যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগর উপকূলে যে রেড ড্রাম মাছ পরিবেশন হয়, তার বেশির ভাগই উপসাগরের বুনো মাছ নয়; আর সেখানকার জেলেরা আটকে আছেন সস্তা আমদানি আর সাগরে মাছ চাষের উদ্যোগের মাঝখানে। সাউদার্ন ফুডওয়েজ অ্যালায়েন্সের সঙ্গে মিলে ফুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট রিপোর্টিং নেটওয়ার্কের (ফার্ন) জন্য লেখা দীর্ঘ প্রতিবেদনে এ চিত্র তুলে ধরেছেন লেখক বয়েস আপহোল্ট (Boyce Upholt)।
বিখ্যাত কাজুন রান্না ব্ল্যাকেনড রেডফিশের মাছ রেড ড্রাম এত কঠোরভাবে সংরক্ষিত যে উপসাগরে ধরা প্রায় কোনোটিই বিক্রি করা বৈধ নয়। নিউ অরলিন্সের বাজারের মাছ আসে বাইরে থেকে, অনেকটাই টেক্সাসের পালাসিওসের খামার থেকে, যেখানে ধানখেত কেটে আগে ক্যাটফিশের পুকুর হয়েছিল, আর ১৯৮০-এর দশকের শেষ থেকে রেড ড্রামের। চিংড়িতেও আমদানির ছড়াছড়ি: লুইজিয়ানার এক সামুদ্রিক খাবার উৎসবে জিনগত পরীক্ষায় দেখা গেছে, ৮০ শতাংশ বিক্রেতাই আমদানি করা চিংড়ি বিক্রি করছিলেন, আর বিলক্সির এক জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ ভুল লেবেলের মাছ বিক্রির মামলায় দোষ স্বীকার করেছে।
এশিয়ার সস্তা চাষের চিংড়িতে দাম এত পড়েছে যে মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করলে উপসাগরের চিংড়ি জেলেরা চল্লিশ বছর আগের চেয়ে পাউন্ডপ্রতি চার ডলার কম পান; এ বছরের এক কেন্দ্রীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ২০ বছর ধরে এই মৎস্য খাত অর্থনৈতিকভাবে টেকসই নয়। মার্কিনিদের খাওয়া চিংড়ির প্রায় ৭০ শতাংশ এখন চাষের, অথচ যুক্তরাষ্ট্রে সামুদ্রিক মাছ চাষের জমি মাত্র দেড় লাখ একর, চীনে ৫০ লাখ একরের বেশি।
হাওয়াইয়ের প্রতিষ্ঠান ওশান এরার প্রধান নির্বাহী নিল সিমস ফ্লোরিডার সারাসোটা থেকে ৪৫ মাইল দূরে ৫৬ ফুট চওড়া ডুবন্ত খাঁচায় বছরে ২০ হাজার রেড ড্রাম চাষ করতে চান; যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় জলসীমায় এখনো কোনো মাছের খামার হয়নি। তাঁর যুক্তি, গভীর পানি, বালুময় তলদেশ আর ভালো স্রোতে পরিবেশের ক্ষতি সামান্য। মিসিসিপি কমার্শিয়াল ফিশারিজ ইউনাইটেডের রায়ান ব্র্যাডলি, পঞ্চম প্রজন্মের জেলে, আবর্জনা আর জীবিকার ওপর নতুন চাপের আশঙ্কায় সামুদ্রিক খামারের বিরোধী। আবার পালাসিওসের চিংড়ি জেলে ডেভিড আপারিসিও উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ভাইয়ের সঙ্গে ঝিনুকের খামার খুলেছেন।
আপহোল্ট শেষে বলেছেন, উপসাগরের জেলেদের বড় হুমকি চাষের মাছ নয়, বিদেশি মাছ; তিনি উৎস লেবেল স্পষ্ট করা ও আইনের প্রয়োগ, স্থানীয় মাছের বাজার আর জেলেদের সরাসরি বিক্রিতে সহায়তার কথা বলেছেন। শেষাংশের মতামত লেখকের নিজের।
ছবি: Geeklikepi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ফুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট রিপোর্টিং নেটওয়ার্ক





মন্তব্য
(০)