যুক্তরাজ্যের কৃষিপ্রযুক্তি স্টার্টআপ এয়ারপনিক্স (Airponix) এবং ডাইসন ফার্মিং (Dyson Farming) মিলে দুই বছরের একটি গবেষণা ও প্রদর্শনী প্রকল্প শুরু করেছে। লক্ষ্য, ইংল্যান্ড নিজেই রোগমুক্ত আলুবীজ উৎপাদন করতে পারে কি না, তা যাচাই করা। খবরটি দিয়েছে এজিনেভিগেটর। যুক্তরাজ্যের কৃষি মন্ত্রণালয় ডেফরার ফার্মিং ইনোভেশন প্রোগ্রামের অর্থায়নে ও ইনোভেট ইউকের মাধ্যমে চলা প্রকল্পটি চলবে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত।
প্রকল্পের কেন্দ্রে আছে জেনারেশন জিরো বা জি০ আলুবীজ, অর্থাৎ রোগমুক্ত প্রথম প্রজন্ম, যা থেকে পরের সব বীজ তৈরি হয়। সাধারণত তিন-চার দফা বাড়িয়ে জি৩ বা জি৪ হিসেবে তা বাণিজ্যিক চাষির কাছে পৌঁছায়। এয়ারপনিক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মাইকেল রাগিয়ার (Michael Ruggier) বলেন, ইংল্যান্ড কয়েক দশক ধরে, হয়তো কখনোই, জি০ আলুবীজ উৎপাদন করেনি; স্কটল্যান্ড ও বিদেশ থেকে ভালো রোগমুক্ত বীজ পাওয়া ক্রমেই কঠিন হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে চাষে পিট মাটির ব্যবহার বন্ধের পরিকল্পনাও নতুন পদ্ধতির প্রয়োজন বাড়িয়েছে।
প্রচলিত অ্যারোপনিক্সে শিকড়ে পানি ছিটানো হয়; এয়ারপনিক্সের প্রযুক্তিতে ঝুলন্ত শিকড়কে একটি বদ্ধ, জীবাণুমুক্ত জায়গায় পুষ্টিসমৃদ্ধ অতি সূক্ষ্ম কুয়াশায় ঘিরে রাখা হয়। কোম্পানির দাবি, এতে গাছ পানি, পুষ্টি ও অক্সিজেন আরও দক্ষভাবে নিতে পারে। ডাইসন ফার্মিংয়ের গবেষণা গ্রিনহাউসে চারটি ‘এ-ফ্রেম’ কাঠামোয় ছয় হাজারের বেশি গাছ রাখা হয়েছে, প্রাকৃতিক আলো ও পিটমুক্ত ব্যবস্থায়। ক্যামেরা দিনরাত শিকড়, পাতা ও কন্দ গঠন পর্যবেক্ষণ করে, আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশ্লেষণে প্রতিটি জাত ও বৃদ্ধির ধাপের জন্য কুয়াশা ও সারের মিশ্রণ সঙ্গে সঙ্গে বদলানো যায়। একবারে সব তোলার বদলে মৌসুমজুড়ে প্রয়োজনীয় আকারের কন্দ তুলে নেওয়া যায়।
প্রযুক্তিটি সৌদি আরবে বাণিজ্যিকভাবে চলছে: নাডেকের জন্য তৈরি ৯৪০ বর্গমিটারের স্থাপনায় ৩৩ হাজার গাছ থেকে বছরে প্রায় ১০ লাখ ছোট কন্দ (মিনি-টিউবার) হয়, দিনে পানি লাগে প্রায় ৩ ঘনমিটার। এয়ারপনিক্স বর্তমান পদ্ধতির অর্ধেকেরও কম খরচে উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। মাঠে কয়েক প্রজন্ম ধরে এই বীজ প্রচলিত প্রত্যয়িত বীজের তুলনায় কেমন ফল দেয়, তা-ও দেখা হবে। কোম্পানির হিসাবে যুক্তরাজ্যে বছরে জি০ আলুবীজের চাহিদা ৩৫ থেকে ৪০ লাখ কন্দ।
ছবি: Makampanda / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: এজিনেভিগেটর





মন্তব্য
(০)