন্য নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
খাদ্য বিভাগের তথ্যে, চালগুলো এমভি এইচটি পাইওনিয়ার জাহাজে আসে, ২১ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। পরদিন খাদ্য অধিদপ্তরের পাঁচ সদস্যের দলের উপস্থিতিতে নমুনা নেওয়া হয় এবং খাবার উপযোগী প্রতিবেদন পেয়ে ২৪ ও ২৫ জুলাই খালাস হয়। এরপর চালের একটি অংশ ঢাকার তেজগাঁও, চট্টগ্রামের হালিশহর ও দেওয়ানহাট সিএসডি এবং গাজীপুরের জয়দেবপুর খাদ্যগুদামে পাঠানো হয়।
গুদামে পৌঁছানোর পর কর্মকর্তারা চালের নিম্নমান নিয়ে আপত্তি তোলেন, পরিবহন ঠিকাদারেরাও চাল পরিবহন স্থগিত রাখেন; বিষয়টি লিখিতভাবে খাদ্যসচিব ও খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানানো হয়। ১৭ আগস্ট বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের শস্যমান ও পুষ্টি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরীফা সুলতানা দীপ্তির নেতৃত্বে দুই সদস্যের দল হালিশহর ও দেওয়ানহাট সিএসডি থেকে নমুনা নেয়, তাতেই হালিশহরের ১৩৫ টনে আফলাটক্সিন শনাক্ত হয়।
খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জসিম উদ্দিন খানের নির্দেশে সাড়ে ৯ হাজার টন চালের বিতরণ স্থগিত রেখে মান পরীক্ষা করা হয়েছিল; ১৩৫ টন বাদে বাকি চাল নিয়ম অনুযায়ী বিতরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন হালিশহরের ইকবাল মাহমুদ ও দেওয়ানহাট সিএসডির ব্যবস্থাপক হামিম রহমান। চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগের চলাচল ও সংরক্ষণ শাখার নিয়ন্ত্রক রেজোয়ান সাকিব জানান, অধিকতর পরীক্ষার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বিশেষজ্ঞদের মতে, আফলাটক্সিন অ্যাসপারজিলাস গোত্রের ছত্রাক থেকে তৈরি বিষাক্ত উপাদান; আর্দ্র ও অনুকূল পরিবেশে চাল, শস্য বা বাদাম দীর্ঘদিন রাখলে এই ছত্রাক জন্মাতে পারে। আফলাটক্সিনযুক্ত খাবার দীর্ঘদিন খেলে যকৃতের ক্ষতি হতে পারে এবং যকৃতের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে, তাই খাদ্যে এর উপস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর উদ্বেগের।
সূত্র: বাংলাভিশন




মন্তব্য
(০)